জিয়াউর রহমান যে রাজাকার ছিল একটি ঘটনায় আজ তা জাতির সামনে স্পষ্ট

জিয়াউর রহমান যে রাজাকার ছিল একটি ঘটনায় আজ তা জাতির সামনে স্পষ্ট
সাইয়িদ রফিকুল হক

এই দেশে অনেক অর্বাচীন ও স্বার্থপর-ধান্দাবাজ সবসময় জিয়াউর রহমানের মতো একটা ঠাণ্ডামাথার খুনীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলে থাকে। এর দলিল হিসাবে তারা পেশ করে থাকে যে, জিয়া একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো। এবং সে একটি সেক্টরের কমান্ডারও হয়েছিলো। সবই আংশিক সত্য মাত্র।
বাংলাদেশের রাজাকারদের পিতা জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে নিজের জীবন বাঁচাতে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলো। এবং সে একজন আর্মি-অফিসার হওয়ার সুবাদে—কর্নেল তাহের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্বপালনকালে আহত হওয়ার পর তদস্থলে একজন আর্মি-অফিসারের প্রয়োজন হওয়ায় জিয়াকে সেই পদে বহাল করা হয়েছিলো। আসলে, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশেকে ভালোবেসে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়নি। তার মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের ঘটনাটা আকস্মিক ও অনভিপ্রেত। সারাজীবন জিয়া পাকিস্তানের গোলাম ছিল—আর সে জীবনের শেষদিনটা পর্যন্ত পাকিস্তানের গোলামি করতে-করতেই মারা গিয়েছে।

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু-সরকার গোলাম আযমের নাগরিকত্ব-বাতিল করেছিলো। আর এই সময় থেকে ধূর্ত গোলাম আযম নিজের জীবন বাঁচাতে পাকিস্তানেই আত্মগোপন করে ছিল। ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে সামরিক-ক্যু সংঘটিত হলে—এতে প্রথমে শয়তানের জারজপুত্র খন্দকার মোশতাক আহমেদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করে নেয়। মাত্র ৮২ দিন এই শয়তানের জারজপুত্র বাংলাদেশে শাসনকার্য-পরিচালনা করে। এরপর ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের আরেকটি সামরিক-ক্যু-এর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করে নেয়।

একটি বিষয় নিয়ে আজকে সারাদেশে নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে—বাংলাদেশ-সেনাবাহিনীতে কীভাবে একাত্তরের রাজাকার-সর্দার গোলাম আযমের পুত্র চাকরি পায়? এর আগে আমাদের জানতে হবে এই দেশে গোলাম আযমরা কীভাবে নাগরিকত্ব পেলো। আর সে কীভাবে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এলো?

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর থেকে জিয়ারা বাংলাদেশরাষ্ট্রকে পাকিস্তান বানাতে যারপরনাই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। আর এরই ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহীবিপ্লবের নাটক করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করে দেশটাকে পাকিস্তান বানানোর কাজে নেমে পড়ে। তাই, একজন খুনী জিয়া রাষ্ট্রীয় খরচে পাকিস্তানী-নাগরিক গোলাম আযমকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়। জিয়াউর রহমানের আদর্শপিতা গোলাম আযম এইসময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নানাভাবে প্রভাববিস্তার করতে শুরু করে দেয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সে তার অপদার্থ, অযোগ্য, অথর্ব ও অকর্মণ্য পুত্র আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ-সেনাবাহিনীতে অফিসার-পদে চাকরি দেয়।
এখানে, একটি কথা বলে রাখা আবশ্যক যে, জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ-নির্দেশেই ১৯৭৯ সালে বাংলার কুখ্যাত-রাজাকার-সর্দার গোলাম আযমের পুত্র রাজাকার আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে বাংলাদেশ-সেনাবাহিনীতে অফিসার-পদে চাকরি দেওয়া হয়েছিলো।
এরপরও কি বলতে হবে জিয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিল?

বাংলাদেশের সমস্ত রাজাকারদের আদিপিতা সাবেক সামরিকজান্তা জিয়াউর রহমান। আর সে-ই বাংলাদেশের রাজাকারদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়প্রশ্রয়দাতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে দেশটাকে রাজাকারি-শাসনের দ্বারা ধ্বংস করার ক্ষেত্রেও জিয়াই পথিকৃৎ। তারপর তার দেখানো পথ অনুসরণ করেছে আরেক সামরিকজান্তা-এরশাদসহ জিয়ার আদর্শের উত্তরাধিকারী খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়াগং। আর বাংলাদেশে গণতন্ত্র কবর দিয়ে ‘রাজাকারতন্ত্র’প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও জিয়াই একমাত্র গডফাদার।

১৯৭১ সালের রাজাকার-সর্দার গোলাম আযম ছিল পাকিস্তানে। তাকে জামাইআদরে স্পেশাল বিমানে করে বাংলাদেশে এনেছিলো এই জিয়াউর রহমান। আর তাকে সরকারিভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়েছিলো জিয়ার অবৈধ-উত্তরাধিকারী খালেদা জিয়ার সরকার।
গোলাম আযমের পুত্রকে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান নিজহাতে বাংলাদেশ-সেনাবাহিনীতে চাকরি দিয়েছিলো। কারণ, জিয়া ছিল রাজাকার, গোলাম আযম রাজাকার, আর গোলাম আযমের পুত্র আজকের আব্দুল্লাহিল আমান আযমীও ছিল একাত্তরের রাজাকার। তাই, পাকিস্তান-কায়েমের জন্য গোলাম আযমের পুত্রকে জিয়া সেদিন বাংলাদেশ-সেনাবাহিনীতে চাকরি দিয়েছিলো।

জিয়াউর রহমান যে রাজাকার ছিল—এই একটি ঘটনায় আজ তা জাতির সামনে স্পষ্ট।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৫/০৮/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “জিয়াউর রহমান যে রাজাকার ছিল একটি ঘটনায় আজ তা জাতির সামনে স্পষ্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

21 − 17 =