মূর্তি ভাংগা ভণ্ড নবী রসূলদের কান্ড-কারখানা ও অসহায় আল্লাহর আহাজারি

আব্রাহামিক ধর্মসমূহের কথা-বার্তা মূর্খ লোকের কাছে খুব সুন্দর লাগবে, কিন্তু জানা-শোনা বিজ্ঞানপ্রিয় মানুষের কাছে ঠিক ততটাই হাস্যকর ঠেকে। ইনাদের আদি গুরু ইব্রাহিমের জ্ঞানের বহর পাবেন কোরানের এই নিচের দেয়া আয়াতগুলোতেঃ

“অতপর যখন রাত তাকে আচ্ছন্ন করলো তখন একটি নক্ষত্র দেখে সে (ইব্রাহিম) বললোঃ এ আমার রব৷ কিন্তু যখন তা ডুবে গেলো, সে বললোঃ যারা ডুবে যায় আমি তো তাদের ভক্ত নই৷” (কোরান ৬/৭৬)
“ তারপর যখন চাঁদকে আলো বিকীরণ করতে দেখলো, বললোঃ এ আমার রব৷ কিন্তু যখন তাও ডুবে গেলো তখন বললোঃ আমার রব যদি আমাকে পথ না দেখাতেন তাহলে আমি পথ ভ্রষ্টদের অন্তরভুক্ত হয়ে যেতাম৷” (কোরান ৬/৭৭)
“এরপর যখন সূর্যকে দীপ্তিমান দেখলো তখন বললোঃ এ আমার রব, এটি সবচেয়ে বড়! কিন্তু তাও যখন ডুবে গেলো তখন ইবরাহীম চীৎকার করে বলে উঠলোঃ হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা! তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক করো তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।” (কোরান ৬/৭৮)

দেখুন একজন তথাকথিত আল্লাহর (বা আব্রাহামিক ধর্মসমূহের সৃষ্টিকর্তার) তথাকথিত নবীর কান্ড! প্রথমে সে নক্ষত্র, চন্দ্র ও সূর্যকে তাঁর সৃষ্টিকর্তা মনে করত! কিন্তু সেগুলো অস্ত যায় বলে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে স্বীকার করেনি। তাহলে প্রশ্ন সেগুলো অস্ত না গেলে কি তিনি সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মেনে নিতেন? আসলে আদিম মানুষ নক্ষত্র, চন্দ্র ও সূর্য, অগ্নি (আগুন), বজ্র-বিদ্যুত ইত্যাদিকে অনেক ক্ষমতাবান ও জীবন্ত মনে করতো। তাই এইসবের প্রতি তাদের নিজেদের গড়া পদ্ধতিতে পূজা ও প্রার্থনা নিবেদন করতো। কালক্রমে মানুষ জানতে পারলো এসব প্রাকৃতিক বস্তু ও প্রাণহীন। তখন তারা মনে করতে শুরু করলো যে এগুলোর পেছনে রয়েছে জীবন্ত কোন সত্ত্বা যা তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে। এভাবে সূর্যের দেবতা, চন্দ্রের দেবতা, মেঘবৃষ্টির দেবতা; আরও পরে মৃত্যুর দেবতা যম বা জীব্রাইল, মেঘবৃষ্টির দেবতা ইন্দ্র বা মিকাইল ইত্যাদি নামকরণ হলো। পরবর্তীতে এইসব দেবতাদের একজন বস বা প্রধান কল্পনা করা শুরু হলো। এই বস বা প্রধান দেবতাই ব্যাবিলনে ও পরে আরবে জিহোবা বা আল্লাহ, ভারতে আদিত্য বা বিষ্ণু, পারস্যে আহুর মজদা। ইঞ্জিল শরিফের জিহোবা আসলে আগ্নেয়গিরি বা অনেকের মতে যুদ্ধের দেবতা, ভারতে আদিত্য বা বিষ্ণু বা নারায়ন হলো সূর্য দেবতার পরিবর্তিত নাম। প্রাকৃতিক বস্তুসমূহের যেমন করে প্রথমে দেবতা, পরে তাদের নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে মানুষসদৃশ জীবন্ত দেবতা ও পরে তাদের একজন প্রধান দেবতা কল্পনা করা হয়েছে ঠিক সেভাবেই এসব দেবতার মূর্তি বানিয়ে তাদের প্রতি পূজা বা প্রার্থনা জানাত। ততদিনে জ্ঞানী মানুষ বুঝে গেছে প্রাকৃতিক শক্তিসমূহ এক চিরন্তন নিয়মে পরিচালিত, ফলে আস্তিক ধর্ম ব্যবিসায়ীরা এই মানুষ সদৃশ প্রধান দেবতাকে সৃষ্টিকর্তা বানাল আর তাকে অদৃশ্য ও নিরাকার বলে প্রচার করতে লাগলো। যদিও সে কথা বলে, রাগ করে, দেখে, শুনে ও সাত আসমানের উপর বসে এই দুনিয়া চালাচ্ছে। ইঞ্জিল ও বাইবেলে তো সদাপ্রভু ইব্রাহিমের সাথে এসে দেখা করে তাঁর সাথে কথা বলেছে অনেকবার। তাঁর পরেও তিনি নাকি অদৃশ্য ও নিরাকার! আসলে এগুলো বলা হয় আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থতার জন্য। অপরদিকে প্রাকৃতিক কার্যকে ঈশ্বর বা আল্লাহর কাজ বলে চালিয়ে দেয়া হয়!

