মহান মে দিবস ও আমার ভাবনা

মহান মে দিবস ও আমার ভাবনা।

আমরা সকলেই মে দিবসের পটভূমি ও তাতপর্য সম্পর্কে কম বেশি জানি। কিন্তু যাদের জন্য এই দিন পালন তারা কি জানে এর ইতিহাস কিংবা আসল প্রয়োজনীয়তা? নাকি দিন শেষে সেই তিমিরেই অবস্থান করে? না কি তারা শুধু জানে মে দিবস মানে দল বেধে মিছিল করা আর সংগঠকদের দেয়া নাস্তা খাওয়া? তারা কি জানে তাদের মে দিবস পালনের নাম করে আরেক প্রস্থ পয়সা লোটপাটের মচ্ছবে মেতে উঠে আমাদের মালিক কিংবা সংগঠক শ্রেণির লোকেরা?

আমি কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বললাম আজ সকালে।

তারা অধিকাংশই মনে করে মে দিবস মানে হলো শ্রমিকদের জন্য আন্দের দিন। এদিন তাদের ছুটি, মালিক শ্রেণী তাদেরকে নিয়ে আনন্দ করবে আজকের দিনে, তারা পেটপুরে খাবে মিছিল সমাবেশ শেষে।

শুধু শ্রমিক শ্রেণি কেন? আমাদের মত লোকেরাও কি সঠিক ইতিহাস জানে? কিংবা জানে কি মে দিবস কি শিক্ষা দেয়? অনেক আবাল দেখেছি যারা মে দিবসকে স্রেফ একটা ছুটির দিন ছাড়া কিছুই ভাবেনা। কেউ কেউ এদিনে শিডিউল করেন কোথায় কোথায় বেড়াতে যাওয়া যায়। কি কি করা যায়। প্রেমিক প্রেমিকারা আরেকটা দিন নির্ঝঞ্জাট ডেটিং করার প্রস্তুতি নেন। আর অনেকেই মহান মে দিবসে ফেবু টুইটার আর ব্লগে শুভেচ্ছা বানী দিয়ে লাইক আর কমেন্ট কামানোতে ব্যস্ত থাকেন।

তাই, বলি কি, আসেন শুধু চিক্কুর না পাইরা কাজের কাজ কিছু করার চিন্তা করি।

আমার কাছে মনে হয় শ্রমিক শ্রেণির সাথে আমাদেরকে মিশতে হবে সবার আগে। তাদের সাথে মিশে জানতে হবে তাদের প্রধান প্রয়োজন কি? জানতে হবে তারা অধিকার বলতে কি বুঝেন। জানাতে হবে তাদের অধিকার কি বা কতটুকু। সচেতনতাই তাদের ভিতরে জন্ম দিতে পারে অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হওয়ার বীজটুকু।

শ্রমিক বা নিম্ন আয়ের লোকেরা জানেনা যে তারা যেটুকু মজুরী পায় তা কোন প্রকারেই ন্যয্য তো দুরে থাক শোষন ভিন্ন কিছু নয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় তারা মনে করে মজুরীর বাইরে দশ টাকা বকশীশ মানে মালিকের মহত্ম। তারা একবারের জন্যও ভাবেনা বা জানেনা তাদের প্রতি কি পরিমান অন্যায় করা হয়। অবশ্য এসব ভাবার অবকাসও আমাদের মত লোকেরা তাদের দিতে নারাজ। শ্রমিক সমাজ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে কাজে যোগ দেয় আর সেই সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরামহীন খেটে খেটে যখন বাড়ি ফেরে তখন খাওয়া ঘুম ছাড়া আর কোন চিন্তা মাথায় আসার সময় পায় না।

তাই আসুন আজ থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে কমপক্ষে এক কিংবা আধা ঘন্টা এই মানুষগুলোর সাথে মেশার চেষ্টা করি। তাদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করি। একটা ঐক্যের বন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা করি তাদের মাঝখানে। ঐক্যের মধ্য দিয়েই এক সময় বিপ্লবের মন্ত্রে দিক্ষীত হবে আমাদের শোষিত সমাজ।

বিপ্লব দীর্ঘজীবি না হয়ে মুক্তি দ্রুত আসুক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “মহান মে দিবস ও আমার ভাবনা

  1. আমদেরকে চেষ্টা করে যেতেই
    আমদেরকে চেষ্টা করে যেতেই হবে।
    যত দীর্ঘ সময়ই লাগুক তবু যেন বিপ্লব আসে।

  2. শ্রমিকরা যতদিন রাজনৈতিক দলীয়
    শ্রমিকরা যতদিন রাজনৈতিক দলীয় লেজুড়বৃত্তি না ছাড়বে ততদিন এ উদ্দেশ্য কখনই সফল হবে না। শ্রমিক বিপ্লবের জন্য সর্ব প্রথম শ্রমিকদেরকে সকল প্রকার দলীয় লেজুড়বৃত্তি বাদ দিয়ে এক পতাকা তলে হাজির হওয়া। নইলে শ্রমিক বিপ্লব শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে, বাস্তবে রূপ নিবে না…..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

46 + = 50