একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দালাল-শয়তানের জারজপুত্র ডেভিড বার্গম্যানের এদেশীয় পৃষ্ঠপোষক কারা এবং কেন

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দালাল-শয়তানের জারজপুত্র ডেভিড বার্গম্যানের এদেশীয় পৃষ্ঠপোষক কারা এবং কেন
সাইয়িদ রফিকুল হক

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের টাকা খেয়ে ব্রিটিশ-নাগরিক ডেভিড বার্গম্যান দিন-দিন আরও হিংস্র হয়ে উঠছে। আর তার আগ্রাসীমনোভাব ইদানীং ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিসম্প্রতি তার বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী বক্তব্যই এর প্রমাণ বহন করে। সে ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করার জন্য তাদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে একটি গোপনচুক্তি করেছে। আর এই গোপনচুক্তির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো—

১. বাংলাদেশে চলমান একাত্তরের চিহ্নিত-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সরাসরি হস্তক্ষেপসহ যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে তাদের বিচারকার্যক্রমে বাধাসৃষ্টি করা;
২. একাত্তরের চিহ্নিত-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সৃষ্ট ‘আন্তর্জাতিক-যুদ্ধাপরাধ-ট্রাইব্যুনাল’কে বিতর্কিত করা;
৩. যেকোনো যুদ্ধাপরাধীকে নির্দোষপ্রমাণের জন্য সর্বাত্মকপ্রচেষ্টাগ্রহণ;
৪. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা ইত্যাদি।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃতি করার দায়ে—অর্থাৎ, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিরোধীবক্তব্যপ্রদানের দায়ে তাকে বাংলাদেশের আদালত দণ্ডিত করেছে। ২০১৪ সালে এজন্য তাকে দীর্ঘসময় আদালতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এবং ৫০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাকে ৭-দিনের কারাদণ্ডের আদেশপ্রদান করা হয়। এরপরও তাকে আরেকবার আদালত-অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর তাই, এভাবে দুই-দুইবার তাকে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা তথা আদালত-অবমাননার দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও বিচলিত হয়নি এই শয়তানের জারজপুত্র। বাংলাদেশের একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সবচেয়ে বড় দালাল এই শয়তানের জারজপুত্র ডেভিড বার্গম্যান।
২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে আনীত গুরুতর-অভিযোগ: ২০১৪ সালে রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল বলেছিলো: “১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের ৩০লক্ষ মানুষ শহীদ হয়, দুই-লক্ষ নারী ধর্ষিত হয়, এবং প্রায় এককোটি মানুষ দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়।” আর সেই সময় এই শয়তানের জারজপুত্র বার্গম্যান সরাসরি এর বিরোধিতা করে তার ব্লগে লিখেছিলো: “ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নাই।”
এই-সেই শয়তানের জারজপুত্র ডেভিড বার্গম্যান। সে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার জন্য গত ৭-বছর যাবৎ দেশী-বিদেশী ইংরেজি দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বহু প্রবন্ধনিবন্ধ ও ফিচার লিখেছে। তার উদ্দেশ্য: বিদেশীসহ এদেশের সাধারণ-শিক্ষিত-মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
বর্তমানে কুখ্যাত-রাজাকার কাশেম আলীর পরিবারও স্বীকার করেছে যে, তারা এই ডেভিড বার্গম্যানকে কোটি-কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে—তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য।
সে মীর কাশেম আলীর ফাঁসির দণ্ড-মওকুফের জন্য বহু চেষ্টাও করেছে। মীর কাশেমের পরিবার আজ তা স্বীকারও করেছে। এবং সে যে মীর কাশেমের পরিবারের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে—তাও মীর কাশেম আলীর পরিবার স্বীকার করেছে।
সে মীর কাশেমকে ছলে-বলে-কৌশলে মুক্ত করার জন্য পাকিস্তান থেকে ৫জন সাক্ষী আনতে আমাদের দেশের ‘আন্তর্জাতিক-যুদ্ধাপরাধ-ট্রাইব্যুনালে’র ওপর চাপসৃষ্টি করতে চেয়েছিলো। সে আন্তর্জাতিক-অঙ্গনের দালাল-লবিস্ট-চাপসৃষ্টিকারীগোষ্ঠীর একজন।