এবার দেখুন ইব্রাহিমের আরও হাস্যকর কান্ড! কোরান থেকে বর্ননা করলামঃ “ইবরাহীম স্বীয় পিতা ও সম্প্রদায়কে বলল, ‘এই মূর্তিগুলি কী যাদের তোমরা পূজারী হয়ে বসে আছ’? (সূরা আম্বিয়া ২১/৫২)। ‘তারা বলল, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এরূপ পূজা করতে দেখেছি’ (৫৩)। ‘সে বলল, তোমরা প্রকাশ্য গুমরাহীতে লিপ্ত আছ এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও’ (৫৪)। ‘তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে সত্যসহ এসেছ, না কেবল কৌতুক করছ’? (৫৫)। ‘সে বলল, না। তিনিই তোমাদের পালনকর্তা, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং আমি এ বিষয়ে তোমাদের উপর অন্যতম সাক্ষ্যদাতা’ (৫৬)। ‘আল্লাহর কসম! যখন তোমরা ফিরে যাবে, তখন আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে একটা কিছু করে ফেলব’ (আম্বিয়া ২১/৫২-৫৭)।

এরপর নবী ইবরাহিম তার পরবর্তী কর্মসূচি শুরু করে দিলেন। একদিন ঐ সমুদয়ের কোনো এক ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সম্প্রদায়ের সকলেই কোনো এক নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হয়েছিলেন। কিন্তু নবী ইবরাহীমের মাথায় অন্য কিছু ছিল। তিনি উৎসবে যোগ দিলেন না। তিনি সোজা পৌছে গেলেন কোনো একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দেবমন্দিরে এবং একে একে সব মূর্তি ভেঙে ফেললেন। শুধু মাত্র বড় একটি মূর্তি ছেড়ে দিলেন এবং খুব সম্ভবত তার গলায় নবীর হাতের কুঠারটি ঝুলিয়ে রাখলেন। এরপর যখন সকলেই ফিরে এলো। তখন সবাই দেখতে পেল তাদের বিশ্বাসের চরম অবমাননা হয়েছে, তাদের লালিত পালিত ঈশ্বর ধূলিসাৎ হয়েছে। অবশ্যই এটা নিদারুনভাবে একটি সম্প্রদায়ে বিশ্বাসে আঘাত করা। তারা বুঝতে পারলো যে, এহেন কার্য অবশ্যই ইবরাহীমই করেছে। তারা ইবরাহীমের কাছে পৌছাল এবং তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলো। ইবরাহীম নবী বেশ চালাকির সাথে উত্তর দিল, তোমাদের উত্তর সেই মূর্তিকে দিতে বলো যে অবশিষ্ট আছে। এ ঘটনার কুরআন হাদিস বিবৃতি:
