জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে প্রয়োজন- দুর্বার সাংস্কৃতিক আন্দোলন

গত ১লা জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজ্যান ক্যাফেতে যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে,তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কলংকজনক অধ্যায়। ১৭ জন বিদেশী নাগরিক সহ ২০ জন মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। জঙ্গিদের প্রতিহত করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন পুলিশ অফিসার। এর ঠিক ৫ দিন পর, ঈদের দিনে, এই উপমহাদেশের সর্ববৃহত ঈদের জামাত যেখানে অনুষ্ঠিত হয়, সেই শোলাকিয়ায় হামলা চালিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী। পুলিশের দৃঢ়তায় তারা তাদের বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারলেও ওইদিন প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন পুলিশ কনস্টেবল এবং একজন হিন্দু মহিলা। এর আগে এবং পরে ধারাবাহিকভাবেই একেরপর এক গুপ্ত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে ব্লগার, পুরোহিত, ইমাম, বিদেশী নাগরিক, গোটা বাঙলাদেশ। হুমকির মুখে দেশ ছেড়েছেন ব্লগার, ইমাম, পুরোহিত। হিন্দু-মুসলিম,বৌদ্ধ-খ্রীস্টান,ধার্মিক-নাস্তিক দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কেউই এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ নন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে গড়ে ওঠা আন্দোলন মঞ্চ, গণজাগরণমঞ্চ আন্দোলনের সংগঠক রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যার মাধ্যমে ব্লগার হত্যা শুরু, তারপরও একে একে হত্যা করা হয়েছে নীলাদ্রী নীল, অভিজিত রায়, অনন্ত বিজয়, ফয়সাল আরেফীন দীপন –কে। একটি হত্যাকাণ্ডেরও বিচার হয় নি। যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরী হয়েছে দেশে, তারই ধারাবাহিকতায় এখন একেরপর এক মন্দিরের পুরোহিত হত্যা, মসজিদের ঈমাম হত্যা, খ্রিষ্টান নাগরিক হত্যা, বিদেশী নাগরিক হত্যা এবং সর্বশেষ গুলশানের হোলি আর্টিজান ক্যাফের নারকীয় হত্যাজজ্ঞ। তাই এই ভূখণ্ডে জঙ্গিবাদের বিস্তৃতির কারণ অনুসন্ধান এবং তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া এখন অবশ্য প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯৪৭ এ দেশভাগ হয়েছিল দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে। ইংরেজ শাসনামলে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক শ্রেণিগত অবস্থানের দিক থেকে মুসলিম’রা হিন্দুদের থেকে অনেকাংশেই পিছিয়ে ছিল। আর তাই অদূর ভবিষ্যতে ইংরেজদের পরিবর্তে হিন্দু সামন্তবাদী জমিদার কর্তৃক শাসিত হতে হবে সেই সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিজাতিতত্ত্ব মোটামোটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল সেইসময়। সামন্তবাদী শাসক সবসময়েই ধর্মকে ব্যবহার করেছে শোষণের স্বার্থে। জ্ঞানবিজ্ঞানে এগিয়ে থাকা ইংরেজদের সাথে কুলিয়ে উঠতে না পেরে সংকীর্ণতার জায়গা থেকে হিন্দু সামন্তবাদীরা শত্রু হিসিবে চিহ্নিত করেছে মুসলমানদের। এবং এইভাবেই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অবদমনের মাধ্যমে শোষণ করে প্রভু ইংরেজদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজেদের বস্তুগত স্বার্থ চরিতার্থ করেছে। যে সময় ধর্ম-সম্প্রদায়ের বিভাজন এড়িয়ে লড়াইটা প্রয়োজন ছিল ইংরেজ শোষকদের বিরুদ্ধে, সেই সময় মূল লড়াইয়ে না গিয়ে পরস্পরের মধ্যে দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়া ছিল নেতৃত্বের চরম ভুল। এই রকম চরম আকারের ভুল অবশ্য পরবর্তীতেও আরো অনেকবার পরিলক্ষিত করেছে এই উপমহাদেশ। অপরদিকে ১৯৪৬ এর দিকে ভারতবর্ষে বামপন্থী আন্দোলন এতটাই বিস্তৃত ও অনমনীয় হয়ে উঠে যে ইংরেজরা স্বাভাবিকভাবেই বুঝতে পেরেছিল যে এই আন্দোলন স্তিমিত করতে না পারলে পরবর্তীতে এই উপমহাদেশে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার সম্ভব হবে না। আর তাই উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে তাকে পরবর্তীতে দেশভাগের দিকে নিয়ে গেছে। আর তাই দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগ হওয়ার কারণ হিন্দুসামন্তবাদী শাসক-মুসলিম-ইংরেজ প্রত্যেকের চাওয়া-পাওয়া এক বিন্দুতে এসে মিলিত হওয়া।

