দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই

দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করতে কারিগরি শিক্ষা প্রসারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এই ব্যাপারে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কর্ম-পরিকল্পনা উৎসাব্যঞ্জকই বলতে হবে। ২০২০ সালের মধ্যে দেশের মোট শিক্ষার্থীর ২০ শতাংশকে কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই লক্ষ্যে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহে আসনসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি কারিগরি স্কুল ও কলেজসমূহে ডিপ্লোমা কোর্স চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সংখ্যা ৪৯টি। এ ছাড়াও সরকারি পর্যায়ে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে ৬৪টি। এতদ্ব্যতীত বগুড়ায় আছে একটি ভোকেশনাল টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে টেকনিক্যাল শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহে ডবল শিফট চালু করা হয়েছে। ফলে কারিগরি শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দ্বিগুণে উন্নীত হয়েছে। প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫ হাজার এবং কারিগরি স্কুল ও কলেজসমূহে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৫৭ হাজারেরও বেশি। দৃশ্যমান এই অবস্থাটিকে নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ হইতে দেখার সুযোগ নাই। কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক শিক্ষার যতটা প্রয়োজন, তার চাইতে প্র্যাকটিক্যালের আবশ্যকতা বেশি বৈ কম নয়। শিক্ষার্থী অনুপাতে ল্যাবরেটরির সমপ্রসারণ, আবশ্যকীয় উপকরণাদির সংস্থান করা এবং আনুপাতিক হারে শিক্ষক নিয়োগ জরুরি। শ্রেণিকক্ষও বাড়াতেহবে। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনশক্তির চাহিদা যেমন আছে দেশের ভিতরে, তেমনই বহির্বিশ্বে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনশক্তি রেখে চলছে অব্যাহত ভূমিকা। কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণে যে উদ্যোগ আমাদের দেশে নেয়া হয়েছে তাকে অবশ্যই ফলপ্রসূ করতে হবে তবেই দেশের উন্নয়নের ধারা বৃদ্ধি পাবে। দেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এগিয়ে যাবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 1 =