নারায়ানগঞ্জে তিন কথিত জঙ্গি নিহত ও ইসলাম :তামিম চোধুরী কি জঙ্গি ?

গতকাল অর্থাৎ ২৭ আগস্ট/২০১৬ তারিখে নারায়নগঞ্জে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে তিন কথিত জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর ফলে সরকারের মধ্যে উচ্ছাস দেখা গেলেও সাধারন মানুষের মধ্যে তেমন কোন উচ্ছাস নেই। তারা আসলে নিশ্চিত না যে এরা আসলে জঙ্গি, নাকি খাটি সহিহ মুসলমান। তামিম চৌধুরী কি আসলেই জঙ্গি নাকি খাটি সহিহ মুসলমান? যদি তামিম চৌধুরী জঙ্গি হয় তাহলে ইসলাম কি জঙ্গিবাদ বা বর্বর প্রথা হয়ে যায় না ?

গতকাল অর্থাৎ ২৭ আগস্ট/২০১৬ তারিখে নারায়নগঞ্জে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে তিন কথিত জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর ফলে সরকারের মধ্যে উচ্ছাস দেখা গেলেও সাধারন মানুষের মধ্যে তেমন কোন উচ্ছাস নেই। তারা আসলে নিশ্চিত না যে এরা আসলে জঙ্গি, নাকি খাটি সহিহ মুসলমান। তামিম চৌধুরী কি আসলেই জঙ্গি নাকি খাটি সহিহ মুসলমান? যদি তামিম চৌধুরী জঙ্গি হয় তাহলে ইসলাম কি জঙ্গিবাদ বা বর্বর প্রথা হয়ে যায় না ?

কথিত জঙ্গিরা দেশে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার জন্যে জিহাদ ঘোষনা করেছে। না করে তাদের উপায়ও নেই। ৯০% মুসলিম দেশ বাংলাদেশে গনতন্ত্রের মত একটা তাগুতি শাসন ব্যবস্থা চালু থাকবে সেটা তো হয় না। মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশে খাটি ইসলামী শাসনতন্ত্র চালু থাকবে , সেটাই স্বাভাবিক হওয়া উচিত। অথচ বাংলাদেশে তার বিপরীত। বাংলাদেশে গনতন্ত্রের নামে তাগুতি বিধান চালু আছে , অথচ দেশের অধিকাংশ ধর্মপ্রান মুমিন বান্দাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তারা কি ইসলামী শাসন চায় নাকি গনতন্ত্র চায়, তাহলে একবাক্যে সবাই বলবে যে তারা ইসলামী শাসন চায়। কিন্তু বিশেষ শ্রেনীর রাজনৈতিক দল ও তাদের তাবেদারদের কারনে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাৎ গনমানুষের দাবীর প্রতি সেই সব রাজনৈতিক দল বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে দেশের সাধারন মানুষের ওপর ইসলাম বিরোধী তাগুতি বিধান চালু রেখেছে পশ্চিমা কাফিরদেরকে সন্তুষ্ট করতে।

ইসলাম শুধুই ব্যাক্তি মানুষের একান্ত বিষয় না। অনেকেই আছে যারা মনে করে একজন মানুষ নামাজ রোজা হজ্জ কোরবানী করল সেটাই তো ইসলাম পালন। কিন্তু না, সেটাই ইসলাম না। ইসলাম শুধুই ব্যাক্তি মানুষের একান্ত বিষয় না। এটা ব্যাক্তিগত , সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় সর্বক্ষেত্রে প্রয়োগ ও প্রতিষ্ঠার বিষয়। ইসলামের চুড়ান্ত দাবী হলো , মুসলমান সমাজ ইসলামী বিধি বিধানে চলবে – সেখানে ব্যাক্তিগত ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন দাম নেই , অর্থাৎ গনতন্ত্রের কোন মূল্য নেই। বাংলাদেশ যেহেতু মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ , তাই এখানে মানুষ খালি রোজা নামাজ কোরবানী করলেই হবে না , এখানে দেশে পরিপূর্ন ইসলামী বিধি বিধান কায়েম করতে হবে। দেশের সকল ইসলামী পন্ডিত , ইমাম – এদের মতামত ও সিদ্ধান্ত এই রকমই, একই সাথে সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমানদের মনের ইচ্ছাটাও তাই।

এমতাবস্থায় দেশে ইসলামী বিধান চালু করার প্রকৃত উপায় কি ?

