রিচার্ড ডকিন্সের বাস্তবতার জাদু – দ্বিতীয় অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)


রিচার্ড ডকিন্সের বাস্তবতার জাদু – দ্বিতীয় অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
কে ছিল প্রথম মানুষ ?

আসলেই, কে ছিল প্রথম মানুষ?

খুব অবাক হতে পারেন, কিন্তু আসলেই কখনোই একজন প্রথম মানুষ বলে কেউ ছিল না – কারণ প্রতিটি মানুষের পিতা মাতা থাকতে হবে, এবং সেই পিতামাতারাও মানুষ ! একই ঘটনা খরগোশদের ক্ষেত্রেও ঘটে। কখনোই একটি প্রথম খরগোশ বলে কিছু ছিল না, কখানোই প্রথম কুমির ছিল না, কখনোই প্রথম ড্রাগন ফ্লাই বা গঙ্গা ফড়িং ছিল না। প্রতিটি জীবই যার জন্ম হয়েছে তারা এর পিতামাতা যে প্রজাতির সেই প্রজাতির সদস্য ( হয়তো খুব সামান্য কিছু ব্যতিক্রম সহ, যা আমি আপাতত এই আলোচনায় উহ্য রাখলাম)। সুতরাং এর মানে অবশ্যই প্রতিটি জীব যাদের জন্ম হয়েছে তারা তাদের পিতামহ/মহী / মাতামহ/মহী যে প্রজাতির সেই প্রজাতির সদস্য হবে। এমনকি প্রপিতামহ/মহী যে প্রজাতির সেই প্রজাতিরও। এবং এভাবেই চলতে থাকবে চিরকালের জন্য।

চিরকালের জন্য? বেশ, না এটি এত বেশী সরল নয় যেমন ভাবে বলা হলো। কিছুটা ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে। এবং আমি শুরু করবে একটি চিন্তার পরীক্ষা দিয়ে। থট এক্সপেরিমেন্ট বা চিন্তার পরীক্ষা হচ্ছে আপনার কল্পনায় একটি পরীক্ষা। আমরা যা কিছু কল্পনা করবো, সেটি আক্ষরিক অর্থে সম্ভব নয় কারণ এটি আমাদের সময়ে অনেকে অতীতের দিকে নিয়ে যাবে, সেই সময় যখন আমাদের জন্ম হয়নি। কিন্তু এটি কল্পনা করা আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।

বেশ, এটা হচ্ছে আমাদের চিন্তার পরীক্ষা। আমাদের শুধু যা করতে হবে তা হলো নির্দেশগুলো অনুসরণ করে নিজে নিজে কল্পনা করা। নিজের একটি ছবি খুঁজে বের করুন। এরপর আপনার বাবার একটি ছবি নিন, এবং ছবিটিকে আপনার ছবির উপর রাখুন। এবার আপনার বাবার বাবা, মানে আপনার দাদার একটি ছবি সংগ্রহ করুন, এবার সেটি আপনার বাবার ছবির উপর রাখুন। এরপর আপনার দাদার বাবা আপনার প্রপিতামহের একটি ছবি রাখুন তার উপর। আপনি হয়তো আপনার প্রপিতা/মাতামহদের কাউকেই কখনোই দেখেননি। যেমন আমার নিজের প্রপিতা/মাতামহ কারোর সাথে দেখা হয়নি। কিন্তু আমি জানি তাদের একজন ছিলেন কাউন্টির স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অন্য একজন একটি কাউন্টির ডাক্তার। বৃটিশ ভারতে একজন বন সংরক্ষক ছিলেন, অন্য জন ছিলেন আইনজীবি, ক্রিম খুব পছন্দ করতেন, বৃদ্ধ বয়সে যিনি পাহাড়ের ওঠার সময় মারা যান। যাই হোক এমনকি যদি আপনি নাও জানেন – আপনার বাবার বাবার বাবা কেমন দেখতে ছিলেন, আপনি তাকে অস্পষ্ট একটি চেহারার মানুষ হিসাবে কল্পনা করতে পারেন, চামড়ার ফ্রেমে বাধানো অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া কোনো বাদামী রঙের আলোকচিত্রের মত। এবং একই কাজ করুন তারও বাবার ব্যাপারেও। আপনার প্র-প্র- পিতামহ। এভাবে একটার উপর একটা ছবি জমা করতে থাকুন আরো পেছনে গিয়ে আরো প্র প্র প্র পিতামহদের ছবিগুলো।

