জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হল আন্দোলন

একজন ছাত্র যখন স্কুল, কলেজের গণ্ডি উতড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে পা ফেলে তখন থেকেই তার চোখের পর্দায় একটা স্বপ্ন ভাসে। হলে বন্ধু বান্ধবদের সাথে হৈহুল্লাহ, আড্ডা, গ্রুপ স্টাডি থেকে শুরু করে একটা স্বাধীন জীবনের স্বপ্ন। আঁকা হয় কিছু কাহিনী চিত্র যা সারা জীবনের রঙিন সময়গুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে।
অথচ একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে সে ঠাসাঠাসি হল রুমের স্বাধ পাবে না, রাত দুপুরে বন্ধুদের পাগলামির শামিল হবে না, শীতের রাতে মাঝ রাতে বন্ধুরা মিলে মোড়ের চা খাবে না, তা কি করে হয়?
বাংলাদেশের সায়ত্রিশটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীর হিসেবে চতুর্থ বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় পঁচিশ হাজার নিয়মিত শিক্ষার্থীরাই এই সব স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত সেই জন্ম লগ্ন থেকেই।

আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই বলছি।

প্রতিষ্ঠা সেই ২০০৫ সালে। আজ ২০১৬। মাঝ খানের ১১ বছরে বুড়িগঙ্গার জল অনেক খানি গড়িয়েছে। কিন্তু হলের দেখা পায়নি জবিয়ানরা। জন্ম থেকেই শিক্ষার্থীদের অবস্থান যতটা সময় না ক্লাসে তারচেয়ে বেশি সময় যেন রাজ পথে।
প্রথমে বর্ধিত ফি বাতিলকরণ, তারপর ২৭/৪ নামে এক কালো ধারা বাতিলকরণ।তারপর হল আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখেই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টার দিবসে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন মেয়েদের হলের।
গত তিন বছরে যার এক তলার কাজও সম্পূর্ণ হয় নাই!
প্রশাসন হলের দাবিতে বরাবরই মুলো ঝুলিয়ে রাখেন শিক্ষার্থীদের সামনে। কিন্তু কতদিন? কখনো কখনো শিক্ষার্থীরা সাথে পেয়েছে শিক্ষকদের আবার কখনো কখনো একাই লড়েছে রাজপথে। মার খেয়েছে পুলিশের।সরকারী গুণ্ডাদের। পথ হারায়নি।
পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন জেলখানার যায়গার দাবীতে আবারও উত্তাল জবি। আবারও পুলিশের গুলিতে রক্ত ঝরছে শিক্ষার্থীর। যা জাতির কাছে লজ্জাজনক।
দেশের চতুর্থ বৃহত্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে দুই চারটা বুলেট খরচ করে হঠানো সম্ভব না সে খবর কি মাথামোটা প্রশাসন রাখে না? যুক্তি তর্কে যাবো না শুধু জাতির জনকের কন্যার কাছে আবেদন ধরে নিন না এই পঁচিশ হাজার শিক্ষার্থী আপনাই সন্তান।
নিজ সন্তানদের মেস জীবনের এই দূর্দশা আর কতদিন দেখবেন মা হয়ে?
পুরাত জেলখানা নিয়ে জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা আছে খুবই ভালো কথা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা কি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সাথে নিয়ে সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়।জাতীর চার নেতার নামে চারটা হল হলে কি জাতিয় নেতাদের খুব বেশি অপমান করা হয়ে যাবে?
ছাত্ররা হারতে জানে না। ৫২ তে হারেনি, ৬৯ এ হারেনি, হারেনি ৭১ এ। ২০১৬ তেও হারবে না আশাকরি।
ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে তাদের সন্তানরূপে বুকে তুলে নিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। জবির ২৫ হাজার শিক্ষার্থী আপনাকে ভুলবে না।
সে সাথে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংবাদিকসহ সবাইকে আহ্বান জানাবো জবির হল আন্দোলনের প্রতি একাত্ত্বতা প্রকাশ করার জন্য।
জয় হোক জবিয়ানদের

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2