এবার দেখা যাক , মুহাম্মদ কি করেছিলেন তার জীবদ্দশায়। মুহাম্মদ মক্কাতে ১২ বছর ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্যে মানুষের কাছে শান্তিপূর্নভাবে প্রচার করেছিলেন। কিন্তু তার কথায় তেমন কেউ কান দেয় নি। অত:পর ব্যর্থ মনোরথ হয়ে মুহাম্মদ মদিনায় হিজরত করেন তার ভাগ্য পরীক্ষার জন্যে। সেখানে গিয়ে তিনি নানা কায়দা কৌশলে মদিনায় আস্তে আস্তে মদিনাকে একটা ইসলামী রাজ্যে পরিনত করেন। কিন্তু সেটা শান্তিপূর্ন পন্থায় হয় নি। এর জন্যে তাকে শান্তির পথ বাদ দিয়ে অস্ত্র হাতে ধরতে হয়। তাকে জিহাদের পথ ধরতে হয়। মদিনায় ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে মুহাম্মদকে বহু যুদ্ধ করতে হয়। অমুসলিমরা বার বার তাকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে বাধা দিচ্ছিল। সেসব বাধাকে জয় করতে , কোরানের বানী কোন কাজে আসে নি , বরং তরবারীটাই কাজে এসেছে। মুহাম্মদকে বার বার যুদ্ধ করতে হয়েছে , মানুষ হত্যা করতে হয়েছে , লুটপাটের মাল ও বন্দিনী নারীদেরকে তার সাহাবিদের মধ্যে বিতরন করে তাদেরকে সন্তুষ্ট ও প্রলুব্ধ করতে হয়েছে। শুধুমাত্র বেহেস্তের লোভ ও দোজখের ভয় কাজ করে নি। অর্থাৎ পরিশেষে মুহাম্মদকে জিহাদ বা যুদ্ধ করেই ইসলামী শাসন কায়েম করতে হয়েছিল।

মিষ্ঠি মধুর কথায় যখন বাংলাদেশে ইসলামী বিধান কায়েম করা যাচ্ছে না , তখন কিছু মুমিন যদি নবী মুহাম্মদের দেখান পথে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে জিহাদের মাধ্যমে দেশে ইসলামী বিধি বিধান কায়েম করতে চায়, তাহলে সেটা ইসলাম বিরোধী হয় কিভাবে , আর যারা সেটা করতে চায়, তারাই বা জঙ্গি হয়ে যায় কিভাবে ?

তামিম আহমেদ চৌধুরী , যার জন্ম কানাডা আর সেখানেই লালিত পালিত ও শিক্ষিত। কিন্তু খাটি মুমিন। যে কানাডায় যাওয়ার জন্যে দেশের অধিকাংশ শিক্ষিত অশিক্ষিত মূর্খ সবাই উন্মাদের মত ছুটা ছুটি করে , সেই কানাডার সচ্ছল স্বচ্ছন্দ জীবন ত্যাগ করে , শুধুমাত্র ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে তিন বছর আগে বাংলাদেশে এসে , নিজের জীবনকে প্রচন্ড ঝুকির মধ্যে ফেলে দেশে ইসলামী শাসন কায়েমের জন্য নবী মুহাম্মদের দেখান পথে জিহাদ করে যাচ্ছিল ,তখন তাকে বলা হলো সে নাকি জঙ্গি। আবার তাকে যখন হত্যা করা হলো , তখন আনন্দ করা হচ্ছে এই বলে যে জঙ্গি নিহত হয়েছে।

এই তামিম চৌধুরী যদি জঙ্গি হয়, তার মানে মুহাম্মদের দেখান ইসলামী জিহাদ হলো একটা জঙ্গি মতবাদ তথা জঙ্গলের বর্বর প্রথা। দেশের মানুষ যদি তামিম চৌধুরীকে জঙ্গি বলে , তার মানে দেশের মুসলমানরাই প্রমান করছে যে ইসলাম আসলে একটা জঙ্গিবাদ বা বর্বর মতবাদ। কিন্তু সেটা কি তারা উপলব্ধি করতে পারছে ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

81 + = 91