বিজ্ঞান ও নাস্তিকতা- আইয়ুব আনসারি (অচিনপুরের আইয়ুব)

আজ আমরা বিজ্ঞানের আলোকে দেখব, কোন কিছুর পেছনে সৃস্টিকর্তার প্রয়োজন আছে কি-না??
এবং নাস্তিকেরা যে যুক্তি প্রদান করে তা সঠিক কি না???
.
আমরা জানি, নাস্তিকেরা বিজ্ঞান মনষ্ক।
তাই আসুন তাদের দেওয়া যুক্তি বিজ্ঞানের আলোকে তুলনা করি।
এ ব্যাপারে আমরা rational method অনুসরন করব।
.
র‍্যাশনাল পদ্ধতি হলোঃ-
যা দ্বারা মানুষ তার চারপাশের বস্তুসমুহকে তার ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করে।
সেই বস্তু সম্পর্কে তার কাছে কিছু
Previous information থাকে। সেই previous information কে ব্যাবহার করে সে কোন বিষয়ে
সিদ্ধান্ত নেয়। সব মানুষই এই পদ্ধতিতে চিন্তা করে থাকে।
Scientific method আর logical method
কে rational method এর শাখা বলা যেতে পারে।
.
মানুষ কিভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে, তার একটা উদাহরণ দেই,
যখন আপনার দরজায় কেউ knock করে, তখন আপনি কিন্তু মাপতে বসেন না যে, কত frequency তে
Sound wave টা আসলো, তারপর হিসাব করেন না যে একজন মানুষ কত জোরে বা কত
Frequency তে আঘাত করতে পারে….
তারপর দরজা খোলেন???
নাহ্‌,
আমরা কেউই এইভাবে সিদ্ধান্ত নিইনা। বরং দরজায় knock করলে তা আমরা ইন্দ্রিয় (শ্রবণ) দ্বারা
উপলব্ধি করি।
আমাদের মস্তিষ্কে এর ব্যপারে previous information আছে যে, knock করা মানে কেউ এসেছে,
এবং তখন আমরা দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নিই।
তার মানে দাঁড়ায় যে, rational method এ সিদ্ধান্ত
গ্রহণ করতে নিম্নোক্ত জিনিষ সমূহ লাগে।
আর তা হল ঃ-
১. বাস্তবতা
২.ইন্দ্রিয় দ্বারা বাস্তবতাকে উপলব্ধি করা
৩.বাস্তবতা সম্পর্কে previous information
4. Previous information এর সাথে link করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অর্থাৎ sound mind…
.
প্রশ্ন আসতে পারে স্রষ্টার কোনো বাস্তবতা আমাদের সামনে নেই যে আমরা তাকে ইন্দ্রিয় দ্বারা
উপলব্ধি করবো, তাহলে স্রষ্টার অস্তিত্ব এই পদ্ধতিতে বুঝবো কিভাবে?
জ্বি, আমিও এই ব্যাপারে দেখাব স্রস্টার কোন অস্ত্বিত্ব আমরা দেখতে পাই কি-না???
.
আপনার দরজায় নক করলে আপনি দরজার বাইরে কারো অস্তিত্ব বুঝতে পারেন, কিন্তু যিনি নক করছে
, তিনি কি পুরুষ না মহিলা, ফর্সা নাকি কালো তা কিন্তু বুঝতে পারেন না।
তবে তার অস্তিত্ব বোঝা যায়।
আমাদের সামনে স্রষ্টার বাস্তবতা না থাকলেও সমস্যা নেই।
আমাদের চারপাশে যে বস্তুসমুহ আছে,
যাদেরকে আমরা ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করতে পারি, চলুন সেগুলোকে rational study করে দেখি।
আমরা আমাদের আশপাশের প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করবো, এবং দেখব আদৌ কোন স্রষ্টার প্রয়োজন
আছে কিনা?
এখানে মনে রাখতে হবে এই পদ্ধতিতে আমরা দেখব মহাবিশ্বের স্রষ্টা আছে কিনা?
কিন্তু তিনি দেখতে কেমন, কিভাবে কাজ করেন তা rationally জানা সম্ভব নয়।
কারণ উনি
আমাদের ইন্দ্রিয়ের বাইরে, তাঁকে জানার উপায় একটাই, আর তা হল উনি যদি নিজে থেকে
আমাদেরকে জানান।(আগের পোস্টে আমরা তাঁর আকার আকৃতি তাঁর নিজ কথা অর্থাৎ কোরআন
থেকে প্রমান করেছি।
কারোও দেখার ইচ্ছা থাকলে তা দেখে নিতে পারেন।)
.
আমাদের চারপাশের প্রত্যেকটি বস্তুর মধ্যেই ২ টি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
এরা প্রত্যেকেই সীমাবদ্ধ এবং
নির্ভরশীল।
যেমনঃ- গাছ আকার আকৃতি দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য সূর্য,
পানি এগুলোর উপর নির্ভরশীল।
মানুষ নানা দিক দিয়ে সীমাবদ্ধ এবং নির্ভরশীল।
আলো তরঙ্গদৈর্ঘ্য
গতি দ্বারা সীমাবদ্ধ, নির্ভরশীল উৎস কিংবা রুপান্তর প্রক্রিয়ার উপর।
প্রত্যেকটি বস্তু নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য অন্য কিছুর উপর নির্ভরশীল এবং এরা কেউই
নিজেরা নিজেদের অস্তিত্তের জন্য দায়ী নয়।
যদি নিজেরা নিজেদেরকে অস্তিত্তে আনত
তাহলে সীমাবদ্ধতা আর দুর্বলতার উর্ধ্বে থাকতো।
যদি ধরে নিই যে, নির্ভরশীলতার দিক থেকে একে অপরের উপর নির্ভরশীল এবং কোনো
স্রষ্টার দরকার নেই, তাহলে আদিকাল থেকে চলে আসা ঘটনা বা বস্তুসমুহের স্বরূপ দাঁড়ায়,