দ্বিজাতি, একদল ভারতীয়, এবং অপর অংশে পাকিস্তানি ও বাঙালি। কিন্তু দেখা গেল যে জাতি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে দেশভাগ হল, সেই উদ্দেশ্যকে পাশ কাটিয়ে শাসনের একটি স্বতন্ত্র এবং সংরক্ষিত ভূমি পেয়ে স্বার্থলোভী নেতৃত্ব সেই পূর্বেকার সামন্তবাদীদের মত দমন-পীড়ন, শোষণ-নির্যাতন চালিয়ে গেল। শোষণ-নিপীড়ন-নির্যাতন-বৈষম্য থেকে বেরিয়ে আসার বোধ থেকে যে রাষ্ট্রের জন্ম, দেখা গেলো সেই রাষ্ট্রই পরবর্তীতে নিপীড়ক রাষ্ট্র রূপে আবির্ভূত হল। যে শ্রেণি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উন্মাদনাকে উস্কে দিয়ে দেশভাগ করল, তাদের মূল উদ্দেশ্য যে শোষণ নিপীড়নের জন্য একটি সংরক্ষিত ভূমির প্রয়োজনীয়তা সেই প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য সকলের সামনে পরিষ্কার হল। ধর্ম হচ্ছে সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা।কিন্তু সেই ধর্ম যখন বস্তুগত স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়, তখনই তা সাম্প্রদায়িকতায় রূপ নেয়। সেই দিক বিবেচনায়, এই উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ রোপিত হল ’৪৭ এর দেশভাগের মধ্য দিয়ে।

