আমার ২৩ বছর

। । ।আমি। । ।
আমি “টিটপ” নামটা আমার খুব পছন্দ যদিও এ নামের অর্থ আমি জানি না ।
তবুও নামটা খুব ভালোবাসি কারন আর কিছু না হোক এ নামে সাম্প্রদায়িক যে দুর্গন্ধ তা নেই । অনেকেই এ নামের অর্থ জিজ্ঞেস করে আমি স্তব্ধ হয়ে যাই । ভাবি নামে কি আসে যায় । তখন বলি স্কটল্যান্ডে টিটপ নামে একটি বরফের পাহাড় আছে ।
আজ আমার জন্মদিন ২৪ আগস্ট অনেকেই আমাকে উইশ করেছে ।আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে?oh=48d296893570d31514c8d10d3140c652&oe=5855845B” width=”400″ /> । কিন্তু আমি তাতে সুখ পাই না । কারন আমি মনে করি আমার জন্য এক দুঃখ ময় দিন । জীবন থেকে হারিয়ে গেলো আমার একটি বছর যা আমি কখনই ফিরে পাবো না । তাই কাল আমি সারাদিন হাসবো না ।
আমি আমার জীবনটাকে খুব ভালোবাসি । জীবনতো একটা আর ফিরে আসবে না । আমি আমার দেহের প্রতিটা অঙ্গ প্রতঙ্গ ভালোবাসি । নাকটা একটু বড় তাই শীতকালে অধিকাংশ সময় সর্দিতে ভুগি । আমি দারাতেও পারিনা সোজা হয়ে । আমার নাকি মাথা উপরে থাকে ।আমি গরম কাল ভালোবাসি । অবশ্য আগে শিত কালটাই বেসি প্রিয় ছিল । ২০১১ সালে যখন শিত বস্র নিয়ে গেলাম কুড়িগ্রামে তখন থেকে আর শিতকাল ভালোবাসি না । শিতে গরিবের বড় কষ্ট হয় । আমি নিজেও খুব গরিব অতি সাধারণ পরিবার আমার । তাই হয়তো বা গরিবের কষ্ট সহ্য করতে পারিনা ।
আমাদের দুটি রুম একটি বারান্দা । পরিবারে লোক সংখ্যা আমি সহ মা আর বাবা । তাদের স্বপ্ন বলতে আমি । সবাই স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে । তাই তারাও দেখে । বিশেষ করে পড়াশুনা নিয়ে তাদের খুব চিন্তা । তাই প্রতি বছর সরস্বতী পূজা দেয় । কিন্তু আমি এর ঘোর বিরোধী । আমাকে জোর করে উপস থাকতে বলতো ।তখন আমি মিথ্যা বলতাম হ্যা আমি রেখছি । কিন্তু আমি রাখতাম না । আমার বন্ধু ছিল মুসলিম ঘরের । ও আমার থেকে ভালো ছাত্র ছিল। ভালো রেজাল্ট ও করতো প্রতি বছর ।তখন ভাবতাম ও তো সরস্বতী পূজা দেয় না ,উপস ও থাকে না তবে ও কেন ভালো রেজাল্ট করে ।
ছোট বেলা থেকেই অর্গানইজ ধর্ম ও শিক্ষা ব্যাবস্থার উপর এক প্রকার ঘেন্না ছিল আমার ।
আমি নিজেকে এখনো মানুষ বলে দাবি করি না । তাই অন্যকেও মানুষ ভাবি না । আমি মনে করি এ জগতে মানুষ হওয়া বড় ভাগ্যের ব্যাপার । আমি আমার জীবনে অনেক মানুষ দেখেছি তবে ফটোতে । বাস্তবেও দেখছি খুব কম । তাই সবাইকে মানুষ বলে উপাধি দিতে দিধা বোধ হয় । আমি একদিন শাহাবগ গিয়েছিলাম আমি প্রিয় জায়গা শাহাবাগ , টি এস সি ও সংসদ ভবন ।তো সেদিন আমি মুক্তো মঞ্চের পাশে বসে ছিলাম ।ওখানে একজন পাগল থাকে সব সময় উলঙ্গ ভাবে ঘুরে বেড়ায় । আমার সাথে তার দারুন সম্পর্ক । একদিন দুজনে মিলে আড্ডা দিলাম । কিছুক্ষণ পর দেখলাম দাদু নেই আমি ওনাকে পাগল দা বলে ডাকতাম । খুজে দেখলাম সে একটি গাছের কোনে লুকিয়ে আছে । কাছে গিয়ে দেখলাম সে তার গোপনঅঙ্গ দু হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছে । আমি বললাম কি হয়েছে দাদু ? দাদু বল্ল অনেক দিন পর আজ একজন মানুষ দেখেছি । তাই চিন্তা করলাম আমি যদি মানুষ হতাম তাহলে দাদু আমার সামনে উলঙ্গ হয়ে থাকতো না । আমি চিন্তা করতে ভালো বাসি ।আমি অবিশ্বাস করতে ভালো বাসি । হুমায়ুন আজাদ সারের মতো । বিশ্বাস কখনো জ্ঞানের বিকাশ ঘটে না , বিকাশ ঘটে অবিশ্বাসে । আর কেনই বা আমি বিশ্বাস করবো ?