(Y<--X<--X <--X) অর্থাৎ কোন শুরু ছাড়াই অনন্তকাল থেকে এক বস্তু অন্য বস্তুর উপর নির্ভর করে বেঁচে আসছে। একটার পর অন্য আরেকটায় রুপান্তরিত হচ্ছে, এবং অনন্তকাল পর্যন্ত তা হতে থাকবে। আমরা ঘটনাক্রমে Y তে আছি। এটা অসম্ভব। কারণ কোন শুরু না থাকলে, v, w, x, y এদের কারো অস্তিত্তে আসা সম্ভব নয়। . একটা উদাহরণ দেই, আপনি একটা ক্রিকেট দলের ১০ নাম্বার ব্যাটসম্যান। আপনি নামবেন ৯ জনের পর। আপনি কোনো দলের ১০০ তম ব্যাটসম্যান হলে নামবেন ৯৯ জনের পর। আপনার দলে যদি অসীম সংখ্যক ব্যাটসম্যান থাকে, তাহলে আপনি কবে নামবেন??? . কখনই নামবেন না, কারন আপনার পূর্বে অসীম সংখ্যক ব্যাটসম্যান আছে। আপনার পরেও অসীম সংখ্যক ব্যাটসম্যান আছে। (অর্থাৎ আপনার জন্য শুরুও নেই, শেষ ও নেই)... আপনার আগেরজনের পূর্বেও অসীম সংখ্যক, তার আগের জনের পূর্বেও অসীম সংখ্যক............ সুতরাং কোন ব্যাটসম্যানই নামতে পারবেনা, কারণ প্রত্যেকের পূর্বেই আছে অসীম সংখ্যক...... অর্থাৎ কোনো শুরু যদি না থাকে তাহলে কেউই exist করতে পারবে না। অসীম এই শব্দটা শুধু mathematical ব্যপারে ব্যাবহার করা হয়। বাস্তবতায় কোন কিছুই অসীম নয় (আমাদের চেনা বাস্তবতায়)। সুতরাং একটা শুরু আছে। আরেকটা সহজ উদাহরণ দেই, আপনাকে যদি বলি ১০ থেকে শুরু করে ৯৯ পর্যন্ত য় আসেন, আপনি গনণা করতে পারবেন। কিন্তু যদি বলা হয়, অসীম থেকে শুরু করে ৯৯ পর্যন্ত গনণা করেন। it’s impossible ….. আপনি শুরুই করতে পারবেন না এবং ৯৯ তেও আসতে পারবে্ন না। ৯৯ তে আসতে হলে শুরু আপনাকে করতেই হবে। সুতরাং মহাবিশ্বের শুরু আছে, এবং সে নিজে নিজে তা শুরু করেনি। . নাস্তিকদের যুক্তিঃ- তারা বলছে z<--y<--x<--w<--v<--z অর্থাৎ এটা একটা বৃত্তাকার চক্র। অর্থাৎ Z থেকে শুরু হয়ে আবার Z এ এসে মিশেছে এবং Z হল INITIATOR. অর্থাৎ চক্রটাকে ছোট করলে হয় যে Z<--> Y….(প্রথম আর শেষ বস্তু)…
সুতরাং
Z, Y এর উপর নির্ভরশীল, আর y, z এর উপর নির্ভরশীল।
কিন্তু Z না থাকলে তো
Y existence এ আসতে পারেনা।
আবার Y না থাকলে Z আসতে পারেনা।
তাহলে হয় দুইজন একইসাথে exist করে অথবা দুইজনই তাদের অস্তিত্বে আসার
জন্য এই বৃত্তের বাইরে তাদের কোনো স্রষ্টার উপর নির্ভরশীল।
দুইজন একসাথে exist করলে সমস্যা আছে।
তাহলে পৃথিবীর তথা মহাবিশ্বের সব
ঘটনাকে একসাথে exist করতে হবে…
অর্থাৎ আমি , আমার দাদা, আমার দাদার দাদার দাদার দাদা,
আমার নাতি, আমার নাতির নাতির নাতি সবাইকে একসাথে exist করতে হবে। কিন্তু আমরা
বাস্তবতায় এটা দেখিনা।
উপরন্তু Z যেহেতু Y এর উপর নির্ভরশীল, সেহেতু Y এর এমন কিছু
বৈশিষ্ট্য আছে যা INITIATOR Z এর নেই। তার মানে Y তার অস্তিত্বের জন্য Z এর উপর নির্ভরশীল নয়।
#বিবর্তনবাদ এই পয়েন্টে যুক্তিহীন প্রমানিত হয়।
একইভাবে Z এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যার কারণ Y নয়। তাই Z ও Y এর উপর নির্ভরশীল নয়।
এরা প্রত্যেকেই এদের অস্তিত্তের জন্য এদের চক্রের বাইরের কারো উপর নির্ভরশীল।
.
সুতরাং মহাবিশ্ব নিজেকে নিজে অস্তিত্তে আনেনি, এবং এর পুরো অস্তিত্ব অন্য কারো উপর নির্ভরশীল।
অর্থাৎ মহাবিশ্বের অবশ্যই একজন স্রষ্টা আছে এবং সেই স্রষ্টা মহাবিশ্বের উপর dependent নন,
কারণ তাহলে তিনিও চক্রের মধ্যে ঢুকে পড়েন এবং তিনিও অস্তিত্তের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল
হয়ে পড়েন। সুতরাং মহাবিশ্বের অস্তিত্তের জন্য একজন স্রষ্টা থাকা অপরিহার্য।
স্রষ্টা ছাড়া মহাবিশ্বের সৃষ্টি অসম্ভব.
.
বিজ্ঞানের এই বর্ণনা হতে আমরা আজ স্রস্টার প্রমান পেলাম।
সুতরাং একজন স্রস্টা অবশ্যই আছে।
এর দ্বারা আমরা আবারোও প্রমানিত করলাম যে , নাস্তিকেরা যেই যুক্তি
দিয়ে সৃস্টিকর্তা নেই বলে প্রমাণ করে তা বিজ্ঞান অনুযায়িও ভুল…
সুতরাং নাস্তিকতা করার কোন অপশন অন্তত বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষের নাই, থাকতেও পারে না।
সত্য উন্মুচিত হবার পোরেও যারা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে, তাদেরকে মানষিক রোগি ছাড়া অন্য কিছু বলে বিবেচনা করার
সুযোগ নাই।
.
পরিশেষে সকল কে উদার্ত আহ্বান জানাব , সেই সৃস্টিকর্তার পথে ফিরে আসতে।
তাঁর নাযিল কৃত বিধানের প্রতি ফিরে আসতে।
যার মধ্যেই রয়েছে আমাদের জন্য উত্তম সফলতা।

