“”সাফিয়ার প্রেম””

লিখাটা কোথা থেকে শুরু করব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না,আমি এত টুকুই জানতাম আমাকে এক জনের জন্য লিখতে হবে।সাহিত্য ফাহিত্য লাথি মেরে অনেক আগেই ফেলে দিয়েছি।লিখার কোনো ইচ্ছ ছিল না। তবুও লিখতে হচ্ছে,
রাতে ঘুমাতে পারিনি ঘুম আসেনি বললেই চলে।
রাতের আঁধারে যখন সবাই ঘুম নিয়ে ব্যস্ত আমি তখন বারান্দায় বসে কাঁদি।
কেউ দেখবে না,
আসলেই না সেই কান্নার সাক্ষী ছিল ঐ কালো অন্ধকার রাত।যার সৌন্দর্য ঢাকার রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলোতেই সীমাবদ্ধ।
রাতে আর ঘুমাতে পারিনি।
অপেক্ষার প্রহর গুনছি।
মন আর মানে না এক বারান্দা থেকে আরেক বারান্দায় যাওয়া আসার মাঝেও কোনো একটা ভাল লাগা কাজ করেনি।
ফজর এর আযানের ধব্বি কানে আসার সাথে সাথেই অজু করলাম নামায পড়লাম।
সকাল টা ছিল একেবারেই নিশ্চুপ।
বারান্দার পাশে কোনো জন মানবের দেখা নেই,
আমি তখন আমার আমিকে নিয়ে ব্যস্ত।
ঠিক এমনি কোনো একটা দিনে কেউ একজন আমাকে খুব ভালবেসে ছিল,
এখনো বাসে।
তাকে নিয়েই লিখতে বসেছি,
বাবা মারা গেছে সেই অনেক আগেই,মা আর চার ভাইয়ের মাঝেই মেয়েটার বেড়ে উঠা খুব কাছ থেকে দেখিনি।তবে অনুভব করতে পেরেছিলাম।
পৃথিবীতে যার বাবা নাই সেই বুঝে বাবা হারানোর কষ্ট। চাপা কষ্টের মাঝেই বেড়ে উঠা মেয়েটার।
দৈনন্দিন জীবনে চাওয়া মত কিছু ছিল না।সবার ইচ্ছা থাকে কিন্তু আমি তাকে ইচ্ছা শক্তিতে আবদ্ধ হতে দেখিনি বললেই চলে।
ফেবুকেই সম্পক টা তৈরি হয়েছিল।
হাই হ্যালো থেকে একেবারে প্রপোজ পযন্ত চলে গিয়েছিল।
সবই আমাকে পাওয়ার জন্য।
তবুও প্রপোজ করার সাহস দেই নি আমি।
এক দিন সুজা বলে দিল,
“”এই তুমি কি আমার তানু মানুর বাবা হবে””?
এই কথা টা শুনার পর আমি ৫মিনিট যাবত হাসতেছিলাম।
ডিজিটাল দেশের ডিজিটাল ভাবে প্রপোজাল উপস্থাপনা সবাই করতে পারে না।
মেসেজ টা কপি করে আমার ক্লোজ দুইটা ফ্রেন্ডকে সেন্ড দিলাম।
১। দ্রুব
২। সাগর
এই দুই টাকে মেসেজটা সেন্ড করছিলাম যেন দেখে কিছুটা হলেও বুঝতে পারে যে দেশ বদলায়ছে তা না করে এই দুইটাই আমারে পচানি শুরু করছিল।
মেসেজ ফাস,
প্রত্যেকের টাইমলাইনে আমাকে ট্যাগ দিয়ে,
“”এই তুমি কি আমার তানু মানুর বাবা হবে””?
আমি বিরক্ত হয়ে আইডি ডিএক্টিভ দিছি শান্তি নাই।
আর ঐ দিক দিয়ে মেয়েটা ভাবছে আমি তাকে ব্লক দিছি।
মেয়েটার ফ্যামিলি সম্পকে জানলাম,
বাবা নেই,চার ভাইয়ের মাঝেই বড় হয়েছে।
সব কিছু জানার পর মেয়েটাকে বলেছিলাম হুম হতে চাই তানু মানুর বাবা।
সেইখান থেকেই মনে হয় মেয়েটার স্বপ্ন দেখা শুরু।
_এই তুমি আজকে অফিসে যাওনি!
_নাহ যায়নি।
_কি বললা?
_অফিসে যাইনি।
_অফিসে যাওওওওও
_আজ যাব নাহহহহহহহহ!
এই রকম ঝগড়া প্রতিদিনই লেগে থাকত,
আমি আবার রাগি টাইপের রাগ সবাইকে দেখায় না।
কাছের মানুষদের সাথেই দেখাই।
মেয়েটাকে অল্টাইম শাসন এর উপরে রাখতাম,
অনেক ভয় পেত যাকে বলে ভালবাসার মানুষ টাকে হারানোর ভয়।
এমন দিন যেত আমার জারি শুনে কাদত আর রাগ করত না।
রাগ করেও বা লাভ কি?
আমি রাগ ভাংতাম না।
তাই রাগ করেও লাভ নাই!
