ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ (৯)


ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ (৮)
উদারনীতিবাদের বিশ্বাসঘাতকতা (২)

হ্যারিস: মাজিদ, তুমি যা বললে তার সবকিছুর সাথে আমি একমত। আমি একবার একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম – The End of Liberalism? শিরোনামে, যেখানে আমি লক্ষ্য করেছিলাম এই সব ‘সহযাত্রীরা’ প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে যে কোনো ভালো উদ্দেশ্যপূর্ণ, বহুত্ববাদী, উদারপন্হী মানুষদের এই বিষয়ে সৎভাবে কোনো কথা বলার বিষয়টিকে – সুতরাং সেই কাজটি করার জন্য বাকী থাকে শুধুমাত্র ফ্যাসিবাসী, নব্য নাৎসী অার অন্য ডানপন্হী উন্মাদরা। আর স্পষ্টতই শুধুমাত্র যে মানুষগুলো ইসলামবাদীদের ও জিহাদবাদীদের উদ্দেশ্য নিয়ে সঠিক দাবী করে, তারা নিজেই ভয়ঙ্কর সংকীর্ণমনা ধর্মান্ধ। আর সেকারণে পরিস্থিতিটি খুবই ভীতিকর, সভ্যতার এই সংঘর্ষে দুই পক্ষেই উগ্রপন্হীরা আছেন, আর উদারনীতিবাদীরা বিষয়টি নিয়ে অর্থপূর্ণ উপায়ে কিছুই বলবেন না কি ঘটছে।

নাওয়াজ: বেশ, পরের অংশটি, মানে ধর্মান্ধদের অংশ, এটি নিয়ে বিতর্ক নেই। কিন্তু আমি সেই সব ‘সহযাত্রীদের’ নিয়ে আরো কিছুটা সময় কথা বলতে চাই এবং কেন এই সব মানুষরা মূলত বীপরিতমূখী বর্ণবিদ্বেষী। এর কারণ তারা সাধারণ এমন কোনো ধারণা পোষণ করেন যে, সব মুসলিমরা একটি নির্দিষ্ট উপায়ে চিন্তা করে, সুতরাং কোনো মুসলিম যিনি সেভাবে চিন্তা করেন না, তারা সত্যিকার বা অকৃত্রিম মুসলিম হতে পারেন না। এখন, সংকীর্ণ মানসিকতার এর চেয়ে খারাপ কি রুপ থাকতে পারে? তারা ধারণা করছেন যে, পৃথিবীর ১.৬ বিলিয়ন পৃথিবীর মানুষ, যার এই বিশেষ ধর্মীয় মতাদর্শের অনুসারী তারা সবাই অবশ্যই একই ভাবে চিন্তা ও আচরণ করেন ? এটি শুনলে মনে হবে ডানপন্হী রক্ষণশীলদের দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু ‘সহযাত্রীরা’ অথবা পশ্চাদগামী বামপন্হীরা কোনো না কোনোভাবে এটি মেনে নিয়েছেন। বিষয়টি ব্যাখা করার জন্য আমাকে আরেকটু সুযোগ দেয়া হোক।

যদি তুমি মুসলিম উদারনীতিবাদী হয়ে কথা বলো – যেভাবে আমি বলি – ইসলামবাদকে চ্যালেঞ্জ করে, ‘সহযাত্রীরা’ কোনো না কোনো ভাবে তোমাকে সত্যিকারের রক্ষণশীল মুসলিম হিসাবে চিহ্নিত করবেন না। এই সহযাত্রীরা তারপর তথাকথিত ‘সত্যিকারের’ কণ্ঠগুলোকে সহায়তা করে ‘বৈধ’ বক্তা হিসাবে, কারণ তারা বিশুদ্ধতা এবং সাংস্কৃতিকর অকৃত্রিমতা সন্ধান করে একটি গোষ্ঠী পরিচয় বজায় রাখার প্রাচ্যবাদী বাসনায়। সুতরাং অবশ্যই একটি নিম্নগামী সর্পিলাকার পথের সূচনা করে। তাদের প্রশ্নটি রুপান্তরিত হয়, ‘বেশ, তাহলে মুসলিম হওয়া বলতে কি বোঝায়’? আর দ্রুতই এই জিজ্ঞাসা অধঃপতিত হয়, ‘বেশ সে বিশুদ্ধতর মুসলিম- আসুন তার কথাই শোনা যাক’ -এমন উপসংহারে।

