আমাদের প্রতিটা পথশিশু যেন হয়ে উঠে নগরফুল

আমাদের প্রতিটা পথশিশু যেন হয়ে উঠে নগরফুল

মানবতার সেবাই মুক্তির লক্ষণ,আর সে সেবা যদি কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা কোন শিল্পপতির দ্বারা হয় তাহলে তা ভালই ,আর যদি সে মানবতার সবা কোন বেকার তরুন যৌবকের দ্বারা সংঘঠিত হয় তাহলো তো কথাই নেই, তেমনি আমাদের সমাজের কিছু তরুনের নিয়ে লিখা এ নিবন্ধন!!


মাঝে মাঝে দেখি অনেক শিল্পপতিরা রাস্তা দিয়ে যায় তখন ছিন্নমূল শিশুরা তাদের কাছে ২ টাকা চাইতে যায় টাকা দেওয়া তো দূরে কথা ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেয়, আর অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি কে দেখেছি যারা ভোটের সময় ও তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেনা ,কেননা তারা তো ভোটার ও না ! আর এমনি ভাবে আমাদের ছিন্নমূল শিশুরা মানুষের দ্বারে প্রান্তে ঘুরে ,না পায় শিক্ষা ,না পায় মানবিকতা । এসব ভেবে নিজের থেকে অনেক খারাপ লাগে ।কিন্তু নিজেরও কিছু করার নেই ।
কিন্তু কিছুদিন আগে এক বন্ধুর আগ্রহে চট্টগ্রাম সি.আর.বি তে গিয়ে হঠাৎ থমকে গেলাম ! আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমাদের সেই হিরার টুকরো ভাই ও বোনেরা এমন একটা কাজ করবে। সত্যি অসাধ্য কাজকে সম্ভপ্বর করেছে । যা আমাদের সমাজের শিল্পপতি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা পারে নাই । আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে এসেছে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিকামী বীর সৈনিকরা ,কিন্তু সে স্বাধীনতা রক্ষাকরার জন্য শুদু দেশের উন্নতি করলে হবে না ,আমাদের শহরে-গ্রামে অসংখ্য ছিন্নমূল শিশু/ নগরফুল ছড়িয়ে আছে তারা কি তাদের মৌলিক অধিকার পাচ্ছে? যা স্বাধীনতার ৪৫ বছরে ও তাদের অধিকার দেওয়ার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি!! কিন্তু বিগত কয়েক বছর আগ থেকে আমাদের তরুন সামাজে কিছু মেধাবী ছাত্র/ ছাত্রীরা, যারা নিজের টাকা দিয়ে ,নিজের শ্রম দিয়ে ,কোনরুপ লাভের আশা না করে আমাদের সেই ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে । মাঝে মাঝে ভাবি তারাই কি শিক্ষা কে ভালবাসেন ? নাকি এ ছিন্নমূল শিশুদের কে,,, কিন্তু উত্তর একটাই, দুটোই তাদের কাছে সমান ভালবাসার পাত্র । কেননা শিক্ষা প্রচারে জন্য তো যে কাউকে শিক্ষা দিলে পারত কিন্তু এ ছিন্নমুল শিশুদের কাছে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে তারা কি পাবে? দ্বিতীয়ত তারা এ ছিন্নমূল শিশুদের কে অনেক ভালবাসেন তাইতো কুড়িয়ে কুড়িয়ে ছিন্নমূল শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আমি আরো হতভাগ শিশুদের আর্ট শিল্পে, যারা কিছুদিন আগেও যে হাত বাড়িয়ে দিত অর্থের জন্য আজ সে হাতে কি সুন্দর করে বংলাদেশর পাতাকা আঁকছে। সাথে গ্রাম বাংলার প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য। যাদের মুখে শুনা যেত নানান গালি তারা আজ কি সুন্দর করে মিষ্টি ভাষায় কাজী নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি করছে। এ শিশুদের সার্বিক দিক দেখে মনে হলো মহান আল্লাহ তাদের জন্য কিছু সংখ্যক সক্রেটিস প্রেরন করেছেন। যারা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে পথশিশুদেরকে জ্ঞান বিলিয়ে যাচ্ছেন। আর আমাদের ধনী ভদ্র সমাজকে দেখিয়ে দিচ্ছেন যে, শুদু অর্থ থাকলে সমাজ সুন্দর করা যায়না । সমাজ সুন্দর করার জন্য প্রয়োজন মহত্ববড়া মন।
তাই আমি আজ তাহাদের দলে
যাহারা দিয়ে যাচ্ছে দলে দলে
শিক্ষার সম অধিকার ।।

থাকবে তোমরা হৃদয়ের তরে
অসভ্য সমাজের সভ্যতার দলে
জাতী তব দাবিদার ।।

আপনাদের মহৎ উদ্দেশ্য একদিন বিশ্বব্যপি ছড়িয়ে পরবে। আমি আরো বিশ্বাস করি আপনাদের এ নগর ফুল শিশুরা একদিন বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপি উন্নত আসনে অধিষ্ঠিত হবে। আহাব্বান্বিত আমি বাংলাদেশের প্রতিটা উপজেলার নব্য তরুন সম্প্রদায়ের প্রতি, নগর ফুলের মত তাদের প্রতিটা মহল্লায় মহল্লায় ছিন্নমূল শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিবে । ইনশাআল্লাহ আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় মানবতার মুক্তির ধারক ও বাহক হিসাবে উন্নত বিশ্বের অধিষ্ঠ আসনে প্রতিষ্ঠিত হবে সোনার বাংলাদেশ।।

যেখানে করিবে বিচেরণ
করিও সহনীয় আচরণ
হবে তবে দৃঢ় বন্ধন।।

মানবতা মোদের উঠেছে জেগে
আমার শিক্ষা আমি ছড়াব!
সকল শিশুর তরে।।

জাতিতে তুমি হবেনা নীচু,
নিন্মতরে যদি হও যীশু
শির হবে ঋজু।।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “আমাদের প্রতিটা পথশিশু যেন হয়ে উঠে নগরফুল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 4 =