বিশ্বরাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব

বিশ্বরাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যে নীতি, তাতে বাংলাদেশ একটি শক্ত অবস্থানে আছে। দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা ও ভারত মহাসাগরে চীনা নৌবাহিনীর তৎপরতার প্রেক্ষাপট যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ যে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে, এটা কেরি স্বীকার করেছেন। এটা বাংলাদেশের জন্য একটি প্লাস পয়েন্ট। কেননা বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন এখনো শ্লথগতি চলছে তখন বাংলাদেশ তার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে ধরে রেখেছে। তৈরি পোশাক নিয়ে হাজারটা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাংলাদেশের অনুকূলে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে ৩০৫২ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর আমদানি করেছে ৪৩৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মাত্র ছয় মাসে ঘাটতির পরিমাণ ২৬১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। ২০১৫ সালে ঘাটতি ছিল ৫০৪৮ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থানে আছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ঢাকা সফরের আগে ঢাকা ঘুরে গেছেন ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী (আন্তর্জাতিক সহযোগিতা) রোরি স্টুয়ার্ট। টেরেসা মের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়া রোরি স্টুয়ার্টের এটা প্রথম বাংলাদেশ সফর। গত ২৩ জুন ব্রিটেনে গণভোট ও গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর ব্রিটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং বাংলাদেশে ব্রিটেনের সহযোগিতার ধরন নিয়ে আলোচনা করতেই রোরি স্টুয়ার্ট বাংলাদেশে এসেছিলেন। এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি বাংলাদেশ সফরে আসছেন। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চেয়েছে। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করতে ও গোয়েন্দা তথ্যবিনিময় করতেও দুই দেশ রাজি হয়েছে। জঙ্গিবাদ, জিএসপি সুবিধা ইত্যাদি প্রশ্নে বাংলাদেশ তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র কার্যত বাংলাদেশের এই ভূমিকাকে সমর্থন করে গেছে। সব মিলিয়ে বিশ্বরাজনীতির অঙ্গনে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে একটি বহুল আলোচিত নাম। বলার অপেক্ষা রাখে না, জন কেরির বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। একুশ শতকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে ‘নেক্সট ইলেভেন’ (গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মূল্যায়নে) দেশগুলোর কাতারে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং পররাষ্ট্রনীতিকে সেই লক্ষ্যে সাজিয়ে এটা অর্জন করা। প্রধানমন্ত্রীর জাপান ও চীন সফর, জন কেরির ঢাকা সফর ও চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা আগমন যে আমাদের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি সাধিত হবে, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

96 − = 86