এ ধরনের একটি দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যম্ভাবীভাবে শেষ হয়, মৌলবাদীদেরই সবচেয়ে ‘অকৃত্রিম’ মুসলিম হিসাবে প্রমানিত করে তাদের ক্ষমতায়নের প্রক্রিয়ায়; কারণ অবশ্যই তারাই ‘কে বিশুদ্ধতর মুসলিম?’ খেলায় জয়লাভ করে। এবং অন্যদের তারা পরাজিত করে ধর্মপরায়নতার প্রতিযোগিতায়, কারণ তারা গোড়া, মতবাদ নির্ভর মৌলবাদী। এভাবে সহযাত্রীরা ক্ষমতাহীন করে উদারনীতিবাদী ও সংস্কারবাদীদের। তারা এমনকি অনুধাবনও করতে পারে না যে, তারা নিজেরাই আবার চিন্তার পাহারাদার বা পুলিশের ভূমিকাটি গ্রহন করে এমন দাবী করে যে, এইসব সংস্কারপন্হী, উদারপন্হীরা মুসলিমদের কাছে প্রকৃতভাবে গ্রহনযোগ্য নয় বলে। আবারো বীপরিতমূখী গোড়ামী সংকীর্ণতা আমরা এখানে সক্রিয় হতে দেখি।

আমি চাই যাদের আমি বলেছি ‘পশ্চাদগামী বামপন্হী’ – তারা যারা এই কথোপকথনটি পড়ছেন, তারা যেন বুঝতে পারেন যে, কোনো একটি সংখ্যালঘু সমাজের ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপটি হচ্ছে সেই সমাজের মধ্যে সংস্কারবাদী কণ্ঠস্বরকে মূক্তি দেয়া, যেন এর সদস্যরা দ্বায়িত্ব নিতে পারে তাদের নিজেদের এবং সত্যিকারের ক্ষমতায়নের প্রথম প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করতে পারেন: সেটি হচ্ছে ভিক্টিমহুড মেন্টালিটি বা নিজেদের অবিচারের শিকার মনে করার মানসিকতা। এটাই আমেরিকার সিভিল রাইট বা নাগরিক অধিকার আন্দোলন অর্জন করেছিল বিতর্কের বিষয়টি পরিবর্তন করে। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়ার এবং অন্যান্য নেতারা তাদের সমাজের দ্বায়িত্ব তারা নিজেরাই হাতে তুলে নিয়েছিলেন এবং ইতিবাচক এবং ক্ষমতায়নের একটি রুপে তারা আচরণ করেছিলেন, সারাক্ষণই নিজেদের অবিচারের শিকার বা ভিক্টিম হিসাবে অভিযোগ উত্থাপন করা অথবা রাস্তায় দাঙ্গা করার বদলে। এই ধরনের ‘গ্রুপথিঙ্ক’ ( একটি মনোবৈজ্ঞানিক ঘটনা যা এক গ্রুপ মানুষের মধ্যে ঘটে যখন গ্রুপের মধ্যে সংহতি বজায় রাখার কামনায় অযৌক্তিক ও অকার্যকরী সিদ্ধান্ত-নেবার মত ঘটনা ঘটে) মানসিকতা অব্যহত রাখা একই সাথে খুবই বিপজ্জনক এবং বাস্তবিকভাবেই ক্ষমতা হরণকারী।

হ্যারিস: হ্যা, এবং পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এই সব উদারনীতিবাদীরা বুঝতেও পারছেন না তারা মুসলিম বিশ্বের নারী, সমকামী, মুক্তচিন্তক, বুদ্ধিজীবি এবং অন্যান্য ক্ষমতাহীন মানুষগুলোকে পরিত্যাগ করছে সহিংসতা আর অসহিষ্ণুতার বড় কড়াইতে। ক্রীতদাসের মত জীবন না কাটানোর জন্য নারীদের অধিকারগুলো সমর্থন করার বদলে, যেমন, পশ্চিমা উদারপন্হীরা ধর্মীয় একনায়কদের অধিকার সমর্থন করছেন যে, তারা তাদের স্ত্রী ও কন্যাদের যেভাবে খুশী সেভাবে আচরণ করতে পারে, এবং সেই সাথে অপমানকর কার্টুনের মাধ্যমে তাদের যেন কেউ ব্যঙ্গ না করে, এমন সুরক্ষার ব্যপারটি নিশ্চিৎ করে।