অতঃপর তিনি দেবালয়ে ঢুকে পড়লেন ও দেব-দেবীদের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, (তোমাদের সামনে এত নযর-নেয়ায ও ভোগ-নৈবেদ্য রয়েছে)। অথচ ‘তোমরা তা খাচ্ছ না কেন? কি ব্যাপার তোমরা কথা বলছ না কেন? তারপর তিনি ডান হাতে রাখা (সম্ভবতঃ কুড়াল দিয়ে) ভীষণ জোরে আঘাত করে সবগুলোকে গুঁড়িয়ে দিলেন (ছাফফাত ৩৭/৯১-৯৩)। তবে বড় মূর্তিটাকে পূর্বাবস্থায় রেখে দিলেন, যাতে লোকেরা তার কাছে ফিরে যায় (সূরা আম্বিয়া ২১/৫৮)।

ইবরাহীম বললেন, বরং এই বড় মূর্তিটাই একাজ করেছে। নইলে এদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তারা কথা বলতে পারে’ (আম্বিয়া ২১/৬৩)। সম্প্রদায়ের নেতারা একথা শুনে লজ্জা পেল এবং মাথা নীচু করে বলল, ‘তুমি তো জানো যে, এরা কথা বলে না’। ‘তিনি বললেন, ‘তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর ইবাদত কর, যা তোমাদের উপকারও করতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না’ (আম্বিয়া ২১/৬৫-৬৬)। তিনি আরও বললেন, ‘তোমরা এমন বস্ত্তর পূজা কর, যা তোমরা নিজ হাতে তৈরী কর’? ‘অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে ও তোমাদের কর্মসমূহকে সৃষ্টি করেছেন’ (ছাফফাত ৩৭/৯৫-৯৬)। ‘ধিক তোমাদের জন্য এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যাদের পূজা কর, ওদের জন্য। তোমরা কি বুঝ না’? (আম্বিয়া ২১/৬৭)।

এখন কথা হলো মূর্তিগুলো যেমন মানুষের ভাল-মন্দ কিছুই করতে পাড়ে না সেরকম আল্লাহও মানুষের ভাল-মন্দ কিছুই করতে পাড়ে না। আমি এখন কোরান থেকেই তা প্রমাণ করবো। হযরত মুহাম্মদ যখন ৪০ বছর বয়সে কোরাইসদের ত্যাগ করে একেশ্বরবাদী হানিফদের দলে যোগ দিলেন এবং হেরা পাহাড়ের গুহায় কিছু দিন থেকে নাটক সাজিয়ে নিজেকে নবী হিসেবে ঘোষণা করলেন তখন আরব্বাসীরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলো কিছু মজেজা বা অলৌকিক কিছু দেখাতে কিন্তু তিনি কিছুই দেখাতে পারলেন না, পারলেন না তাঁর প্রচারিত তথাকথিত আল্লাহও। দেখুন নিচের আয়াতগুলতে মুহাম্মদ ও আরববাসীর কথোপকথনের মধ্যেঃ

