আল্লাহ কি একই সাথে সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান হতে পারেন?

ধার্মিক ভাইয়েরা তাদের ধর্মের ব্যাপারে যুক্তি বলে কোন কিছুর অস্তিত্তেই বিশ্বাস করেন না।তাদের ধর্মগ্রন্থের সাথে সাংঘর্ষিক হলে বৈজ্ঞানিক সত্য হয়ে যায় কোন নাস্তিকের মতামত। এতএব আমি শুধুমাত্র লজিক বা যুক্তিবিদ্যা ও কমনসেন্স বা সহজাত ধারণার উপর নির্ভর করে আলোচনা করার চেষ্টা করছি। পৃথিবীতে প্রায় ৬০০০ ধর্মের কথা জানা যায়, প্রতিটি ধর্মের আছে আলাদা আলাদা ঈশ্বর। কোন ধর্ম একেশ্বরবাদী, কোন ধর্ম বহুঈশ্বরবাদী। ইসলাম হল একেশ্বরবাদী ধর্ম, আল্লা হলেন ইসলামের এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বর। মুনিন ভাইয়েরা বলেন আল্লা সর্বশক্তিমান। চলেন দেখে নেওয়া যাক আল্লা নিজে কি বলেন।
“….যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। [সুরা বাকারা: ২০]”

“আহলে কিতাবদের অনেকেই প্রতিহিংসাবশতঃ চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোন রকমে কাফের বানিয়ে দেয়। তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর (তারা এটা চায়। যাক তোমরা আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত তাদের ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।[সুরা বাকারা: ১০৯]”

“আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান? [সুরা বাকারা: ১০৬]”

আল্লা শুধু সর্বশক্তিমান হয়েই খুশী নন, তিনি সর্বজ্ঞও বটে-

“পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।[সুরা বাকারা: ১১৫]”
এখন প্রশ্ন হল আল্লা কিভাবে একি সাথে সর্বজ্ঞ (omniscient) ও সর্বশক্তিমান (omnipotent) হন। সর্বজ্ঞ হওয়ার অর্থ তিনি ভবিষ্যতে কি ঘটবে জানেন। সর্বশক্তিমান হলে তিনি ভবিষ্যৎ পরিবর্তনও করতে পারবেন। যে মূহূর্তে তিনি ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করবেন সেই মূহূর্তে তার জানাটা ভূল হয়ে গেল। অতএব তিনি সর্বজ্ঞ নন। অন্যদিকে উনি যেহেতু সব জানেন তাই আগে থেকেই জানেন উনি ভবিষ্যতে কি করবেন।ফলে অন্যরকম কিছু করা তার পক্ষে অসম্ভব। কোন কিছু অসম্ভব মানেই তিনি আর সর্বশক্তিমান নন।
বোঝা গেল ওমনিপটেন্স ও ওমনিসিয়েন্স এই গুণদুটি পরস্পরবিরোধী। এখন দেখা যাক আল্লার পক্ষে এই দুটি গুণের একটিও অর্জন করা সম্ভব কিনা। প্রকৃতপক্ষে কোন সত্তা সর্বশক্তিমান এরূপ বক্তব্যের কোন অর্থ হয়না। মুনিন ভাইয়েরা নিশ্চই ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। আসেন সবাই মিলে নিচের প্রশ্নটার উত্তর খুঁজি-

আল্লা কি এমন ভারী বস্তু তৈরী করতে পারবেন যা তিনি নিজেই তুলতে পারবেন না?

