ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ (১)

ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ (১)

( ভূমিকা: হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস ২০১৫ সালে প্রকাশিত করে Islam and the Future of Tolerance: A Dialogue নামের এই ছোট বইটি। যুক্তরাষ্ট্রের দার্শনিক ও স্নায়ুবিজ্ঞানী গবেষক ও লেখক স্যাম হ্যারিস ও যুক্তরাজ্যের কুইলিয়াম ফাউণ্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, লেখক মাজিদ নাওয়াজের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি কথোপকথনই মূলত বইটির বিষয়বস্তু। এখানে স্যাম হ্যারিস ও মাজিদ নাওয়াজ পাঠকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বর্তমান সময়ের জন্য একটি অবশ্য প্রয়োজনীয় সংলাপে : ইসলাম কি শান্তির, নাকি যুদ্ধে ধর্ম? ইসলাম কি সংস্কারের জন্য উন্মুক্ত? কেনই বা এত বেশী সংখ্যক মসুলমানরা জঙ্গীবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়? Islamism, jihadism, আর fundamentalism শব্দগুলো আজকে পৃথিবীতে কি বোঝাচ্ছে? একজন সুপরিচিত নাস্তিক এবং প্রাক্তন উগ্রপন্হী – বর্তমানে উদারনৈতিক সংস্কারবাদী আন্দোলন কর্মীর এই কথোপকথন নানা কারণেই উল্লেখযোগ্য এর বিশ্লেষণের গভীরতা আর ব্যপ্তিতে। তারা দুজনেই একটি সভ্য বিতর্কের কাঠামোয় কিভাবে আমরা এই সময়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল, বিতর্কিত আর মেরুকরণকারী বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে নির্ভয়ে এবং পূর্ণাঙ্গরুপে, এবং আসলেই কিছু অগ্রগতিও করাও সম্ভব হতে পারে, সেই বিষয়ে কথা বলেছিলেন। এই বইটি প্রকাশের একটি সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য আরো ব্যপকভাবে এধরনের সাধারণ আলোচনাগুলো প্ররোচিত করার একটি উদহারণ হিসাবে এটিকে উপস্থাপন করা। ভুল বোঝাবুঝি আর সহিংসতায় আক্রান্ত এই পৃথিবীতে হ্যারিস ও নাওয়াজ এই বইয়ে প্রদর্শন করেছেন খুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সহ দুটি মানুষ গঠনমূলক আলোচনার জন্য একটি সাধারণ মঞ্চ খুজে পেতে পারে। অনুবাদ প্রচেষ্টা – কাজী মাহবুব হাসান।)

হ্যারিস: মাজিদ, এই সংলাপে অংশ নিতে সময় দেবার জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি মনে করি, তুমি যে কাজটি করছো তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিশ্চিৎ নই ইসলাম অথবা এই বিশ্বাসটির সংস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা কতটা একমত হতে পারবো – এবং অবশ্যই প্রয়োজনীয় সেই সব ক্ষেত্রগুলো শনাক্ত করা যেখানে আমার মত ভিন্ন – কিন্তু আমি তোমাকে জানাতে চাই যে আমার প্রধান ‍উদ্দেশ্য হচ্ছে তোমাকে সমর্থন করা।

নাওয়াজ: তোমার সমর্থনের জন্যে অনেক ধন্যবাদ, আসলেই আমি কৃতজ্ঞ। যেমন তুমি জানো, আমরা খুব নাজুক একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি, টান টান দড়ির উপর দিয়েই হাটছি আর চেষ্টা করছি আমাদের সাথে আরো অনেককেই নিয়ে আসতে, যারা বহু ক্ষেত্রেই সামনের দিকে অগ্রসর হতে চান না। অবশ্যই খুবই প্রয়োজন যে আমাদের এই সংলাপ হওয়া দরকার যতটা সম্ভব ততটাই দ্বায়িত্বশীল কোনো উপায়ে।

