হল চাই

দুই চোখে জুড়ে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে লাল নীল বাতির এই ঢাকা শহরে যাদের মাত্র আগমন তাদের প্রথমেই হোচট খেতে হয় মাথা রাখার ঠাই করতে গিয়ে।যে বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলোতে হল আছে সেইগুলো রীতিমত ছাত্রলীগের ক‍্যান্টারমেন্ট তাই নতুন এই শিক্ষার্থীদের আশেপাশে যাওয়াও বারণ!
আবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ‍্যালয় কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ‍্যালয়ের অধিভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্টানে তো হল নেই!!
জাতীয় বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ‍্যালয়ের চলমান হল আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ‍্যালয়ের প্রেক্ষাপটে দুই চারটি কথা বলবো…..
জাতীয় বিশ্ববিদ‍্যালয় আইন ১৯৯২ অনুযায়ী কোথাও হলের উল্লেখ নেই,আছে হোস্টেল কথা।সেই হোস্টেল সকল শিক্ষা প্রতিষ্টানে নেই।এখন বলতে পারেন ‘হল’কথা নেই তো কী হয়েছে হোস্টেল তো আছে!!
তাহলে আসুন একটু পড়াশোনা করি ‘হল’ আর হোস্টেল তফাৎ নিয়ে

‘হল’ কে, ‘হোস্টেল ‘,’ডাইনিং’, কে বলেন
ক্যান্টিন,’ এ শব্দগুলোকে আপাত সমার্থক
মনে হলেও বাস্তবে বিপরীতার্থক প্রায়।যেমন
হল মানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও
একাডেমিক কার্যক্রমের সম্প্রসারিত
ব্যবস্থা। হলের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন
করবে সেকশন অফিসার এবং একাডেমিক
কার্যক্রমের পরিচালনা করবে বিভিন্ন
অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ যাদের বলা হয় হাউজ
টিউটর। প্রশাসনিক ও একাডেমিক
কার্যক্রমের সমন্বয় করবেন হল প্রভোস্ট।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে হল
পরিচালনার সমস্ত খরচ বহন করা হবে।একই
সাথে হলের ভর্তুকির মাধ্যমে খাদ্য
ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয় ডাইনিং’ পদ্ধতি
‘তে।
খাবার গ্রহন, বাজার করাসহ ব্যবস্থাপনা
ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোন বাধ্যবাধকতা
থাকে না।
অন্যদিকে হোস্টেল ক্ষেত্রে একাডেমিক ও
প্রশাসনিক দায়িত্ব কতৃপক্ষ পালন করে নামের
বরং এগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কে লিজ
দেয়া হয় এবং অনেক অযাচিত দায়িত্ব
শিক্ষার্থীদের উপর বর্তায়।হোস্টেল
সাধারণত ডাইনিং’ বধলে মেস পদ্ধতি
পরিচালিত হয়।যাতে কোন ধরনের ভর্তুকি
প্রদান করা হয় না।
এবার নিশ্চয় ‘হল’ এবং হোস্টেল তফাৎ বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
লেখার শুরুতে বলেছিলাম এই লাল নীল বাতির শহরে প্রথমেই একজন শিক্ষার্থী হোচট খেতে হয় নিজের আবাসন নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ‍্যালয় কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাই বাধ‍্য হয়েই মেসে উঠে সেই সুযোগে বাড়িওয়ালা ভদ্র মহাশয় নানা ফন্দিফিকির করে গলা কাটতে ব‍্যস্ত থাকে।ইদানীং আবার নতুন ফিকির জঙ্গিবাদ চলে আসায় পুলিশের উৎপাত ও দিগুণ ভাড়ার ঝক্কিঝামেলা তো আছেই।
ঢাকা শহরে আগত জাতীয় বিশ্ববিদ‍্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্ম মধ‍্য বিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা তাই এই অতিরিক্ত টাকা দিতে তাদের পরিবার কে হিমশিম খেতে হয়।বাধ‍্য হয়েই বাড়তি কিছু ইনকাম কথা চিন্তা করা ছাড়া তখন কোন উপায় থাকে না।কিন্তু টিউসনি বাজারে জাতীয় বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবার কদর কম! তাই বাধ‍্য হয়ে জব করতে হয় ফলে ঠিকমত ক্লাস করা হয়ে উঠে না অধিকাংশ জাতীয় বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ।একমাত্র ‘হল’ই পারে এই সমস‍্যা সমাধান দিতে…
সেই আন্দোলনের আমাদের নতুন আলোর সন্ধান দিবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

#হল_চাই
#হোস্টেল_নয়

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

68 + = 71