Facebook:- Ayub Ansary

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বিজ্ঞান ও নাস্তিকতা- আইয়ুব আনসারি (অচিনপুরের আইয়ুব)

  1. সেই বাজে কথাবার্তা। এ ধরণের
    সেই বাজে কথাবার্তা। এ ধরণের যুক্তি অনেক আগেই খণ্ডিত হয়েছে। দরজায় কেউ নক করলে সে একজন মানুষ হয় সেটা আমাদের আগের বাস্তব অভিজ্ঞতায় থাকে। কিন্তু তারপরও অনেক সময় বাতাসের ধাক্কা নক করার শব্দের মত শোনায়।

    আমাদের অভিজ্ঞতায় পরম কোন সত্বার অবস্থান নেই যে এর উপর ভিত্তি করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এছাড়া ঈশ্বর বলে কেউ থাকলে সে আমাদের ইবাদত দিয়ে করবেটা কি? এছাড়া সে যে কোন ধর্মের ঈশ্বর বা আদৌ কোনো ধর্ম দিয়েছে কিনা সেটাই বা জানব কিভাবে। এই ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্ট মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখে উনাকে পবিত্র মনে না করে বিশাল মাপের অশুভ আত্মা মনে করতেও পারি।

    তারপর চলে গেলেন ডাইরেক্ট কোরানে। কোরানের কিছু ফানি আয়াত নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার ব্লগগুলো দেখেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 − 5 =