জনাব সালাউদ্দিন, এভাবে আর কতো?

একটু আগে শেষ হওয়া ম্যাচে মালদ্বীপের কাছে পাঁচ গোল খাওয়াটা আমাদের টিমের জন্য কমই হয়ে গেছে। আরও অন্তত তিন থেকে চারটা বেশি গোল খাওয়ার মতো ছিলো, তাদের স্ট্রাইকিংয়ের ব্যার্থতায় তা সম্ভব হয়নি।

হুটহাট বিদেশী কোচ ধরে এনে, অমুক প্লেয়ার বাদ দিয়ে তমুক প্লেয়ারদের নিলেই দেশের ফুটবলের উন্নতি হয় না। জাতীয় দল হঠাৎ দুই-এক ম্যাচ জিতে গেলেই জাতীয় দল ২০২২ সালে বিশ্বকাপ খেলে ফেলবে না।

যে কোন বিষয়ে দক্ষ হতে নিশ্চয়ই প্রচুর পরিশ্রম আর ডেডিকেশনের প্রয়োজন আছে। ছোট বেলা থেকে প্লেয়ারদের স্কুলিংটা খুব গুরুত্বপুূর্ণ। দুই-একটা জেলা বাদে কোথাও স্কুল ফুটবল বা জুনিয়র লেভেল ফুটবল বলে কিছুই নেই। বাচ্চাকাল থেকে মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে না পারলে ১৬-১৭ বছর বয়সে এসে শুধু অন্যদের থেকে ‘একটু ভালো’ স্কিল আর মাঝে মধ্যে ভালো খেলে বেশিদিন মানসম্মত ফুটবল খেলা সম্ভব হয় না। খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ-সুবিধার কথা বাদ দেই, নিয়মিত লীগ হয় না কোন জেলায়। যারা ফুটবলার হিসেবে উঠে আসছে তাদের জন্য কি কয়টা একাডেমী আছে? জাতীয় দলে এসে দেখা যায় উশৃঙ্খলতা, মদ-জুয়ার দায়ে বহিস্কৃত হয় দারুণ সম্ভবনাময়ী কিছু খেলোয়াড়। কিন্তু কেন? জুনিয়র লেভেলের প্লেয়ারদের কি খেলোয়াড় হিসেবে উঠে আসার পাশাপাশি বাফুফে কোন একাডেমী বা প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে রেখে স্কুলিং করাতে পারে না?

আজকে পাঁচ গোল খাওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের দায় দিয়ে লাভ নেই। মালদ্বীপ এখন আর দশ বছর আগের মালদ্বীপ দল নেই, তাদের ফুটবল কাঠামো অনেক এগিয়ে গিয়েছে, পিছিয়েছি আমরা। শুধু বাফুফে সভাপতি নির্বাচনের সময় এলে তর্জন-গর্জন করে দেশের ফুটবল আমুল বদলে ফেলার স্বপ্ন দেখায়। আর নির্বাচনের পর নিজেদের পকেট ভরায় সবাই ব্যাস্ত থাকে!

স্কুল লেভেল থেকে নিয়মিত পরিশ্রম, সুযোগ-সুবিধা পেলে যে একটা দেশের ফুটবল টিম কতটা ভালো করে তার জন্য অন্য কোথাও যেতে হবে না, বাফুফের উচিত ময়মনসিংহের কালিসিন্দুরের মেয়েদের দেখা। বঙ্গমাতা কাপ জেতা ওই স্কুলের বেশিরভাগ মেয়েই এখনো অনুর্ধ্ব ১৬ মহিলা দলের প্লেয়ার। বছরখানেক ধরে টানা অনুশীলন করে, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তির সহযোগীতা পেয়ে মেয়েগুলো কি চমৎকারভাবেই না খেলে যাচ্ছে। গতকালও কিরগিজিস্তানকে ১০ টা গোল দিলো। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা কত সুন্দর দেশের ফুটবলটা বদলে দিতে পারে, এটাই তো ছোট্ট একটা উদাহরণ!

প্লেয়ারদের দায় দিবেন কেন মিস্টার সালাউদ্দিন এন্ড কোঃ, এসব পরাজয়ের জন্য, দেশের ফুটবলের অবনমনের আপনারা ফুটবল প্রশাসনের লোকজন কি মূল আসামী না? স্পন্সর নাই বলে আর কতো ভাঙ্গা রেডিও বাজাবেন?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “জনাব সালাউদ্দিন, এভাবে আর কতো?

  1. অথর্ব বাফুফে দিয়ে বাংলাদেশে
    অথর্ব বাফুফে দিয়ে বাংলাদেশে ফুটবলের কোন পরিবর্তন সম্ভব না। বিদেশ থেকে কোচ প্লেয়ারদের জন্য এনে লাভ নাই। বাফুফে চালানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রসাশনিক লোকজন আনা দরকার। ফুটবল ফেডারেশন পুরাটাই পেশাদার বিদেশী দিয়ে টানা ১০ বছর চালানোর ব্যবস্থা করলে কিছুটা উন্নতি আশা করা যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

38 − = 33