রিচার্ড ডকিন্সের বাস্তবতার জাদু – প্রথম অধ্যায় (পাঁচ)

?oh=ba51babdfa7766db6eb578ed59924b02&oe=583A6139″ width=”400″ />

রিচার্ড ডকিন্সের বাস্তবতার জাদু – প্রথম অধ্যায় (পাঁচ)
বাস্তবতা কি? জাদু কি? –
বিজ্ঞান এবং অতিপ্রাকৃত: ব্যাখ্যা এবং তার শত্রু (২)

বেশ, সেই ফেয়ারী বা পরী গডমাদারের জন্য বিষয়টি খানিকটা সহজ করে দেয়া যাক এমন কোনো ধারণা করে – কুমড়ো যোগাড় করে দিতে না বলে, তিনি সেই সব যন্ত্রাংশগুলো নিয়ে আসতে বললেন, যেগুলো ঘোড়ায় টানা একটি গাড়ি বা কোচ বানানোর জন্য জরুরী, সেগুলো একটি বাক্সে এলোমেলোভাবে স্তুপাকারে সাজানো আছে : ঘোড়ায় টানা গাড়ী বানানো জন্য এক ধরনের ‘নির্দেশ অনুসরণ করে নিজে বানাও’ কিট ( Ikea v সাথে যাদের পরিচিতি আছে, তারা ভাবুন আইকিয়া কিটের মত কিছু)। কোনো একটি ঘোড়ায় টানা গাড়ি নির্মানের এ ধরনের সম্ভাব্য সম্ভারে থাকে শত খানেক কাঠের টুকরো, কাঁচের পাত, লোহার রড, গদি বানানো সরঞ্জাম, চামড়ার টুকরো, পেরেক, স্ক্র এবং গ্লুর পাত্র সহ, যা তাদের একসাথে জড়ো করে ধরে রাখার জন্য দরকার।

এখন কল্পনা করুন, ধাপে ধাপে নিয়মমাফিক যন্ত্রাংশগুলো কিভাবে জোড়া লাগাতে হবে সেই নির্দেশাবলী না পড়ে, পরী গডমাদার সবগুলোকে একসাথে বিশাল একটি থলের মধ্যে রেখে, বেশ জোরেই একটা ঝাকুনি দিলেন। যদি জানতে চাওয়া হয়, কি পরিমান সম্ভাবনা সেখানে আছে যে, সব যন্ত্রাংশগুলো নিজে থেকেই সঠিকভাবে জড়ো হয়ে একটি কার্যকরী কোচ তৈরী করে ফেলবে? এর উত্তর হচ্ছে – কার্যত শূন্য। আংশিকভাবে এর কারণ, অসংখ্য সম্ভাব্য উপায় আছে যেখানে আপনি ভালো করে যন্ত্রাংশগুলো নাড়াচড়া যুক্ত করতে পারেন, কিন্তু তার কোনোটাই কার্যক্ষম ঘোড়ায় টানা গাড়ি তৈরী করতে পারবে না – এমনকি কাজ করে এমন কোনো কিছুই নির্মান সম্ভব নয় এই প্রক্রিয়ায়।

যদি আপনি বহু যন্ত্রাংশ পূর্ণ থলেটিকে ঝাকুনী দেন যে কোনো ভাবেই, হতে পারে কখনো হয়তো তার এমন কোনো একটি সজ্জায় গড়তে পারে যা উপযোগি অথবা যাকে অন্যথায় আমরা হয়তো শনাক্ত করতে পারি বিশেষ কোনো কিছু হিসাবে। কিন্তু এমন কিছু ঘটার উপায়গুলোর সংখ্যা খুবই কম: আসলেই খুব কম যদি তুলনা করা হয় সেই মিলিয়ন সংখ্যক উপায়ের সাথে, যখন সেগুলো এমন একটি সজ্জায় সজ্জিত হবে যে তাদের জঞ্জালের স্তুপ ছাড়া আর কিছুই মনে হবে না। বহু মিলিয়ন উপায় আছে নানা টুকরা যন্ত্রাংশকে অদলবদল এবং পুনঅদলবদল করার: মিলিয়ন উপায় আছে তাদেরকে আরেকটি নানা টুকরা আর যন্ত্রাংশের স্তুপে পরিণত করার। যতবারই আপনি তাদের অদলবদল করবেন, প্রতিবারই অনন্য একটি জঞ্জালের স্তুপ পাবেন যা আগে কখনোই দেখা যায়নি। কিন্তু এইসব সম্ভাব্য স্তুপের মধ্যে খুব সামান্য কয়টি হয়তো উপযোগি কিছু হতে পারে ( যেমন আপনাকে কোনো বল নাচের আসরে নিয়ে যেতে পারে) অথবা উল্লেখযোগ্য অথবা কোনো না কোনোভাবে স্মরণযোগ্য হতে পারে।

