প্রসঙ্গ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হল আন্দোলন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়য়ের হল চাই আন্দোলন চলছে গত ২৯ দিন ধরে। এখনো রাষ্ট্রের টনক আমরা নাড়াতে পারিনি। বরং রাষ্ট্রের তৈরি সংঘটন আমাদের উপর বারবার হামলা করছে। এর দায় কি রাষ্ট্রের নয়। আমাদের আন্দোলন চলছে এবং চলবেই। কোন আপোষ নেই। আমরা দেখেছি জবি শাখা ছাত্রলীগের হামলা। তারা কি জবাব দিতে পারবে কেন করেছে হামলা? পারবে না। কারন তারা নীতিভ্রস্ট। আমার কথা তারা বাম দল করে বলে হামলা। বাম দল তো আপনেরা জোটে রেখেছেন। কেন রেখেছেন বলতে পারবেন? ইনুকে হামলা করুন। করছেন না কেন? জবাব দিতে পারবেন না।

আমি যেটায় বিশ্বাসী তা হল এখানে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল এমনকি বাম দলও থাকবে। কেন থাকবে? কারন সাধারন শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ বিভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী। তবে ৯৫% শতাংশ রাজনীতি করে না। বা নেতাদের সাথে ভালো সম্পর্ক নেই। আপনাকে মাইক দিবে না বলে আপনি সাধারন শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালাবেন এই অধিকার নিশ্চয়ই শিক্ষার্থীদের বাবা মা আপনাকে দেয়নি। দিলে অন্য কথা ছিল। তাহলে কেন হামলা করেছিলেন?

এবার বলি একদল বলছে আমরা কেন তাদের সংগে আপোষ করছি না কেন? আমি বলবো আন্দোলনে ছাত্রলীগ আছেন, থাকবে এবং কথাও বলবে। কিন্তু কোন সন্ত্রাস কথা বলবে না। যারা আমার ভাইকে রক্তাক্ত করেছে তারা কথা বলবে না। এটা আমরা হতে দেবো না। আমরা কেন তাদের মাইক দেই না? তারা এটা ভালো করে জানেন। কারন, ২০১৪ সালের আন্দোলন কিভাবে থেমেছে শিক্ষার্থীরা জানেন। তাই শিক্ষার্থীরা আরেকটা ২০১৪ সালের হল আন্দোলন দেখতে চায় না। তাই তাদের মাইক দেয়া হচ্ছে না। সেটা তারাও ভালো করে জানে।

আপনি বলছেন তাদের সংগে আপোষ করতে। কাদের সঙ্ঘে আপোষ করবো? যারা কিনা আন্দোলনকে জোয়ারহীন করতে চায়। আন্দোলনকে বন্ধ করতে চায়? কিভাবে দেখুন। আমরা দীর্ঘ ১৭ দিন আন্দোলন করলাম। অথচ কোন কাক পক্ষি দেখলও না। যখন বাহিরে আসলাম আমদের স্রোত বইতে বসলো আন্দোলনে এমন কি বিজয়ের সন্নিকটে চলে গিয়েছলাম। কিন্তু আমাদেরকে স্তব্ধ করে দেয়ার প্লান ঐদিন করেছিল। তারা ক্যাম্পাসে আন্দোলন করবে বলছে। ক্যাম্পাসের আন্দোলন কি কাক পক্ষি দেখে? তাহলে কেন আমরা সেই আন্দোলন করবো? তারা শুধু আন্দোলনকে বন্ধ করতেই এই প্রায়াস চালাচ্ছে।

আমার স্পষ্ট কথা এখানে সাধারন শিক্ষার্থী ব্যানারে সবাই থাকবে। শুধু থাকবে না যারা আমার ভাইকে হামলা করে রক্তাক্ত করেছে। ছাত্রলীগ থাকবে যারা বঙ্গন্ধুর আদর্শ ধারন করে। থাকবে না কোন সন্ত্রাসী। তাই সন্ত্রাসীদের সঙ্ঘে কোন আপোষ নয়।

আমি স্পষ্ট বলতে চাই। যদি সেইসব সন্ত্রাসী আসে নেতৃত্ব দিতে, আমাকে সম্ভবত পাওয়া যাবে না সেই জোটের সঙ্ঘে। কারন আমার ভাইকে যারা আহত করে আবার লিড দিবে, সেই আন্দোলনে আমি টিকতে পারবো না। আমার আদর্শের সঙ্ঘে যায় না।

পুরান ঢাকাবাসীর জন্য বলছিঃ পুরান ঢাকায় মানুষ হল চায়। কিন্তু কতিপয় মাস্তান হল চায় না। কারন তাদের মাস্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। গুটিকয়েক মাস্তান মানববন্ধন করে কারন ঐ জায়গায় পার্ক হলে তাদের পার্ক দখল করতে ভালো হবে। যেটা পুরাতন ঢাকায় অনেক দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তাদের হল থাকা সত্ত্বেও পারেনি দখল রাখতে ঐ মাস্তানদের কারনে। আর পার্ক কতক্ষন? দেখলাম কাল সাধারন শিক্ষার্থী দিয়ে( ছোট ছোট বোন) দিয়ে ঐ কতিপয় মাস্তান মানববন্ধন করিয়েছে। বলেছে পার্ক করতে। আমরা বোন মানা তো করিনি তোমাদের জন্য পার্ক করতে। সেটা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হল এরিয়াতে করার প্রস্তাব দিচ্ছি। যেখানে তোমরা অবাধে বিচরন করতে পারবে। জাদুঘর হবে, বিনোদন কেন্দ্র হবে। সবই সম্ভব। কারন জায়গা অনেক বড়।

আপোষ করা যায় ভালো মানুষের সঙ্ঘে। সন্ত্রাসীদের সঙ্ঘে নয়। তোমরা চুপ থাকো ছাত্রলীগ। আমরা সাধারন শিক্ষার্থীরা গল্পের শেষ অধ্যায়টা শেষ করবো বিজয়ের হাসি দিয়ে।
জগন্নাথে হল চাই, হল চাই। হল হবেই, হতে বাধ্য। বিজয়ের হাসি সাধারন শিক্ষার্থীরাই দেখবে।

আমরা ভাষা সৈনিক রফিকের ছোট ভাই যিনি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে রক্ষা করেছিলেন । তাই , বলতে চাই ভয় নাই ভাই , আসুন আগামী ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টায় প্রেস ক্লাবের সামনে মুষ্টিবদ্ধ হাত উরধে তুলে হল চাই স্লোগানে সমস্ত পৃথিবী কাঁপিয়ে সকল অন্যায় প্রতিহত করে জানিয়ে দেই জবিয়ানরা কিছু সময়ের জন্য থমকে দাঁড়ায় আর ও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার জন্য ।
ভয় নাই ওরে ভয় নাই জবিয়ান,
যত বাঁধা আসুক চলবেই ওরে,
হল চাই স্লোগান ……………

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

35 − = 27