নাওয়াজ: এবার সেই দৃষ্টিভঙ্গিটি, যা দাবী করে সাম্রাজ্যবাদ অথবা ঔপনিবেশকতার নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এমন কেউই এভাবে আচরণ করবেন: না, এটা তাই নয়, পুরো দেশ, যেমন ভারত উপনিবেশ ছিল। এই মুহূর্তে ইরাকে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট যা করছে, তাদের ইয়াজিদি জনগোষ্ঠীকে গণগত্যার প্রচেষ্টা আর যেভাবে ভারতে গান্ধী আচরণ করেছিলেন তার মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে। ইরাকের ঘটনাটা বিস্তারিত দেখা যাক কেস স্টাডি হিসাবে, এবং বিষয়টি নিয়ে যদি তুমি ভাবো: মাউন্ট সিনজারে ইয়াজিদি জনগোষ্ঠীকে হত্যা করার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির সম্পর্ক কি? ওয়াজিরিস্তান, আফগানিস্তানে মাথায় কাপড় ( মূলত তাবু, পুরো ঢাকা) পরার নিয়ম কার্যকরী করা এবং তাদের বেত্রাঘাত করা, পুরুষদের চাবুকের ভয় দেখিয়ে জোর করে দাড়ি রাখানো, হাত কাটা এবং ইত্যাদি নানা কিছুর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির সম্পর্ক কি?

হ্যারিস: অনির্দিষ্টভাবেই এই অপ্রয়োজনীয় কাজের এই তালিকা দীর্ঘ করা যাবে, যেমন পাকিস্তানে আহমাদি মসজিদে সুন্নীদের বোমা হামলার সাথে ইজরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির সম্পর্ক কি?

নাওয়াজ: এখন, এইসব কোনো কিছুই এমন কিছু বোঝায় না যে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের সবারই কমিউনিটি আর সমাজ হিসাবে শিখতে হবে, এই বিতর্কে আরো সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো বুঝতে হবে। এর আগে আমরা বলেছিলেন চারটি নিয়ামক আছে উগ্রবাদতে আত্মীকরণ করার প্রক্রিয়ায় – একটি বিক্ষুদ্ধ হবার কাহিনী, সেটি সত্যি কিংবা অনুভূত যাই হোক না কেন, আত্মপরিচয়ের একটি সংকট, প্রভাবিত করতে পারে এমন ব্যক্তিত্বের কোনো সদস্য সংগ্রহকারী এবং একটি আদর্শিক মতবাদ।

ক্ষোভ অভিযোগ সত্য, যেমন, বসনিয়ায় গণহত্যা, হোক বা না হোক, এটি মীমাংসা করতে হবে। যখনই কোনো অনুভূত ক্ষোভের পরিস্থিতি হবে, সেই বিষয়ে প্রকৃত প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পরিবেশ উৎসাহিত করতে হবে। সত্যিকারের অথবা অনুভূত কোনো ক্ষোভের বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোচনা, তরুণ ক্ষুদ্ধ পনেরো বছর বয়সীদের সরবরাহ থামিয়ে দেবে তাদের কেউ দলে ভেড়ানোর আগেই। আমরা তাদের বলতে পারি, ‘বেশ, আমি বুঝতে পারছি কেন তুমি বসনিয়া নিয়ে ক্ষুদ্ধ – কিন্তু তুমি কি বিষয়টি বিবেচনা করেছো যে আমেরিকা অবশেষে হস্তক্ষেপ করেছে এবং সাহায্য করেছে এটি থামানোর জন্য? কেন তারা এই ঘটনার জন্য স্বীকৃতি পাবে না’?

হ্যারিস: যদিও, অনুভূত বনাম সত্যিকারের অভিযোগ কিংবা ক্ষোভ বিষয়ে সন্দেহাতীতভাবেই ধর্মের কোনো উপকারী ভূমিকা নেই। যেমন, তুমি সেই বাস্তব সত্যটার কি অর্থ করবেন, ইসরায়েলকে নিয়ে মসুলমান দেশগুলোয় প্রতিবাদ মিছিলের সংখ্যা, ইসলামিক স্টেটদের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ মিছিলের সংখ্যা থেকে বহুগুণে বেশী। এমনকি আরো বেশী অদ্ভুত হচ্ছে সেই বাস্তব সত্য যে, যদি ফ্লোরিডার কোনো যাজক কোরানের একটি কপি পোড়ান – বা শুধুমাত্র হুমকি দেন এমন কিছু করবেন দাবী করে – নির্ভরযোগ্যভাবে তুমি ধরে নিতে পারো যে বহু মুসলিম সমাজে অনেক বেশী তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠবে, শিয়াদের বিরুদ্ধে সুন্নিদের নিত্যদিনের সহিংসতা তেমন প্রতিবাদের ঝড় তুলতে কখনোই পারবে না।

