রিচার্ড ডকিন্সের বাস্তবতার জাদু – তৃতীয় অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

?oh=b38f6f7fe8b762a89eefac42a0b536f2&oe=587D45FC” width=”400″ />
রিচার্ড ডকিন্সের বাস্তবতার জাদু – তৃতীয় অধ্যায় (প্রথম পর্ব)
কেন এত বেশী বিচিত্র ধরনের জীব?

কোনো প্রাণি যেমন দেখতে, কেন তারা এমন দেখতে হয়, সেটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে নানা ধরনের পূরাণ কাহিনী – কিংবদন্তীর সেই গল্পগুলো ‘ব্যাখ্যা’ করেছে, যেমন, কেন চিতাবাঘের গায়ে ফোটা ফোটা দাগ থাকে, কেন খরগোশের সাদা লেজ থাকে । কিন্তু খুব বেশী কোনো পূরাণ কাহিনী নেই, যা কিনা পৃথিবীতে এই অসংখ্য ধরনের বৈচিত্রময় জীবদের অস্তিত্বের কারণ কি সে ব্যপারে কিছু ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করেছে। ‘টাওয়ার অব বাবেল’ এর সেই ইহুদী পুরাণ কাহিনীর সমতুল্য আমি কোনো কিছু পাইনি, যা পৃথিবীতে বহু বৈচিত্রময় ভাষার উপস্থিতি ‘ব্যাখ্যা’ করেছিল। বহু দিন আগে, এই কাহিনী অনুযায়ী, সারা পৃখিবীর মানুষ একই ভাষায় কথা বলতো। সুতরাং তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে একটি অনেক উঁচু টাওয়ার নির্মাণ করেছিল, তারা আশা করেছিল সেই টাওয়ারটি যেন আকাশ স্পর্শ করে। কিন্তু ঈশ্বর ব্যপারটি লক্ষ্য করেছিলেন, এবং সবাই যে অন্য সবাইকে বুঝতে সক্ষম হচ্ছে বিষয়টি তার বিশেষ পছন্দ হয়নি। কারণ মানুষরা যদি সবাই সবার ভাষা বোঝে আর একসাথে কাজ করে, তাহলে এরপরে তারা কি না করতে পারে? সুতরাং তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তাদের সব ভাষাগুলোকে ‘বিশৃঙ্খল আর তালগোল পাকিয়ে’ দেবেন, যেন তারা একে অপরের কথা বুঝতে না পারে। সুতরাং এই পূরাণ কাহিনীটি বলছে, কেন পৃথিবীতে এত ভিন্ন ভিন্ন ভাষা আমরা দেখতে পাই এবং কেন, যখন মানুষ অন্য গোত্র বা দেশের মানুষের সাথে কথা বলতে চায়, তাদের কথা শুনলে পরস্পরের কাছে মনে মনে হয় অর্থহীন বকবকানী। যথেষ্ট অদ্ভুত ব্যপার হচ্ছে ইংরেজী ‘ব্যবল’ ( যার অর্থ অসংলগ্ন বা অর্থহীন কথা বলা বা বকবক করা) আর টাওয়ার অব বাবেল এর মধ্যে কোনে শব্দের উৎপত্তিগত যোগসূত্রতা নেই।

একই ধরনের পূরাণ খুজে পাবো বলেই আমি আশা করেছিলাম, যা কিনা পৃথিবীতে নানা ধরনের বৈচিত্রময় জীবদের উপস্থিতি ব্যাখ্যা করবে, কারণ প্রাণি ও ভাষা বিবর্তনের মধ্যে খানিকটা সদৃশ্যতা আছে, যেমনটি আমরা দেখবো পরে। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে যে আসলেই এমন কোনো পুরাণ নেই, যা সুনির্দিষ্টভাবে বহু বিচিত্র জীবের এই অতি বিশাল সংখ্যাটি ব্যাখ্যা করেছে। এটি বেশ বিস্ময়কর, কারণ পরোক্ষ প্রমাণ আছে যে, আদিবাসী মানুষরা সেই বাস্তব সত্যটি সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন যে, বহু ধরনের প্রাণি আছে। ১৯২০ এর দশকে, এখন অত্যন্ত বিখ্যাত জার্মান বিজ্ঞানী, আর্নস্ট মায়ার পাপুয়া নিউ গিনির পাহাড়ী এলাকায় পাখিদের নিয়ে যুগান্তকারী একটি গবেষণা করেছিলেন। তিনি প্রায় ১৩৭ প্রজাতির বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন, এবং এরপর তিনি আবিষ্কার করেন, আর অবশ্যই বিস্ময়ের সাথে, স্থানীয় পাপুয়া আদিবাসীদের কাছে এই ১৩৬ পাখির জন্যই আলাদা আলাদা নাম আছে।