হ্যারিস: আমি একমত তোমার সাথে। আমি শুরু করতে চাই, আমাদের প্রথম দেখা হবার সেই মুহুর্তটার কথা মনে করে, কারণ আমার কাছে সেই মূহুর্তে মনে হচ্ছিল ‍তুমি সেই টান টান দড়ির উপর দিয়েই হাটছো। বাস্তবিকভাবেই, আমাদের প্রথম সাক্ষাতটি বরং বেশ অমঙ্গলসূচক ছিল।

২০১০ এর অক্টোবর, আমি Intelligence Squared বিতর্কের (১) সময় উপস্থিত ছিলাম, যেখানে তুমি আমার বন্ধু আয়ান হারসি আলি (২) আর ডগলাস মারে’র (৩) সাথে বীপরিত পক্ষে একটি বিতর্কে অংশ নিয়েছিলে। পরে আয়োজক, অংশগ্রহনকারী আর অতিথিদের জন্য আয়োজিত একটি পার্টিতে আমাদের দেখা হয়েছিল। সবাই বিতর্ক নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করছিলেন এবং এভাবেই আলোচনা অব্যাহত ছিল এবং কোনো একটি মূহুর্তে আয়ান বলেছিল, ‘আমি জানতে চাই এই বিষয়ে স্যাম হারিসের কিছু বলার আছে কিনা’? যদিও সেই মুহুর্তে আমি ভদকা টনিক পান করে ফেলেছি বেশ খানিকটা। তাসত্ত্বেও আমি যা বলেছিলাম, কম বেশী হুবুহু আমার মনে আছে। আমি আমার মন্তব্যটি করেছিলাম সরাসরি তোমার প্রতি। আমাদের মধ্যে তখনও কোনো ধরনের প্রাথমিক আলাপ হয়নি। আমি মনে করিনা আমি কে সেই বিষয়ে তোমার কোনো ধারণাও ছিল। আমি, মূলত, যা বলেছিলাম, সেটি ছিল এরকম –

মাজিদ, তোমার জন্য আমার একটি প্রশ্ন আছে। আমার মনে হয়েছে তোমার কাজটি প্রায় অসম্ভব একটি কাজ এবং তারপরও অনেক কিছুই নির্ভর করছে তোমার কাজটি সুসম্পন্ন করার উপর। তুমি পৃথিবীকে বিশ্বাস করাতে চাইছো যে – বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বকে – ইসলাম হচ্ছে একটি শান্তির ধর্ম, যা ছিনতাই করেছে চরমপন্থীরা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ইসলাম শান্তির ধর্ম নয় এবং এইসব তথাকথিত চরমপন্থীরা যা বাস্তবায়ন করতে চাইছে, যা তর্কসাপেক্ষে এই ধর্মবিশ্বাসটির সত্যিকার মতবাদের সবচেয়ে সৎ একটি পঠন। সুতরাং আজ মঞ্চে তোমার রণকৌশল – ধর্মগ্রন্থের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত যে দাবীগুলো তুমি করেছিলে এবং সেই সব ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা যার দ্বারা কোরানের কিছু সুনির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ অবশ্যই সবাইকে বুঝতে হবে – এমন প্রস্তাবনাগুলো আপাতদৃষ্টিতে আমার মনে হচ্ছে আন্তরিকতাশূন্য ও কপট।

