জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঞ্চনাঃমুক্তি কবে??

১১ বছর অতিক্রম করতে যাওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয় পূর্বে জগন্নাথ কলেজ হিসাবে সমগ্র বাংলাজুড়ে খ্যাতনামা ছিলো । প্রাচীন টোল শিক্ষার আতুর ঘর থেকে এ পর্যন্ত সমগ্র বাংলাজুড়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসা এই বিদ্যামন্দির এখন বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে সগৌরবে আসীন হয়েছে ঐতিহাসিক বহু ঘটনার সাক্ষী হয়ে। যখন এই বঙ্গজুড়ে শিক্ষার আলো ছড়াতে কোন শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক তৎপরতা ছিলো না তখনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ত্রাতার মতো আলো ছড়িয়েছে সর্বত্র। ব্রিটিশ ভারতের বহু আন্দোলন সংগ্রাম, পাকিস্থানবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের বাকে বাকে জগন্নাথ কলেজ ছিলো সকল আন্দোলনের অগ্নিভূমি। এই সেই জগন্নাথ কলেজ যে জগন্নাথ কলেজ এর ছাত্ররা হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা প্রতিরোধে সমগ্র ঢাকাকে পাহারা দিয়েছে, আইয়ূব শাহীর দম্ভকে পায়ে মাড়িয়েছে, ২৫ মার্চের কালো রাতে ধ্বংসপ্রায় ঢাকা শহরের বুকে হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে সর্বপ্রথম রণপ্রস্তুতি নেয়, ৭৪ এর দুর্ভিক্ষে মানবতার পাশে দাঁড়ায়, ৮০ দশকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে গগনবিদারী স্লোগান ভেসে উঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের ভিত্তিমূল তবে একথাও নিশ্চিত মানতে হবে প্রাক্তন জগন্নাথ কলেজ সেই ভিত্তিমূল রচনার জ্বালানি। সেই ইতিহাসের তীর্থ জাতির বিভিন্ন সংকটে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু ইতিহাসের এক বলিরেখায় সেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ হাজার শিক্ষার্থী আজ উদ্বাস্তু। জগন্নাথ কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবার ১১ বছর পরও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর জন্যও আবাসন সুবিধা নেই। আজ ১১ বছরে এই অবস্থা উত্তরনে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তি শুধুমাত্র আশ্বাস, আশ্বাস আর আশ্বাস। অত্যন্ত পীড়াদায়ক হলেও সত্য যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসমস্ত হলগুলো ছিলো সেগুলো স্থানীয় প্রভাবশালী, রাজনীতিক, ব্যাবসায়ী মহল দখল করে আচ্ছে। বড়ই অবাক করা বিষয় হলো এই যে , রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনিও একটি হল দখলদারের বাইরে নয়। সর্বমোট ১১ টি হলের সবই দখলে রয়েছে। গত ২ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুনরায় নতুন হলের দাবিতে এবং পরিত্যাক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের জমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলনে নামে। এই আন্দোলন টানা ৩২ দিন কোনরূপ সহিংসতা ছাড়া অগ্রসর হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে যেটি কি না সমগ্র দেশব্যাপী এক অনন্য নজির তৈরি করেছে। এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেতৃত্বে হামলা, পুলিশ কর্তৃক গুলি- কাদানে গ্যাস নিক্ষেপ- লাঠিচার্জ , ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলা, শিক্ষার্থীদের পুলিশি হয়রানি, হুমকি ধামকি, হামলা মামলার ভয়, জঙ্গি শিবির বলে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার চক্রান্তসহ জঘন্য কার্যকলাপ ঘটেছে ক্যাম্পাসজুড়ে। গণমাধ্যমে এসব ঘটনার ৫০ ভাগও আসে নি কারন এসব ঘটনার ছবি, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাধারন ছাত্রসহ সাংবাদিক পর্যন্ত হেনস্থার শিকার হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ব্যাক্তিগত ক্যামেরা থেকে মেমরি কার্ড খুলে নেয়া, ভয় দেখানো সবই ঘটেছে এই আন্দোলনে। নিজেরা হলে থাকবে এমন নিশ্চয়তা ওদের কারোরই নেই তবুও এক ন্যায্য সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেছে ২০১৬ সালের এই ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনে। কি অভূতপূর্ব সামাজিক চেতনায় আগামী প্রজন্মের জন্য সকল হামলা মামলা নির্যাতন উপেক্ষা করে লড়াই করেছে ২২ হাজার শিক্ষার্থী। তারপরও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও উত্তেজিত হয় নি, নিজের মেজাজ কে সহংসতায় ঠেলে দেয় নি। অভূতপূর্ব ছাত্র আন্দোলনের এই মাসব্যাপী জাগরনে অত্যাচারের বিপরীতে স্লোগান ছিলো, নির্যাতনের প্রতিবাদে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে বক্তব্য ছিলো, স্লোগানরত নারীকে ব্রেস্টে লাথি দেয়ার পর পুনর্বার জেগে উঠে প্রীতিলতার রুদ্রমূর্তি হাজির হয়েছিলো, অস্ফুট কথার বালক স্লোগানে কাপিয়েছিলো রাজপথ, গায়িকার কণ্ঠে স্লোগান-গান একসাথে বেজেছিলো, নতুন সঙ্গীত –কবিতা-কার্টুন তৈরি হয়েছে ২২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে। কিন্তু ৩২ দিনের আন্দোলনে কোন শিক্ষক একবারো ফিরে তাকায় নি শিক্ষার্থীদের দিকে। হাসপাতালের বেডে গুলিবিদ্ধ মিঠুন কাতরাচ্ছে কিন্তু ঐ প্রশাসনের চোখে এক ফোটা জল নেই।