আবার পুরাণে ফিরে যাই। উত্তর আমেরিকার হপি গোত্রের আদিবাসীদের এক দেবী ছিলেন, যার নাম স্পাইডার উওম্যান। তাদের সৃষ্টিতত্ত্বের পূরাণে, এই দেবী সূর্য দেবতা তাওয়া’র সাথে জোট বেধেছিলেন, এবং প্রথমে তাদের জাদুকরী গান গেয়েছিলেন দ্বৈতভাবে। এই গানটি সৃষ্টি করেছিল পৃথিবী, জীবন। স্পাইডার উওম্যান এরপর তাওয়ার চিন্তার সুতোগুলোকে নিয়ে বুনে রুপ দিয়েছিলেন মাছ, পাখি এবং অন্য সব প্রাণিদের।

উত্তর আমেরিকার অন্য গোত্রগুলো যেমন, পুয়েবলো আর নাভাহো আদিবাসীদের একটি পুরাণ কাহিনী আছে যার সাথে বিবর্তনের খুব সামান্য কিছু মিল আছে: পৃথিবী থেকে জীবন বেরিয়ে এসেছিল যেমন করে কোনো বিকাশমান উদ্ভিদ বেড়ে ওঠে ধারাবাহিক কিছু ধাপের অনুক্রমে। পোকামাকড়রা তাদের জগত, প্রথম বা লাল বিশ্ব থেকে, উপরে উঠে আসে দ্বিতীয় বিশ্বে, নীল বিশ্ব, যেখানে পাখিদের বাস। দ্বিতীয় বিশ্ব এরপর আরো বেশী জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে, সেকারণে পাখিরা আর কীটপতঙ্গরা উড়ে যায় তৃতীয় জগতে বা হলুদ বিশ্বে যেখানে মানুষ আর স্তন্যপায়িদের বাস। এর পর হলুদ বিশ্বও ক্রমে জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে, খাদ্যের ঘাটতি দেখা যায়, এবং সবাই চতুর্থ বিশ্বে উঠে আসে, সাদা আর কালো বিশ্বে, দিন ও রাতের বিশ্ব। এখানে দেবতারা ইতিমধ্যেই বুদ্ধিমান মানুষদের সৃষ্টি করে রেখেছিলেন, যারা জানতো কিভাবে চতুর্থ বিশ্বে চাষাবাদ করা যায়, এবং তারা নবাগতদের শিখিয়েছিল কিভাবে শস্য উৎপাদন করতে চাষাবাদ করতে হয়।

?oh=2ccf4455f24b905e6a8ec5a67d4fc231&oe=587F26BF” width=”400″ />

ইহুদীদের সৃষ্টি পূরাণ জীববৈচিত্র্যতার ব্যাপারে খানিকটা সুবিচার করেছে বলা যেতে পারে, তবে এটি ব্যাখ্যা করার কোনো চেষ্টা করেনি। আসলেই, হহুদীদের পবিত্র গ্রন্থে দুটি ভিন্ন সৃষ্টিতত্ত্ববাদের পূরাণ আছে, যেমনটি আমরা এর আগের অধ্যায়ে দেখেছিলাম। প্রথমটিতে, ঈশ্বর সবকিছুরই মাত্র ছয়দিনে সৃষ্টি করেন। পঞ্চম দিনে তিনি মাছ, তিমি ও অন্য সামুদ্রিক প্রাণিদের সৃষ্টি করেন, এছাড়াও আকাশে ওড়া পাখি। ষষ্ঠ দিনে তিনি বাকী সব স্থলবাসী প্রাণিদের সৃষ্টি করেন মানুষ সহ। পুরাণের ভাষা কিছুটা নজর দিয়েছিল জীবিত প্রাণিদের সংখ্যা ও তাদের বৈচিত্রময়তা ব্যাখ্যা করার জন্য।