এই কক্ষে সবাই চিহ্নিত করেছে যে, তোমার কাজটি পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিনতম একটি কাজ এবং প্রত্যেকেই কৃতজ্ঞ যে কাজটি তুমি করছো। কাউকে না কাউকে ইসলামকে সংস্কার করতে হবে এর ভিতর থেকেই এবং স্পষ্টতই এই কাজটি করবে না কোনো ধর্মত্যাগী কেউ, যেমন আয়ান ( আয়ান হারসি আলী) অথবা বিধর্মী অবিশ্বাসী কেউ যেমন ডগলাস (ডগলাম মারে) কিংবা আমি (স্যাম হারিস)। কিন্তু সংস্কারের এই পথটি ছলনার বলেই মনে হচ্ছে। তুমি মনে হচ্ছে বাধিত হচ্ছো ভান করতে যে এই মতবাদটি আসলেই যা, তা নয় বরং অন্য কিছু এমন একটি ধারণা দিতে – যেমন, তোমাকে অবশ্যই ভান করতে হবে যে, জিহাদ মানে হচ্ছে একটি আভ্যন্তরীন আধ্যাত্মিক যুদ্ধ। অথচ এটি মূলত ধর্মের জন্য যুদ্ধ করার একটি মতবাদ। আমি জানতে চাই, আসলেই বাস্তবিকভাবে বিষয়টিকে তুমি এভাবে দেখছো কিনা? সামনে অগ্রসর হবার পথ কি তাহলে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে যথেষ্ট পরিমান দীর্ঘ সময় ধরে দৃঢ়তার সাথে সত্য বলে ভান করা, যেন সেগুলোকে আসলেই ‘সত্য’ বানানো যায়?

আমার উচিৎ পুনরাবৃত্তি করা যে, তোমার সাথে আমার এই কথোপথনটি আংশিকভাবে জনসমক্ষে ঘটুক সেটা আমি চাইছিলাম। আমাদের কথাবার্তা রেকর্ড করা হয়নি ঠিকই, আমি যতদূর জানি, কিন্তু তারপরও সেখানে প্রায় পচাত্তর জন্য দর্শক উপস্থিত ছিলেন আমাদের কথোপকথন শোনার জন্য। আমি ভাবছিলাম, তোমার কি মনে আছে আমার বলা সেই কথাগুলো কিংবা ‍তুমি কি মনে করতো পারো কিনা সেই সময়ে দেয়া তোমার উত্তরটি?

নাওয়াজ: হ্যা, আমার মনে আছে সেটা, আমি খুশি হয়েছি যে, তুমি আমাকে এটি মনে করিয়ে দিয়েছো। তোমার সাথে আমি সেদিন কোনো সংযোগ করতে পারিনি। এছাড়াও আমি কৃতজ্ঞ যে, তুমি বিষয়টি উল্লেখ করেছো, যদিও আমাদের কথোপকথন সম্প্রচারিত হচ্ছিল না, কিন্তু সেখানে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আমার কাছে, বাইরের সবার মতই, সেই ঘরের ভিতর উপস্থিত শ্রোতারা যেন আমি যা বলছি সেগুলোকে কেবল কথার কথা হিসাবে গ্রহন না করেন সেই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাস্তবিকভাবে, আমার বার্তা দিয়ে মুসলিম-সংখ্যালঘু সমাজগুলোকে প্রভাবিত করার আকাঙ্খা, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজগুলোকে প্রভাবিত করার আকাঙ্খার মতই একই রকম শক্তিশালী। আমি যা করার চেষ্টা করছি তার একটি অংশ হচ্ছে একই মনোভাব পোষণ করেন এমন মানুষগুলোর মধ্যে একটি জোট তৈরী করা। এজন্য তাদের সবাইকে মুসলিম কিংবা অমুসলিম হতে হবে এমন কোনো প্রয়োজন নেই। এর ব্যতিক্রম, আমাদের যা একীভূত করতে পারে সেটি হচ্ছে এক সেট ধর্ম-নিরপেক্ষ মূল্যবোধ। মানব সর্বজনীনতা,গণতান্ত্রিক, এবং সেক্যুলার (শব্দটি ব্রিটেন ও আমেরিকায় যেভাবে ব্যবহৃত হয় সেই অর্থে) মুল্যবোধগুলোর উপর দৃষ্টি নিবন্ধ করার মাধ্যমে আমরা যেন কিছু সাধারণ ঐক্যমতে পৌছাতে পারি। আর অবশ্যই যেটা দরকার সেটা হলো সব ধরনের দর্শকদের এই বার্তাটি শোনা প্রয়োজন, এমনকি সেদিন সেই কক্ষেও এটা সত্য ছিল। সেকারণে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দর্শকদের যদি আমি হারাই সেটি আমার সেই শঙ্কাকেই বাস্তবায়ন করবে: বিতর্কের মেরুকরণ হবে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে – যারা দাবী করেন যে ইসলাম হচ্ছে যুদ্ধের ধর্ম এবং সেকারণে এর পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জন্য অগ্রসর হচ্ছেন এবং যারা দাবী করছেন ইসলাম হচ্ছে যুদ্ধের ধর্ম এবং যে কারণে তারা এ বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। আর এমন একটি পরিস্থিতি হবে যেখানে সেটি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা আর সম্ভব হবে না ।