বিশ্লষন ও সমাধান উভয়ই আমি মুনিন ভাইদের উপরই ছেড়ে দিলাম(কোরান, হাদিস ঘেঁটে দেখেন)। আল্লা কি সর্বজ্ঞ হতে পারেন। এই প্রশ্নের উত্তরে আগে জানতে হবে আল্লা কি চেতন সত্তা অর্থ্যাৎ আল্লার কি চিন্তাশক্তি আছে? যদি আল্লা চিন্তা করেন তাহলে সর্বজ্ঞ হতে গেলে তাকে তার চিন্তা সম্পর্কেও সম্পূর্ণ অবহিত হতে হবে। অর্থ্যাৎ তিনি কখন কি চিন্তা করবেন তাও তাকে জানতে হবে। এই জানার জন্য তাকে আবার চিন্তা করতে হবে; এইভাবে অন্তহীন চলতেই থাকবে। কখনই তার চিন্তার সম্পূর্ণ পরিসর তিনি জানতে পারবেন না। ( প্রকৃতপক্ষে আমাদের সাথে এটাই ঘটে, নিজেদের চেতনার অত্যন্ত সামান্য অংশ আমরা অনুভব করতে পারি)
আজ্ঞে না, আপনাদের ঈশ্বর নিয়ে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করার উদ্দেশে আমি লিখছি না। Logical Fallacy কি জিনিস তা বোঝানোর চেষ্টা করছি। আব্রাহামিক ধর্মের ঈশ্বর, ওল্ড টেষ্টামেন্টের ইয়াভে-বাইবেলের গড ও কোরানের আল্লা হলেন লজিকাল ফালাসির প্রকৃষ্টতম উদাহরণ। বরং তুলনায় বহুঈশ্বরবাদী তত্ব লজিকালি অনেক পাকাপোক্ত অবস্থানে আছে। কারণ বহুঈশ্বরবাদী তত্বকে শুধু যুক্তি দ্বারা খন্ডন করা অনেক কঠিন।
কোরানে আল্লাকে যে গুণ দ্বারা সবচেয়ে বেশীবার ভূষিত করা হয়েছে তা হল পরম করুণাময়। গ্রিক দার্শনিক এপিকিউরাস আর্গুমেন্ট অফ ইভিল নামে যে যুক্তিটি দিয়েছিলেন তা আমি অবিকল তুলে দিলাম।

১.ঈশ্বর কি অন্যায়, অত্যাচার, অরাজকতা রোধে ইচ্ছুক কিন্তু অক্ষম।
তাহলে তিনি সর্বশক্তিমান নন।
২.তিনি কি সক্ষম কিন্তু অনিচ্ছুক?
তাহলে তিনি পরম করুনাময় নন
৩.তিনি কি সক্ষম ও ইচ্ছুক দুটোই?
তাহলে অন্যায়, অবিচার, অরাজকতা পৃথিবীতে বিরাজ করে কিভাবে?
৪.তিনি কি সক্ষম ও নন ইচ্ছুকও নন?
তাহলে তাকে কেন পরম করুনাময় হিসাবে ডাকা?

যৌক্তিকভাবে দেখানো যায় পরম করুনাময়, সর্বনিয়ন্ত্রক সত্তার অস্তিত্তও অসম্ভব। এক্ষেত্রে যুক্তিটা অতি বিস্তৃত হয়ে যাওয়ার ভয়ে আর সে পথে আর অগ্রসর হলাম না। আজ এটুকুই। যদি আল্লা চান আল্লার শোচনীয় সীমাবদ্ধতা নিয়ে আবার ফিরে আসব।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “আল্লাহ কি একই সাথে সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান হতে পারেন?

  1. আপনাদেরকে নিয়ে বিরাট সমস্যা।
    আপনাদেরকে নিয়ে বিরাট সমস্যা। সারা জীবন আল্লাহ, ভগমান নাই বলে চিতকার চ্যাচামেচী করবেন। বুকে ব্যাথ্যা নিয়ে হার্ট এট্যাক করে বাইপাস সার্জারীর আগে আবার ঠিকই হাতে তসবী জোপবেন। তওবা-এস্তেগফার করে এক কাহিনী বাধাবেন। এরকম বহু লোক আমার জীবনে দেখা আছে। হালকা ডলাতেই সাধু সাবধান হতে তো কম দেখলাম না।

  2. নাস্তিক্যবাদের আলোকে আপনার
    নাস্তিক্যবাদের আলোকে আপনার কাছি আমার দু’টি জিজ্ঞাসার উত্তর চাই

    জিজ্ঞাসা-১

    আপনি নাস্তিক, আমি আস্তিক।
    একদিন না একদিন আমিও মারা যাবো, আপনিও মারা যাবেন।
    আপনার বিশ্বাস বলে, পরকাল বলতে কিছু নাই ; আর আমার বিশ্বাস বলে, পরকাল আছে এবং সেখানে দুনিয়ার কর্মের ফল ভোগ করতে হবে।
    ধরে নিলাম আপনার বিশ্বাস সঠিক, তাহলেও তো মৃত্যুর পর আমাকে কোন প্রকার ফল ভোগ করতে হবেনা। আর যদি আমার বিশ্বাস সঠিক হয়, তাহলে তো আপনি অনন্তকালের জন্য শাস্তিতে পতিত হবেন।

    এখন আমার প্রশ্ন হলো, কোন বিশ্বাসটি অন্তরে ধারন করা শ্রেয়:?