আপনি এভাবে পিছনে যেতে পারবেন এমনকি যখন আলোকচিত্রও আবিষ্কার হয়নি সেই সময়েও, কারণ এটি তো চিন্তার পরীক্ষা। কত জন প্র প্র প্র … পিতামহদের দরকার হবে আমাদের চিন্তার পরীক্ষার জন্য? ওহ, মাত্র ১৮৫ মিলিয়ন বা তার আশে পাশে, এমন সংখ্যক হলেই হবে। শুধু ? শুধুমাত্র ? ১৮৫ মিলিয়ন ছবির কোনো স্তুপের কথা কল্পনার করা সহজ নয়। কত উচু হবে সেটি ? বেশ, যদি প্রতিটি ছবি প্রিন্ট করা হয় সাধারণ পিকচার পোস্টকার্ড হিসাবে, ১৮৫ মিলিয়ন ছবি তাহলে ২২০,০০০ ফুট উচু হবে, সেটি একটার পর একটা দাড়ানো ১৮০ টি নিউ ইয়র্কের স্কাই স্ক্র্যাপারদের সমান হবে। বেয়ে ওঠার জন্য অনেক লম্বা, এমন কি যদিও এটি ওঠার সময় পড়ে না যায় (যদিও পড়ে যাবারই কথা), ঠিক আছে এটাকে নিরাপদে একপাশে কাত করে শুইয়ে দেয়া যাক, একটি মাত্র বুক শেলফের মত – ছবিগুলো সাজানো হোক। বুক শেলফটি কত লম্বা হবে ? প্রায় চল্লিশ মাইল।

বুক শেলফটির সবচেয়ে নিকটবর্তী প্রান্তে আপনার ছবি। এর সবচেয়ে দূরের অংশে আপনার ১৮৫ মিলিয়ন তম- প্র – পিতামহ। তিনি কেমন দেখতে ছিলেন? তিনি কি একজন বৃদ্ধ মানুষ – পাতলা চুল আর সাদা জুলফি সহ? একজন চিতাবাঘের চামড়া গায়ে কোনো গুহামানব? এমন কোনো চিন্তা পুরোপুরি ভুলে যান। আমাদের জানা নেই আসলেই তিনি কেমন দেখতে ছিলেন, কিন্তু জীবাশ্ম আমাদের সে বিষয়ে বেশ ভালো ধারণা দিয়েছে। বিশ্বাস করুন বা না করুন, আপনার ১৮৫-মিলিয়ন তম-প্র- পিতামহ ছিলেন – একটি মাছ। একই ছিলেন ১৮৫-মিলিয়ন তম-প্র- পিতামহীও, তাদের তাই হতে হবে, নয়তো তারা প্রজনন করতে পারতেন না পরস্পরের সাথে এবং আপনিও এখন এখানে থাকতেন না।

?oh=ff385d588335356e4216f31ca5897c2e&oe=5851A3B5″ width=”400″ />

আসুন এবার আমরা এই চল্লিশ মাইল লম্বা বইয়ের শেলফটি ধরে হাটি, একটার পর একটা ছবি সেখানে থেকে বের করে দেখি। প্রতিটি ছবিই দেখাবে একটি প্রাণির ছবি, যে তার দুইপাশের ছবির প্রাণিদের একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যেকেই দেখতে এই সারিতে তাদের প্রতিবেশীদের মত – অথবা যথেষ্ট সদৃশ যেমন করে কোনো মানুষ তার পিতা ও পুত্রের মত দেখতে হয়। কিন্তু তারপরও আপনি যদি স্থিরভাবে বইয়ের শেলফটির এক প্রান্ত থেকে হাটা শুরু করেন, আপনি এর এক প্রান্তে দেখবেন একজন মানুষ আর অন্য প্রান্তে একটি মাছ। এবং তার মধ্যে বহু ধরনের মজার সব প্র ….. প্র-পিতামহরা, যাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যেমনটি আমরা একটু পরেই দেখবো কিছু প্রাণি যারা দেখতে নরবানরের মত , অন্যরা দেখতে বানরের মত, অন্যরা দেখতে শ্রিউর মত এবং এভাবে আরো। প্রত্যেকেই সেই সারিতে তাদের প্রতিবেশীর মত, তারপরও আপনি যদি যে কোনো দুটি ছবি বাছাই করেন যারা সেই সারিতে কিছু দুরে অবস্থান করছে, তারা বেশ ভিন্ন পরস্পরের চেয়ে। এবং আপনি যদি মানুষ থেকে সেই সারিটি অনুসরণ করেন যথেষ্ট পরিমান পশ্চাৎ অভিমুখে আপনি একটি মাছের দেখা পাবেন। কিভাবে এমন হতে পারে?