এখন নির্দিষ্টভাবে তোমার প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে আসি, সেদিন আমি যেভাবে উত্তর দিয়েছিলাম, তার কারণ আমি অনুভব করেছিলাম যে তুমি হয়তো ইঙ্গিত করছো যে, আমি হয়তো কোনো ছলনার আশ্রয় নিচ্ছি ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসাবে দাবীর করার ক্ষেত্রে। আমি যদি সঠিকভাবে মনে করতে পারি, তুমি বলেছিলে, বাইরে জন স্বমক্ষে হয়তো ব্যপারটা বোধগম্য, কিন্তু এখানে, এই কক্ষে, তুমি কি শুধুমাত্র আমাদের সাথে কিছুটা সৎ হতে পারো না?

হ্যারিস: হ্যা, আমি ঠিক এটাই বলেছিলাম।

নাওয়াজ: হ্যা, ‘তুমি কি শুধু এখানে আমাদের সাথে সৎ হতে পারোনা ?’ ইঙ্গিত দিয়েছিল আমি বাইরে ওখানে সৎ নই। আমার সৎ দৃষ্টিভঙ্গী হচ্ছে ইসলাম যুদ্ধের ধর্ম যেমন নয় তেমনি শান্তির ধর্মও নয় – এটি একটি ধর্ম। এর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, অন্য ধর্মগুলোর পবিত্র ধর্মগ্রন্থের মতই, বেশ কিছু অনুচ্ছেদ এমন কিছু ধারণ করে যা বহু মানুষই বিবেচনায় অত্যন্ত বেশী মাত্রায় সমস্যাপূর্ণ। একইভাবে সব ধর্মগ্রন্থেই সেই সব অনুচ্ছেদ আছে যেগুলো নির্দোষ। ধর্ম সহজাতভাবে তার নিজের হয়ে কথা বলতে পারেনা, কোনো বইয়েরই, কোনো লেখারই নিজস্ব কন্ঠস্বর নেই। আমার ‍দৃষ্টিভঙ্গি এটাই, সেটা আমি শেকসপিয়ার অথবা ধর্ম গ্রন্থ, যাই ব্যাখ্যা করিনা কেন, উভয়ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

সুতরাং আমি কোনো অসততা করিনি সেদিন বলে যে, ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম। পরবর্তীতে অবশ্য আমার সুযোগ হয়েছিল বিষয়টি রিচমণ্ড ফোরামে আরো সুস্পষ্ট করার জন্য , যেখানে আয়ান আর আমি এই বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা করেছিলাম। ধর্মগ্রন্থের অস্তিত্ব আছে, মানুষ এটি ব্যাখ্যা করে। ইন্টেলিজেন্স স্কোয়ার্ড ফোরামে, বিতর্ক অনুষ্ঠানে এক পক্ষের নিজেকে আটকে রাখার অস্বাভাবিক সীমাবদ্ধতায়,আমি দাবী করেছিলাম, ইসলাম শান্তির ধর্ম শুধুমাত্র এর কারণ সুবিশাল পরিমান সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা মনে করেন না এটি একটি যুদ্ধের ধর্ম। যদি এমন কোনো দাবী করা হয় যে ইসলাম শুধুমাত্র তাই হবে যা এর অনুসারীর ব্যাখ্যা করবে, তাহলে বর্তমানে এটি শান্তির ধর্ম। (৪)