?oh=c838efa522d5a41b6a608815cad9884f&oe=585401C2″ width=”400″ />

কখনো আমরা আক্ষরিকভাবে গুনতে পারি কত সংখ্যক উপায়ে টুকরোগুলোকে অদলবদল করে সাজাতে পারি, যেমন এক প্যাকেট তাশের সাথে করতে পারি, যেখানে টুকরোগুলো হচ্ছে একক কার্ডগুলো। ধরুন, তাশ খেলার সময় ডিলার বা তাশ বন্টনকারী এক প্যাকেট তাশ অদলবদল করে আমি সহ আরও তিনজন খেলোয়াড়ের মধ্যে এমনভাবে ভাগ করে দেয় যেন তাদের প্রত্যেকেই ১৩টি করে তাশ হাতে পায়। আমি যখন আমাকে দেয়া তাশগুলো হাতে নেই দেখা জন্য, আমি বিস্ময়ে প্রায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে লক্ষ্য করি আমার হাতে ১৩ টি স্পেড এর পুরো হাত.. সবগুলো স্পেড। আমি বেশ হতভম্ব সেই খেলাটি চালিয়ে যাবার জন্য, হাতের তাশগুলো আমি অন্য তিনজন খেলোয়াড়কে দেখালাম, জানতাম তারাও আমার মত অবাক হবে। কিন্তু তারপর প্রত্যেকটি খেলোয়াড় একে একে করে তাদের হাতের তাশগুলো টেবিলে রাখেন, এবং সবাই বিস্ময়ে অবাক হন, প্রত্যেকেরই একটি নিঁখুত হাত, একজন ১৩ টি হার্ট,অন্যজনের ১৩টি ডায়মন্ড ও শেষ জনের ১৩ টি ক্লাব।

এটা কি অতিপ্রাকৃত কোনো জাদু হবে? আমরা হয়তো তেমন ভাবতে প্ররোচিত হতে পারি। কিন্তু গণিতবিদরা গণনা করতে পারবেন এই ধরনের বিস্ময়কর তাশের হাত একেবারে বিশুদ্ধভাবেই ঘটনাচক্রে বা চান্সের মাধ্যমে হতে পারে। যদিও এমন সম্ভাবনা প্রায় অসম্ভাব্য রকমের ক্ষুদ্র: প্রতি ৫৩,৬৪৪,৭৩৭,৭৬৫, ৪৮৮, ৭৯২, ৮৩৯, ২৩৭, ৪৪০, ০০০ সংখ্যক বারে ১ বার। যদি আপনি তাশ খেলতে বসেন প্রায় ১ ট্রিলিয়ন বছর ধরে, আপনি হয়তো হাতে একবার এই ধরনের তাশের হাত পেতে পারেন। কিন্তু – বিষয়টি হলো, এই তাশের দানটি কোনো অংশেই কম সম্ভাব্য নয়, এ যাবত যত তাশের হাত দেখা গেছে তার চেয়ে। এবং ৫২ টি তাশের কোনো হাতে এমনটি ঘটার সম্ভাবনা ৫৩,৬৪৪,৭৩৭,৭৬৫, ৪৮৮, ৭৯২, ৮৩৯, ২৩৭, ৪৪০, ০০০ সংখ্যক বারে ১ বার। কারণ বড় সংখ্যাটি তাশে সম্ভাব্য সকল হাতের সর্বমোট সংখ্যা। শুধুমাত্র আমরা কোনো বিশেষ সজ্জা তাশের হাত লক্ষ্য করিনা এই সুবিশাল সংখ্যক দানে যা ঘটতে পারে। সুতরাং সে কারণে সেই সব দানগুলো আমাদের বিশেষ নজরে পড়ে অসাধারণ কোনো ঘটনা হিসাবে। আমরা শুধু লক্ষ্য করি সেই ডিলগুলো যা কোনো না কোনো ভাবে আমাদের চোখে বিশেষ নজরে আসে।

?oh=980d21d913a165ba07fa969796b30b81&oe=58455706″ width=”400″ />

এক রাজকুমারকে বহু হাজার কোটি রুপের যে কোনো একটিতে রুপান্তরিত করা যেতে পারে। আপনি যদি বিশেষ নিষ্ঠুর হন তার টুকরোগুলোকে হাজার কোটি সজ্জায় সাজানো যেতে পারে। কিন্তু বেশীর ভাগ সেই সজ্জাগুলো হবে জঞ্জাল, যেমন সেই হাজার কোটি অর্থহীন, তাশের হাত যা আমরা অদলবদল করার পর ভাগে পাই। শুধুমাত্র রাজকুমার-টুকরোর সেই সব সম্ভাব্য সজ্জার খুব সামান্যতম অংশই নজরে আসবে যা শনাক্তযোগ্য বা কোনোভাবে উপযোগি হতে পারে, ব্যাঙ তো দূরের কথা।

রাজকুমাররা ব্যঙে রুপান্তরিত হয়না, কুমড়ো রুপান্তরিত হয়না ঘোড়ায় টানা কোনো গাড়িতে, কারণ ব্যাঙ আর কোচ দুটোই জটিল জিনিশ, যাদের অংশগুলো সাজানো যেতে পারে প্রায় অসীম সংখ্যক টুকরার অনুপযোগী সমাবেশে। এবং তারপরও বাস্তব সত্য হিসাবে আমরা জানি, প্রতিটি জীবিত প্রাণী, প্রতিটি মানুষ., প্রতিটি কুমির, প্রতিটি ব্ল্যাক বার্ড, প্রতিটি গাছ, এমনকি প্রতিটি বাধাকপি, বিবর্তিত হয়েছে অন্য, মূলত সরল কোনো রুপ থেকে। সুতরাং এটি কি ভাগ্য নির্ভর প্রক্রিয়াই নয় শুধু বা এক ধরনের জাদু? না, অবশ্যই না। এটাই খুব পরিচিত ভ্রান্ত একটি ধারণা। সুতরাং আমি ব্যাখ্যা করতে চাই কেন বাস্তব জীবনে আমরা যা কিছু দেখিনা কেন, তারা ঘটনা চক্রে, ভাগ্যক্রমে বা চান্স বা অাপতনের, অথবা সামান্যতম জাদুর কোনো অবকাশ নেই ( শুধুমাত্র, অবশ্যই, সেই কঠোরভাবে কাব্যিক অর্থে এমন কিছু যা আমাদের আনন্দ আর বিস্ময়ে পূর্ণ করে)।

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

23 + = 31