তাই বলে আমি কারো ভক্ত না । কারন আমি মনে করি আমি যদি কাউকে আমার ভক্ত বানাই তাহলে উনি হবে আমার কল্পনিক দেবতা । তখন উনি যা বোলবে আমকে তা বিশ্বাস করতে হবে । না আমি বিশ্বাস করায় বিশ্বাসী নই ।
তবে পছন্দ করি অনেককেই । আমি কাদতে ভালোবাসি যখন কাদতে ইচ্ছে করে তখন Taslima Nasreen এর রুদ্র কে নিয়ে কবিতাটা শুনি । কবিতাটা আমি পুরোপুরি শুনতে পারিনা তার আগেই কেদে ফেলি ।
আমি নারীর প্রতি খুব দুর্বল ।আমি নারীর স্নেহের কাছে হেরেছি ,মমতার কাছে হেরেছি,কামের প্রতি হেরেছি বহুবার ।
আমি বহুবার প্রেমে পরেছি । ছোট ,বড় , মাঝারি, চিকন, মোটা, বেটে , লম্বা, শ্যামা, ফর্সা, নারীদের প্রেমে পরেছি । এই নিয়ে একটা কবিতা ও লিখেছি ।
আমার প্রেমও অনেকেই পড়েছে তবে তুলনামূলক ভাবে আমি বেসি পরেছি ।
আমি বই পরতে ভালোবাসি লিখতেও । খুব লিখতে ইচ্ছে হয় । কিন্তু পারিনা ।
বিশেষ করে লেখার জন্য একটা পরিবেশ দরকার কিন্তু সেই পরিবেশের আমার নাই । আমি রাতে লিখতে ভালোবাসি কিন্তু পারিনা এগুলো আমাকে বাধা দেয় । আমার ঘরটা আলাদা তবে তাদের ঘরের সাথে । আমার রাতে দরজা আটকানো নিষেধ । কারন মাঝে মাঝে আমার স্লিপিং ষ্টক হয় । আমি নাকি চোখ বন্ধ করে হেটে বেড়াই । এখন আর হয় না । তবুও দরজা খোলা রেখে ঘুমতে হয় । আমি ঘুমতে চাই না । আমি লিখতে চাই ,বই পড়তে চাই । কি করে লিখবো বাবা আলতে ঘুমতে পারেনা । আমার ঘরে আলো জালানো থাকলে বাবার ঘুমের সমস্যা হয় । এদানিং আবার নিরাপত্তার জন্য ভয় হয় । জীবনের মায়া কার না আছে । মাঝে মাঝে ভাবি আর লিখবো না । অনেকেই অনুরধ করে লেখা চালিয়ে যান ।আমি অনুপ্রেনিত হই আবার শুরু করি । তাই মাঝে মাঝে ভাবি যদি লিখি তাহলে ওরা মারবে আর যদি না লিখি তাহলে দম বন্ধ হয়ে মরবো ।
তাই ইদানিং হাটার সময় এদিক উদিক তাকাই । মনে চায় সামনে একটা আয়না ঝুলিয়ে নিব নাকি পিছনের কি হয় তা দেখবো আর হাঁটবো । জানি এই লাইন টা পড়ে অনেকেই হাসবেন ।
আমি খেতে ভালো বাসি । আমি সব কিছুর স্বাদ নিতে চাই তাহলে বুঝতে পারব কোন জিনিষের কি স্বাদ । তাই আমি বিষ খেতে চাই । শুনেছি বিষের স্বাদ টক । আমার প্রত্যেকটা ইন্দ্রয় গুলকে আমি সঠিক কাজে লাগাতে চাই । এর ভেতর স্বাদ অন্যতম ।
আমি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই । আমি আমার মতো বাচতে চাই । আমি পশু থেকে মানুষ হতে চাই । আমি সুস্থ পরিবেশ চাই । নিরাপত্তা চাই ।
এটা কি আমার অপরাধ ?
পরিশেষে বলতে চাই এ আমার সুখের কথা নয় এ আমার ২৩ বছরের ছোট্ট একটি আত্মজীবনী ।
আমি জানি আমি ভালো করে লিখতে পারিনা । তাই বলে কি লিখবো না ?
আমার লেখায় কেউ যদি আঘাত পেয়ে থাকেন দুঃখিত । আর বানান এর কিছু ত্রুটি হতে পারে সংশোধন করে নিবেন ।
ধন্যবাদ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 2 =