জিহাদী মতবাদের বিরুদ্ধে নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠকে উদ্দ্বীপ্ত ও সংগঠন করা আমাদের চ্যালেঞ্জের অংশ, যেন এটি সন্ত্রাসী মতবাদকে চ্যালেঞ্জ করা শুরু করে, যা ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় করেছে সংগঠিত সংখ্যালঘিষ্ঠরা যারা বর্তমানে সব আলোচনাতেই প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। আমি আসলে এটাই যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চাইছিলাম ইন্টেলিজেন্স স্কোয়্যার্ড বিতর্কে, কিন্তু বিতর্কের এই প্রস্তাবনা আমাকে বাধ্য করেছিল একটি পক্ষ নেবার জন্য: যুদ্ধ অথবা শান্তি। আমি শান্তি বেছে নিয়েছিলাম।

হ্যারিস: আমি বুঝতে পেরেছি। সেই মূহুর্তটি মনে করার ক্ষেত্রে আমার আগ্রহ কিন্তু মূল ‍উত্তরের জন্য তোমাকে আমার কাছে জবাবদিহি করানো না – এবং হতে পারে যে তোমার চিন্তাও কিছুটা বিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের কথোপকথন সেদিন খুব স্পষ্টভাবেই থমকে গিয়েছিল। আমি মনে করতে পারছিনা কিভাবে আমরা এর সমাধান করেছিলাম।

নাওয়াজ (হাসি): আমি মনে করতে পারছি না যে আমরা সমাধান করেছিলাম।

হ্যারিস: বেশ, তাহলে আমাদের প্রথম সাক্ষাৎকারে যতটুক প্রয়োজন ছিল তার চেয়ে বেশী পরিমান আশাবাদীতার সাথে না হয় আমরা শুরু করি, কারণ আমাদের অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে। তবে, মূল প্রসঙ্গে প্রবেশ করার আগে আমি মনে করি তোমার বিস্ময়কর অতীতের কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করে তোমার শুরু করা উচিৎ। হয়তো তুমি আমাদের পাঠকদের জানাতে পারে, কেন আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি সেই বিষয়ে অনেক কিছু জানার মত একটি অবস্থানে তুমি আছো।

চলবে…..

টীকা:
(১) Intelligence Squared, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বিতর্ক ফোরাম।

(২) আয়ন হারসি আলি ( জন্ম ১৩ নভেম্বর, ১৯৬৯), প্রাক্তন ডাচ রাজনীতিবিদ, লেখক ও গবেষক। নিরশ্বরবাদী আয়ান এর সাম্প্রতিক বই Heretic: Why Islam Needs a Reformation Now, যেখানে তিনি ইসলামের সংস্কারের জন্য আবহান জানিয়েছেন।

(৩) ডগলাস কিয়ার মারে ( জন্ম ১৭ জুলাই, ১৯৭৯), বৃটিশ লেখক ও সাংবাদিক, নিওকনজারভেটিভ দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি নানা বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন, প্রায়শই যিনি ইসলামের সমালোচক।

