ফারাক্কা কে না বলুন- আইয়ুব আনসারি (অচিনপুরের আইয়ুব)

ছেড়েছে ফারাক্কা, ফুলছে নদীর বুক।
তলিয়ে যাচ্ছে নগরী।
বঙ্গজলের প্রভাবে তলিয়ে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গ।
পানির স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ।
.
টি-বাঁধের ভাঙ্গন ঠেকানো যাচ্ছে না কিছুতেই ।
কিন্তু এটা ভেঙ্গে গেলে মাত্র ১০ মিনিটে তলিয়ে
যাবে স্বপ্নের নগরী রাজশাহী।
.
জানা গেছে ,
ভারতের ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে এখনো প্রবল বেগে
পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
এর ফলে লক্ষাধিক জমির ফসল এবং মাছের ঘেড় তলিয়ে গেছে ।
.
পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক পরিবার।
স্রোতের তীব্রতা বাড়ায় পদ্মা ও তিস্তায় ব্যাপক
ভাঙন দেখা দিয়েছে।
তিস্তায় বিলীন হয়ে গেছে চার শতাধিক বাড়িঘর ।
অপরদিকে,

হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
ঘর-বাড়ি হারিয়ে উঁচু সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বন্যা দূর্গত ব্যাক্তিরা।
তাদের পাশেও কাউকে দাঁড়াতে দেখা যায় নাই।
একই সাথে তারা বিশুদ্ধ পানি এবং খাবারের অভাবে ভুগছেন।
এককথায় তারা সর্বস্ব হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
একই সাথে দেশের বেশ কিছু এলাকায় এই দূর্যোগ দেখা যাচ্ছে।
.
প্রথমেই রাজশাহীর দিকে তাকানো যাকঃ-
.
অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পদ্মার বুক ফুলে উঠেছে মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে ।
গ্রাম ছেড়ে শহরে আঘাত হানতে যাছে মারাত্মকভাবে।
যা আঘাত হানছে শহরটির বাঁধের টি-গ্রোয়েনে।
গত রবিবার সকালে শহরের শ্রীরামপুর এলাকার ঐ টি-গ্রোয়েনে ভাঙন পরিলক্ষিত হয়।
তখন থেকেই বাঁধ রক্ষায় জিওব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
তবে এখনো ঝুঁকিতে
রয়েছে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের পুলিশ লাইন পয়েন্ট।
সেখানে বালির বস্তা ফেলে বাঁধ
আটকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
যা রাজশাহী বাসীর জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ।
.
একইসাথে,
পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকার ইছামতি-দামোদর নদীর পানিতে প্লাবিত হয়েছে বেনাপোল ও
শার্শা সীমান্তের ৫টি ইউনিয়নের ২৬+ গ্রাম ।
যার দরুণ সহস্রাধিক পরিবার আবাসহীনতায় ভুগছে ।
দিনের পর দিন পানি বেড়েই চলেছে।
হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
.
অপরদিকে,
পদ্মা ও গড়াই নদীতেও প্রচুর পানির স্রোত পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এর ফলে দৌলতপুর ও
ভেড়ামারা উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
.
গত দু’দিনে দৌলতপুরের মরিচা ও ভেড়ামারা’র চরঢাকা ও সোলেমান-নগর এলাকায়
স্কুলসহ দুই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হাজারোও পরিবার।
.
এইতো সেদিনের কথা।
দাদাদের দেশ হতে বানের জলে ভেঁসে আসলো এক মৃতপ্রায় হাতি।
যাকে অবশেষে বঙ্গবাহাদুর বলে অভিহিত করলো সর্বস্তরের মানুষ।
জাতির কর্ণধার বীর সাংবাদিকরা এটাকে নিয়ে উঠে-পড়ে লেগেছিল।
আজ বঙ্গজলের প্রভাবে দেশবাসী ফতুর হয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিক মহাশয় আজ পত্রিকার শিরোনামে বঙ্গজলের কুপ্রভাব টা তুলে ধরবেন কি?
.
গ্রীষ্মের রৌদ্রপ্রখরে যখন উত্তরবঙ্গ ফেটে চৌচির হয়ে যায়, মানুষ পানি শূন্যতায় ছটফট করে।
৫ কি.মি দূর থেকে পানি এনে পিপাসা মিটায়। (বাস্তব দেখেছি)
যখন উপায় না পেয়ে পুকুরের কাদা মিশ্রিত নোংরা পানি খেতে বাধ্য হয়, তখন কেন দাদারা
ফারাক্কার গেট আটকে রাখে?
এ বিষয়ে দুচরণ লিখবেন কি??????
.
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
কেন প্রতিবছর এদেশের মানুষের উপর এই অত্যাচার নেমে আসে তা নিয়ে একটা বক্তৃতা দিবেন কি?
দাদাদের সাথে এর প্রতিকার নিয়ে কিছু বলবেন কি???
নাকি জনতা এই অনলে যুগ যুগ ধরে ভষ্মিভূত হতে থাকবে?
.
এ নির্যাতনের শেষ হবে কি?
নাকি অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে নিস্তেজ হয়ে যাবে বাঙালি জাতি? ??

facebook:- Ayub Ansary

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 14 = 20