তো নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হল; পাকিস্তান। পূর্বে এক অংশ, পশ্চিমে আরেক অংশ, মাঝে আরেকটি পৃথক রাষ্ট্র। যে বোধ থেকে দেশভাগের মাধ্যমে পাকিস্তানের জন্ম, পাকিস্তানি-বাঙালি ভাই ভাই, জন্মের পর থেকেই দেখা গেল যে সেই ভ্রাতৃত্ববোধ থাকছে না। পাকিস্তান সৃষ্টির উদ্দেশ্য যে জাতি গঠনের মাধ্যমে একটি শোষণ বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা ছিল না, বরঞ্চ শোষণে একচেটিয়া কর্তৃত্ব লাভটাই ছিল মূখ্য তা ক্রমশই স্পষ্ট হতে শুরু করল। বাঙালি যে আলাদা জাতি, সেই জাতির অস্তিত্বকে বিলীন করে দিতে পাকিস্তানি শাসক(শোষক) গোষ্ঠী একের পর এক আঘাত হানতে শুরু করল এবং প্রথম আক্রমণ এগিয়ে এল বাঙলা ভাষার দিকে। বাঙলার মাটিতে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করল যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এর মানে এই দাঁড়ালো যে পূর্ব পাকিস্তানে যে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ভাষা এবং সংস্কৃতি চর্চা করে আবহমান কাল থেকে অবস্থান করছে, তাদের সেই ভাষা-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে বিলীন করে দিয়ে পাকিস্তানের সাথে মিশিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা। বাঙালি রুখে দাঁড়ালো, এবং লড়াই এর মাধ্যমে রক্তের বিনিময়ে তার ভাষার অধিকার অর্জন করল। এই শুরু, পরবর্তীতে অসংখ্য বার এইরকম আঘাত এসেছে, এবং বাঙালিও প্রতিবারেই বীরদর্পে রুখে দাঁড়িয়েছে। তারই ধারাবিকতায় মহান ’৭১, বাঙলার মানুষের মুক্তির সংগ্রাম, সেই সংগ্রাম শোষণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে, সেই লড়াই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, সে যুদ্ধ অধিকার আদায়ের যুদ্ধ, বাঙালি সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে পৃথিবীর মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার যুদ্ধ। বাঙালি লড়েছে, ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতা, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে বাঙলার পথ-ঘাট অলিগলি। পৃথিবীর বুকে ইতিহাস সৃষ্টি করে মানচিত্রে সেলাই করেছে লাল সবুজের বাঙলা। কিন্তু, মুক্তি কি এসেছে?
হ্যাঁ, মুক্তির সনদ বাঙালি অর্জন করেছিল ’৭১ এ। সেই সনদে ছিল গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ। কিন্তু সেই সনদ বাস্তবায়িত হয় নি। মুক্তিযুদ্ধে যে সাম্প্রদায়িক চক্র মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে, পাকিস্তানি শাসকের পক্ষাবলম্বন করে অস্ত্র হাতে নির্বিচারে হত্যা করেছে সাধারণ মানুষ, সেই চক্র হচ্ছে জামায়াত ইসলাম। কিন্তু ’৭৫ পরবর্তীতে নানান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন মহামানবেরা সেই দেশ বিরোধী সাম্প্রদায়িক চক্রকে স্বাধীন দেশে ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে। যে কালো শকুনের থাবায় ’৪৭ এ বিভক্ত হয়েছে উপমহাদেশের মাটি, যে বিষবৃক্ষকে শিকড় সহ উপড়ে ফেলে ধ্বংস করার লড়াই ছিল ’৭১, সেই বিষবৃক্ষকে স্বাধীন বাংলাদেশে পুনঃরোপণ করা হয়েছে ১৯৭৮ এ। ততপরবর্তী যতগুলো দল বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসেছে, তারা প্রত্যেকেই নানান ভাবে জামায়াতকে তার ডালপালা সম্প্রসারণে সহায়তা করেছেন। আজ যে সারাদেশে জঙ্গিবাদের নামে সাম্প্রদায়িকতার আস্ফালন, তার পিছনের কারণ হচ্ছে নেতৃত্বের চরম ভুল। কেনোনা জামায়াত-ই প্রথম সাম্প্রদায়িক দল এবং বাকিসব হচ্ছে তার ডালপালা। আর তাই, জামায়াতকে যারা এই স্বাধীন ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত করেছে ও সহায়তা করেছে এমনকি এখনো করে যাচ্ছে, তাদেরকে আজকের এই জঙ্গিবাদের আস্ফালনের দায়ও নিতে হবে।

