সন্ধান চাই : লাশের জন্য এ প্রতীক্ষা কি ফুরোবার নয়???


এই ব্লগপোষ্টে ভেবেছিলাম কিছুই লিখবো না। শুধু এই সন্ধান চাই পোষ্টারগুলো তুলে দেবো। কি বা লিখবো আমি। পৃষ্টার পর পৃষ্টা লিখলেও এই এক একটি পোষ্টারের পেছনের আহাজারি তুলে ধরতে পারবো না।

জীবিত হোক মৃত হোক শত শত মানুষের আর্তনাদ তাদের প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পাবার। পঁচা হোক, গলা হোক, হোক হাড়সর্বস্ব কয়েক টুকরো মাংসপিন্ড- প্রিয়োজনের লাশ ফিরে পেতে স্বজনদের বুকফাটা কান্নার মাতম ফিরছে সাভারে ধসে পড়া ভবনের চারপাশে।

অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রতিক্ষা লাশের জন্য। মা এসেছে ছেলের খোঁজে, বাবা খুজছে মেয়েকে। দাদি এসেছে চোখের মনি নাতিটিকে খুজতে। জীবিত যাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে তাদের প্রায় সবারই আত্মীয় স্বজনের খোঁজ পাওয়া গেছে।

যত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ৫২ জন বাদে তা হস্তান্তর করা হয়েছে। তাহলে এই শত শত স্বজনের আহাজারি কি থামবে না? কোনো শান্তনাই যে তাদের মনকে বাঁধ মানাতে পারছে না। যে দাদিটি প্রিয় নাতির কবর জড়িয়ে জীবনের বাকিটা সময় কাটিয়ে দিতে চায়, তার মাতম যে থামছে না।

এই মানুষগুলো প্রিয় স্বজনকে আর কোনোদিন ফিরে পাবে না। কেউ কেউ এখান থেকে বাড়ি ফিরে যাবে। কেউ কেউ হয়তো ‘সন্ধান চাই’ নোটিশটা নিয়ে আরো কিছুদিন এখানে ওখানে ছুটে বেড়াবে। লাশ তো নয়ই, পাবে না তারা কিছুই। পাবে না কোনো সহযোগিতা। পাবে না কোনো প্রতিকার। পাবে না বিচার। চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কিছু তাদের করার থাকবে না। হয়তো মাঝে মাঝে অপরিচিত কাউকে দেখে কোনো মা চিৎকার করে কেঁদে বলবে, ঠিক তোমার মতো দেখতে ছিল আমার ছেলেটা, মরে গেছে, না হারিয়ে গেছে, ওকে আজো পাইনি…

জীবনের নির্মমতা কেন ওদেরকেই বেছে নেয় বারবার!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “সন্ধান চাই : লাশের জন্য এ প্রতীক্ষা কি ফুরোবার নয়???

  1. কি বলব মিতু আপা?????????????
    কি বলব মিতু আপা????????????? …………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………

  2. পোস্ট লেখক একজন দক্ষ সংবাদ
    পোস্ট লেখক একজন দক্ষ সংবাদ কর্মী বলেই আমি জানি। আমি বিনয়ের সাথে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর চাই আপনার কাছে। কারণ আমি দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক দুরে থাকি তাই আপনি অনুগ্রহ করে আমারে মনের কাছে জেগে উঠা কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো..

    ১) রানা প্লাজায় ঐদিন কত লোক ছিল ?
    ২) যতগুলি লোকের সন্ধানে মানুষগুলো ছবি নিয়ে অপেক্ষা করছে তাতে মনে হয় প্রায় হাজার খানেকের কম নয়। তাহলে নিখোঁজ মানুষগুলো যদি মৃত্যুবরণ করে থাকে তাহলে লাশগুলি কোথায় গেল?
    ৩) লাশগুলো কি সরিয়ে ফেলা হয়েছে?
    ৪) বেওয়ারিস লাশ হিসেবে যেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো কি সনাক্ত করার মত সুরত হাল ছিল না?
    ৫) যাদের ছবি নিয়ে অপেক্ষা করা হচ্ছে তারা যে রানা প্লাজায় কাজ করতো তার উপযুক্ত প্রমাণ কি তাদের কাছে আছে?

    প্রশ্নগুলো আমার মনে আসার যথেষ্ট যুক্তি আছে আমার। যদি উত্তর দেন তাহলে দু,একটি কারণ শেয়ার করবো।

  3. সাভার ট্র্যাজেডির পর আপনি
    সাভার ট্র্যাজেডির পর আপনি সম্ভবত খবর টবর দেখেন নাই। দেখলে একটা জিনিস স্পষ্ট হতো যে, রাষ্ট্র বরাবরের মতো এবারও মিথ্যাচার করেছে। মোটমাট ঘটনাবলী তুলে দিলাম আনিস রায়হানের স্ট্যাটাস থেকে।

    সাভার ভবন ধ্বস : ঘটনাবলী

    ৫ হাজার গার্মেন্টস শ্রমিকসহ বিজিএমইএ ভবন ধ্বস ২৪ এপ্রিল, ২০১৩ সকাল নয়টার দিকে। শ্রমিকদের দাবি সেখানে ৭ হাজার শ্রমিক কাজ করতো। ঘটনার দিন ৫ হাজারের বেশি শ্রমিককে জোর করে ভবনে ঢোকানো হয়েছিল। আগের দিন ফাটল দেখা দেয়ায় তারা ভবনে ঢুকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ভবন মালিক রানা ও ভবনে থাকা গার্মেন্টসগুলোর মালিকেরা মিলে শ্রমিকদের ফাটল ধরা ভবনের মধ্যে কাজ করানোর সিদ্ধান্ত নেন। এবং ভয় দেখিয়ে তাদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেন।