    জিজ্ঞাসা-২

    ধরে নিই দুনিয়ার সকল মানুষ নাস্তিক।

    ধরুন এক ব্যাক্তি দারুন ক্ষমতাশালী। সে ন্যায়-অন্যায় যা মনচায় তা-ই করতে পারে। সে বিচারের উর্ধে। আরো ধরি সে শুধু অন্যায় কাজই করে। অসৎ পথে আয় করে, অন্যের জমি জবরদখল করে, ধর্ষন, খুন, ডাকাতি ইত্যাদি করে। এখন এইযে সে অন্যায় করলো এর ফল স্বরুপ কি তার শাস্তি ভোগ করা উচিৎ নয়? আর যারা ঐ ব্যাক্তির কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হলো, তারাও কি ক্ষতিপূরন পাওয়ার অধিকার রাখেনা?

    এখন আমার জিজ্ঞাসা হলো, যদি পরকাল এবং সৃষ্টিকর্তা না থাকে তাহলে ঐ ব্যাক্তিকে কে কিভাবে শাস্তি দিবে? আর ক্ষতিগ্রস্থরা-ই বা কিভাবে ক্ষতিপূরন, তথা ন্যায়বিচার পাবে?

    1. আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর
      সাইফুল আলম আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর আমি নিচে দিয়েছি। আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নটি জটিল দার্শনিক প্রশ্ন আর বিষয়ের সাথে সম্পর্কিতও নয়। আপনি দন্দতত্ব না জানলে এর উত্তর দিতে যাওয়ার কোন অর্থ হয় না। কোন ব্যক্তি চাইলেই কিছু করে ফেলতে পারে না, যদি না তার সমাজপরিবেশ তাকে উপযোগী পরিস্থিতি দেয়। হিটলারের পক্ষে মানবতাবাদবিরোধী অন্যায়গুলি করা সম্ভব হয়েছিল কারণ গোটা জার্মান জাতি তার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছিল। তাই ইহুদীনিধন ও অনান্য অপরাধের দায় হিটলারের একার নয়। আইনষ্টাইন সঠিকভাবেই বলেছেন, নাৎসীবাদের উথানের দায় পুরো জার্মান জাতির। আসলে আপনার প্রশ্নটির কোন অর্থই হয়না। পুরো বিশ্বজগৎ চলে নিয়মে; মানবসমাজও চলে নিয়মে- এখানে প্রতিটি ক্রিয়ার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং এইভাবে সামন্জস্য রক্ষিত হয়।

  3. ধার্মিকদের সবচেয়ে বোগাস
    ধার্মিকদের সবচেয়ে বোগাস আর্গুমেন্টটা হল, যখন তারা ঈশ্বরের অস্তিত্তের সপক্ষে কোন যুক্তি দেখাতে ব্যর্থ হন তখন অবধারিতভাবে তাদের বক্তব্য হয়- যদি নাস্তিকতা ঠিক হয় তবে আপনি আমি দুজনেই নিরাপদ। কিন্তু যদি ইসলাম সত্য হয় তবে আখেরাতে আপনার খবর আছে। তাই আস্তিক হওয়াটাই সুবিধাজনক নয় কি? অনান্য বক্তব্যের মতো এই বক্তব্যটিও তাদের নিজস্ব নয় বরং তারা ধার করেছেন সপ্তদশ শতাব্দীর ফরাসী দার্শনিক ও গণিতবিদ ব্লেই পাস্কালের(1623-1662) থেকে। এই যুক্তিটির পোষাকী নাম পাস্কাল’স ওয়েজার বা পাস্কালের বাজী। পাস্কালের নিজের কথায়-