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মনুষ্যত্ত্ব ও মূল্যবোধ অর্জন। প্রাবন্ধিক মোতাহার হোসেন চৌধুরী তার শিক্ষা ও মনুষ্যত্ত্ব প্রবন্ধে মানব জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মানবজীবনের নিচতলা হল জীবসত্তা, আর মনুষত্ত্ব হচ্ছে উপরতলা। তিনি শিক্ষার দুইটি দিকের কথা বলেছেন, প্রয়োজনীয় দিক আর অপ্রয়োজনীয় দিক। মানবজীবনের সেই নিচতলার জন্য প্রয়োজন শিক্ষার প্রয়োজনীয় দিকটা আর উপরতলা অর্থাৎ মনুষ্যত্ত্ব অর্জনের জন্য প্রয়োজন অপ্রয়োজনীয় দিকটা। একটি সমাজের দ্রুত পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষা। বর্তমান সমাজ একটি মনুষ্যত্ত্বহীন বর্বর সমাজে পরিনত হওয়ার দিকে অগ্রসর। এর কারণ আমরা শিক্ষার প্রয়োজনীয় দিকের প্রতিই প্রাধান্য দিচ্ছি। অপ্রয়োজনীয় দিকের প্রতি ফিরেও তাকাচ্ছি না। টাকা উপার্জনই হচ্ছে এখন শিক্ষার মূখ্য উদ্দেশ্য। কিন্তু সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে মনুষ্যত্ব অর্জনই মূখ্য উদ্দেশ্য হওয়ার কথা ছিল। কারণ মনুষ্যত্ত্ব অর্জনের জন্য শিক্ষা অর্জন করলে জীবিকার প্রয়োজন স্বাভাবিকভাবেই পূরণ হয়। এর পিছনে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাও দ্বায়ী। আমাদের দেশে ধনীদের জন্য একরকম শিক্ষা, আবার গরিবদের জন্য আলাদা। শিক্ষাক্ষেত্রে এই বৈষম্যের কারণেই মানুষ মানবসত্ত্বা অর্জনের চেয়ে জীবসত্তার পূর্ণতা আনয়নের মাধ্যম হিসেবে শিক্ষাকে প্রাধাণ্য দিচ্ছে এবং শিক্ষাক্ষেত্রের এই বৈষম্য,
শিক্ষার্থীদের মধ্যে জঙ্গিবাদের সম্প্রসারণে ভূমিকা পালন করছে। এই বিংশ শতাব্দীতে এসে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মাদ্রাসা শিক্ষার প্রয়োজন নিতান্তই নগণ্য। ধর্মীয় শিক্ষা বলতে যে শিক্ষাকে বুঝায় তা পরিবারের মধ্য থেকে আহরণ করা সম্ভব। মাদ্রাসা শিক্ষার মাধ্যমে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে অবদমিত করে রাখা হচ্ছে যাতে তারা তাদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হতে না পারে। ফলস্বরূপ, গরিব পরিবারের সন্তানেরা মাদ্রাসায় পড়োছে এবং দিনদিন আরো গরিব হচ্ছে। যে বা যারা এই মাদ্রাসা শিক্ষাকে জ্জনগণের সামনে অধিক গুরুত্বারূপ করে তুলে ধরছেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য কিন্তু এদেরকে ব্যবহার করে বস্তুগত স্বার্থ আদায়। কেনোনা, একটু ঘাটাঘাটি করলেই দেখা যাবে, তাদের পরিবারের সন্তানেরা দেশ-বিদেশের নানান ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে।

জঙ্গি মতাদর্শ লালন করে এই ধরণের শিক্ষার্থীর কথা চিন্তা করতে গেলে অনেকেই সর্বপ্রথম মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর কথা বলেন। কিন্তু মাদ্রাসার বাইরেও একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী আছে যারা এই মতাদর্শ লালন করে কিংবা সমর্থন করে। যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ অনেক আগেই রোপন করা হয়েছে এই দেশে, সেই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর মনে ধর্মীয় বিদ্বেষ এর বীজ বপন করে দিয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা প্রথমত সাম্প্রদায়িক এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মনস্তাত্বিকভাবেই ধর্মীয় বিদ্বেষ লালন করে। একটি গোষ্ঠীর বস্তুগত স্বার্থ কায়েম করার জন্য এই বিদ্বেষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয়ত, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা বিজ্ঞানমনস্ক নয়। তাই বিজ্ঞানের নানান শাখা প্রশাখায় বিচরনের জন্য তাদেরকে সুযোগ করে দেওয়া হয় না।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বাঙালি সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হচ্ছে না। পহেলা বৈশাখ তাদের কাছে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি। দল-মত নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সহাবস্থান যে আবহমান বাঙলার চিরায়ত সংস্কৃতি, সেই বোধগত জায়গা থেকে প্রথমেই তাদেরকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে এরা খুব সহজেই জঙ্গি মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবান্বিত হচ্ছে। বাংলাদেশে খুব কম মাদ্রাসা আছে যেখানে দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়, সমস্বরে গাওয়া হয় জাতীয় সঙ্গীত।