সে বাংলাদেশের কুখ্যাত-দালাল ড. কামাল হোসেন ওরফে দালাল হোসেন-এর মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হেসেনের স্বামী। এরই সুবাদে সে এদেশে বড়ধরনের আশ্রয়প্রশ্রয় পেয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও একাত্তরের চিহ্নিত-যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-কার্যক্রমে বাধাসৃষ্টি করার জন্য সবসময় অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অতিসম্প্রতি তার স্বাধীনতাবিরোধীবক্তব্যই এর ইঙ্গিতপ্রদান করছে। তাকে বাংলাদেশে যারা আশ্রয়প্রশ্রয় দিচ্ছে—তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-দালাল হলো:

১. বাংলাদেশের জাতীয় কুলাঙ্গার ড. কামাল হোসেন ও তদীয় কুলাঙ্গারকন্যা ব্যারিস্টার সারা হোসেন;
২. সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার কুলাঙ্গারপুত্র-কুচক্রী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন;
৩. সুদখোর-মহাজন-আমেরিকার দালাল ড. ইউনূস;
৪. দি নিউ-এজ পত্রিকার সম্পাদক ও জাতীয় কুলাঙ্গার নুরুল কবির;
৫. শয়তানের নিজস্বপুত্র ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ;
৬. ‘দৈনিক প্রথম শয়তানের আলো’ পত্রিকার সম্পাদক ও জাতীয় কুলাঙ্গার মতিউর রহমান;
৭. ‘দি ডেইলি স্টার’ পত্রিকার সম্পাদক ও জাতীয় ভণ্ডশয়তান মাহফুজ আনাম;
৮. ‘অধিকার’ নামক জারজপত্রিকার সম্পাদক ও যুদ্ধাপরাধীসন্তান আদিলুর রহমান শুভ;
৯. একাত্তরের নরঘাতক, শয়তানের জারজপুত্র, মাওলানা-লকবধারী আব্দুল মান্নানের কুলাঙ্গারপুত্র বর্তমান ‘ইনকিলাব’ নামক জারজপত্রিকার সম্পাদক ও শয়তানপুত্র এএমএম বাহাউদ্দিন;
১০. ‘টিআইবি’-নামক দালালচক্র;
১১. ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-নামধারী শয়তানের জারজপুত্র আসিফ নজরুল;
১২. রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও বিবিধ অভিযোগে গ্রেফতার নাগরিক-ঐক্যের প্রতিষ্ঠাতা শয়তানের জারজপুত্র মাহমুদুর রহমান মান্না;
১৩. ‘আমার দেশ পাকিস্তান’ নামক জারজপত্রিকার সম্পাদক-মালিক ও শয়তানের জারজপুত্র মাহমুদুর রহমান ইত্যাদি।

দেশী-বিদেশী বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী-জারজসংগঠনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. হিউম্যান রাইটস ওয়াচ;
২. ডেমোক্রেসি ওয়াচ;
৩. অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি।

এদেশের অনেক মুখচেনাশয়তান আসলে পাকিস্তানের দালাল। এরা জনগণ-কর্তৃক জুতাপেটা-খাওয়ার ভয়ে প্রকাশ্যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করতে পারছে না কিংবা একাত্তরের সেইসব নৃশংস ও চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করতে পারছে না বলেই এরা নিজেদের বক্তব্যকে শয়তানের জারজপুত্র ডেভিড বার্গম্যানের মাধ্যমে প্রকাশ করে নিজেদের স্বার্থরক্ষার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। এই ডেভিড বার্গম্যান এদেশীয় পাকিস্তানের দালাল ও সর্বস্তরের ঘাপটি-মেরে থাকা শয়তানের মুখপাত্র।
ডেভিড বার্গম্যান কোনো আইনজীবী নয়। আর আইনজীবী হওয়ার মতো কোনো যোগ্যতাও তার নেই। আর এই প্রসঙ্গে আমাদের আন্তর্জাতিক-আদালতের একাধিক আইনবিশেষজ্ঞও একমত হবেন। সে শুধুই একজন দালাল। আর অর্থের বিনিময়ে সে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করে একাত্তরের চিহ্নিত-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তাই, এরকম একজন শয়তানের জারজপুত্রকে এখনই দেশ থেকে জুতাপেটা করে এখনই বের করে দেওয়া উচিত। আর সঙ্গে-সঙ্গে বাংলাদেশের সকল আদালতে ড. দালাল হোসেন ও তদীয় কন্যা সারা হোসেনসহ সর্বশ্রেণীর দালালকে আজ-এক্ষুনি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ে ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে এদেশের কোনো দালালকেই সহ্য করা ঠিক হবে না—আর সে যতো বড়ই দালাল হোক না কেন।

জয়-বাংলা। জয় হোক বাঙালির।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০১/০৯/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 19 = 25