ইতিহাস বিকৃতি ঠেকানো আমাদের দায়িত্ব

যুদ্ধাপরাধিদের আশ্রয়দানকারী জিয়াউর রহমানকে যে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়েছিল তা যদি জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে আগামী প্রজন্মের কাছে ভুল ইতিহাস উপস্থাপিত হবে এবং একটি ভুল বার্তা যাবে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কারও তুলনা হয় না। জিয়াউর রহমান নিজেও যে দাবি করেননি, সেই দাবি তুলে তাঁকে স্বাধীনতার ঘোষক বানিয়ে জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও জনকের কাছাকাছি নেওয়ার এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বাংলার জনগণ আপত্তি তুলেছিল। এই সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক ব্যাপার নয়, এটা নীতি ও ইতিহাসের দায়।২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। সে সময় পুরস্কারের মেডেল, সম্মাননাপত্র কোনো উত্তরাধিকারকে না দিয়ে জাতীয় জাদুঘরের একটি কর্নারে যথাযোগ্য মর্যাদায় সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি পদ বা রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণের বিষয়টি হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন। স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। তাই এই পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রার্থী নির্বাচনকালে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অসাধারণ অবদান রেখেছেন এমন সীমিত সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেই বিবেচনা করা হবে।জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতায় আরোহণকে উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করায় তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ ।স্বাধীনতা পুরস্কার-সংক্রান্ত ২০১৬ সাল পর্যন্ত সংশোধিত নির্দেশনাবলির সঙ্গে ২০০৩ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্তটি সাংঘর্ষিক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

81 − = 80