লিঙ্গত্বকছেদ বা কথিত-মুসলমানী করালেই আপনি মুসলমান না!

আমাদের দেশের একটি শ্রেণী মনে করে লিঙ্গত্বকছেদ বা খাতনা বা মুসলমানী করালেই সে মুসলমান হয়ে গেল! তার আর-কিছু করার দরকার নাই। আর তার ঈমানীশক্তি যতোই দুর্বল হোক না কেন—সে মুসলমান! এতো সহজে মুসলমান হওয়ার রাস্তা বুঝি পৃথিবীর আর-কোনো দেশে নাই। এরা তাই, লিঙ্গত্বকছেদন করার প্রক্রিয়াটির নাম দিয়েছে মুসলমানী! আর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে একজন রেডিমেট-মুসলমান হওয়ার জন্য এর চেয়ে কোনো সহজ রাস্তা এদেশের মানুষের আর বুঝি জানা নাই। এভাবে, কথিত-মুসলমানী করানোর পরদিন থেকে সে একচান্সে-একদৌড়ে মুসলমান হয়ে গেল! এই মূর্খশ্রেণীটি মনে করে থাকে: মুসলমান বুঝি গাছে ধরে!

আমাদের দেশে ‘সুন্নতে খাতনা’ বা ‘লিঙ্গত্বকছেদ’ সর্বত্র ‘মুসলমানী’ হিসাবে পরিচিত। গ্রাম্যজন ও মূর্খদের ধারণা সে জীবনে মুসলমানী করালেই মুসলমান হয়ে গেল! আর তার নাম উঠে গেল মুসলমানের খাতায়। এখন সে চোখ বন্ধ করে খুন-খারাবি-ধর্ষণ ইত্যাদি অপকর্ম করতে পারবে। কারণ, সে তো মুসলমান হয়ে গেছে। কিন্তু এটি যে কতবড় ভ্রান্তধারণা তা এই অজ্ঞজনেরা এখনও জানে না।
আজকাল ইউরোপ-আমেরিকার মানুষেরা নিজে থেকে লিঙ্গত্বকছেদ করাচ্ছে। এতে নাকি সবদিক দিয়ে বেশি সুবিধা। অর্থাৎ, লাভের আশায় এখন মানুষ লিঙ্গত্বকছেদ করাতে দ্বিধা করছে না। আর এখানে, এখন কোনো ধর্মের বালাই নাই। আছে শুধু বৈজ্ঞানিক-ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। আর এজন্যই মানুষ এখন দলে-দলে লিঙ্গত্বকছেদ করাচ্ছে। আর অবশ্যই এটি পুরুষের জন্য প্রযোজ্য—যদিও মিশরে মেয়েদের নাকি এখনও মুসলমানী বা খাতনার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। আর সে-ই ইতিহাস ভিন্ন। এটি মদীয় আলোচ্য বিষয় নয়। তাহলে, কথা হচ্ছে: ইউরোপ-আমেরিকার সচেতন-পুরুষরা এখন যে-ভাবে লিঙ্গমুখের ত্বকছেদন করাচ্ছে তাতে কি তারা সবাই মুসলমান হয়ে গেল নাকি? আমাদের দেশের অকাট-মূর্খরা এখন কী বলবে?

আমাদের দেশে লিঙ্গমুখের ত্বকছেদ করালেই তা মুসলমানী হয়ে গেল! সে নিজেকে রাতদিন মুসলমান ভেবে কোনো ধর্মকর্ম না-করে শুধু একখান লিঙ্গের জোরে মুসলমান হতে চাচ্ছে। এটা তো চিরমূর্খদের ধারণা মাত্র। হ্যাঁ, মুসলমান মাত্রই খাতনা করিয়ে থাকে। আর এতেই সে মুসলমান হয়ে গেল—এমন কথা কুরআন-হাদিসের কোথাও লেখা নাই। এগুলো বানোয়াট ভিত্তিহীন। একশ্রেণীর কাটমোল্লা মনে করে থাকে: খাতনা করালেই সে মুসলমান হয়ে গেল। কারণ, তাদের যুক্তি হলো: যেহেতু হিন্দুরা খাতনা করে না—সেহেতু তারা শুধু খাতনার জোরেই মুসলমান! এই মূর্খতার বেড়াজাল থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