জেনে নেয়া উচিত ১১ বছরে কি পেয়েছে শিক্ষার্থীরা??
এই ১১ বছরে বেদখলকৃত ১১ টি হলের মাত্র একটি হল আয়ত্তে আনতে পেরেছে প্রশাসন । শহীদ নজরুল ইসলাম হলে কয়েকজন ছাত্র অবস্থান করলেও উক্ত হলের বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ব্যায়ভার বহন করতে প্রশাসন অস্বীকৃতি জানায়। মাঝে আরো একবার সেটিও হাতছাড়া হতে চলেছিলো কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে তা রক্ষা পায়। কিন্তু সেখানেও কোন স্থাপনা নির্মাণের তোরজোড় নেই। এছাড়া হাজী সেলিমের দখলে থাকা তিব্বত হল, পুলিশ প্রভাবশালীদের দখলে থাকা কোন হলই দখলে নেই। এসব নিয়ে যে কমিটি হয়েছিলো সেটিরও কোন তৎপরতা দেখা যায় না এখন। বিগত ২০১৪ সালে হল আন্দোলনের সময় যখন নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা গত ২ বছরে এক তলাও বাস্তবায়ন হয় নি। বরং এই এক নির্মাণকাজ ৩ বার উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে প্রতিশ্রুতি মেলে কিন্তু টাকা আর আসে না জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবারও ২৭৪ কোটি টাকার একনেক বরাদ্দের টাকা ঝুলে আছে। এদিকে বুড়িগঙ্গার ওপারে দেড় বছর আগে হল নির্মাণের সাইনবোর্ড লাগালেও সে জায়গায় এখনো জলাশয় দৃশ্যমান। এই সময়ে জমি ভরাট, নির্মাণের ব্যাপারের অনেক মিষ্টি কথা শুনলেও বাস্তবে সবই প্রতারণা। আবার ক্যাম্পাসের সামনেই আজ ৪ বছর ধরে হবে হবে করে চলছে ছাত্রীহলের নির্মাণকাজ। মাঝে মাঝে শুধু ছবি দেখা যায় নির্মাণকাজ নাকি চলছে। ক্যাম্পাসের ভেতরেই বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন। সেটি কবে সরবে তাও শিক্ষার্থীরা জানে না। প্রশাসনের এরূপ প্রতারণামূলক নীতিতে শিক্ষার্থীরা যারপরনাই বিক্ষুব্ধ। সাম্প্রতিককালে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা যখন নানাভাবে জঙ্গি ধরার নামে পুলিশের হয়রানির শিকার হচ্ছিলো তখন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিপর্যস্ত হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীর মানবেতর জীবনে যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা নেমে আসে। মেস জীবনের শেষ ঠাইটুকুও তাঁদের কাছে যন্ত্রনাময় হয়ে উঠে।