(৪) যদিও বেশীর ভাগ ( অথবা সম্পুর্ণভাবে) মুসলিম কি ভাবছেন, সেটাই যদি ইসলাম হয়, তাহলে মসুলমানদের জনমত বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৩ সালের একটি পিউ (PEW) জরিপ চালানো হয়েছিল ১১ টি মুসলিম সংখ্যগরিষ্ঠ দেশে। জরিপটি দেখিয়েছে ইসলাম সুরক্ষার নামে আত্মঘাতী বোমা হামলা দ্বারা বেসামরিক মানুষ হতাহত করার প্রতি সমর্থন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কমে গেছে। তাসত্ত্বেও এখনও আমাদের চিন্তিত করে, বেশ কিছু মানুষের সমর্থন যারা এখনও মনে করেন বেসামরিক জনগোষ্ঠীর প্রতি এই ধরনের আক্রমন ‘প্রায়শই’ অথবা ‘মাঝে মাঝে’ যুক্তিযুক্ত : মিসর (২৫%), ইন্দোনেশিয়া (৬%), জর্ডান (১২%),লেবানন (৩৩%), মালায়েশিয়া (২৭%), নাইজেরিয়া (৮%), পাকিস্তান (৩%), প্যালেস্টাইন টেরিটরিস (৬২%), সেনেগাল (১৮%), তিউনিসিয়া (১২%), তুরস্ক (১৬%)। সারা পৃথিবীতে ১.৬ বিলিয়ন মুসলিমদের বসবাস, এমনকি যদি ১০% তাদের ধর্মবিশ্বাসের সমর্থনে বেসামরিক মানুষের উপর আত্মঘাতী হামলা সমর্থন করে, তাহলে প্রায় ১৬০ মিলিয়ন মুসলিম সন্ত্রাসের সমর্থক ।(www.pewglobal.org)

————–
ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ (২)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ (১)

  1. ইস্টিশন এ ইদানিং বেশ ভাল কিছু
    ইস্টিশন এ ইদানিং বেশ ভাল কিছু অনুবাদ আসছে। লেখককে ধন্যবাদ। এমন অনুবাদ আরো চাই। সিরিজ চলুক।

  2. স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ
    স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজের বক্তব্যে কি আছে জানি না । তবে বাস্তবতা হচ্ছে বেশীরভাব মুসলিম দেশে জংগীবাদ আর জিহাদীদের উদ্ভব হয়েছে পশ্চিমা সম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর কারনে। আফগানস্থান, ইরাক ,সিরিয়া, লিবিয়া, প্যালেস্টাইন আজকে জংগীদের স্বর্গরাজ্য। কয়েক দশক আগেও তো এসব দেশে জংগীবাদ ছিল না। অথচ ইসলাম ধর্ম আর কোরান ১৪০০ বছর ধরে আছে। কাজেই মূল সমস্যাটা চিহ্নিত করতে হবে আগে।

    1. মুল সমস্যাটা কোরান ও হাদিসে।
      মুল সমস্যাটা কোরান ও হাদিসে। ১৪০০ বছর ধরে ইসলাম বিস্তার লাভ করছে সন্ত্রাসের মাধ্যমে। ইসলামের প্রথম যুগে দীর্ঘ ১৩ বছর মক্কায় শান্তির বানী আওড়িয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে নবী মুহাম্মদ সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছিলেন। খুব অল্পদিনে সফল হয়েছেন। তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। অর্থসহ কোরান-হাদিস পড়েন, সীরাতগ্রন্থগুলো পড়েন, প্রকৃত কারণ জানতে পারবেন। ইসলাম শান্তির ধর্ম এটা এখন ইতিহাস।

      1. হা হা হা। আপনার মত লালপানি
        হা হা হা। আপনার মত লালপানি গেলা মানুষ সেই পুরাতন ঢোল বাজাবেন সেটা জানতাম। তাতে অবশ্য লাভ নেই। শাক দিয়ে কি আর মাছ ঢাকা যাবে?

        1. যেখানে যুক্তির শেষ, সেখানেই
          যেখানে যুক্তির শেষ, সেখানেই ব্যক্তি আক্রমনের শুরু। তাও ভালো, চাপাতি নিয়ে দৌড়ে আসেন নাই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে – “লাল পানি” খাওয়া মানুষ বলেন আর জমজমের পানি খাওয়া মানুষ বলেন, কূরানের যে আবর্জনা গুলো দুনিয়া কে নরক গুলজার করে তুলছে, সেসব কি মিথ্যা হয়ে যায়? তার চাইতে বরং, আপনারা যারা মুমিন আছেন, তারাই দায়িত্ব নিন, কুরআনের মতো একটি ভয়ঙ্কর পুস্তক কে মোটামুটি ভাবে সহনীয় করে তোলার।

