নাম নেই

এটা গল্প না সত্যি ঘটনা তাই নাম দিতে পারলাম না
সকাল ১০:৪৫মিঃ
বসের রুমে বসের সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে মোঃজামাল
উনি এই কোম্পানির একজন কর্মচারী
মনে হচ্ছে জামাল সাহেব অনেক বড় কোন অপরাধের আসামি,
আসলে তার অপরাধ হল উনি অফিসে এসেছেন লেট করে,তাই বস তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন তার রুমে।
প্রায় ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পরে বস মুখ খুলেলেন,
বসঃজামাল সাহেব কি ব্যাপার আপনি প্রায় ই অফিসে লেট করে আসেন?
জামালঃসরি স্যার, আজ ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেছিল তাই…..
বস অনেকটাই রাগান্বিত হয়ে বললেন,এটা তো অফিস আপনার কোন রেস্টুরেন্ট না যে যখন খুসি আসবেন।ভাল না লাগলে কাজ ছেরে দিন,আর যদি কাজ করার ইচ্ছা থাকে তাহলে মন দিয়ে কাজ করুন।
এখন যান নিজের কাজ করুন,আমি কয়েকটা ফাইল পাঠাচ্ছি রেডি করে রাখবেন।
জামালঃথাংকু স্যার,ওকে স্যার,বলে স্যারের রুম থেকে বেড়িয়ে আসল আর নিজের টেবিলে গিয়ে বসল।
সাথে সাথেই পিয়ন দুটি ফাইল এনে টেবিলে রাখল আর বলল,তারাতারি ফাইল দুটি রেডি করে স্যার আপনাকে নিয়ে যেতে বলছেন।
জামাল সাহেব চিন্তায় পরে গেল, কেন স্যার আমাকে ফাইল কম্পলিট করে নিয়ে যেতে বললেন।যা হয় হবে।হয় তো বা এমনিই…
ফাইল দুটি কম্পলিট করে স্যারের রুমে গেলেন,
স্যার বললেন,জামাল সাহেব আপনি কিছু দিন ছুটি নিয়ে ভাবিকে নিয়ে কোথা থেকে ঘুরে আসুন। ভাল লাগবে।আমি আপনাকে ৭ দিনের ছুটি দিচ্ছি।আর ১০হাজার টাকা ম্যানেজারকে বলে দিব সে দিয়ে দিবে।খুশি!!!!
জামাল মনিল ভাবে একটা হাসি দিয়ে স্যার কে ধন্যবাদ জানিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।
অফিস ছুটির পরে বাসায় এসে সোজা চলে গেলেন নিজের রুমে,আজ শরির টা যেন কেমন লাগছে,অনেক খারাপ লাগছে,তাই বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলেন।
বিছানায় শরির টা এলিয়ে দিতেই গভির ঘুমে তলিয়ে গেলেন জামালসাহেব
চোখের সামলে ভেসে উঠল বিশাল সমুদ্রতট, জামাল সাহেব সমুদ্রের তীরে বেঞ্চিতে বসে আছে।
হটাত তার বস কোথা থেকে যেন এসে বলছেন,জামাল ভাই আপনি সত্যিই খুব ভাল মানুষ।
কত রাগারাগি করি,কটু কথা বলি তবুও আপনি কখনও প্রতিবাদ করেন না,সব সময় সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করে যান।
সত্যিই আমি আপনাকে অনেক ভালবাসি বড় ভাইয়ের মত….
পারলে আমাকে মাফ করে দিয়েন ভাই।।
এরপর হটাত জামাল সাহেব এর দাদীর মুখটা ভেসে উঠল তার সামনে,
তার দাদী যখন মারা যায় তখন তাদের অবস্থা খুব ভাল ছিল না।
তার দাদীর খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হয়েছিল,কিছু খেতে পারত না।
যখন তার দাদী মারা যায় তখন জামাল সাহেব অনেক ছোট,আর তিনি তখন তার পাশেই বসা ছিল,শেষ কথা হয় জামাল সাহেবেরই সাথে…..
দাদীঃদাদু ভাই ক্যামন আছাও???
জামালঃভালা আছি দাদু।তুমি????
দাদীঃভালা নাই ভাই,খালি খালি খিদা লাগে ভাই,কিচ্ছু খাইবার পারি না ভাই,কষ্ট হয় ভাই….
এই কথাটা বলতে বলতে জামাল সাহেবের দাদী নিরব হয়ে গেলেন।
আর কোন কথা বললেন না।
সবাই কান্না করছে,জামাল সাহেবের চোখ দিয়ে কেন যেন পানি পরছে।
এরপর ই জামাল সাহেবের ঘুম ভেংগে যায়।
ঘুম থেকে চোখ খুলে দেখে তার চোখের পানিতে বালিস ভিজে গেছে।
আর মাথার কাছে বসে তার স্ত্রী মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
[ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

70 + = 71