“আমি এ কুরআনে লোকদেরকে নানাভাবে বুঝিয়েছি কিন্তু অধিকাংশ লোক অস্বীকার করার ওপরই অবিচল থাকে। (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৮৯)
“তারা বলে, “আমরা তোমার কথা মানবো না যতক্ষণ না তুমি ভূমি বিদীর্ণ করে আমাদের জন্য একটি ঝরণাধারা উৎসারিত করে দেবে। (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৯০)
অথবা তোমার খেজুর ও আংগুরের একটি বাগান হবে এবং তুমি তার মধ্যে প্রবাহিত করে দেবে নদী-নালা। (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৯১)
অথবা তুমি আকাশ ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে তোমার হুমকি অনুযায়ী আমাদের ওপর ফেলে দেবে। অথবা আল্লাহ ও ফেরেশতাদেরকে আমাদের সামনে নিয়ে আসবে। (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৯২)
অথবা তোমার জন্য সোনার একটি ঘর তৈরি হবে। অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে এবং তোমার আরোহণ করার কথাও আমরা বিশ্বাস করবো না যতক্ষণ না তুমি আমাদের প্রতি একটি লিখিত পত্র আনবে, যা আমরা পড়বো।” হে মুহাম্মাদ! এদেরকে বলো, পাক-পবিত্র আমার পরওয়ারদিগার, আমি কি একজন বাণীবাহক মানুষ ছাড়া অন্য কিছু। (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৯৩)
লোকদের কাছে যখনই কোন পথনির্দেশ আসে তখন তাদের একটা কথাই তাদের ঈমান আনার পথ রুদ্ধ করে দেয়। কথাটা এই যে, “আল্লাহ কি মানুষকে রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন?” (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৯৪)
তাদেরকে বলো, যদি পৃথিবীতে ফেরেশতারা নিশ্চিন্তভাবে চলাফেরা করতো তাহলে নিশ্চয়ই আমি কোনো ফেরেশতাকেই তাদের কাছে রসূল বানিয়ে পাঠাতাম। (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৯৫)

দেখুন অবস্থা, আরববাসীরা যখন নবীকে মজেজা দেখাতে বললেন তখন তাঁর বস আল্লাহ বললেন যে তাঁর নবী একজন বাণীবাহক মানুষ ছাড়া অন্য কিছু না! বুঝলাম কিন্তু আল্লাহও তো কোন মজেজে দেখাতে পারলেন না। চ্যালেঞ্জ তো ছিল আল্লাহ ও তাঁর নবী দুজনের প্রতিই। বরং বললেন ফেরেশতারা নাকি পৃথিবীতে নিশ্চিন্তভাবে চলাফেরা করতে পারে না, এই জন্য আল্লাহ তাঁর ফেরেস্তা পাঠাতে পারছে না। মানুষ কি ফেরেস্তা পেলে ধরে বাঁশ দেবে!!! তারা তো বরং নিদর্শন হিসেবে দেখতে চায়, দেখাতে না পেরে দেখেন আল্লাহ আর তাঁর ভূয়া নবীর ফাকিবাজি!

আবার দেখুন—
“ হে নবী! যদি তোমরা প্রতি কাগজে লেখা কোন কিতাবও নাযিল করতাম এবং লোকেরা নিজেদের হাত দিয়ে তা স্পর্শ করেও দেখে নিতো, তাহলেও আজ যারা সত্যকে অস্বীকার করছে তারা তখন বলতো, এটা সুস্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়৷ (কোরান ৬/৭)
তারা বলে, এ নবীর কাছে কোন ফেরেশতা পাঠানো হয় না কেন যদি ফেরেশতা পাঠাতাম, তাহলে এতদিনে কবেই ফায়সালা হয়ে যেতো, তখন তাদেরকে আর কোন অবকাশই দেয়া হতো না ৷ (কোরান ৬/৮)
যদি ফেরেশতা পাঠাতাম তাহলেও তাকে মানুষের আকৃতিতেই পাঠাতাম এবং এভাবে তাদেরকে ঠিক তেমনি সংশয়ে লিপ্ত করতাম যেমন তারা এখন লিপ্ত রয়েছে৷ (কোরান ৬/৯)