          1. সেটা এখন করবেনা। যখন আর কোন
            সেটা এখন করবেনা। যখন আর কোন উপায় থাকবেনা, তখন মুসলমানরা কোরানকে সংস্কার করতে বাধ্য হবে। যেমন ওসমান করেছিল।

          2. @ গোলাম সারওয়ার , ইকারাস
            @ গোলাম সারওয়ার , ইকারাস

            যে আবর্জনা গুলো দুনিয়া কে নরক গুলজার করে তুলছে, সেসব কি মিথ্যা হয়ে যায়? তার চাইতে বরং, আপনারা যারা মুমিন আছেন, তারাই দায়িত্ব নিন, কুরআনের মতো একটি ভয়ঙ্কর পুস্তক কে মোটামুটি ভাবে সহনীয় করে তোলার।

            বাহঃ কোরান তো দেখছি বিরাট পাওয়ারফুল একখানা কিতাব। সেটাই কি মেনে নিচ্ছেন! ১৪০০ বছর আগে অন্ধকার যুগের কোথাকার কোন আরব বেদূইন নিজেকে নবী দাবী করে কোরান নামের এক গ্রন্থ লিখে ফেলল আর তাতেই পৃথিবীর মানুষের ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা, তাবদ এথিস্টদের ঘুম হারাম।তাই না।

            আসল বাস্তবা কিন্তু অন্যরকম। দুনিয়াটাকে নরক গুলজার করে তুলছে লালপানির দেশের মানুষগুলোই। নিজেদের সভ্যতার চাকাকে অব্যাহত রাখার জন্য অন্যের তেল, গ্যাস দখল, একের পর এক দেশ বিনা কারনে ধবংস, লাখ লাখ নিরীহ নারী-শিশু হত্যা, প্রতিদিন নিরীহ মানুষদের ঘর বাড়ি বুলডোজার দেয়ে ধবংশ করা, পুজিবাদের নামে মানুষ শোষণ,বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ব্যবসা সহ আরো কয়েকশ (অ)সভ্য আর অনৈতিক আচরনের লম্বা একটা লিস্ট দেয়া যাবে।

            বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় যে অবিচার এবং বৈষম্য তা একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপে বিরাজমান। জঙ্গীবাদ এসবের উপসর্গ।

            তাই কোরানের আগে লালপানির দেশের মানুষদের ভয়ঙ্কর আর অনৈতিক আচরনগুল কিভাবে মোটামুটি ভাবে সহনীয় করে তোলা যায় সেটি চিন্তা করতে হবে আগে। নাকি বলেন!

    2. মদিনায় শেষ দশ বছর শুধু
      মদিনায় শেষ দশ বছর শুধু সন্ত্রাসের মাধ্যমে ইসলামের বিস্তার ঘটেছে। আরব যখন ইসলামের কব্জায় চলে আসে, নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর পরে ওমর, আবু বকর, ওসমান দিকে দিকে ইসলামী খেলাফত প্রসারিত করতে যে সৈন্য পাঠাতো সেটা কি শান্তি নাকি যুদ্ধ?

      কয়েক দশক আগেও তো এসব দেশে জংগীবাদ ছিল না। অথচ ইসলাম ধর্ম আর কোরান ১৪০০ বছর ধরে আছে। কাজেই মূল সমস্যাটা চিহ্নিত করতে হবে আগে।

      ওসমানিয়া খেলাফত পর্যন্ত ইসলামী খেলাফত ধরলে তখন পর্যন্ত তাদের জিহাদের চেষ্টাকে আইএস, আল কায়দার মত বিপ্লবী জিহাদী দলগুলোর মত চোখে পড়বে না। যেমন পড়ে না সৌদি আরবের ৫০ বছরের জিহাদের জন্য বাংলাদেশ, পাকিস্তানে, ভারতে পেট্রডলার বিনিয়োগের চিত্র।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 2 =