আসলেই ব্যপারটা বোঝা কিন্তু খুব কঠিন না। আমরা ধীর পরিবর্তনের সাথে বেশ অভ্যস্ত, যা ছোট ছোট ধাপে, একের পর এক, অনেক বড় ধরনের পরিবর্তন সৃষ্টি করে। আপনি একসময় মায়ের কোলের ঘুমিয়ে থাকা শিশু ছিলেন, এখন আপনি আর সেই শিশু নন। আপনার বয়স যখন আরো বেশী হবে আপনি দেখতেও ভিন্ন হবেন আবারও। কিন্তু প্রতিদিন আপনার জীবনে, যখন আপনার ঘুম ভাঙ্গে, আপনি কিন্তু সেই একই মানুষ যে গত রাতে এই বিছানায় ঘুমিয়েছিল- একটি শিশু, ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে, শৈশব পেরিয়ে বয়ঃসন্ধি কাল, এরপর তরুণ, পরে মধ্যবয়স্ক, এবং পরিশেষে একজন বৃদ্ধ। এবং পরিবর্তন এত ধীরে হয় যে এমন কোনো দিন আসেনা যখন কিনা আপনি বলতে পারবেন, এই মানুষটি হঠাৎ করেই আর শিশু নেই এবং এখন সে বড় হয়ে গেছে। এবং পরে এমন কোনো দিন আসবে না যখন আপনি বলতে পারবেন এই মানুষটি আর শিশু নয় এখন সে তার কৈশোরে। এমন কোনো দিন আসবে না যখন আপনি বলতে পারবেন, গতকাল এই মানুষটি মধ্যবয়সী ছিল, এখন তিনি বৃদ্ধ।

আমাদের চিন্তার পরীক্ষাটি এটি বুঝতে সহায়তা করে, যা আমাদের নিয়ে যায় ১৮৫ মিলিয়ন প্রজন্ম আগে, পিতামাতা, পিতামহ, মাতামহ, প্র পিতামহ মাতামহ হয়ে অতীতের দিকে যতক্ষণ না আমরা মুখোমুখি হই একটি মাছের। এবং এরপর আবার ঘুরে সময়ের সাথে সামনে দিকে এলে যা ঘটে যখন আপনার মাছ পূর্বসূরি মাছ শিশুর জন্ম হয়, তারও সন্তান হয় – যে ১৮৫ ( ধীরে ধীরে কম মাছ জাতীয় হয়ে) প্রজন্ম পরে রুপান্তরিত হয় আপনি হিসাবে।

সুতরাং পুরো প্রক্রিয়াটি ধীর, এত ধীর যে আপনি কোনো পার্থক্যই লক্ষ্য করতে পারবেন না আপনি যদি হাজার বছর পিছনের দিকে হেটে যান অথবা এমনকি দশ হাজার বছর আগে, যা আপনাকে আপনার ৪০০ তম প্র পিতামহের কাছাকাছি নিয়ে আসবে। অথবা, বরং আপনি হয়তো বহু ছোটখাটো পরিবর্তন সারা পথ জুড়েই লক্ষ্য করবেন, কারণ কেউই হুবুহু তার বাবার মত দেখতে হয়না, কিন্তু আপনি কোনো সাধারণ প্রবণতা লক্ষ্য করতে পারবেনা। আধুনিক মানুষ থেকে দশ হাজার বছর পূর্বে আসলে যথেষ্ঠ লম্বা সময় না কোনো প্রবণতা লক্ষ্য করার জন্য। দশ হাজার বছর আগের আপনার পূর্বপুরষদের ছবি আধুনিক মানুষ থেকে ভিন্ন হবে না, যদি আমরা পরিচ্ছদ, চুল আর গোফের রীতির উপরি পার্থক্যগুলো উপেক্ষা করতে পারি। আধুনিক মানুষ থেকে আরেকজন আধুনিক মানুষের যে পার্থক্য, তার চেয়ে আমাদের থেকে সে বেশী ভিন্ন হবেনা।