যেমন, ‘ঈশ্বর সৃষ্টি করেছিলেন বিশাল তিমিদের এবং প্রতিটি জীবিত প্রাণি যারা নড়াচড়া করে, পানি যা জন্ম দিয়েছিল প্রচুর পরিমানে তাদের সেই নানা প্রকারের, এবং প্রতিটি ডানাওয়ালা পাখিদের আলাদা করে। এবং সৃষ্টি করেছেন, ‘পৃথিবীর প্রতিটি জন্তু’ এবং ‘সব কিছু যা পৃথিবীর উপর হামাগুড়ি দিয়ে চলে’। কিন্তু কেন এই বৈচিত্রময়তা? আমাদের সেটি বলা হয়নি।

দ্বিতীয় পূরাণে আমরা কিছুটা আভাস পাই যে ঈশ্বর হয়তো ভেবেছিলেন যে প্রথম মানুষের বিচিত্র ধরনের সঙ্গীর দরকার আছে। অ্যাডাম, প্রথম মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছিল একা, এবং তাকে সুন্দর স্বর্গোদ্যানে রাখা হয়েছিল, কিন্তু তারপর ঈশ্বর অনুধাবন করলেন যে, মানুষের একা থাকা উচিৎ না। ‘সুতরাং তিনি স্থলে প্রতিটি প্রাণি আরা আকাশে প্রতিটি পাখি সৃষ্টি করলেন এবং তাদের অ্যাডামের কাছে নিয়ে আসেন দেখাতে, কি নামে সে তাদের ডাক’।


কিন্ত আসলেই … এত বিচিত্র ধরনের প্রাণি কেন?

সব জীবের নাম দেয়ার কাজটি স্পষ্টতই বেশ কঠিন ছিল – প্রাচীন হিব্রুদের পক্ষে যতটুকু বোঝা সম্ভব হয়েছিল তার চেয়ে বেশী। অনুমান করা হয় প্রায় ২ মিলিয়ন প্রজাতিকে আপাতত আমরা বৈজ্ঞানিক নাম দিতে পেরেছি, এবং এটি যে প্রজাতিদের এখনও বৈজ্ঞানিক নাম দেয়া সম্ভব হয়নি তার খুব ক্ষুদ্র একটি অংশ।

কিন্তু আমরা কিভাবে সিদ্ধান্ত নেই যে দুটি জীব একই প্রজাতির সদস্য, নাকি তারা দুটি ভিন্ন প্রজাতির ? যে জীবরা যৌন প্রজনন করে, সেখানে আমরা একটা সংজ্ঞা প্রস্তাব করতে পারি। জীবরা ভিন্ন প্রজাতির হবে, যদি তারা পরস্পরের সাথে প্রজনন করতে না পারে। কিন্তু ব্যতিক্রম আছে যেমন, ঘোড়া আর গাধা, যারা পরস্পরের সাথে প্রজনন করতে পারে, এবং সন্তানও জন্ম দিতে পারে ( যাদের বলা হয় মিউল বা হিনিস – খচ্চর) তবে তারা অনুর্বর, তার মানে এরা নিজেরা কোনো সন্তানের জন্ম দিতে পারেনা। আমরা সেকারণে ঘোড়া আর গাধাকে ভিন্ন প্রজাতিতে শ্রেণীভুক্ত করেছি। আরো সুস্পষ্ট উদহারণ যেমন ঘোড়া আর কুকুররা ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির সদস্য কারণ তারা এমনকি চেষ্টাও করেনা নিজেদের মধ্যে প্রজনন করতে, এবং যদি তারা সেটি করেও তারা কোনো সন্তানের জন্ম দিতে পারবেনা, এমনকি অনুর্বর কোনো সন্তানও। কিন্তু স্প্যানিয়েল আর পুডলস জাতের কুকুর একটি প্রজাতির সদস্য কারণ নিজের মধ্যে সহজেই প্রজনন করতে পারে, এবং তাদের সন্তানও উর্বর, অর্থাৎ তারাও সন্তানের জন্ম দিতে পারবে।