    “If you believe in God and turn out to be incorrect, you have lost nothing—but if you don’t believe in God and turn out to be incorrect, you will go to hell. Therefore it is foolish to be an atheist”

    পাস্কাল দুধরনের সম্ভাবনা ধরে নেন একটি হল ঈশ্বর আছে আর একটি হল ঈশ্বর নেই। আমার কাছে এই দুই ক্ষেত্রেই দুটি উপায় আছে তা হল আমি ঈশ্বর বিশ্বাস করতে পারি আবার নাও বিশ্বাস করতে পারি। নিচের টু বাই টু ম্যাট্রিক্সটি দেখুন-
    ঈশ্বর আছেন ঈশ্বর নেই
    বিশ্বাস অসীম পুরস্কার(পরকালে) [a] নির্দিষ্ট সুবিধা (ইহকালে) [ c]
    নাস্তিকতা অসীম শাস্তি (পরকালে) [b] নির্দিষ্ট সুবিধা (ইহকালে)[d]

    পাস্কাল বললেন যেহেতু সহজেই বোঝা যায় [a] +[c] > [b]+[d], তাই নাস্তিকতার থেকে আস্তিকতাই অধীক কাম্য।

    আসেন এবার এই যুক্তিটি ভালভাবে বিচার করা যাক। মনে করেন আমি আপনাকে বললাম আপনি যদি বিশ্বাস করতে পারেন আকাশ সবুজ তাহলে আপনাকে দশহাজার টাকা দেব। আপনি প্রকৃতই পারবেন বিশ্বাস করতে। ঠিক জন্যই আমাদের পক্ষে হঠাৎ করে আল্লায় বিশ্বাস করা সম্ভবই নয়। বিশ্বাস নিয়ে এই বাজী শুধু অনৈতিকই নয় নিরর্থকও বটে।

    দ্বিতীয়ত, ঈশ্বর বিশ্বাস করলে ড্যাং ড্যাং করে স্বর্গে/জান্নাতে/হেভেনে যাওয়া যাবে আর না হলে খাব কোপানি- এটুকু নাহয় বোঝা গেল, কিন্তু ঈশ্বর তো একটা নয় সব ধর্মের ঈশ্বর আলাদা।কোন ঈশ্বরকে ফলো করলে যে কোপানি থেকে বাঁচা যাবে তা তো বলা হয়নি পাস্কালের বাজীতে। পাস্কালের দুর্ভাগ্য উনি ক্যাথলিক গডের কথা ভেবে এত ম্যাট্রিক্স ফ্যাট্রিক্স বানালেন, আর আজকে দুনিয়া জোড়া সব ধর্মান্ধরা তার যুক্তি ব্যবহার করে।

    অভিজিৎ রায় তার বিশ্বাসের ভাইরাস গ্রন্থে এক মজার ঘটনার অবতারণা করেছেন-“একবার এক খ্রিষ্টান পাদ্রী কি কারণে জানি বাসায় এসেছিল।এসেই যীশু যীশু করে মুখে ফ্যানা তুলে ফেললো, আর আমাকে হেদায়েত শুরু করে দিল, আমাদের দেশের তবলীগ পার্টির মতন অনেকটা। যখন খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না, এবং শুনলেন আমি নাস্তিক ওমনি যীশুর মহিমা কীর্তনের পর প্যাস্কালের (কু)যুক্তি হাজির হয়ে গেল … “ঈশ্বর যদি সত্যি সত্যি একজন থাকেন এবং … তখন আপনারা … দোজখে …”। আমি বললাম কিন্তু সত্যিকারের ঈশ্বর যে যীশুই হবেন এটা স্বতঃসিদ্ধ ভাবে বুঝে গেলেন কি করে, মা-কালী বা গণেশ বাবা হলে তখন কি করবেন, এত যীশু যীশু করার পরেও তো সেই নরকের আগুনে পুড়বেন। পাদ্রী সাব একটু থমকালেন, তারপরেই একগাল হেসে বললেন – ‘আহ! আরে গণেশ টনেশ আবার ঈশ্বর হৈতে পারে নাকি, যীশুই আসল ঈশ্বর”। মনে করেন, আপনি সারা জীবন আল্লা আল্লা করে গেলেন আর ওপারে গিয়ে দেখলেন সাঁওতালদের দেবতা মারং বুড়ু বিশাল দাঁড়ি-জটা নিয়ে নিয়ে আপনার দিকে লাল চোখে তাকিয়ে আছে আর আসেপাশে ঘাড় ঘুড়িয়েও আল্লা কিংবা নবী কাউকেই দেখতে পাচ্ছেন না; তখন কি আপনার অবস্থা নাস্তিকদের থেকে আলাদা কিছু হবে। আবার ধরেন আপনি সারা জীবন মা কালী আর শিবের পূজা করলেন আর আখেরাতে দেখলেন কেয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে আল্লা তার ফিরিস্তা সহ হাজির, তখন তো কেঁদে কূল পাবেন না।

