মা

মানুষ জাতির মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীকুলের সহিষ্ণুতার পরিমাণ অনেক অনেক বেশি।

আর সে নারীকুলের কেউ যদি সন্তানের মা হয়,তবে সন্তানের ব্যাপারে তাঁর চেয়ে ধৈর্য্যশীল পৃথিবীতে দ্বিতীয় কেউ হতে পারে না।
একটা উদাহরণ দেয়া যাক,
কোন মা তার প্রথম সন্তান পৃথিবীতে আসার সময় যে দুঃসহ যন্ত্রণা উপলব্ধি করে,সে যদি এটা মনে ধরে রাখতো,তবে সে জীবন দিয়ে দিতো, তবুও দ্বিতীয় বার সে সন্তান জন্ম দেওয়ার চিন্তাও করতো না।
কিন্তু আমাদের দেশে এমন মা আছে যারা ১৮ থেকে ২০ বার সন্তান জন্মদানের যন্ত্রণার মুখোমুখি হয়েছেন।
আমাদের ড. মুহম্মদ ইউনুস ও খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই দুজন তার মায়ের ১৪ নম্বর সন্তান।
তাদের মায়েরা যদি চিন্তা করতো যে তারা গোটা এক দুই সন্তান জন্ম দিয়েই অবসরে যাবে তবে তারা জন্মও নিতো না,বিখ্যাতও হতে পারতো না।
একজন সন্ত্রাসী যে পৃথিবীর অন্যান্য মানুষগুলোকে যেভাবে আঘাত করে সেভাবে তার মাকে আঘাত করার পরও সে তার মায়ের কাছে শ্রেষ্ঠ ও প্রিয় সন্তান।
তবে মায়েদের এত ত্যাগ এত সহিষ্ণুতার আপনি শুধু অনলাইনে সার্চ দিলে হাজারো ভিডিও পাওয়া যায় যেখানে বৃদ্ধাশ্রমের পায়রার খোপে বসে মায়েরা চোখের জল ঝরায়,দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তবুও কখনো কোন মা তার সন্তানকে অভিসম্পাত করে না বরং সন্তানের মঙ্গল চেয়ে প্রার্থনা করে।
পত্রিকার পাতা খুললেই বা ইন্টারনেটের পাতায় চোখ রাখলেই দেখা যায় মায়ের প্রতি সন্তানের হাজারো নির্মমতার করুণ দৃশ্য।
নিজের পরিজনদের মাঝে,পাড়া প্রতিবেশীর মাঝে খোঁজ নিলে দেখা যায় প্রতিনিয়ত মানসিক থেকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার মা।
সন্তানরা সবই বুঝে,কিন্তু বুঝেও না বুঝার ভান করে,আর এটাই হচ্ছে পৃথিবীর নির্মম বাস্তবতা। আর সবচেয়ে নাটকীয়তা হচ্ছে এই যে সন্তানেরা জীবিত মায়ের জন্য নূন্যতম সহানুভূতি না দেখালেও, মৃত মায়ের জন্য সে কি কান্নাকাটি।
জীবিত মায়ের জন্য এক পিস প্যারাসিটামল ট্যাবলেট না কিনতে পারলেও, মৃত মায়ের জন্য লাখ টাকা ব্যয়ে কাঙালি ভোজের আয়োজন করতে পারে।
আমি আবেগের বশে কথাগুলো বলিনি, আজকের চারদিকের পরিণাম দেখে কথাগুলো বলছি।
আরেকটা ব্যাপার আমাদের সমাজের মানুষ নামের প্রাণীগুলো নিজেদের পারস্পরিক বিবাদের মাঝেও মাকে তুলে নিয়ে গালি দেয়।
এর চেয়ে খারাপ দৃশ্য পৃথিবীতে আর কি হতে পারে।
আর কারো অপকর্মের জন্য তার মাকে গালিগালাজ করা নিজের মাকে গালাগালি করার নামান্তর।
সন্তান হিসেবে কোন ভদ্র ও সভ্য শ্রেণীর মানুষ কি পারে মাকে গালি দিতে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

85 + = 89