?oh=d1b9ba442142b5da30051ed0d03795a7&oe=583DE7FF” width=”400″ />

প্রতিটি জীবের বৈজ্ঞানিক নামে দুটি ল্যাটিন শব্দ আছে, সাধারণত ইটালিক হরফে লেখা হয়। প্রথম শব্দটি হচ্ছে জিনাস বা গণ বা প্রজাতিদের গ্রুপ ইঙ্গিত করে এবং দ্বিতীয় শব্দটি সেই জিনাসের মধ্যে নির্দিষ্ট প্রজাতিকে নির্দেশ করে। হোমো সেপিয়েনস (Homo sapiens – জ্ঞানী মানুষ) আর এলিফাস ম্যাক্সিমাস (Elephas maximus -খুব বড় হাতি) যেমন উদহারণ। প্রতিটি প্রজাতি একটি জিনাসের (গণ) সদস্য। হোমো হচ্ছে একটি জিনাস, তেমনি এলিফাসও। সিংহ হচ্ছে প্যানথেরা লিও (Panthera leo) এবং জিনাস প্যানথেরার মধ্যে আছে প্যানথেরা টাইগ্রিস (Panthera tigris) (বাঘ),প্যানথেরা পারদুস ( Panthera pardus) ( চিতাবাঘ বা প্যানথার) এবং প্যানথেরা ওনকা (Panthera onca) ( জাগুয়ার)। আমাদের হোমো জিনাসে কেবল একটি প্রজাতি এখনও বেঁচে আছে, কিন্তু জীবাশ্মদের যেমন নাম দেয়া হয়েছে, হোমো ইরেকটাস (Home erectus) এবং হোমো হ্যাবিলিস (Homo habilis) ইত্যাদি। অন্য মানব সদৃশ্য জীবাশ্মগুলো হোমো থেকে যথেষ্ঠ পরিমানে ভিন্ন যে তাদের ভিন্ন একটি জিনাসে শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে, যেমন অষ্ট্রালোপিথেকাস আফ্রিকানাস (Australopithecus africanas) এবং অস্ট্রালোপিথেকাস আফারেনসিস (Australopithecus afarensis) ( না..অস্ট্রেলিয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, প্রসঙ্গক্রমে অস্ট্রালো মানে দক্ষিণের, অস্ট্রেলিয়া নামটাও সেখান থেকেই এসেছে।)

প্রতিটি জিনাস একটি পরিবার বা ফ্যামিলির অন্তর্ভুক্ত, সাধারণ রোমান হরফে বড় হাতের প্রথম অক্ষরসহ এটি লেখা হয়। ক্যাটস বা বিড়ালরা ( যার মধ্যে আছে সিংহ, চিতাবাঘ, লিঙ্কস এবং আরো অনেক ছোট আকারের বিড়াল) মিলে ফেলিডি (Felidae) পরিবার তৈরী করে। প্রতিটি পরিবার আবার একটি অর্ডার বা বর্গের সদস্য। বিড়াল, কুকুর, ভালুক, উইজেল, হায়েনা এরা ভিন্ন ফ্যামিলির হলেও তারা সবাই কার্নিভরা (Carnivora) অর্ডারের সদস্য। বানর, এইপ ( আমরা সহ) এবং লেমুররা সব ভিন্ন ভিন্ন ফ্যামিলির তবে প্রাইমেট (Primate) অর্ডারের। এবং প্রতিটি অর্ডার আবার একটি ক্লাস বা শ্রেণীর সদস্য, সব স্তন্যপায়ীরা ম্যামালিয়া (Mammalia) শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।