?oh=9c9744b5d32d97a95ef418b813178a9f&oe=5844DC5B” width=”400″ />
দেখে নেয়া যাক কি চেয়েছিলো শিক্ষার্থীরা??
২ আগস্ট যখন আন্দোলন শুরু হয় তখন শিক্ষার্থীরা দাবী করেছিলো প্রথমত, নতুন হল নির্মাণ করে আবাসন সঙ্কট নিরসন করতে হবে । দ্বিতীয়ত, পরিত্যাক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের জমিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নির্মাণ করতে হবে সেইসাথে সেখানে জাঁতীয় চার নেতার নামে হল,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাদুঘর, বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করে সেগুলো দেখভালের দায়িত্ব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া হোক।
দখলে থাকা হল উদ্ধারে প্রশাসনের নির্লিপ্ততা, আইনি জটিলতাসহ, বিভিন্ন মহলের বিভিন্ন লোকের আপোষকামিতার প্রেক্ষিতে এমন একটি জায়গায় আসতে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েছিলো।
শিক্ষার্থীদের এই দাবির মুখে সরকার- বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন শুরু হওয়ার আগে নিশ্চুপ ছিলো। যখনি আন্দোলন শুরু হলো তখনি হল উদ্ধার, একনেক বরাদ্দ, প্রস্তাবিত হল প্রভৃতি নিয়ে সত্য অসত্য মিলিয়ে এক নতুন পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে যার সারাংশ হলো বিভ্রান্তি আর বিভ্রান্তি।

কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় হল নির্মাণের পক্ষে শিক্ষার্থীদের যুক্তি
প্রথমত,উক্ত জায়গাটি একটি ঐতিহাসিক ও স্মৃতিবিজড়িত জায়গা বলে সবাই জানে। সেক্ষেত্রে বলা হয়েছে , সকল ঐতিহ্য ও স্মৃতি সংরক্ষন করে যা যা করা দরকার তা করে তা যেনো দেখভালের জন্য শিক্ষার্থীদের তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে ন্যাস্ত করা হয়। এতে সেসব পরিকল্পনার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হবে।

দ্বিতীয়ত,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পুরাণ ঢাকার আদিবাসী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কাজেই এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ঢাকা শহরে টিকিয়ে রাখতে হল নির্মাণ জরুরী। আর হল নির্মাণের জন্য , শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার জন্য যে খোলা জায়গা দরকার তা পুরাণ ঢাকায় কেন্দ্রীয় কারাগার ছাড়া অন্য কোথাও নেই । কাজেই এটি হতে পারে শতবর্ষী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উপযুক্ত বাসস্থান।