    মুনিন ভাইয়েরা নিশ্চই অধৈর্য হয়ে যাচ্ছেন, আচ্ছা ছাড়েন শুধু আব্রাহামিক ধর্মের কথাই বিবেচনা করি।শুধু ক্রিশ্চিয়ানিটি ও ইসলামের পরিপ্রক্ষিতে পাস্কালের ম্যাট্রিক্স কেমন দাঁড়ায় দেখা যাক-
    যীশু (হোলি ট্রিনিটি) আছেন আল্লা আছেন
    খ্রিষ্টান আস্তিক অসীম পুরস্কার অসীম শাস্তি
    মুসলিম আস্তিক অসীম শাস্তি অসীম পুরস্কার

    অতএব যুক্তিতে এলেই পাস্কালের বাজী ভোজবাজীর মতো মিলিয়ে যেতে দেরী হয় না। কিন্তু ধার্মিকদের এই লজিকের ভূল বোঝায় কার বাবার সাধ্য। স্লেইসিঙ্গারের মতে, যেকোন ধরনের যুক্তিমালা যা তার ইমান দৃঢ় করতে সাহায্য করে, ঈশ্বরের দিকে তাকে নিয়ে যায় এরকম কোন যুক্তিই তার কাছে অযৌক্তিক নয়। ধর্মকানাদের এরকম বক্তব্যের বিরুদ্ধে আর কি বলার থাকতে পারে।

    1. অচেনা
      অচেনা
      তবু আপনার রাস্তায় হাটাটা অনেক রিস্কি। কারন আপনি এবং আপনার মত অন্যান্য নাস্তিকও ১০০% নিশ্চিত নয় আসলে মৃত্যুর পর কি হতে চলেছে। কিন্তু হিন্দু, খৃষ্টান, মুসলমান, বৈদ্ধ ইত্যাদি ধর্মের লোকদের ২০-২৫% সম্ভাবনা আছে পরকালের কোপানি থেকে বাচার। কিন্তু আপনার পথে হাটলে সেই সম্ভাবনা ০%। আর তাছাড়া আপনি কিম্বা তাবদ বিজ্ঞানীকূলের কারো কাছেই ঈশ্বর নাই- এমন কোন সুনিশ্চিত তথ্য প্রমাণ নাই এখন পর্যন্ত। বরং আদম-হাওয়া-মানুষ তত্ত্বটাই বেশী লজিক্যাল। জড়-প্রাণ-শিম্পাঞ্জী-মানুষ-জ়ড় এই তত্ত্বটার চাইতে।

      1. পৃথিবীতে ধর্ম আছে ৪২০০ টা।
        পৃথিবীতে ধর্ম আছে ৪২০০ টা। আপনার এই বালফাত্রা কুযুক্তি দেখে মেজাজ খারাপ হল। সত্যি সত্যি কোনো ঈশ্বর থাকলে আর তিনি মানবিক হয়ে থাকলে নিশ্চয়ই নাস্তিকদের শাস্তি দিবেন না।

        1. সত্যি সত্যি কোনো ঈশ্বর থাকলে

          সত্যি সত্যি কোনো ঈশ্বর থাকলে আর তিনি মানবিক হয়ে থাকলে নিশ্চয়ই নাস্তিকদের শাস্তি দিবেন না।

          আপনি কি ঈশ্বরের পিএস? নাকি ঈশ্বর আপনার উপর আয়াত নাযীল করেছেন?