বাধ্য হয়ে উল্টা আমার রাগ ভাংগা তো।
_আজ শাড়ি পড়তে ইচ্ছা করছে।
_পড়,আমি তো মানা করিনি?
_বউ সাজতে ইচ্ছা করছে?
_সাজ আমি তো বিয়ে করর না।
আইডি ডিএক্টিভ…..
আমিও ফোন দিতাম না,
রাগ করছে করুক।
কিছু খন পর আইডি এক্টিভ করব না হয় ফোন দিব।
যেই কথা সেই কাজ মোবাইলে ফোন,
_কিচ্চে?
_সরি
_সরি কেন?
_ভুল হয়ে গেছে ত
_হু গান শুনাও
_আমার কন্ঠ ভাল না,
_গান শুনাইতে কইছি!
_আচ্ছা আচ্ছা
“”শীতল ও বাতাসে দেখেছি তোমায়,
মেঘ মিলনে চেয়ে রাগ কর না,
মন চায় তোমায় কাছে পেতে””।
তার গলায় এই গান টা আমি প্রথম শুনি,
একেবারে চিকন মেইলি কন্ঠ।
_আমি গান গাইছি!এখন তুমি আমাকে শুনাও
_আমি গান পারি না।
_শুনাবা না?
_হপ বললাম না আমি পারি না।
ফোন কেটে দিছে…..
রাগ ভাংগায় কে?
আমার খাইয়া দাইয়া কাম নাই!
একটু পর নিজেই সরি বলতে আসবে তখন আবার আরেক টা জারি দিমু।
_আছ??
_হুম আছি বাইচ্চা আছি।
_৫০বার লাপিও বল,
_এর আগে তুমি ৫০০বার লাপিও বল আমাকে,
_ঠিক আছে।
মেয়ে টা লাপিও লেখায় ব্যস্ত।
লাপিও লিখতে লিখতে ফোনের চাজ শেষ করে ফেলছি কিন্তু ৫০০বার লাপিও লেখা শেষ হয়নি।
আমি দুপুরের খাবার খেয়ে ফ্রেশ হয়ে বসে আছি,
হোম পেইজে দুইটা গল্প ও পড়ে ফেলেছি ওর ৫০০বার লাপিও লিখা এখনো শেষ হয়নি।
১৫মিনিট পর ৫০০বার লাপিও বলছি।
এখন তুমি ৫০বার লাপিও বল আমাকে।
_দুপুরের খাবার খাইছ?
_না খাইনি!
_আগে খাইতে যাও।
_লাপিও না শুনে যাব না।
_এক ক্লিকে ওর যত লাপিও মেসেজ সব কপি করে সেন্ড দিছি।ওর লাপিও ওরেই ফেরত দিছি।
_১মিনিটে এত গুলা লাপিও কিভাবে লিখলা?
_তুমি যেভাবে লিখছ সেইভাবে।
_এত তাড়াতাড়ি বাংলা টাইপ করতে পার?
_হুম পারি।
_লাপিও
_হয়ছে লাপিও কইলে পেট ভরব না খাইতে যাও!
আমি তখন ভাবছি,
অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছি।
ফেবুক থেকে রিয়েল লাইফে হাজারটা মেয়ের সাথে রিলেশন করেছি।
সব গুলারে ছ্যাকা দিছি,
এই মেয়েটাকে ছ্যাকা দিতে পারব না,
বাবা নেই,
একেবারে গরীব ছ্যাকা খাওয়ার ধাক্কা একেবারে সহ্য করতে পারবে না,
ওর কিছু চাওয়া পাওয়া পুরন করার ট্রাই করতাম।
_কিছু লাগবে?
_নাহ কিছু লাগবে না।
_কেন কিছু লাগবে না?
_আমি বিকাশ করি,তুমার ইচ্ছা মত কিছু কিনে নিও।
_না লাগবে না।
_নিবা না কেন?
_তুমাকে ছাড় দিচ্ছি,
_কেন?
_বিয়ের পর ১২টা বাজাব!
_বিয়াই করুম না।
আইডি ডিএক্টিভ…….
হুর কিছুখন পর আবার এক্টিভ করব বা কল দিব,
আমি খিচ খাইয়া থাকি,
১দিন গেল ২দিন গেল ৩দিন গেল ১সপ্তাহ ডিএক্টিভ ফোন ও দেয় নাই!
বাধ্য হয়ে আমি এই ফোন দিলাম,
_আসসালামু আলাইকুম
_ওয়ালাইকুম আসসালাম
_কাকে চাই
_সাফিয়াকে।
_আমি সাফিয়ার আম্মু।
_আন্টি সাফিয়াকে দেওয়া যাবে?
_ও অসুস্থ বাবা,তুমাকে ত ঠিক চিনতে পারলাম না?
_সাফিয়ার খুব ক্লোজ একজন।
ফোনটা কেটে দিলাম।
মা হয়ত সাফিয়াকে বলেছিল তোর কেউ একজন ফোন দিয়ে তোর কথা বলেছিল…
আবার ফোন আসছে…
_হুম
_ফোন দিছিলা?