দেখুন কান্ড, আল্লাহ কিন্তু কোরান কাগজের পাতায় একবারে তুলে দেয়ার চ্যালেঞ্জ এ পরাজিত হলেন, মানে কোরান মুহাম্মাদের নিজের কথা কোন অলৌকিক আল্লাহর নয়। আর ফেরেস্তাকে মানুষের আকৃতিতে কেন, অন্য আকৃতিতে পাঠালেই তো হতো। মনে করুন, আপনি বললেন আপনি অলৌকিক ক্ষমতা ধারণ করেন। স্বভাবতই মানুষ তা দেখতে চাইবে। আপনি তখন বললেন, আমি যদি আমার অলৌকিক ক্ষমতা দেখাই তাহলে আপনারা এটাকে যাদু হিসেবে মনে করবেন, তাই আমি আমার অলৌকিক ক্ষমতা দেখাবো না। আরে ব্যাটা, আগে তো দেখাও তাঁর পর দেখা যাবে যাদু নাকি অলৌকিক!!

আবার দেখুন,
“তার বলে, এ কেমন রসূল, যে খাবার খায় এবং হাটে বাজারে ঘুরে বেড়ায়? কেন তার কাছে কোন ফেরেশতা পাঠানো হয়নি, যে তার সাথে থাকতো এবং (অস্বীকারকারীদেরকে) ধমক দিতো? (কোরান ২৫/৭)
অথবা আর কিছু না হলেও তার জন্য অন্তত কিছু ধন-সম্পদ অবতীর্ণ করা হতো অথবা তার কাছে থাকতো অন্তত কোন বাগান, যা থেকে সে (নিশ্চিন্তে ) রুজি সংগ্রহ করতো ?” আর জালেমরা বলে, “তোমরা তো একজন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির অনুসরণ করছো৷” (কোরান ২৫/৮)
দেখো, কেমন সব উদ্ভট ধরনের যুক্তি তারা তোমর সামনে খাড়া করেছে, তারা এমন বিভ্রান্ত হয়েছে যে, কোন কাজের কথাই তাদের মাথায় আসে না৷ (কোরান ২৫/৯)
বড়ই বরকত সম্পন্ন তিনি যিনি চাইলে তাঁর নির্ধারিত জিনিস থেকে অনেক বেশী ও উৎকৃষ্টতর জিনিস তোমাকে দিতে পারেন, (একটি নয়) অনেকগুলো বাগান যেগুলো পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং বড় বড় প্রাসাদ৷ (কোরান ২৫/১০)
আসল কথা হচ্ছে, এরা “ সে সময়টিকে” মিথ্যা বলেছে এবং যে সে সময়কে মিথ্যা বলে তার জন্য আমি জ্বলন্ত আগুন তৈরি করে রেখেছি৷ (কোরান ২৫/১১)
আগুন যখন দূর থেকে এদের দেখবে তখন এরা তার ক্রুদ্ধ ও উত্তেজিত চিৎকার শুনতে পাবে৷ (কোরান ২৫/১২)
আর যখন এরা শৃংখলিত অবস্থায় তার মধ্যে একটি সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষিপ্ত হবে তখন নিজেদের মৃত্যুকে ডাকতে থাকবে৷ (কোরান ২৫/১৩)
(তখন তাদের বলা হবে) আজ একটি মৃত্যুকে নয় বরং বহু মৃত্যুকে ডাকে৷ (কোরান ২৫/১৪)

** মানে বুঝলেন কিছু! তিনি চাইলে অনেক কিছু পারেন, কিন্তু তিনি করবেন না। আমরা বলি করেই দেখান না কেন? উহুদের যুদ্ধে হেরে গেলে বলে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে ইমানের, আর জিতলে বলে আল্লাহ ফেরস্তা পাঠিয়েছেন, কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনি! পরকালের ভয় দেখানো ছাড়া নবী ও আল্লাহর আর কিছুই করার ক্ষমতা নেই। যেমন নেই কোন অক্ষম মানুষেরও!