          1. আমি বুঝতে পারলাম না আপনার
            আমি বুঝতে পারলাম না আপনার বক্তব্য কি ঈশ্বর নাই তার কোন প্রমান নেই নাকি পাস্কাল’স ওয়েজার যুক্তি হিসাবে সমর্থনযুক্ত।

            কিন্তু হিন্দু, খৃষ্টান, মুসলমান, বৈদ্ধ ইত্যাদি ধর্মের লোকদের ২০-২৫% সম্ভাবনা আছে পরকালের কোপানি থেকে বাচার। কিন্তু আপনার পথে হাটলে সেই সম্ভাবনা

            হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম ও খৃষ্টান ধর্মালম্বীদের সম্ভবনা আপনার কথা মত ২০-২৫% হত যদি সারা পৃথিবীতে মাত্র ৪-৫টি ধর্ম থাকত। কিন্তু সারা পৃথিবীতে ধর্মের সংখ্যা ৪২০০, আপনার যুক্তিমত এতগুলি বিশ্বাসের মধ্যে আপনার বিশ্বাস সত্য হবার সম্ভাবনা দাঁড়ায় .০২৪। নাস্কিকদের থেকে আপনি মোটেই ভাল অবস্থায় নেই; কারণ আপনার কোপানি খাবার সম্ভাবনা ১০০-০.০২৪= 99.76% *blum3*

            পাস্কাল’স ওয়েজার যুক্তি হিসাবে অত্যন্ত অসার। বহুভাবে এর অসারতা প্রমান করা যায়। আপনি নিজেই সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। (গাণিতিক চিহ্ন ও টেবিল দেওয়া যাচ্ছে না নাহলে আমার বিস্তারিত আলোচনা করার ইচ্ছা ছিল)

          2. কিন্তু সারা পৃথিবীতে ধর্মের

            কিন্তু সারা পৃথিবীতে ধর্মের সংখ্যা ৪২০০, আপনার যুক্তিমত এতগুলি বিশ্বাসের মধ্যে আপনার বিশ্বাস সত্য হবার সম্ভাবনা দাঁড়ায় .০২৪।

            হা হা হা। ধর্ম সেটাকেই বলে যেখানে ঈশ্বরের ধারনা থাকে আর সুনিদৃষ্ট জীবন বিধান থাকে। প্রধান ধর্মগুলো ছাড়া কথিত ৪২০০ ধর্মের বেশীর ভাগই পাথর, আগুন, পানি, তুলসী পাতা, গরু-ভ্যাড়া, বটগাছ, সুর্য, চাদ, ল্যংটা সন্নাসীদেরকে ঈশ্বর বা দেবতা হিসেবে মানে। তাই এগুলাকে আমরা আদৌ ধর্মের মধ্যে ধরি না।

            আসলে হিসাব করলে হিন্দু আর বৈদ্ধ ধর্মকেও ধর্মের তালিকা থেকে বাদ দেয়া যায়। কারন লাখ লাখ কোটি কোটি দেবতা, লিংগ পূজা, কুমারী পূজা আর হাস্যকর পৌরনিক কাহিনী সম্বলিত হিন্দু ধর্ম যে আদৌ কোন জীবন বিধান নয় সেটা হিন্দুরা নিজেরাই বুঝে। আর বৈদ্ধ ধর্মেও ঈশ্বরের তেমন কোন ধারনা পাওয়া যায় না। সেই হিসেবে মূল প্রফেটিক মূলত তিনটি- ইহুদী, খৃষ্টান আর মুসলমান। যেগুলাকে ধর্ম বা জীবন বিধান হিসাবে স্বীকার করা চলে। আশা করি বুজেছেন।

          3. হা হা হা। ধর্ম সেটাকেই বলে

            হা হা হা। ধর্ম সেটাকেই বলে যেখানে ঈশ্বরের ধারনা থাকে আর সুনিদৃষ্ট জীবন বিধান থাকে।

            এটা কি হুজুর দার্শনিকদের দ্বারা আবিস্কৃত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 3 =