অনুমোদিত পতিতালয় আছে কিন্তু নেই কোন অননুমোদিত কবিতালয়

এদেশে অনেক অনুমোদিত পতিতালয় থাকলেও নেই কোন অননুমোদিত কবিতালয়। যেখানে রুদ্রের মতো দু’লাইন কবিতা লিখতে শেখাবে। এদেশে কোন স্কুল নেই যার প্রধান ফটকে লেখা থাকবে, ”এসো গল্প পড়ি”। গল্প লেখা শেখাবে। বরং ব্যাগের মধ্যে দু একটি গল্পের বই পাওয়া গেলে তা স্কুলে বসেই ছিঁড়ে ফেলা হয় এদেশে।
একদিন পড়ার বইয়ের উপর লুকিয়ে গল্পের বই পড়েছিলাম বলে শীর্ষেন্দুকে যেতে হল চুলার উপর। স্কুল ফাঁকি দিয়ে ক্রিকেট খেলে কাঁচ ভেঙেছিলাম বলে ষ্ট্যাম্প ভাঙল পিঠে। একটার পর একটা ব্যাট ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে পড়েছিল বারান্দায়। স্বপ্নগুলো টুকরো টুকরো হয়ে কাতরাচ্ছিল সেদিন।
মেয়েটা রকিব হাসান বলতে অজ্ঞান। বাবা একদিন রকিবকে বিক্রি করে দিলেন কেজি দরে। মেয়েটা তখন স্কুলে। রাতে মেয়েটার বালিশ ভেজানো কান্না।
ছেলেটা একদিন চক দিয়ে বোর্ডে মেঘের ছবি আঁকল। ক্লাস টিচার এসে তা দেখে ছেলেটাকে বেত মেরে বোর্ড পরিষ্কার করার জন্য হাতে তুলে দিলেন ডাস্টার। ডাস্টারের বদলে আরেক টুকরা চক হাতে তুলে দিলে কি খুব ক্ষতি হয়ে যেত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার?
ব্ল্যাকবোর্ডের সেই মেঘগুচ্ছোর দিকে তাকানোর সময় পান না আমাদের শিক্ষকরা। রোবটের চোখ দিয়ে কখনো মেঘ দেখা যায় নাহ। আর আমরাও কখনো মেঘ ছুঁতে পারিনা। ওসব থাকে স্পর্শের বাইরে। একসময় মেঘগুলোও দূরে সরে যায়। দূরে সরে যেতেই থাকে।
ক্রিকেটার হতে পারিনি আমি। মেয়েটাও হয়তো হতে পারেনি কোন ডিটেকটিভ। ছেলেটাও আর জয়নুল হবার স্বপ্ন দেখে না। রুদ্রের ন্যায় কাব্যগুলো হয়তো পড়ে থাকে ওই কবিতার খাতাতেই। শীর্ষেন্দুকে নিয়ে শীর্ষে যাওয়ার স্বপ্নগুলো আর এ সমাজে টেকে নাহ।
যা হতে চেয়েছি হতে পারিনি। যা হতে চাচ্ছি তাও কখনো পারবো কিনা জানিনা। শুধু শিখেছি প্রতিযোগিতায় রোবটের মতো দৌড়ে যেতে হবে। এগিয়ে থাকতে হবে। টিকে থাকতে হবে।
আজ এইচ.এস.সি রেজাল্ট। এই টিকে থাকার খেলায় আজ যেন সবাই টিকে থাকতে পারে সেই প্রার্থনাই করি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “অনুমোদিত পতিতালয় আছে কিন্তু নেই কোন অননুমোদিত কবিতালয়

  1. আমি যখন এইচএসসি পরীক্ষা দিই
    আমি যখন এইচএসসি পরীক্ষা দিই তখন এখনকার অনেক তরুণেরই জন্ম পর্যন্ত হয়নি। সে সময়েও স্কুলের পাঠ্যবই পড়াটাকে অপরাধ এমনকি তীব্র ভাবে ক্ষতিকর বলেই ভাবা হতো। আমার বইপত্র কেউ পোড়ায়নি বা ছিঁড়ে ফেলেনি কিন্তু ভাবা হতো এই বই গুলোর জন্যই আমি স্কুলের পড়াশোনা খারাপ করছি। বই নিয়ে এখনকার অভিভাবকদের দৃষ্টিও কি সেই রকমই আছে? এখন সময় কাটানোর জন্য স্মার্টফোনে গেমস আর গানের ভাণ্ডার ছেড়ে শিশু কিশোররাও হয়তো বইপড়ার মত পরিশ্রমী অবসর বিনোদন চায়না। তারউপর বই সম্পর্কে অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গী যদি সেই আগের মতই থাকে তবেতো বিপদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

44 + = 45