ফারাক্কা বাঁধের অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য ছয় দফা দাবী।

আমাদের বিদ্যুৎ দরকার, উন্নয়ন দরকার, ক্ষেত ফসল দরকার, চিংড়ি দরকার, বাঘ হরিণ দরকার, ম্যানগ্রোভ দরকার, সিডর আইলা থেকে প্রতিরক্ষা দরকার, বন্ধুত্ব ও মৈত্রী দরকার। এই ছয় দফা বাস্তবায়ন করলে উল্লেখিত সব দরকারই বাস্তবায়িত হবে।

১) ফারাক্কা বাঁধের যে সমস্ত গেট খুলে দেওয়া হয়েছে তা আর কখনোই বন্ধ না করা হোক। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমারের দাবি অনুযায়ী ফারাক্কা বাঁধ ভেঙ্গে ফেলা হোক।

২) আগামী ফাল্গুন চৈত্র মাসের আগেই বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী ড্রেজিং কোম্পানি গঠন করা হোক।

৩) ভারত সরকারের ৮৫ ভাগ ও বাংলাদেশ সরকারের ১৫ ভাগ খরচে ভারতের গঙ্গা-ভাগীরথী ও বাংলাদেশের পদ্মা-গড়াই নদী আলট্রা-সুপার লেটেস্ট পদ্ধতিতে ড্রেজিং করে পশ্চিম বঙ্গের মালদা মুর্শিদাবাদ ও বাংলাদেশের রাজশাহী কুষ্টিয়া বন্যার আশংকা ও মরুকরণ মুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহের পদ্মায় রুপান্তর করা হোক। এই নৌ পথে বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী ড্রেজিং কোম্পানি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত থাকার ব্যাবস্থা করা হোক।

৪) গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের আওতায় কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ মাগুরার পুরাতন খাল পুনঃখনন ও সংস্কার করা হোক যাতে করে ফসল উৎপাদনের কাজে ভু-গর্ভস্ত পানি উত্তোলনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খরচ অনেক কমে যাবে।

৫) রেমিট্যান্স রিজার্ভের ছোট একটা অংশের অর্থ খরচ করে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের সাথে খুলনা নড়াইল যশোর রাজবাড়ী জেলাকে সংযুক্ত করে কৃষি জমির সেচ ও নৌ পরিবহণের সমন্বয় করে নূতন খাল খনন করা হোক। এতে ভরা বর্ষায় বন্ধু দেশ ভারতের উপহার দেওয়া বিপুল অতিরিক্ত পানির জন্য বন্যা না হয়ে আশীর্বাদ হবে।

৬) এই প্রস্তাবিত নৌপথে প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখিত ইন্দোনেশিয়ার কয়লা পশ্চিম বঙ্গের হলদিয়া বন্দর হতে ভাগীরথী-ফারাক্কা-পদ্মা-গড়াই হয়ে রাজবাড়ী অথবা মাগুরা নড়াইল হয়ে পরিবহণ করে পদ্মা সেতুর আশে পাশে জেলা সমূহের উপযুক্ত স্থানে আলট্রা-সুপার ক্রিটিকাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হোক। ব্যয় সেভাবে পর্যালোচনা না করলেও চলবে কারন পদ্মা সেতুর আশে পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সেতুর আশে পাশে আকিজ গ্রুপ সহ যেসব শিল্প পার্ক হচ্ছে সেখানে সহজে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে উন্নয়ন তরান্বিত হবে।

আমাদের বিদ্যুৎ দরকার, উন্নয়ন দরকার, ক্ষেত ফসল দরকার, চিংড়ি দরকার, বাঘ হরিণ দরকার, ম্যানগ্রোভ দরকার, সিডর আইলা থেকে প্রতিরক্ষা দরকার, বন্ধুত্ব ও মৈত্রী দরকার। এই ছয় দফা বাস্তবায়ন করলে উল্লেখিত সব দরকারই বাস্তবায়িত হবে। উল্লেখিত ছয় দফার যথার্থতা নিরূপণে অভিজ্ঞদের পরামর্শ প্রত্যাশা করছি। যুক্তিযুক্ত হলে গণদাবীর ভিত্তিতে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচী প্রত্যাশা করছি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

92 − = 84