তাই বলছি, কোরান আগুলে পুড়ে গেলে আল্লাহ রক্ষা করতে পারে না কেন? বাবরি মসজিদ ভাঙলে আল্লাহ যেমন তাঁর ঘর রক্ষা করতে পারে না, তেমনি পারে অন্য ধর্মের স্রষ্টারাও!!!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “মূর্তি ভাংগা ভণ্ড নবী রসূলদের কান্ড-কারখানা ও অসহায় আল্লাহর আহাজারি

  1. আপনি আমার পোস্ট থেকে কোরানের
    আপনি আমার পোস্ট থেকে কোরানের আয়াত কপি পেস্ট করে রেফারেন্স দিয়েছেন তাতে সমস্যা নেই।তবে একবার ভালোভাবে দেখে নেয়া উচিত ছিল।কারন আয়াতের সাথে আমার লেখার খানিকটাও চলে এসেছে।

    1. ভাই, আপনার পোস্টটিই আমার
      ভাই, আপনার পোস্টটিই আমার পোস্টের অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আপনার পোস্ট থেকে কিছু আয়াত নেয়া হয়েছে, কারণ অনলাইন থেকে নিলে কিছু এডিট করতে হয়, এজন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা রইল।

      আপনি ঠিক বলেছেন যে সব প্রশ্নের উত্তর আছে মানবতায়।। ধন্যবাদ….

  2. “দেখুন কান্ড, আল্লাহ কিন্তু
    “দেখুন কান্ড, আল্লাহ কিন্তু কোরান কাগজের পাতায় একবারে তুলে দেয়ার চ্যালেঞ্জ এ পরাজিত হলেন, মানে কোরান মুহাম্মাদের নিজের কথা কোন অলৌকিক আল্লাহর নয়।”- আপনার এ ধরনের বিশ্লেষন প্রমান করে আপনি একজন নব্যনাস্তিক। সেটা সমস্যা না।
    আমার মনে হয়, আপনি ““ হে নবী! যদি তোমরা প্রতি কাগজে লেখা কোন কিতাবও নাযিল করতাম এবং লোকেরা নিজেদের হাত দিয়ে তা স্পর্শ করেও দেখে নিতো, তাহলেও আজ যারা সত্যকে অস্বীকার করছে তারা তখন বলতো, এটা সুস্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়৷ (কোরান ৬/৭)”- আয়াতের অপব্যাখ্যা করেছেন। নিজে যেভাবে ভাবলে নিজের নাস্তিকতা প্রতিষ্ঠিত করতে সুবিধা হয় সেভাবে ভেবেছেন। এই আয়াতে আল্লাহ বলতে চেয়েছেন, কুরআন একসাথে কাগজের বই হিসেবে নবী মুহাম্মাদ কে প্রদান করা হলেও অবিশ্বাসীরা একে জাদু বলতো। আর এটাতো সত্য, সে সময়ের আরবে যে কোন অলৌকিক কিছুই চমৎকার জাদু হিসেবে গণ্য হতো। তাই আল্লাহর এই দাবীর মধ্যে আমি অন্যায় বা ফাকি’র কিছু দেখি না। আর ইসলামিক দাবীমতে কুরআন নাজিলের একটা প্যাটার্ন আছে। নবী মুহাম্মাদ এর জীবনকালের নানা ঘটনায় একে একে কুরআন প্রকাশিত হয়েছে। আজকে যে সাজানো কুরআন দেখেন সেটা তাঁর মৃত্যুর পর সংরক্ষণের প্রয়োজন থেকে সাজানো ফর্মে লিখা হয়েছে। আর কুরআন পুড়লে তো আল্লাহর কোন ক্ষতি নেই। কয়টা পুড়াবেন। দুনিয়ার সব কুরআন পুড়িয়ে ফেললেও কুরআন থেকে যাবে বলে আমার মনে হয়। যদি তর্কের খাতিরে মেনেও নেই যে কুরআন মানুষের লেখা বই। তবুও তো, দ্বিতীয় এমন আরেকটা বই দেখান যেটা ১৪০০ বছর ধরে অবিকৃত আছে। যে বই ১৪০০ বছরের যুদ্ধ আর বিবর্তন এর সাক্ষী, সে বই আগামি দিনেও যদি টিকে থাকার দাবী করে, আমি সেই দাবীকে উড়িয়ে দেয়ার পক্ষে না।

