সুন্দরবন আমার মা,ধ্বংস হতে দেবো না-১

ম্যানগ্রোভ শব্দটি তৈরী হয়েছে পর্তুগীজ ‘ম্যানগু’ এবং ইংরেজী ‘গ্রোভ’ শব্দের সমন্বয়ে। সমুদ্র তীরবর্তী জোয়ার-ভাটা অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট বনকে পর্তুগীজ ভাষায় ম্যানগু বলে। অপরদিকে গ্রোভ শব্দের বাংলা অর্থ তরুবিথীকা অথবা সারিবদ্ধ ভাবে থাকা অরণ্যকে বোঝায়। সে কারণে ম্যানগ্রোভ ও বাদাবন শব্দ দু’টির মধ্যে ব্যাপক মিল রয়েছে।আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট আমাদের “সুন্দরবন”।

আয়তনে সংকুচিত হয়ে পড়া সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ২০০ বছর আগে ছিলো ১৬ হাজার ৯০২ বর্গ কিলোমিটার।দেশভাগের পর বাংলাদেশ অংশে পড়েছে সুন্দরবনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যার বিস্তৃতি প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার।অর্থাৎ প্রায় ৬০ ভাগ।

৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ,৫০ প্রজাতির স্তনয়পায়ী,৩২০ প্রজাতির পাখি,৫০ প্রজাতির সরীসৃপ ,৮ প্রজাতির উভচর আর ৪০০ প্রজাতির মাছের বন এটি। এ বনে পাওয়া যায় পৃথিবী খ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার।লোনা পানির কুমির আর ২ প্রজাতির ডলফিন। সমগ্র বনের ইকোসিস্টেম এর সাথে যুক্ত আছে প্রায় ৫ লক্ষ্য মানুষ। ১৯৯২ সালে রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পায়।১৯৯৭ সালে অন্তর্ভুক্ত হয় UNESCO World Heritage Site হিসেবে।

কিন্তু পরিবেশবিদ দের যুক্তি,জনমানুষের আন্দোলন আর সুন্দরবন তথা বাংলাদেশ ধ্বংসের আশঙ্কা উপেক্ষা করেই নির্মিত হচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।যা সুন্দরবন থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে।তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশ ভারত যৌথ উদ্যোগ এ এবং NTPC এর পরিবেশনায়, ঠিক যেনো বানলাদেশ ভারত যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ছবি গুলোর মত।ব্যাবসা তাদের আর কপাল পোড়ে যেনো আমাদের।এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬০০০ কোটি টাকা যার ৭০% আসবে ঋণ থেকে যা দেবে ভারতের এক্সিম ব্যাংক।NTPC দেবে ১৫% আর PDB দেবে ১৫%।কথা আরোও আছে।যেহেতু, বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশে তাই ৭০% ঋণ সুদ সহ পরিশোধ এর দায় বাংলাদেশের।কয়লার খরচ ও বহন করবে বাংলাদেশ।তাছাড়া কোন কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হলেও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বাংলাদেশকেই।তাছাড়া জমি তো বাংলাদেশেরই।এমনকি অধিগ্রহন করা হয়েছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমিও।কিন্তু উৎপাদিত বিদ্যুৎ এর ভাগ হবে সমানে সমান।এমন কি মুনাফা ভারত নিয়ে যেতে পারবে বিনা টেক্স এই।অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থ বিরোধী অসম চুক্তির প্রকল্প রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র।দেশ তো যাবে জাহান্নামে কিন্তু প্রকল্পের পেছনের মানুষ গুলো যাবে জান্নাতে।তাদের আবার অনেক গুলা সেকেন্ড হোম ও আছে মালয়েশিয়া সুইজারল্যান্ড এ।ফারাক্কায় যারা ছিলো তাদের জবাব জানা যায় নাই কিন্তু সময় থাকতে রামপালের হর্তাকর্তা দের জবাব নেন।

বলা হয়েছে নির্মাণকালে কর্মসংস্থান হবে ৪০০০ মানুষের।আর নির্মাণ সম্পন্ন হলে ৬০০ মানুষ কাজ করতে পারে।কিন্তু সুন্দরবনের পাশে থাকা ৫ লক্ষ্য মানুষের কি হবে।কেরানীগঙ্গে কিন্তু নতুন একখান কারাগার বানানো হইছে।
প্রথম কথা হলো, বনভূমি,বন্যপ্রানী অভয়ারন্য,জনপদের ২৫ কিলোমিটার এর মধ্যে কোন তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা যাবে না।কিন্তু সুন্দরবনের মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে নির্মিত হচ্ছে এই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র।যেখানে সমগ্র বিশ্বেই এই ধরনের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ধীরে ধীরে কমে আসছে এবং অনেক কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।স্বয়ং ভারতেও বাতিল করে হয়েছে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ।মধ্যপ্রদেশে NTPC এর ই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ বন্ধ করা হয়েছে পরিবেশ দূষণ হবে বলে।যে বিবেচনায় খোদ ভারতে ভারতীয় কোম্পানি বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারলো না,বাংলাদেশে বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনের বেলায় কেনো সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হবে না?

আপনার বিবেক কি বলে???আপনার বিবেক কি বলে???
সুন্দরবনের এত কাছে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সুন্দরবনের বা পরিবেশের কি পরিমান ক্ষতি হবে তা যদি বড়পুকুরিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশে ঘুরে আসেন খুব ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।দূষন নিয়ে পরের লেখায় বিস্তারিত আলোচনা করবো।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের আরোও বিকল্প আছে।কিন্তু সুন্দরবনের বিকল্প নেই।দেশটা যেমন মা, সুন্দরবন ও তেমনি আমাদের মা।
পুজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী লুন্ঠন প্রতিহত করুন।দেশের সম্পদ রক্ষায় এগিয়ে আসুন।আপনি আসুন,অপরজন ও আসবে।মনে রাখবেন দায় আমার আপ্নার।অন্য কেউ যাক বলে বসে থাকলে সবাই অন্যের যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে থাকবে।কেউ এগিয়ে যাবে না।তাই চলুন সবাই রামপাল এর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কে না বলি।এ লড়াই আমাদের সকলের।
সুন্দরবন আমার মা,ধ্বংস হতে দেবো না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 65 = 68