ঘনিষ্ঠ ভাইবোন বিয়ে প্রথা হারাম( কি পড়লাম রে বাবা)

ঘনিষ্ঠ ভাইবোন বিয়ে প্রথা হারাম( কি পড়লাম রে বাবা)
==================== ============
চাচাতো, ফুফাতো, খালাতো, মামাতো ভাইবোনদের মধ্যে বিয়ে সম্পর্ক করা এমনকি প্রচলিত হাদিস-ফেকহায় একটি মাত্র হাদিসও নেই। পক্ষান্তরে, এদের মধ্যে বিয়ে সম্পর্ক একমাত্র মহানবী সা] ছাড়া সাধারণ মুসলমানদের জন্য কোরানে হারাম ঘোষিত আছে:
“ইয়া আইয়ু হা ন্নাবিউ — গাফুরান রাহিমান” ৩৩: আহজাব: ৫০] অর্থ: হে নবী! আমি তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার স্ত্রীগণকে; যাদের তুমি মোহর প্রদান করেছ এবং বৈধ করেছি ফায় হিসেবে আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তারমধ্যে যারা তোমার মালিকানাধীন হয়েছে তাদের, এবং বিয়ের জন্য বৈধ করেছি তোমার চাচার কন্যা ও ফুফুর_কন্যাকে, মামার কন্যা ও খালার কন্যাকে, যারা তোমার সঙ্গে দেশ ত্যাগ করেছে এবং কোনো মুমিন নারী নবীর কাছে নিজকে নিবেদন করলে এবং নবী তাকে বিয়ে করতে চাইলে সে-ও বৈধ । এটি বিশেষ করে তোমারই জন্য, অন্য মুমিনদের জন্য নয়। যাতে তোমার কোনো অসুবিধা না হয়। মুমিনদের স্ত্রী এবং তাদের মালিকানাধীন দাসীগণ সম্বন্ধে যা নির্ধারিত করেছি তা আমি জানি । আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু
>>আয়াতটি পুরোপুরি এবং একমাত্র নবীর জন্য; নবীকে ডেকেই কোন কোন নারীগণ বিয়ের জন্য বৈধ তা একে একে বর্ণনা করার পর শেষে ঘোষণা করা হয়েছে যে, উল্লেখিত বিধিমালা একমাত্র নবীর জন্য বৈধ, অন্য মুমিনদের জন্য বৈধ লয় । ঘোষণাগুলো ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হলো:
ক) বৈধ করেছি তোমার স্ত্রীগণকে; যাদের তুমি মোহর প্রদান করেছ
খ) এবং বৈধ করেছি ফায় হিসেবে আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তন্মধ্যে থেকে যারা তোমার মালিকানাধীন হয়েছে তাদের ।
গ)এবং বিয়ের জন্য বৈধ করেছি তোমার চাচার কন্যা ও ফুফুর কন্যাদের,
মামার কন্যা ও খালার কন্যাদের, যারা তোমার সঙ্গে দেশ ত্যাগ করেছে ।
ঘ) এবং কোনো মুমিন নারী নবির কাছে নিজকে নিবেদন করলে এবং নবি তাকে বিয়ে করতে চাইলে তা নবির জন্য বৈধ ।

>>পক্ষান্তরে শরিয়ত বলে একমাত্র ‘ঘ’ নং ধারাটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে নবির জন্য নির্দিষ্ট যা অন্য মুমিনদের জন্য নয়।
বাকি তিনটি ধারা সব মুমিনদের জন্য বৈধ মূলত এটি চূড়ান্ত ভ্রান্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপব্যাখ্যা,
কারণ:
১. উল্লেখিত ক নং ধারা সাধারণ মুমিনদের জন্য রাসুলের বিবাহিতা স্ত্রীগণ কি করে বৈধ হতে পারে! সেখানে বলেছে রাসুলের মোহর প্রদত্ত বিবাহিত স্ত্রীগণ একমাত্র রাসুলের জন্যই বৈধ । রাসুল তালাক দিলে অথবা তার মৃত্যুর পরেও ঐ স্ত্রীদের অন্য কেউ বিয়ে করতে পারবে না । এটি অন্য আয়াতেও ঘোষিত আছে যে, “নবি পত্নীগণ এমনকি নবির মৃত্যুর পরেও অন্যত্র বিয়ে করতে পারবে না।” দ্র: ৩৩: আহজাব-৫৩]