    ভবন ধ্বসে পড়ার পর প্রথম দুই দিন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়াই সাধারণ মানুষ নিজ উদ্যোগে উদ্ধার প্রচেষ্টা চালায়। শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। আর্মি, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন প্রথম দুই দিন ঘটোনাস্থলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া তেমন কোনো ভূমিকা নেয়নি। তৃতীয় দিন থেকে মানুষের দয়ায়, ত্রাণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আসা শুরু। ততদিনে অধিকাংশ গুরুতর আহত শ্রমিকের মৃত্যু। তৃতীয় দিন থেকে সাধারণ মানুষের দেয়া ওই যন্ত্রপাতির ওপর ভিত্তি করে ফায়ার সার্ভিসের কাজে হাত লাগানো। আর্মি তখনো দূরে দাঁড়িয়ে। ধ্বংসস্তূপ আবারো ধ্বসে পড়ার ভয়ে ফাটলের ভেতরে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে আর্মির আপত্তি।

    মৃত শ্রমিকদের লাশের গন্ধে বাতাস ভারী। উদ্ধার কাজে আর্মির দাড়িয়ে থাকা, বাশি বাজানো, ফায়ার সার্ভিসের দুই/তিনটি দিক থেকে কাজ করা। বিশেষজ্ঞ মতামত, সমন্বয়, পরিকল্পনা, ব্যাবস্থাপনার বালাই না থাকা। কেবল চারপাশ থেকে সাধারণ মানুষ, শ্রমিকদের আপ্রাণ চেষ্টায় হাতড়ে হাতড়ে কারো হাত কেটে কারো পা কেটে কাউকে আস্ত রেখে কিছু জীবন্ত শ্রমিককে উদ্ধার। কিছু খন্ডিত, বিকৃত, গলিত লাশ উদ্ধার।

    তৃতীয় দিন থেকে লাশ উদ্ধার করা বাদ। কেবল জীবিত শ্রমিকদের অনুসন্ধান। ধ্বসে পড়া কনক্রিটের ফাঁকে ফাঁকে অসংখ্য লাশের অস্তিত্ব। ধ্বসে পড়া ভবনের শ্রমিকদের আত্মীয় স্বজনের উৎকন্ঠিত অবস্থান। উদ্ধারকাজের ধীর গতি, অপ্রতুল যন্ত্রপাতি, সমন্বয়হীনতা ইত্যাদি দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠা। অসহায়ভাবে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়া শ্রমিকদের নিরুপায় আত্মীয় স্বজনের উপর পুলিশের লাঠি চার্জ, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস। আর্মি কর্তৃক ঘাড় ধরে ধরে অনেককে দুরে সরিয়ে দেয়া। লাশ পঁচে গলে বিকৃত হয়ে পরিচয়হীন, বেওয়ারিশ হওয়ার ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন। পঞ্চম দিনের মাথায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার শুরু। ভেতরে তখনও জীবিত মানুষ থাকার অভিযোগ। সাবধানে কাজের আশ্বাস।

    তার আগে কয়েকটি আবেগ ঘন উদ্ধার অভিযানের লাইভ টেলিকাষ্ট। দুই একজনকে উদ্ধার করার আপ্রাণ আন্তরিক চেষ্টার লাইভ দৃশ্য দেখে আমাদের মুগ্ধ হয়ে যাওয়া, অসংখ্য শ্রমিককে সময় মতো উদ্ধার করার যথাযথ চেষ্টা না করা ও উদ্ধার কাজে রাষ্ট্রীয় অবহেলাকে ভুলে যাওয়া। আল্লাহর ওয়াস্তে আড়াই হাজার শ্রমিক উদ্ধার হওয়ার কাহিনী দিয়ে আড়াই হাজার গরীব দুঃখী শ্রমিক উদ্ধার না হওয়ার নির্মমতা কে আড়াল করা, মানবিকতার ক্রেডিট নেয়া।

    ক্রেন, বুলডোজার দিয়ে কাজ শুরুর আগে স্বেচ্ছাসেবক, সাংবাদিক সবাইকে সরিয়ে দেয়া। ভারী যন্ত্র দিয়ে কাজ শুরুর দুই দিন পরও দেড়/দুই হাজার কোটিপতি মালিকের কোন খোজ না পাওয়া, লাশ উদ্ধার না হওয়া। বাইরে টানা দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থেকে লাশের খোঁজ করা শ্রমিকদের বিক্ষুব্ধ নিরুপায়-অসহায় আত্মীয় স্বজনের উপর পুলিশের নির্মম লাঠি চার্জ। ভবনের চারপাশ ঘিরে আর্মির পাহারা। মাঝে মাঝে দু একটা লাশ উদ্ধার। এভাবে আরো কিছুদিন ধরে রাবিশ স্থানান্তর। পঁচা গলা লাশ তীব্র গরমে ও ভবনধ্বসের বালির বহরের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া।

  4. আনিস রায়হানের লেখা আমি
    আনিস রায়হানের লেখা আমি পূর্বেই পড়েছি। তারপরও আমার মনের কোণে জেগে উঠা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছিলাম। উত্তর গুলো আপনার অবজারভেশন থেকে চেয়েছিলাম। কি উত্তর দিয়েছেন আপনিই ভাল জানেন।

    আর আপনার জ্ঞাতার্থে জানাই আমি নিয়মিতভাবে অধিকাংশ দেশিয় টিভি চ্যানেলের খবর এবং টক-শো দেখি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 1