_হুম।
_কেমন আছ?
_তুমি কেমন আছ?
_ভাল নেই মাথা ব্যাথা বুমি হয়তেছে।
_মজা নিতেছ আবার?
_না মজা না,আমার খুব খারাপ লাগতেছে,
কিছুই ভাল লাগতেছে না।
_বুঝতে পারছিলাম,কিছু একটা হয়েছে।
_কিছু হয়নি।
ফোনটা কেটে গেল,
সেদিন কেমন জানি লাগতে ছিল,
যা আর কোনোদিন আমার এমন লাগতেছিল না।
মেয়েটাও কেমন জানি গুরু গম্ভির হয়ে গেছে,
চারিদিকে নিস্তব্ধতার আড়ালে নিজেকে লুকায় আড়ালে কাদে তা দেখে কে?
আমি নিজেও তা দেখিনি।
আনমনা মনে বাবাকে মিস করে,
বাবা তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেছ কেন?
আমাকে নিয়ে গেলা না কেন?
আমি তুমাকে খুব মিস করি।
কিছুটা আছ করতে পারলাম খুব বড় একটা কিছু হয়েছে,তা না হলে এক টা মানুষ কিভাবে নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে?
আমাকে কিছু বলেনি।
_ডাক্তারের কাছে গেছিলা?
_হুম
_মেডিসিন গুলা কি দিছে?
_অনেক কিছুই দিছে।
_ঠিক মত মেডিসিন গুলা নিতেছ ত?
_আমি মনে হয় বেশি দিন বাঁচব না।
_আবার মজা নিতেছ?
_না রেইলি।
_কি হয়ছে তুমার?
_ না কিছু না।
_ডাক্তার মিস দিবা না,টাকার দরকার হলে
আমাকে বলবা তবুও ডাক্তার মিস দিবা না।
_টাকা দিয়ে কিছুই হবে না।
_আল্লাহ ভরশা।
_তুমি নামায পড় না কেন?
_ভাল লাগে না নামায পড়তে।
_তুমি নামায পড়বা।
_ট্রাই করব।
সেদিন আর বেশি কথা হয়নি।
অকারনেই ভুল বুঝাবুঝি হইত দুই জনের মাঝে,
_কথা বলবা না?
_না কথা বলার ইচ্ছা নাই যাও ভাল লাগতেছে না।
_প্লিজ
_প্লিজ টিজ কিছু বুঝি না যাও ত।
_আমার কোনো দোষ নাই আর ছিল না।
_হু তুমি ভাল,আমি কি বলছি তুমি খারাপ?
এইভাবেই মেয়েটাকে প্রতিদিন কস্ট দিতাম।
মাঝে মাঝে আমার কাছে কিছু সময় যাইত,
তাও দিতাম না।
সময় কই!
আমি ত বিজি ম্যান।
এক দিন রাগ করে চলেই গেছিল,
আমি আর বাধা দেইনি,
যে চলে যাবার সে চলে যাবেই,
পিছু ফিরে ডাকব না আর!
যাওয়ার পিছনে একটা কারন ছিল;
কারন টা ছিল আমার অজানা।
তারপর আর যোগাযোগ রাখিনি।
সময় তলিয়ে যাচ্ছে,ফুরিয়ে যাচ্ছে জীবন যাত্রার তেল,থেমে যাচ্ছে একটি স্পন্দন।
আমি তখন আমার আমি কে নিয়ে ব্যস্ত।
ইট কাঠ পাথরের সাথে বসবাস করে নিজেও এক টা পাথর হয়ে গেলাম।
চলে যাওয়ার কারন টা জানতে চাইনি।
অনেক ঘৃনা জন্মে ছিল মেয়েটার প্রতি।
মাঝে মাঝে নক দিত,
_এই কেমন আছ?
ইচ্ছা করেই রিপ্লে দিতাম না বা তেমন এক টা গুরুত্ব দিতাম না।
হয়ত মেয়েটার সুখ দুখ শেয়ার করার মানুস টা একমাত্র আমিই ছিলাম?
কাউকে না পেয়ে আমাকেই ফিরে পেতে চাইত।
কিন্তু সেকেন্ডবার কিছু বলার সাহস পেত না।
আমি তখন ও জানি না মেয়েটার সেইদিনের রোগে ক্যান্সার ধরা পড়ছিল,
তাই নিজেকে সে গুটিয়ে নিয়েছিল আমার কাছ থেকে।
আড়াল করে রেখেছিল সব কিছু।
আমি গতকাল রাত পযন্ত জানতাম ওর একটা রোগ হয়ছে,সেটা যে ক্যান্সার তা আমাকে বলেই নি।
আমি যতবার রিপোট দেখতে চাইছি ততবার আমাকে কিছু বলেনি।
আমাকে দুরে ঠেলে দিছে যাও নতুন যাত্রা শুরু কর।
ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষ বেশি দিন বাঁচে না।
মেডিসিন দিয়ে হয়ত কয়েক টা দিন বেশি বাঁচবা,
আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তোমার মৃত্যুর প্রহর গুনব।
মাফ করে দিও,

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

19 − 10 =