২. খ নং আয়াতে বলেছে যে, যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের মধ্যে রাসুলের অধীনে আশ্রিতা হিসেবে যারা ছিল তাদের মধ্য থেকে রাসুল স্ত্রী হিসেবে যাদের গ্রহণ করেছেন বা করবেন তারাও সাধারণের জন্য হারাম; কিন্তু যাদের শুধুমাত্র আশ্রয় দিয়েছেন, বিয়ে করার কোনো আশঙ্কা নেই তারা সাধারণের জন্য বৈধ হওয়া স্বাভাবিক ।

৩. গ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, কাছের বোনগণ এমনকি নবির জন্যও হারাম এবং আদিকাল থেকেই হারাম ঘোষিত হয়ে আসছে যা সব জাতিই সাক্ষী । অন্য কোনো জাতির মধ্যেই কাছের ভাইবোনদের মধ্যে বিয়ে সম্পর্ক হয় না, তারা বিষয়টি জঘন্য হারাম বলে গণ্য করে । কিন্তু কাছের বোনদের মধ্যে যারা রাসুলের জন্য বা সঙ্গে দেশ ত্যাগ করেছেন সেই ঘনিষ্ঠ বোনদের ইচ্ছা করলে রাসুল বিয়ে করতে পারেন; যাতে নবির কোনো অসুবিধা না হয়; এটাই গ নং ধারার প্রধান বক্তব্য;
তবে ধারাটি স্বতন্ত্রভাবেও দুটি ভাগ করা সম্ভব, যেমন:
এক. যে কোনো ঘনিষ্ঠ বোনগণ নবির জন্য বৈধ ।
দুই. রক্ত সম্পর্ক নির্বিশেষে যে কোনো নারী রাসুলের সঙ্গে বা তার জন্য হিজরত করেছেন তারাই তাঁর জন্য বৈধ ।
>প্রধান শর্ত হলো: সে যেইই হোক যিনি নবির জন্য হিজরত করেছেন, ইচ্ছা করলে নবি তাদেরও বিয়ে করতে পারেন ।
৪. আর ঘ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, এর পরেও যে কোনো মুমিন নারী নবিকে বিয়ে করতে চাইলে নবি তা ইচ্ছা করলে করতে পারেন । বিধানগুলো সচরাচর বা সাধারণ নয় বরং নবির জন্য অতিরিক্ত ও বিশেষ বিধান; যাতে নবির কখনো কোনো অসুবিধা না হয় ।
শরিয়তের প্রধান বিশ্বাস হলো যে, উল্লেখিত ক থেকে ঘ নং ধারা সংবলিত ৫০ নং আয়াতটি সর্বসাকুল্যে একমাত্র নবির জন্যই, তার সাথে অন্য মুমিনদের কোনোই সম্পর্ক নেই অর্থাৎ মানাও দরকার নেই। অন্য মুমিনদের সম্পর্ক আছে সুরা নিছার ২২-২৩ নং আয়াতে বর্ণিত ১৪ সম্পৰ্কীয় নারীদের সঙ্গে, যেমন:
অ লা তানকিহু – রাহিম [৪ঃ নিছা-২২, ২৩] অর্থ–নারীদের মধ্যে পূর্বে যা হয়েছে। এটি অশ্লীল, অতিশয় ঘূণ্য ও নিকৃষ্ট আচরণ খালা, ভ্রাতুষ্পপুত্রী, ভাগিনী, দুধ-মাতা, দুধ-ভগিনী, শাশুড়ি ও তোমাদের স্ত্রীদিগের মধ্যে যার সাথে সংগত হয়েছে তার পূর্ব স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত কন্যা, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে; তবে যদি তাদের সাথে সংগত না হয়ে থাক তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ নেই_। এবং
তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ-তোমাদের ঔরস জাত পুত্রের স্ত্রী ও দুই বোন কে একত্র করা। পূর্বে যা হয়েছে ।
ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
শরিয়ত এই ২২, ২৩ নং আয়াতের দোহাই দিয়ে সাধারণগণ ঘনিষ্ঠ ভাইবোনদের অনবরত বিয়ে করছে । কিন্তু তাদের ভাবা উচিত যে কোরানের আয়াতগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, একে অন্যের বিপরীত বা বিরুদ্ধ নয় এবং সব আয়াতের মান সমান এবং সমান পালনীয় । তাছাড়া তাদের বক্তব্য, কোনোই সম্পর্ক নেই কথাটার অর্থই তাদের জন্য অবৈধ, হারাম ।

গ নং ধারাটি বৈধ হলে ক ও খ ধারাদ্বয়ও স্বভাবত সাধারণের জন্য বৈধ বলে স্বীকার করতে হয়, কিন্তু তা কি সম্ভব!