নাওয়াজ: হ্যা, কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতীককে পবিত্র আর ঘনিষ্ঠভাবে তাদের নিজেদের পরিচয়ের সাথে যুক্ত করার একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সেগুলো প্রায়শই মানব জীবনের চেয়ে আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোনো ক্ষোভ, সত্যি অথবা অনুভূত, কখনোই দেখা হয়নি মতবাদের লেন্স দিয়ে দেখা ছাড়া। কেন এমন হয়, যেমন, একজন ইসলামবাদী কখনো বিচলিত হবে না যখন মুসলিম কোনো সদস্য অমুসলিমদের উপর নিপীড়ন করে, কিন্তু যখনই সুন্নি মসুলিমরা এই সব হামলার সম্ভাব্য কিংবা কল্পিত বা অনুভূত শিকার, তখনই কেন এত শোরগোল? আমরা যদি সত্যিকারভাবে মানবাধিকার আর অবিচারের ব্যপারে চিন্তিত হই, তাহলে তো আমাদের সমানভাবেই বিচলিত হতে সব মানবাধিকারের লঙ্ঘনের প্রতি, এব্ং পদ্ধতিগত উপায়ে কাজ করতে হবে এই বিষয়গুলোর সাথে যতটা সম্ভব ভালোভাবে মোকাবেলা করার জন্য। সুতরাং আমি বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি যা তুমি বর্ণনা করলে একটু আগে। আমি শুধু যা যোগ করবো তা হলো হলো, গোড়া মতবাদ হচ্ছে একটি লেন্স যার মধ্য দিয়ে ক্ষোভগুলো পরিশোধিত হয়।

আরেকটি নিয়ামক যা উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যায়ে, আমার দ্বিতীয়টি প্রস্তাবনাটি, সেটি হচ্ছে আত্মপরিচয়ের সংকট। এটি খুবই সহজ, এমনকি ইসলামবাদী নয় এমন মুসলিমদের জন্য, এটি অবিশ্বাস্যরকম গোত্রকেন্দ্রিক উপরে উল্লেখিত ক্ষোভগুলো ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে। সুতরাং মতবাদসহ, গোত্র পরিচয় বহু মুসলিমকে পরিচালিত করে শুধুমাত্র ‘আমাদের’ মানুষদের সমর্থনে কথা বলতে, কারণ সেটাই আবেগীয় শক্তির মাত্রা, যা কিনা আমাদের আছে। ক্ষোভ পরিশোধিত করার যে কোনো লেন্স, মতবাদ অথবা গোত্রকেন্দ্রিকতাকে অবশ্যই সরাসরি আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। আমি উভয়কে চ্যালেঞ্জ করেছি, কারণ অবশ্যই ক্ষোভগুলো সব সময় সেখানে থাকবে, এটাই জীবনের প্রকৃতি, আমরা যা পরিবর্তন করতে পারি, সেটি হচ্ছে আদর্শের সেই লেন্সটি, অথবা কারো আত্মপরিচয়ের গোত্রকেন্দ্রিক মানসিকতাটি অথবা আত্মপরিচয়ের রাজনীতির যে খেলাটি খেলার প্রবণতা আছে আমাদের। আমি বিশ্বাস করি আত্মপরিচয় সংক্রান্ত রাজনীতি খুবই বিপজ্জনক হতে পারে। এটি সাধারণ বিভাজন সৃষ্টি করে। এটি কোনো সমাজে সংহতি সৃষ্টি করে না।

হ্যারিস: আমি একমত তোমার সাথে। তবে, এই ধরনের গোত্রবাদিতা ধর্মের অন্যতম একটি পরিণতি। গোত্রবাদিতার আরো উৎস আছে – জাতীয়তাবাদ এবং বর্ণবাদ, যেমন। কিন্তু একটি ভাগ করে নেয়া ধর্মীয় পরিচিতির বিশ্বব্যপী একটি নাগাল আছে। যেমন আমি বলেছি, এটি গ্রুপের মধ্যে আনুগত্য আর গ্রুপ বহির্ভূত শত্রুতা সৃষ্টি করে। এমনকি যখন কারো নিজের গ্রুপের কোনো সদস্যরা ঘৃণ্য উপায়ে আচরণ করে। মুসলিমরা অনেক সময় অন্য মুসলিমদের আন্দোলনে সমর্থন করে, তারা যত খারাপ ভাবেই আচরণ করুক না কেন, শুধুমাত্র কারণ তারা ঘটনাচক্রে মুসলিম। অন্য গ্রুপও একই কাজ করে, কিন্তু এটি বিশেষভাবে সমস্যা একবিংশ শতাব্দীর মুসলিমদের মধ্যে।

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ (৯)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 1 =