    সবশেষে বলি, আপনার জায়গায় আমি হলে আরো না পড়ে, আরো নির্মোহ আর নিরাবেগ না হয়ে লিখতাম না। আপনার লেখার প্রতি লাইনে আপনার অবজ্ঞা, ঘৃণা আর নাস্তিকতার প্রতি ব্যক্তিগত মোহ ফুটে উঠেছে। আপনি জ্ঞানের চেয়ে ঘৃণাবাদের চর্চা বেশি করছেন বলে মনে হয়েছে আমার। আপনাকে উপদেশ পরামর্শ দিচ্ছি না, আপনি এসবের তোয়াক্কা করেন না জানি। জাস্ট আপনার লেখা পড়ে অনুভুতি প্রকাশ করলাম। আরো নির্মোহ হবার সুযোগ রয়েছে এই লেখায়।

    1. ঐ সব ধুনফুন বাদ দিয়া এতবড়
      ঐ সব ধুনফুন বাদ দিয়া এতবড় অবজ্ঞা আর অপমানের জন্য আলোকিতের বিচি দুইটা খুইল্যা পইড়া যাওয়া আর মাথার উপর বর্জপাত হওয়া। আল্লাহর উচিত এখনই তা ঘটানো।

      1. ভাইজান, ঠিক বলেছেন আপনি।
        ভাইজান, ঠিক বলেছেন আপনি। আরবের লোকেরা বলেছিল কিছু মজেজে দেখালে তারা বিনা বাক্য ব্যয়ে মোহাম্মদের আল্লাহর উপর ইমান আনবেন। কিন্তু হতাশ হলেন তারা। তাই ব্যর্থতা আরব্বাসীদের কিছুই ছিল না, ছিল নবী ও তাঁর আল্লাহর। আজ আমরাও আরব্বাসীদের মত পথ চেয়ে আছি! যেমন্টা কোরানে বলা হয়েছে, “তারা তো চেয়ে আছে আসমানের দিকে কখন আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠাবে।”

      2. আলোকিত ভাই এর কি হবে সেটা তো
        আলোকিত ভাই এর কি হবে সেটা তো আপনি নির্ধারণ করার কেউ না। এমনকি, আপনার কি হবে সেটা নির্ধারণ করার ক্ষমতাও আপনার নেই। বহু নাস্তিক দেখেছি, একটা হার্টবিট মিস করলেই আল্লাহ আল্লাহ করা শুরু করে। অনেকে বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে চমকের পর চমক দিচ্ছে। যা একদিন কল্পনাতেও ছিলো না, মানুষ এখন সেই জ্ঞানের হদিসও পাচ্ছে। আপনারা জানার চেষ্টা করছেন সেটা নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু এতো অল্প জেনেই সব জানা হয়ে গেছে এরকম একটা ঘাড়ের রগ ফুলানো অ্যারোগ্যান্স দেখানোর তো কিছু দেখি না। আপনাদের বিষয়ে একটাই চাওয়া, যেদিন এই ব্লকহেডেড দম্ভের শাস্তি পাবেন সেদিন যেন বুঝতে পারেন, কোন কর্মফল ভোগ করছেন।

    2. ভাইসাব, পড়াশুনার আসলে কোন শেষ
      ভাইসাব, পড়াশুনার আসলে কোন শেষ নেই। তবে আমি যে কম পড়াশনা করেছি সেটা আপনি নিশ্চিত হলেন ক্যামনে ভাই? আপনার মধ্যে আত্ম-জিজ্ঞাসা থাকলে আমার পোস্টের মাহাত্ম্য বুঝতে পারবেন, অন্যথা নয়। ধন্যবাদ ভাই………..