তবুও শরিয়ত বলে যে, ঘ নং ধারাটিই বিশেষত একমাত্র নবির জন্য, অন্য মুমিনদের জন্য নয়। বরং ঐ ধারাটিই অন্য মুমিনদের সম্পর্ক থাকা স্বাভাবিক; কারণ, সাধারণত মুমিন নর-নারী উভয়ের সম্মতিতেই বিয়ে হয়ে থাকে ।
প্রধানত হিজরতি ঘনিষ্ঠ (প্রথম কাজিন) বোন ছাড়া অন্য ঘনিষ্ঠ বোনদের বিয়ে যেখানে নবির জন্যও হারাম সেখানে সাধারণের জন্য হালাল ভাবার তিল পরিমাণ সুযোগ আলবৎ থাকতে পারে না!
আপন ভাইবোনদের মধ্যে বিয়ে সিদ্ধ না হওয়ার প্রধান কারণ উভয়ের রক্তের সমতা । ঘনিষ্ঠ ভাই-বোনদের মধ্যে সম-রক্তের অনুপাত আধা-আধি । মামা-খালার দেহের রক্ত ও মায়ের রক্ত একই; অর্থাৎ মামাতো, খালাতো ভাইবোনদের দেহের রক্ত স্ব-রক্তের আনুপাতিক মান সমান; অনুরূপ চাচাতো, ফুফাতো ভাইবোনদের দেহে বাবার রক্তের অনুপাত সমান; অর্থাৎ তাদের মধ্যে পৈতৃক রক্ত প্রবাহের মান সমান-সমান বলেই আদিকাল থেকে সব ঐশী গ্রন্থে
এদের মধ্যে বিয়ে সম্পর্ক হারাম ঘোষিত হয়ে আসছে। কিন্তু অশ্লীল, হারাম ফতোয়ার বদৌলতে একমাত্র মুসলমানদের মধ্যে এই অবৈধ তথা হারাম বিয়ে প্রথা চলে আসছে হাজার বছরের অধিককাল থেকে আজ মুসলিম বিশ্বে এমন কোনো পরিবার নেই যাদের দু-চার পুরুষের মধ্যে কেউ না কেউ প্রথম কাজিনদের মধ্যে বিয়ে সম্পর্ক করেননি ।
রক্তের সম্পর্কে সাধারণত খালাতো বোনের সন্তান তাকে মামা ডাকে; সেই বোন সে নিজে বিয়ে করলে যে সন্তান আসবে সে প্রকৃতপক্ষে কি মামা-চাচার জন্ম নয়।
অতএব পর্যায়ক্রমে কালের বিবর্তনে মুসলিম জাতির মধ্যে ৮০-৯০ শতাংশ আমরা হারাম বা অবৈধ সন্তান কি না! আশা করি আলেম-আল্লামাগণ তার বৈধতার ব্যাখ্যা প্রদান করে সাধারণের সন্দেহ দূর করবেন; অন্যথায় যথাযথ আশু ব্যবস্থা নেয়া মুসলিম জাতির জন্য অপরিহার্য ।
প্রকাশ থাকে যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতেও এদের মধ্যে রক্তের সমতার কারণে বিয়ে সম্বন্ধ সঙ্গত বলে মনে করে না । কারণ এতে দৈহিক ও মানসিক বিপর্যস্ত কু-সন্তান জন্ম নেয় । সে কারণেই সম্পপ্রতি সৌদি আরবেও এই জঘন্য বিয়ে প্রথা বাতিলের পরামর্শ চলছে । (পত্রিকায় প্রকাশ)
সন্তানগণ এজন্য দায়ী নয় বটে। কিন্তু যখন তাদের অবৈধ প্রজন্মের পরিচয় জানতে পারবে তখন তাদের সম্মিলিত প্রশ্নবাণের আঘাত প্রচলিত শরিয়ত সামাল দিতে পারবে তো !!
>সুত্রঃ কোরান বনাম শরিয়ত- মোহাম্মদ জামিলুল বাসার।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 64 = 67