ইসলামের সাথে কোরান- হাদিসের কোনই সম্পর্ক নাই

আমরা শান্তিপ্রিয় মুসলমান। আমরা জন্ম থেকে জানি ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম। শান্তির ধর্ম ইসলাম কাউকে হত্যা করতে বলে না , চুরি ডাকাতি , নারী ধর্ষন, দাসীর সাথে যৌনকাজ করতে বলে না, অমুসলিমদের সাথে শত্রুতা করতে বলে না। বরং বলে সবার সাথে শান্তিপূর্নভাবে বাস করতে। কিন্তু কোরান হাদিস পড়লে দেখা যায় – সেসব ভিন্ন কথা বলছে। তাই কোরান হাদিসের সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই।

কোরান ডাকাতিকে বৈধতা দিয়েছে যেমন –

সূরা বাকারা -২: ২১৭: সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।

উক্ত আয়াতে যে যুদ্ধের কথা বলেছে সেটা আসলে ছিল ডাকাতি। মুহাম্মদ তার আটজন সাগরেদকে মক্কার উপকন্ঠে নাখলা নামক স্থানে বানিজ্য কাফেলায় আক্রমন করে ডাকাতি করতে পাঠায়। ঘটনাচক্রে তারা নিষিদ্ধ বা পবিত্র মাসে বানিজ্য কাফেলা আক্রমন করে কিছু বনিক হত্যা করে তাদের মালামাল লুট করে নিয়ে যায় আর দুইজনকে পনবন্দি করে। অত:পর সেই ডাকাতিকে বৈধ করতেই মুহাম্মদ উক্ত আয়াত নাজিল করে। তার মানে ইসলামে অমুসলিমদের ওপর আক্রমন করে ডাকাতি করা বৈধ।

কোরান বন্দিনী নারীকে ধর্ষন করতে বলেছে , আর বলেছে সাময়িক বা মুতা বিয়ে করতে , যেমন –

সুরা নিসা -৪: ২৪: এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।

উক্ত আয়াতের যে ব্যখ্যা মুহাম্মদ দিয়ে গেছে সেটা হলো —

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪৩২
উবায়দুল্লাহ ইবন উমর ইবন মায়সারা কাওয়ারীরী (র)……।আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা) হুনায়নের যুদ্ধের সময় একটি দল আওতাসের দিকে পাঠান । তারা শক্রদলের মুখোমুখী হয়েও তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদী তাদের হস্তগত হয় । এদের মধ্য থেকে বন্দিনী নারীদের সাথে সহবাস করা রাসুলুল্লাহ (সা) -এর কয়েকজন সাহাবী যেন না জায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে । আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন “এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভূক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা নারী তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ-, অর্থাৎ তারা তোমাদের জন্য হালাল, যখন তারা তাদের ইদ্দত পূর্ন করে নিবে- নিসা-৪:২৪)”

যেসব নারীদেরকে তাদের স্বামী , পিতা ভাই ইত্যাদিকে হত্যা করে বন্দি করা হয়েছে , তারা নিশ্চয়ই বিজয়ী সৈন্যদের সাথে পরম উল্লাসে যৌনকাজ করতে যাবে না , তার মানে তাদেরকে ধর্ষনই করতে হবে। এছাড়া উক্ত ৪:২৪ আয়াতের শেষাংশ সাময়িক বিয়ে বা পতিতাবৃত্তিকে বৈধ করেছে , যার ব্যখ্যা মুহাম্মদ নিজেই দিয়ে গেছে যেমন –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩২৫২
কুতায়বা ইবন সাঈদ (র)……রাবী ইবন সাবরা আল-জুহানী (র) থেকে তাঁর পিতা সাবরা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদের মুত-আর অনুমতি দিলেন । তারপর আমিও অপর এক ব্যক্তি বনূ আমির গোত্রের একটি মহিলার নিকট গেলাম । সে ছিল দেখতে লম্বা ঘাড় বিশিষ্ট তরুণ উষ্ট্রীর ন্যায় । আমরা নিজেদেরকে তার নিকট (মুতআ বিবাহের জন্য) পেশ করলাম । সে বলল, আমাকে কি দেবে? আমি বললাম, আমার চাদর । আমার সাথীও বলল, আমার চাদর । আমার চাদরের তুলনায় আমার সংগীর চাদরটি ছিল উৎকৃষ্টতর; কিন্তু আমি ছিলাম তুলনায় কম বয়সের যূবক । সে যখন আমার সংগীর চাদরের প্রতি তাকায় তখন তা তার পসন্দ হয় এবং বলল, তুমি এবং তোমার চাদরই আমার জন্য যথেষ্ট । অতএব আমি তার সাথে তিন দিন অতিবাহিত করলাম । তারপর রাসুলুল্লাহ (সা) বললেনঃ কারো কাছে মুতআ বিবাহের সুত্রে কোন স্ত্রী লোক থাকলে সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয় (ত্যাগ করে) ।

কোরান অমুসিলমদের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষনা করে তাদেরকে জোর করে ইসলাম গ্রহনে বাধ্য করতে বলেছে , যদি অমুসিলমরা ইসলাম গ্রহন না করে তাহলে তাদেরকে হত্যা করতে বলেছে যেমন –

সুরা তাওবা -৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তাওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই এইসব আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে বলে গেছে –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চারের( সন্ত্রাস) মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে।

এই হত্যা লীলা ও সন্ত্রাসই যে বেহেস্তে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি সেটাও মুহাম্মদ খুব সুন্দরভাবে বলে গেছে যেমন –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩
আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (র)…………উমর ইব্ন উবায়দুল্লাহ (র)-এরাযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব আবূন নাযর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্ন আবূ আওফা (রা) তাঁকে লিখেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।

এরকম আরও বহু উদাহরন দেয়া যাবে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে , আমরা যে শান্তির ধর্ম ইসলামকে জানি , কোরান ও হাদিস তার সম্পূর্ন ভিন্ন ধরনের এক অমানবিক , অনৈতিক , বর্বর ও হিংসাত্মক বিধান ইসলামের নামে আমাদেরকে বলছে ও শিখাচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ন মুসলমানরা এই ধরনের অমানবিক , অনৈতিক , বর্বর বিধানকে ঘৃনা ভরে প্রত্যাখ্যান করি ও করে যাব। আমরা বর্তমানে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি , মুহাম্মদ মারা যাওয়ার পর কিছু কাফের মুর্তাদ মিলে কোরান ও হাদিস রচনা করে ইসলাম ধর্মকে কলুষিত করে গেছে। তারা ইসলামের সর্বনাশ করার দুরভিসন্ধি থেকেই এটা করেছে। আমরা তাদের সেই ষড়যন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করছি।

আর তাই আমাদের সিদ্ধান্ত, শান্তির ধর্ম ইসলামের সাথে কোরান ও হাদিসের কোনই সম্পর্ক নেই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ইসলামের সাথে কোরান- হাদিসের কোনই সম্পর্ক নাই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 66 = 70