  3. “দেখুন কান্ড, আল্লাহ কিন্তু
    “দেখুন কান্ড, আল্লাহ কিন্তু কোরান কাগজের পাতায়
    একবারে তুলে দেয়ার চ্যালেঞ্জ এ পরাজিত হলেন,
    মানে কোরান মুহাম্মাদের নিজের কথা কোন অলৌকিক
    আল্লাহর নয়।”- আপনার এ ধরনের বিশ্লেষন প্রমান
    করে আপনি একজন নব্যনাস্তিক। সেটা সমস্যা না।
    আমার মনে হয়, আপনি ““ হে নবী! যদি তোমরা প্রতি
    কাগজে লেখা কোন কিতাবও নাযিল করতাম এবং
    লোকেরা নিজেদের হাত দিয়ে তা স্পর্শ করেও দেখে
    নিতো, তাহলেও আজ যারা সত্যকে অস্বীকার করছে
    তারা তখন বলতো, এটা সুস্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই
    নয়৷ (কোরান ৬/৭)”- আয়াতের অপব্যাখ্যা করেছেন।
    নিজে যেভাবে ভাবলে নিজের নাস্তিকতা
    প্রতিষ্ঠিত করতে সুবিধা হয় সেভাবে ভেবেছেন। এই
    আয়াতে আল্লাহ বলতে চেয়েছেন, কুরআন একসাথে
    কাগজের বই হিসেবে নবী মুহাম্মাদ কে প্রদান করা
    হলেও অবিশ্বাসীরা একে জাদু বলতো। আর এটাতো
    সত্য, সে সময়ের আরবে যে কোন অলৌকিক কিছুই
    চমৎকার জাদু হিসেবে গণ্য হতো। তাই আল্লাহর এই
    দাবীর মধ্যে আমি অন্যায় বা ফাকি’র কিছু দেখি
    না। আর ইসলামিক দাবীমতে কুরআন নাজিলের একটা
    প্যাটার্ন আছে। নবী মুহাম্মাদ এর জীবনকালের
    নানা ঘটনায় একে একে কুরআন প্রকাশিত হয়েছে।
    আজকে যে সাজানো কুরআন দেখেন সেটা তাঁর মৃত্যুর পর
    সংরক্ষণের প্রয়োজন থেকে সাজানো ফর্মে লিখা
    হয়েছে। আর কুরআন পুড়লে তো আল্লাহর কোন ক্ষতি
    নেই। কয়টা পুড়াবেন। দুনিয়ার সব কুরআন পুড়িয়ে
    ফেললেও কুরআন থেকে যাবে বলে আমার মনে হয়। যদি
    তর্কের খাতিরে মেনেও নেই যে কুরআন মানুষের
    লেখা বই। তবুও তো, দ্বিতীয় এমন আরেকটা বই দেখান
    যেটা ১৪০০ বছর ধরে অবিকৃত আছে। যে বই ১৪০০
    বছরের যুদ্ধ আর বিবর্তন এর সাক্ষী, সে বই আগামি
    দিনেও যদি টিকে থাকার দাবী করে, আমি সেই
    দাবীকে উড়িয়ে দেয়ার পক্ষে না।
    সবশেষে বলি, আপনার জায়গায় আমি হলে আরো না
    পড়ে, আরো নির্মোহ আর নিরাবেগ না হয়ে লিখতাম
    না। আপনার লেখার প্রতি লাইনে আপনার অবজ্ঞা,
    ঘৃণা আর নাস্তিকতার প্রতি ব্যক্তিগত মোহ ফুটে
    উঠেছে। আপনি জ্ঞানের চেয়ে ঘৃণাবাদের চর্চা
    বেশি করছেন বলে মনে হয়েছে আমার। আপনাকে
    উপদেশ পরামর্শ দিচ্ছি না, আপনি এসবের তোয়াক্কা
    করেন না জানি। জাস্ট আপনার লেখা পড়ে অনুভুতি
    প্রকাশ করলাম। আরো নির্মোহ হবার সুযোগ রয়েছে
    এই লেখায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 + = 18