শিশুকাল হচ্ছে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের উপযুক্ত সময়। একটা ছেলেকে যখন শিশুকাল থেকেই মনস্তাত্ত্বিকভাবে ধর্মীয় বিদ্বেষ লালন করানো হয়, বাঙালি সংস্কৃতিকে যখন বিধর্মী সংস্কৃতি আখ্যায়িত করে তা পালনে নিরুৎসাহিত করা হয়, তার কাছে যখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয় না, একজন মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে যখন কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আযম, দেলোয়ার হোসেন সাইদী-রা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মধ্যে জঙ্গিবাদের প্রতি এক প্রচ্ছন্ন সমর্থন গড়ে ওঠে, সহজেই সে জঙ্গিগোষ্ঠীদের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয় এবং একসময় সে তাদেরই একজন হয়ে উঠে।

শিল্পচর্চার প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের একটি বিরুপ মনোভাব গড়ে ওঠে প্রথমেই। এমন কোন মাদ্রাসা পাওয়া যাবে না যেখানে রবীন্দ্র কিংবা নজরুল জয়ন্তী পালন করা হয়, যেখানে গুরুত্বের সাথে পালিত হয় জাতীয় দিবস। একটি বাচ্চাকে যখন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে “গান গাওয়া হারাম”-বুঝানো হয়, তখন সেই বাচ্চা বড় হয়ে শাহ আব্দুল করিমকে নাস্তিক বলবেই। অথচ শাহ আব্দুল করিম, রাধারমণ দত্ত, হাসন রাজা, লালন শাহ-এরা বাঙলার পরতে পরতে মিশে আছেন। এদের অবমূল্যায়ন মানে আবহমান বাঙলার চিরায়ত সংস্কৃতিকে অস্বীকার করা, জাতীয়তাকে অস্বীকার করা।

মাদ্রাসায় সহশিক্ষা কার্যক্রম নেই। এর ফলে ছোটবেলা থেকেই নারীর প্রতি একটি বিরূপ মনোভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা বেড়ে উঠে। পাশাপাশি মাদ্রাসায় বাংলা ভাষার পরিবর্তে আরবী এবং উর্দু ভাষাকে অধিক প্রাধাণ্য দেওয়া হয় যেখানে আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান হচ্ছে আমাদের ভাষা। আর তাই, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’-বাক্যটি যে কি পরিমাণ আবেগতাড়িত এবং মর্মস্পর্শী, সেটা তারা কখনোই বুঝতে পারে না। এবং সেই ধারাবাহিকতায়, ব্লজ্ঞার হত্যা থেকে শুরু করে পুরোহিত, ঈমাম, খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী, বিদেশী নাগরিক হত্যা সহ সর্বশেষ গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা জড়িত ছিল যাদের অনেকের পরিচয় ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাই এর সময়ে চট্টগ্রামের মাদ্রাসা গুলোর ভয়াবহ রূপ এই বাংলা প্রত্যক্ষ করেছিল। ৫-মে ঢাকার শাপলা চত্ত্বরেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের তাণ্ডবলীলা আমরা দেখেছি।

