সাভারের মত আরো মৃত্যু উপত্যকা সৃষ্টি

সাভার ধ্বসের পরপরই আমরা লক্ষ্য করি দেশের বিভিন্ন ভবনে ফাটলের বিষয়টি নজরে আসে। জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ফাটল, জরাজীর্ণ ভবনগুলো ব্যাবহার বন্ধ করে দেয়। এসব ভবন গুলোর মধ্যে রয়েছে বাসাবাড়ি, মার্কেট, গার্মেন্টস ইত্যাদি। একটি মজার বিষয়, সাভার ধ্বসের পরপরই একসাথে অনেক (সব নয়) নিয়মবহির্ভূত, জরাজীর্ণ ভবন সিলগালা করে বা ব্যাবহার স্থগিত করে। তাহলে কি রানা প্লাজা ধ্বসের সাথে সাথেই সব জরাজীর্ণ ভবনে ফাটল শুরু হয়? অবশ্যই না । এক একটি ভবনের ফাটল বা জরাজীর্ণতা এক এক সময় শুরু হয়। কিন্তু এইসব ভবনের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ব্যবস্থা নেয়া হল রানা প্লাজা ধ্বসের পর। অর্থাৎ অনেক মৃত্যুর পর। কিন্তু ঐ সব ভবনের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা ছিল ভবন ফাটল দেয়ার সাথে সাথেই। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। যখন একটি ভবন ধ্বসে অনেক মানুষ মারা গেলো তখন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়া শুরু করল। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করে। কখন মানুষ মরবে, আর মানুষ মরার সাথে সাথেই তাদের টনক নড়ে। হয়তো রানা প্লাজা না ধ্বসে ঐসব ভবনও ধ্বসে পড়তে পারতো। তখন ঐসব ভবন ধ্বসের জন্য আমরা তাদের সর্বচ্চো শাস্তি চাইতাম।

আমরা লক্ষ্য করি ঐসব ভবন ধ্বসে না পড়লেও কর্তৃপক্ষ ঐ সব ভবনে মৃত্যু উপত্যকা তৈরি করে রেখেছিলো। তাই রানা প্লাজা ধ্বসের জড়িতদের যেমনি সর্বোচ্চ শাস্তি চাই তেমনি যারা রানা প্লাজার মত আরেক ধ্বসের
প্রস্তুতি করে রেখেছিলো তাদেরও বিচার চাই। কারন রানা প্লাজা না ধ্বসে সেইসব ভবনও ধ্বসে পড়তে পারতো । আমরা জানি হত্যার যেমন শাস্তি আছে তেমনি হত্যাচেষ্টারও কঠোর শাস্তি আছে । ঠিক তেমনি যেসব কর্তৃপক্ষ ধ্বসের প্রাক্কাল পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি বা যথাসময় কোন ব্যবস্থা নেয়নি তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর
ব্যবস্থা চাই । কারন সে সব ভবন ধ্বসে সেখানে অনেক মানুষ মারা যেতে পারতো ।

যারা মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করে কিন্তু ফাটল দেখা গেলেও কোন ব্যবস্থা নেয়না তাদের বিচার চাই । ভবন ফাটলের বিষয়টি এখন খুব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে । তেমনি যেসব ভবনের দুর্ঘটনায় বের হবার ব্যবস্থা থাকেনা বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই সেই সব ভবনে অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জাম রাখাতে হবে এবং এখনও যারা নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়নি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে । নাহলে বারবার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটবে এবং বৃদ্ধি পাবে মৃতের সারি । আমরা মৃত্যুর পরে মৃতের জন্য ক্ষতিপূরণ বা অপরাধীর শাস্তি চাই না, যাতে আর কোন দুর্ঘটনা (হত্যাকাণ্ড) না হয় সেজন্য উপযুক্ত বুবস্থা নেওয়ার দাবি করি এবং ব্যবস্থা নিতে হবে । যারা উপযুক্ত সময় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে । এর পরেও যদি রাষ্ট্র নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে তাহলে এরকম অত্যাচারি রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙ্গে দেয়ার সংগ্রাম আরও দ্রুততর গতিতে এগিয়ে যাবে । (ভবনের মালিক, শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ও অনুমোদন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা না নিলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পূর্বেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এরা সবাই কর্তৃপক্ষ) “নৈতিকতার স্রষ্টা অপরাধের যম”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “সাভারের মত আরো মৃত্যু উপত্যকা সৃষ্টি

  1. বিপদে না পড়লে আমাদের স্তম্ভিত
    বিপদে না পড়লে আমাদের স্তম্ভিত ফিরেনা। রানা প্লাজা তার একটি বাস্তব উপমা। দেখবেন যে ভবনগুলো সিলগালা করা হয়েছে কয়েকদিন পর কোন এক অজানা উপায়ে ভবনগুলো আবার ব্যবহার শুরু হয়েছে। সেদিকে কেউ নজর দিবে না। শুরু হবে অন্য কোন প্রসঙ্গ নিয়ে হৈ চৈ ! ততদিনে রানা প্লাজা ট্র্যাজিডির কথা অকপটে ভূলে যাবো আমরা সবাই। যেমন ভূলে গেছি তাজরিন গার্মেন্টেসের অগ্নিকান্ড! আরও কত ঘটনা-দুর্ঘটনা….

    1. অকপটে ভুলে যাব আমরা সবাই। ভাই
      অকপটে ভুলে যাব আমরা সবাই। ভাই আমরা সবাই বলিয়েন না। যদি আমরা সবাই ভুলে যাই তো মনে রাখবে কে?

  2. এতো বড় হত্যাকাণ্ড। অথচ আমার
    এতো বড় হত্যাকাণ্ড। অথচ আমার আশংকা হয় রানার কিছুই হবে না। দুইদিন বাদে আমরা সবাই অন্য ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবো। সাভারের ট্র্যাজেডি রানা প্লাজার কংক্রিটের নীচেই চাপা পড়ে যাবে। :মাথাঠুকি:

  3. দুই দিন বাদে আমরা সবাই অন্য
    দুই দিন বাদে আমরা সবাই অন্য ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবো। আমরা সবাই ভুলে গেলে এত লোক দেখানো লেখালেখির দরকার কি? নিজেদের শুধু মাত্র লেখালেখির মধ্যে সীমাবদ্ধ না করাই উচিত, কি বলেন?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

48 − 41 =