আপনি কি অনুভব করতে পারছেন যে একটি গাছের ধারণা আপনার মনে মধ্যে গড়ে উঠছে ক্রমশ, যখন আপনি শ্রেণীবিন্যাসের বিবরণটি পড়ছিলেন? এটাই পারিবারিক বৃক্ষ – একটি গাছ যার বহু শাখা আছে, প্রতিটি শাখার আছে উপশাখা, প্রতিটি প্রশাখাও আবার বিভক্ত বেশ কয়েকটি ধাপে। প্রতিটি ডালের শেষ মাথাগুলো হচ্ছে প্রজাতি। অন্য গ্রুপিং, শ্রেণী বর্গ, পরিবার, গণ হচ্ছে শাখা, প্রশাখা উপশাখা। পুরো বৃক্ষটাই পৃথিবীর সমস্ত জীবনের প্রতিনিধিত্ব করছে।

?oh=d0bf3d3a8e2190767b648e4545f85aaf&oe=5886154A” width=”400″ />

চিন্তা করে দেখুন গাছটিতে এত বেশী শাখা প্রশাখা কেন? শাখাগুলোও আবার উপশাখায় বিভাজিত । যখন আমাদের যথেষ্ঠ পরিমান শাখার শাখার শাখা হবে, তাহলে গাছের ছোট ডালের সংখ্যাও অনেক বেশী হবে। বিবর্তনে সেটাই ঘটে। চার্লস ডারউইন নিজে একটি শাখা বিভাজিত হওয়া গাছ এঁকেছিলেন, তার বিখ্যাত ‘অন দি অরিজিন অব স্পিসিস’ বইয়ে একমাত্র ছবি হিসাবে। এর একটি প্রাথমিক সংস্করণ তিনি এঁকেছিলেন কয়েক বছর আগে তার নোটবুকে। পৃষ্ঠার উপর সেখানে তিনি রহস্যময় একটি ছোট বার্তা লিখেছিলেন তার নিজের জন্য: ‘আই থিঙ্ক’। আপনি কি ভাবছেন বলুন তো, তিনি কি বোঝাতে চেয়েছিলেন এই বাক্যটি দিয়ে? হয়তো তিনি কোনো একটি বাক্য লিখতে শুরু করেছিলেন এবং তার ছেলে মেয়েদের কেউ এসে বিরক্ত করায় হয়তো বাক্যটি তিনি লিখে শেষ করতে পারেননি।

হয়তো এই বাক্যটাকে শব্দের চেয়ে সহজ মনে হয়েছিল তার তিনি ডায়াগ্রামটিকে নিয়ে কি ভাবছেন তা প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। হয়তো আমরা কখনোই তা জানতে পারবো না। সেই পৃষ্ঠায় আরো একটি হাতের লেখা আছে, কিন্তু সেটি মর্মোদ্ধার করা বেশ কঠিন। মহান বিজ্ঞানীদের সত্যিকার নোটগুলো পড়া লোভনীয়, যা হয়তো কোনো বিশেষ দিনে তিনি লিখে রেখেছিলেন নিজের জন্য, প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে নয়।

পরের অংশটি কিভাবে জীবদের এই গাছটি শাখা প্রশাখায় বিভাজিত হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে সেটি আলোচনা করবে না, কিন্তু আপনাকে মূলনীতি সম্বন্ধে একটি ধারণা দেবে। কল্পনা করুণ একটি আদি পূর্বসূরি প্রজাতি বিভাজিত হয়েছে দুটি প্রজাতিতে। এরপর যদি সেই প্রজাতি দুটি আরো দ্বিবিভাজিত হয় তাহলে সংখ্যা দাড়াবে চার। তাদের প্রত্যেকটি যদি দ্বিবিভাজিত হয় তাহলে হবে আটটি, এভাবে ১৬,৩২,৬৪,১২৮,২৫৬, ৫১২ ..; আপনি দেখতে পারছেন যে যদি এই দ্বিগুণ হওয়া আপনি অব্যহত রাখেন, খুব বেশী সময় লাগবেনা মিলিয়ন সংখ্যক প্রজাতিতে পৌছাতে। হয়তো বিষয়টি আপনি বুঝতে পারছেন, কিন্তু আপনি হয়তো ভাবছেন, কেন একটি প্রজাতি বিভাজিত হবে। বেশ, এটি অনেকটাই মানব ভাষা যেকারণে বিভাজিত হয়েছে সেই একই কারণে, তাহলে আসুন একটি বিরতি নেই সেই বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য।

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

74 − = 70