অন্যদিকে ইংরেজী মাধ্যম স্কুলের পাঠ্যক্রম এর সাথে জাতীয় পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য নেই। এগুলো ইউরোপ আমেরিকা থেকে আমদানী করা হয় (মূলত বৃটিশ এবং আমেরিকান)। কিন্তু একটি দেশের শিক্ষার পাঠ্যক্রম সেই দেশের সামাজিকতা, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই হওয়া উচিত। তা না হওয়ার কারণে বৃটিশ কারিকুলামে যারা পড়ে তাদের কাছে ৭১ এর চেয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বীরত্বগাথা বেশি প্রাধাণ্য পায়। প্রসঙ্গত উল্ললেখ্য, জীবিকার প্রয়োজনে একবার ইংরেজী মাধ্যমের এক শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছিলাম কিছুদিন। আমার সেই ছাত্র অনর্গল ইংরেজী পড়ে যেতে পারতো, কিন্তু অনেক বাঙলা শব্দ উচ্চারণ করতে পারতো না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়াতে গেলেই আমাকে সে প্রশ্ন করতো এসব গল্প কি না। এর কারণ হচ্ছে, পাঠ্যক্রমে দেশের সামাজিকতা, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের সামঞ্জস্য না থাকা। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ের মূল অস্ত্র হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সেই চেতনা অর্জন করতে হলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার পাশাপাশি এই দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সাথে পরিচিত হতে হবে। যারা এর সাথে পরিচিত না, তাদের কাছেই কিন্তু জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী প্রশ্রয় পাচ্ছে। উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান, যাদের জীবনে সুনির্দৃষ্ট কোন লক্ষ্য নেই, ধর্মকে ব্যবহার করে জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের কাছে একটি লক্ষ্য উপস্থাপন করছে এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একসময় তারা ঝাপিয়ে পড়ছে। উভয় ক্ষেত্রেই আবহমান বাঙলার সংস্কৃতি প্রাধান্য না পাওয়ার কারণেই জঙ্গিগোষ্ঠী সুযোগ পাচ্ছে এবং কাজে লাগাচ্ছে। আর তাই একটি একই ধারার, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা অবশ্য প্রয়োজন যেখানে বাঙালি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সবচেয়ে বেশি প্রাধাণ্য পাবে। যে মানুষ এই সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সাথে পরিচিত হবে না, সে জঙ্গিবাদের সহজ শিকারে পরিণত হবে।

আজ বাঙলাদেশে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব না। একটানা একমাস জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়ে দেশকে জঙ্গিবাদ মুক্ত করা যাবে না। এই সমস্যাটা মনস্তাত্ত্বিক, তাই লড়াইটা হতে হবে সাংস্কৃতিক। যে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হয়েছে ইতিমধ্যে, তার পরিণাম আগামি কয়েক প্রজন্মকে ভোগ করতে হবেই। তবে এখনই উদ্যোগ নিলে প্রকোপটা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এবং এর জন্য শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। একটি একই ধারার বৈষম্যহীন ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। ফিরে যেতে হবে একাত্তরে। বাঙালির মুক্তির মূলমন্ত্র যেখানে লিপিবদ্ধ হয়েছিল, সেই ’৭২ এর সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমান রজনৈতিক দলগুলোর সেই ইচ্ছা আছে কি না। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে দাবী করে। কিন্তু একটি দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রেখে সেই দেশকে কিভাবে ধর্মনিরপেক্ষ বলা যায়। একটি রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ মানে সেই রাষ্ট্রে অবস্থানকারী সকল ধর্মের নাগরিকেরা রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা এবং নাগরিক অধিকার সমানভাবে ভোগ করবেন। কিন্তু একটি নির্দৃষ্ট ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রে অবস্থানরত সকল ধর্মের নাগরিকদের প্রতি সমান ভাবে দৃষ্টিপাত করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষ সংখ্যাগরিষ্ট, তার মানে এই নয় যে দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হতে হবে। এর নাম ধর্মনিরপেক্ষতা না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই কথা বলে না। তাহলে মুক্তিযুদ্ধে কেবলমাত্র ইসলাম ধর্মের মানুষেরাই অংশগ্রহন করত। আরো ভালোভাবে বললে, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের কোন প্রয়োজনই ছিল না। কারণ পাকিস্তানে ইসলাম ধর্মাবলম্বী নাগরিকই সংখ্যাগরিষ্ট। পাকিস্তান সরকার আর কিছু করতে পারুক আর না পারুক, তার নাগরিকদের অবাধে ধর্মচর্চার সুযোগ দিয়েছে। মৌলিক অধিকার চুলোয় যাক। এর মানে হচ্ছে ধর্মকে ব্যবহার করে ক্ষমতাকে পাকাপুক্ত/দীর্ঘস্থায়ী করা। সরকারের এই ঘোষণার ফলে রাষ্ট্রে যে সকল সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আরো স্পষ্ট করে বললে জামায়াত ও জামায়াত মদদপুষ্ট যারা, তারা এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানী দিচ্ছে। আমরা দেখেছি মসজিদের মাইকে ঘোষণা করে কিভাবে হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় জামায়াতের হিংস্র চেহারা আমরা দেখেছি। যে জামায়াত বাঙলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে, আরাজাকার-আলবদর-আল শামস বাহিনী গঠণ করে ব্যাপক হারে লুন্ঠণ ও গণহত্যা চালিয়েছে, আমাদের ব্যররথতা যে সেই জামায়াত এখনো এই স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করে যাচ্ছে। এইটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা না।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্র শোষণ-বৈষম্যহীন, যে রাষ্ট্রে পঅবস্থানরত সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে। এখন এই যে স্বপ্নের জায়গা, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন কিভাবে সম্ভব। স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত যতগুলা দল ক্ষমতায় এসেছে তাদের কারো দ্বারাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব না। ৭৫ এর পর থেকেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি তার জায়গা করে নিয়েছে এই দেশে। আরো স্পষ্টভাবে বললে তাদেরকে সেই সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সংবিধানে লেখা হয়েছে রাষ্ট্রধর্ম ইসলা, জামায়াতের নেতা কে মন্ত্রী বানিয়ে জাতীয় সংসদে জায়গা দেওয়া হয়েছে। গাড়ির ভেতর জামায়াত নেতা, গাড়ির সামনে বাংলাদেশের পতাকা। অথচ এই মানুষগুলাই একদিন পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছিল। এদেশে আলবদররা যে ততপরতা চালিয়েছিল, তা জনতার সমর্থনে নয়, রাষ্ট্রশক্তির সমর্থনে। এখনো যে এই দেশবিরোধী গোষ্ঠী কার্যক্রম চালাচ্ছে তাও জনগনের সমর্থনে নয়, রাষ্ট্রশক্তিরই সমর্থে। আমাদের সরকার বুর্জোয়া মানসিকতার। এবং বুর্জোয়া সরকার কখনোই ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করবে না। এরা ধর্মকে ব্যবহার করবে। তাই বামপন্থী রাজনীতিকে শক্তিশালী না করলে ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে প্রয়োজন- দুর্বার সাংস্কৃতিক আন্দোলন