তাহলে কিভাবে এক লক্ষ বছর আগে, যেখানে আমরা হয়তো দেখা পাবো আপনার ৪০০০ তম প্র পিতামহের? বেশ, এখন লক্ষ্য করার মত কিছু পার্থক্য আমরা দেখতে পাবো। হয়তো মাথার খুলি কিছুটা বাড়তি পূরুত্ব, বিশেষ করে ভ্রুর নীচে, কিন্তু তারপরও সেই পার্থক্যটা খুব বেশী হবে না । এখন সময়ে আরো পিছনে যাওয়া যাক। আপনি যদি সেই শেলফের প্রথম এক মিলিয়ন বছর পেছনে যান, আপনার ৫০,০০০ তম প্র পিতামহ যথেষ্ট ভিন্ন হবে তাদের ভিন্ন প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত হবার জন্য, যে প্রজাতিকে আমরা নাম দিয়েছি Homo erectus আজ আমরা, আপনি যেমন জানেন, Homo sapiens; Homo erectus আর Homo sapiens সম্ভবত পরস্পরের সাথে প্রজনন করতে চাইতো না, অথবা, এমনকি যদিও তারা সেটি করে, তাদের সন্তানদের সম্ভবত নিজের সন্তান উৎপাদন করার ক্ষমতা থাকতো না – ঠিক যেমন হয় মিউলদের ক্ষেত্রে, যাদের গাধা বাবা আর ঘোড়া মা থাকে, এরা প্রায় সবসময়ই সন্তান উৎপাদন করতে অক্ষম (পরের অধ্যায়ে আমরা দেখবো কেন)।

আরো একবার, যদিও, সবকিছুই ধীর, ধাপে ধাপে। আপনি হোমো সেপিয়েন্স এবং আপনার ৫০০০০ তম প্র পিতামহ ছিলেন হোমো ইরেকটাস। কিন্তু কখনোই এমন কোনো হোমো ইরেকটাস ছিল না যে হঠাৎ করেই হোমো সেপিয়েন্স শিশুর জন্ম দিয়েছিল। সুতরাং, কে ছিল প্রথম মানুষ এবং কখন কোথায় তারা বসবাস করতো এই প্রশ্নটির কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। এটি কিছুটা অস্পষ্ট, যেমন এই প্রশ্নের উত্তরের মত : কখন থেকে আপনি কোলের শিশু হওয়া বন্ধ করলেন এবং হাটতে সক্ষম শৈশবে প্রবেশ করলেন- এরপর কৈশোরে ? কোনো একটি পর্যায়ে, সম্ভবত এক মিলিয়ন বছরের কম সময় আগে কিন্তু এক লক্ষ বছরের বেশী সময় পরে, আমাদের পূর্বসূরিরা যথেষ্ঠ পরিমান ভিন্ন ছিল আমাদের থেকে যে কোনো আধুনিক ব্যক্তি তাদের সাথে প্রজনন করতে সক্ষম হতেন না যদি তাদের কখনো দেখা হতো।

হোমো ইরেকটাসকে আমাদের একজন ব্যক্তি, একজন মানুষ হিসাবে ডাকবো কিনা সেটি ভিন্ন প্রশ্ন। কিভাবে আপনি আপনার শব্দ বাছাই করেছেন এটি সেই প্রশ্ন – যাকে বলা যেতে পারে সেমানটিক বা শব্দার্থগত প্রশ্ন। কিছু মানুষ হয়তো একটি জেব্রাকে ডাকতে পারে ডোরাকাটা ঘোড়া, অন্যরা হয়তো ঘোড়া শব্দটি সংরক্ষণ করবেন সেই প্রজাতির জন্য যাদের উপর আমরা সওয়ার হই চড়ার জন্য। এটি আরেকটি সেমানটিক প্রশ্ন। আপনি হয়তো ব্যক্তি, পুরুষ এবং নারী এই শব্দগুলো রাখতে চান হোমো সেপিয়েন্সদের জন্য। আপনার উপর সেটি নির্ভর করবে। তবে কেউ আপনার মাছের মত ১৮৫ মিলিয়ন তম প্র – পিতামহকে মানুষ বলে ডাকবে না। কারণ সেটি আসলেই বোকামী, যদিও আপনার সাথে তাকে একটি অবিচ্ছিন্ন প্রজন্মের শৃঙ্খল যুক্ত করে রেখেছে, যে শৃঙ্খলের প্রতিটি সংযোগই তার দুই প্রতিবেশী সংযোগের মত একই প্রজাতির।

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “রিচার্ড ডকিন্সের বাস্তবতার জাদু – দ্বিতীয় অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

  1. বিশ্বাস করুন বা না করুন,

    বিশ্বাস করুন বা না করুন, আপনার ১৮৫-মিলিয়ন তম-প্র- পিতামহ ছিলেন – একটি মাছ।

    সেই হিসেবে এখনকার মাছ ভক্ষণ করাটা কিন্তু বিরাট একটা অন্যায় হচ্ছে। আমাদের আদি পিতামহ বলে কথা। আমার মনে হয় সাদা চামড়ার লোকদের পিতামহ হচ্ছে ইলিশ মাছ। আর কাল চামড়ার লোকদের পিতামহ হচ্ছে মাগুর মাছ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 − = 69