খাতনা যে মুসলমানিত্ব তা বোঝা যায় গ্রামে-গঞ্জে গেলে। সেখানে বিশাল আয়োজনে খাতনার অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন হয়ে থাকে। আর এতে যে যত বেশি জাঁকজমকের সঙ্গে লোকজন খাওয়াতে পারে সে-ই হলো এলাকার সবচেয়ে বড় মুসলমান! এইজাতীয় সস্তা-মুসলমানিত্ব এখনও বাংলাদেশে টিকে আছে! এরা আল্লাহ-রাসুলের প্রতি ভালোবাসাপ্রকাশ করে নয়—শুধু একখান লিঙ্গের জোরে অতিসহজে এখন মুসলমান হতে চাইছে। এদের একমাত্র ভরসা এখন লিঙ্গ। তাই, এরা মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ-নিষেধ মানতে একেবারে নারাজ। এরা এখন পবিত্র ইসলামের বিধি-নিষেধ বাদ দিয়ে লিঙ্গচর্চায় ও লিঙ্গপূজায় ব্যস্ত। এদের হাবভাব দেখে তাই মনে হয়: আমাদের দেশে ১৯৭১ সালে আগত পাকিস্তানীহানাদারবাহিনীর যোগ্য-উত্তরসূরী। ১৯৭১ সালে, পাকহানাদারবাহিনী মক্কার কাফেরদের চেয়ে নৃশংস ও নিষ্ঠুর হয়ে বাংলার মুসলমানদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। আর তাদের হাতে শুধু রাইফেল ছিল না—তারা তাদের সঙ্গে থাকা লিঙ্গটাকে একটা ভয়াবহ-অস্ত্র বানিয়ে তা দিয়ে ‘বাঙালি-হিন্দু-মুসলমান’ নির্বিশেষে সর্বস্তরের দুই-লক্ষ মা-বোনকে ধর্ষণ করেছে! এরাই বুঝি মুসলমান? আর তারা তখন পবিত্র ইসলামের দোহাই দিয়ে এভাবে নারীধর্ষণকে ‘জায়েজ-হালাল’ বলে ঘোষণা করেছিলো। এদেরই উত্তরসূরীরা বুঝি এখনও স্বাধীন বাংলাদেশে নিজেদের মুসলমানিত্বপ্রকাশ করার জন্য লিঙ্গের জোরে নারীধর্ষণে লিপ্ত ও ব্যস্ত! নইলে মুসলমানের দেশে আজ এতো-এতো নারীধর্ষণ হবে কেন? আর এতো-এতো মুসলমান সদাসর্বদা ব্যভিচারেই বা লিপ্ত হবে কেন?

লিঙ্গত্বকছেদ স্বাস্থ্যসম্মত একটি ব্যবস্থা। এটি এখন যেকোনো ধর্মের মানুষই গ্রহণ করতে পারে। আধুনিকযুগের স্বাস্থ্যসচেতন মানুষেরা এখন এই স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিটি গ্রহণ করছে। কিন্তু এটাকে কোনোভাবেই আজ ‘মুসলমানী’ বা ‘মুসলমানীপ্রথা’ বলার অবকাশ বা সুযোগ নাই। আর আমাদের সমাজের মুসলমান-নামধারী কেউ-একজন এই পদ্ধতিগ্রহণ করলেই সে মুসলমান হয়ে গেল—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। এটি শুধুই একটি সামাজিক-প্রথা মাত্র। আবার এটাকে কেউ-কেউ ধর্মীয় প্রথাও মনে করে থাকে। আর ভারতীয় উপমহাদেশসহ অনুন্নত-অঞ্চলসমূহের মুসলমান-নামধারী একশ্রেণীর মানুষ এটাকে মূর্খতাবশতঃ ‘মুসলমানী’ বলে থাকে। এই বদ্ধধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আর সবসময় মনে রাখতে হবে: লিঙ্গত্বকছেদের কারণে কেউ মুসলমান হয় না। আর মুসলমান হতে হয় সৎচরিত্র ও সততার গুণে।

জনশ্রুতি আছে: লিঙ্গত্বকছেদ বা কথিত-মুসলমানী নবী হজরত ইব্রাহিম আ.-এর সুন্নত হিসাবে মুসলমান সমাজে পালিত হয়। কারণ, নবী হজরত ইব্রাহিমের আমলেই এটির প্রচলন শুরু হয়। আর নবী ইব্রাহিমকে মুসলমানদের ‘জাতির পিতা’ ঘোষণা করা হয়েছে। আর সেই থেকে বর্তমান মুসলমানসমাজ এটিকে ‘সুন্নত’ তো মনে করছেই, সেই সঙ্গে এরচেয়ে বড়কিছু মনে করে আজ শুধু খাতনার জোরে নিজেকে একজন মুসলমান প্রমাণ করতে চাইছে, এবং এই লিঙ্গত্বকছেদের জোরেই নিজেকে মুসলমান ভাবতে চাইছে। কিন্তু এরা কেউই যোগ্যতায়, সততায়, মহত্ত্বে, ঈমানে-আমলে আর সচ্চরিত্রে মুসলমান হতে চাইছে না। কবে যে এই নামধারীমুসলমানদের বোধোদয় হবে, তাই ভাবছি।

[বি.দ্র. মুসলমান হতে হবে ঈমানের জোরে—আল্লাহ-রাসুলকে চব্বিশঘণ্টা ভালোবেসে। পবিত্র ইসলামধর্মে লিঙ্গের জোরে মুসলমান হওয়ার কোনো সুযোগ নাই।]

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৫/০৫/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “লিঙ্গত্বকছেদ বা কথিত-মুসলমানী করালেই আপনি মুসলমান না!

  1. আমি মুসলমানী করিয়েছি ৩২ বছর
    আমি মুসলমানী করিয়েছি ৩২ বছর বয়েসে। অনেকটা বাধ্য হয়ে। নুনুর সামনের দিকে চামড়ার নীচে প্রচুর ময়লা জমে যেত; বাজে গন্ধ পেতাম। তাছাড়া বউয়ের সাথে সেক্স করতেও কিছুটা অসুবিধা হত। তাই বাধ্য সুন্নত খাতনা করেছি। আদিম এই প্রথাটি একেবারে মন্দ নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 + = 18