এসব যুক্তির বিপরীতে পুরাণ ঢকার কিছু ব্যাবসায়ী গোষ্ঠী উঠেপড়ে লেগেছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার পরিকল্পিত যা প্রস্তাব করা হয়েছে তা করতে হবে এবং সাথে নতুন করে করে শোনা যাচ্ছে শপিং মল ও কমিউনিটি সেন্টার করার নতুন প্রস্তাব। আদতে সরকার তার পরিকল্পনাতে রেখেছে সেখানে জাঁতীয় নেতাদের নামে জাদুঘর ,পার্ক নির্মাণের । এছাড়াও অন্যান্য অনেক স্মৃতি সংরক্ষনের পরিকল্পনা আছে বলে শোনা যায়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো সরকারের পরিকল্পনামতে যে কাজ হবে বলে আলোচিত হচ্ছে তার ভবিষ্যৎ কি??- এ সম্পর্কিত কিছু প্রাসঙ্গিক কথা-
### যদি পরিত্যাক্ত কারাগারে জাদুঘর ও অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা নির্মিত হয় তবে সেটি কারা সর্বোত্তম রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে?? এই প্রশ্নটির একমাত্র উত্তর হতে পারে শিক্ষার্থীরাই এর উত্তম ব্যাবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে। কারন ইতিহাস কিংবা ঐতিহ্যের মর্যাদা যতটা একটি ছাত্র বুঝবে তা অন্য কোন গোষ্ঠীর দ্বারা বুঝা সম্ভব নয় এবং তা যদি কোন ব্যাবসায়ীশ্রেণি হয়। কিন্তু যদি এটি না করা হয় তবে আগামী কয়েক দশক পর এই জাদুঘরের জমি দখল করে মার্কেট গড়ে তোলা হবে, পুরাণ ঢাকার লুটেরা ব্যাবসায়ীরাই একে ঘিরে নতুন বাণিজ্য মেতে উঠবে। নতুন নতুন কর্পোরেট চক্র জাদুঘর, পার্কের চারপাশে ঘুরবে। জাদুঘর -পার্কে তখন শোভা পাবে মোজো, ট্যাঙ্গোর নতুন বিজ্ঞাপন । এই ইতিহাস , ঐতিহ্য তখন বিক্রি হবে টাকার দরে। মুনাফার পেট থেকে আরেক মুনাফার নতুন বাচ্চা জন্মাবে প্রতিনিয়ত। এরই কিছুদিন পর হয়তো পার্কটাও কোন এক হাজি সেলিমের পেটে চলে যাবে।