  1. আজ বাঙলাদেশে যে সমস্যার

    আজ বাঙলাদেশে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব না। একটানা একমাস জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়ে দেশকে জঙ্গিবাদ মুক্ত করা যাবে না। এই সমস্যাটা মনস্তাত্ত্বিক, তাই লড়াইটা হতে হবে সাংস্কৃতিক। যে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হয়েছে ইতিমধ্যে, তার পরিণাম আগামি কয়েক প্রজন্মকে ভোগ করতে হবেই।

    আপনার এই কথা শুনার মত মানুষ বাংলাদেশে আছে? যে সামান্য কিছু আছে, তারা হয়ে গেছে ঘৃণিত কুলাংগার বুদ্ধিবেশ্যা, চুশীল। শক্তির জোরের খেলায় বিশ্বাসী মার্ক্সিস্ট ভাবাপন্ন সরকার ও তার তথাকথিত প্রগতিশীল পদসেনারা মনে করে আসাদ-পুতিনের মত হাতের তুরী বাজিয়েই তিন দিনে জঙ্গী চলমান সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধী রচনা সম্ভব। ফলাফল, সারা মুসলিম বিশ্ব সিরিয়ায় রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে।

  2. সরকার বুঝে পারছে জঙ্গি দমন
    সরকার বুঝতে পারছে জঙ্গি দমন করতে হলে সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নাই। তাই সৌদি আরবের সহযোগীতায় প্রতিটা উপজেলায় ইসলামী সংস্কৃতিকেন্দ্র গড়ে তোলার কর্মসূচী সরকার হাতে নিয়েছে।

  3. সরকারের এই একনায়কতান্ত্রিক
    সরকারের এই একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবই তার পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে, এবং একবার পড়ে গেলে আবার উঠে দাঁড়ানো বেশ কঠিন হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 4