ভালবাসা ভালবাসা।

ভালবাসা সম্পর্কে আমার ধারনা গুরু হুমায়ুন আজাদের মতই “মাংশের জন্য মাংশের সোনালী ক্ষুধা” মাত্র। জীব জগতে জীব মাত্রই তার বংশ ধারা অব্যাহত রাখার তাগিদেই বিপরীত লিংগের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আর এর জন্য তার দেহের ভিতরের কয়েকটা গ্লান্ড নিঃসৃত কিছু হরমোনই দায়ী।

প্রেম স্বর্গীয়! প্রেম ঐশ্বরিক! এসব বাজারে প্রচলিত আর দশটা বাজে কথার একটা মাত্র। মানুষের শরীর থেকে হরমোন নামক রাসায়নিক পদার্থ গুলো সরিয়ে ফেললে কেউ আর বিপরীত লিংগের প্রতি আকর্ষণ বোধ করবেনা। তখন পুরুষের কাছে নারীর চুলের গন্ধ, ত্বকের মসৃণতা, ভারী নিতম্ব, ভরাট স্তন যুগল, উচ্ছল হাসির ঝর্ণাধারা আলাদা কোন মহনীয় রুপে ধরা দিবেনা, তখন কবির মতই অবশিষ্ট পড়ে থাকবে “বরুণার বুকে শুধুই মাংশের গন্ধ”।

আসলে সব কিছুর মুলেই যৌনতা! মানুষ জীবনে যা কিছু করে তার এক তৃতীয়াংশ জুড়েই রয়েছে এই যৌনতা, জীবনের বিরাট এক অংশকে তাড়িত করে ফেরে এই কামনাকে তৃপ্ত করবার বাসনা। অতৃপ্ত কামনা নানা রুপে, নানা রঙে, নানান নামে খেলা করে, তারই একটার নাম হয়ত ভালবাসা, কিংবা আরো একধাপ এগিয়ে গেলে “প্রেম”। এই প্রেম শব্দটার ব্যাখ্যা হয়ত একেকজন একেক রকম দিবেন, তথাপি আমি মনে করি দুটি মানব মন যখন কোন এক মোহনায় মিশে নানা রুপে, নানা রঙে দুকূল ছাপিয়ে স্বপ্নের ভেলায় চড়ে সামনে এগুতে থাকে আমি তাকেই প্রেম বলি। শুধু এক পক্ষের ভালবাসায় প্রেম হয়না, আমি তাকে প্রেম বলিনা; শুধু ভালবাসা কোন সময়ই প্রেম নয়।

এই প্রেমেই মানুষ ঘর ছাড়ে, সংসার ছাড়ে, ধর্ম ছাড়ে তবুও কিছুতেই যেন তাকে ধরা যায় না। যেন এক মস্ত কুহক! মরীচিকার মত কিছুতেই তাকে নাগালে পাওয়া যায় না। যে পায় সে পেয়ে হারায়, যে পায়না সে না পেয়ে হাঁতড়ে মরে।

সব কিছুই পদার্থের ক্রিয়া বিক্রিয়ার খেলা, আমাদের জীবনটাও তাই, আমাদের মন মগজে যা ঘটে তাও ঐ রাসায়নিক পদার্থের ক্রিয়া মাত্র। এই নিয়েই আমাদের জীবন, বেঁচে থাকা, এই নিয়েই আমাদের হাসি, কান্না, রাগ, অভিমান, ভালবাসা, ঘৃণা করা আমাদের জীবন, জগৎ, সংসার সব। জীবনটা যেন আকাশে ভেসে ওঠা ক্ষণিকের রংধনু, কিছু সময় রুপ ছড়ায়, রঙ ছড়ায় তারপর শুন্যে মিলিয়ে যায়।

জ্ঞান বিজ্ঞানের এসব জটিল সুত্র, যুক্তির চুলচেরা বিশ্লেষণ, বাস্তব দুনিয়ার হাজারো উদাহরণ কিছুই আমাদের কাজে দেয় না তবুও আমরা ভুল পথে পা বাড়াই, পৃথিবী ভর্তি মানুষ থাকা সত্বেও বিশেষ কারো জন্য মন উদ্বেল হয়ে ওঠে, কিছুতেই বাঁধ মানানো যায়না। ভুল করে ভালবাসি।

প্রেমে বর্ণ নেই, ধর্ম নেই, জাত নেই, দেশ ভেদ, সামাজিক অবস্থানের ভেদাভেদ, বয়সের পার্থক্য, আপনকীয়া, পরকীয়া সব কিছুই ছাপিয়ে একাকার করে চলে প্রেম।
রাজার দুলাল ঘুঁটে কুড়ানির মেয়ের প্রেমে পড়ে, থরে থরে সাজানো গোছানো সংসার ছেড়ে পথের কাঙালের হাত ধরে।

প্রেমাস্পদের চোখে কি থাকে আমরা জানিনা, সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করা যায় না, তবে নিশ্চয় সে এক শ্রেষ্ঠ অনুভূতি। কত আকুলতা, ব্যাকুলতা তবুও এক হৃদয়ের কাছে আর এক হৃদয় সমর্পণের অন্তহীন সুখ। কিছুতেই সে অনুভূতির সাথে যেন আর কিছুরই উপমা করা চলেনা। মানব মনের এই প্রবল প্রবৃত্তির কাছে পৃথিবীর সব কিছু তুচ্ছ হয়ে যায়। প্রিয়তম প্রিয়তমা সামান্য হাসি, স্পর্শে যে সুখ মিলে কিছুতেই তার আর তুলনা করা যায়না। প্রেমহীন দীর্ঘ এক জীবন সময়ের চেয়ে, প্রেমময় এক মূহুর্তও শ্রেষ্ঠ সময়। নিরর্থক জীবনে বেঁচে থাকাটা হাজারটা অর্থে হতে পারে তবে তা সবই ধুষর মরুময়!

ভালবাসায় জীবন তিক্ত, কটু অম্ল, মধুর।
প্রেম যাতনাময় তবুও সে মায়াময়, স্বপ্নময়, স্বর্গময়!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ভালবাসা ভালবাসা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 60 = 63