### শপিং মল আর পার্ক কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উদ্বাস্তু – এই কি নিয়তি? যে পার্ক নির্মাণ করা হবে বলে শোনা যাচ্ছে সেই পার্ক আদৌ ভবিষ্যৎ এ থাকবে সেখানে? উত্তর খুবই পরিষ্কার। থাকবে না। যে ঢাকা শহরে এক খণ্ড জমি পেলে ব্যাবসায়ীরা মুনাফার অঙ্ক কষতে এক মিনিট দেরী করে না সেই ঢাকায় হাজী সেলিমরা পার্কের অস্তিত্ব রাখবে? আগামী কয়েক দশক পর হয়তো সে পার্ক হবে জিন্দাবাজারের ঘুপচির মতো বেঁচে থাকা ২য় বাহাদুর শাহ্‌ পার্ক যেটি । কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেই মহতী দায়িত্ব নিলে এ কথা নিশ্চিত যে ঐ জায়গাতে স্থাপিত পার্ক- জাদুঘর স্বমহিমায়, সবুজের আবরনে ঢাকা থাকবে। পুরাণ ঢাকার মানুষদের জন্য অন্যতম এক বিনোদনকেন্দ্র হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন স্থাপনাগুলো। কিন্তু এর বাইরে যারা আগবাড়িয়ে শপিং মল করার প্রস্তাব দিচ্ছেন তাঁদের উদ্দেশ্য সেই একই – দখল করো, মার্কেট গড়ো।
###বিশ্ববিদ্যালয় সবুজ রাখতে পারে , অন্যরা সবুজকে কালো করে। সরকার বলেছে সেখানে গ্রীন স্পেস হবে পুরাণ ঢাকাবাসীর জন্য। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেই কথার বাইরে একবারও যায় নি। বরং তারা বারবার বলেছে সরকারের সকল পরিকল্পনা অক্ষুণ্ণ রেখে সেখানে উদ্বাস্তু ছাত্রদের ঠাই দেয়া হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ে চিমনির ধোয়া উড়ে না, ঘিঞ্জিময়তা থাকে না, সংকীর্ণতা থাকে না যেটুকু থাকে তা হলো প্রাণোচ্ছলতা । কাজেই নাগরিক ভোগান্তির স্বস্তি আর প্রাণোচ্ছলতার গ্রীন স্পেস যদি গড়ে তুলতেই হয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ই পারে তার সবুজতাকে ধারণ করতে। যেখানে সর্বজনের বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বজনকে সদাস্বাগতম।
### জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এদেশের অন্যতম শিক্ষা ঐতিহ্য। পুরাণ ঢাকার মাটিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই গড়ে উঠেছে। ইদানিং হরহামেশাই শোনা যায় কেরানীগঞ্জে হল নির্মাণ হবে, ক্যাম্পাস সম্প্রসারিত হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এসব মানবে না। কারন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে পুরাণ ঢাকায় আদিবাসী। কাজেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে এপার থেকে অপারে স্থানান্তর সেই শতবর্ষী ঐতিহ্যে ছুড়ি চালানোর শামিল এবং পুরাণ ঢাকার কিছু ব্যাবসায়ী-রাজনীতিক দখলদারদের কাছ থেকে হল উদ্ধার করতে না পেরে স্থানান্তর দখলদারদের কাছে আত্ন সমর্পণ এর মতো শোনায়। যেটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মানবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তিব্বত হলের দাবী ছেড়ে দিবে যারা এটি ভাবছেন তাঁদের চিন্তা অবান্তর। স্পষ্টত, ব্যাবসা করার জায়গার অভাব হয় না, হল আর ক্যাম্পাস নির্মাণে জায়গার অভাব হয় এই রাষ্ট্রের!! কি আজব ব্যাবস্থা। যদি ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হয় অথবা হল সংকটের অর্থবহ সমাধান করতে হয় তবে কেনো জেলা পরিষদ ভবন, কোর্ট কাচারি এই রাজধানী থেকে সরানো হচ্ছে না এবং সেখানে জবির স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে না। সরে যেতে যদি হয়ই তবে জেলা পরিষদ ভবন ও জেলা দায়রা জজ আদালত সবার আগে সরে যাওয়া উচিত এই ব্যাস্ততম জায়গা থেকে অন্য কিছু নয় কারণ এসব দাপ্তরিক ও রাষ্ট্রীয় কার্যাবলী রাজধানীর বাইরে করার উদাহরন অনেক দেশেই আছে। সুতরাং, আদিবাসী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরের যেকোন পদক্ষেপও তাই অযৌক্তিক,ব্যাবসায়ীতোষণমূলক যা কেউই মানবে না।

কিন্তু এসকল যুক্তিকে পাশ কাটিয়ে সরকার পরিকল্পিত কাঠামোগুলোর মর্যাদা রক্ষা আর দেখভাল করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাতীত অন্য কেউ যেমন তা ভালোভাবে করতে পারে না তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়কে নদীর ওপার সরিয়ে নেয়াও নিশ্চয়ই যুক্তিযুক্ত হবে না। কারণ এতে উদ্ভূত সঙ্কট আরও ঘনীভূত হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাস্তবতায় পার্ক- জাদুঘর- স্মৃতি সংরক্ষনের তদারকি যদি সুষ্ঠু না হয় তবে তা আর তার স্বকীয়তায় থাকে না। ঢাকা শহরে এসবের উদাহরন ভুরিভুরি। হাতিরঝিল, ধানমন্ডি লেক,ফার্মগেট পার্ক,গুলশান লেক আমাদের চোখের সামনে তারপরও আশা করা যা যে ঐ পুরাণ ঢাকায় পার্ক ,জাদুঘর, গ্রীন স্পেস অক্ষুণ্ণ থাকবে??

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 3