জনাব আলহাজ আবদুল গাফফার চৌধুরী, প্লীজ ইসলামের অপকীর্তি ঢাকার অপচেষ্টা করবেন না!

সমকাল পত্রিকায় জনাব আলহাজ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা ‘হুঁশিয়ার ইসলাম, ডুবে তব সূর্য’ লেখাটি মূলত ইসলামের প্রচারের উদ্দেশ্যে ও ইসলামের সমস্ত অপকর্ম আড়াল করার জন্য লেখা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। সব তথাকথিত সুশীল মডারেট মুসলিমের মতো তিনিও কিছু আকডুম-বাকডুম আমাদের শোনালেন! অবাক হলাম, তিনি কি কোরান, হাদিস, সুন্না কখনও পড়েননি? নাকি সব জেনেও ইসলামের সব অপকর্ম ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব গোপন করে ইসলামকে মহিমান্বিত করার সুচতুর এজেন্ডা হাতে হিয়েছেন!

প্রথমতঃ
গাফ্ফার চৌধুরী সাহেব কোরান, হাদিস ও সুন্নার কোন সূত্র উল্লেখ না করে ইসলামী সন্ত্রাসবাদের সব দোষ চাপিয়েছেন ওয়াহাবি মতবাদ এবং এই মতবাদ থেকে জাত জামায়াতে ইসলামীর উপর যা একটা বড় রকম মিথ্যাচার। মূলত ইসলামের প্রচার ও প্রসার হয়েছে সন্ত্রাস, মূর্তি ভাংগা, জোর করে ধর্মান্তর, জিজিয়া চাপিয়ে দিয়ে ধর্মান্তর, হত্যা ও লুন্ঠনের মাধ্যমে, তথাকথিত আল্লাহ ও রসূলের কোন অলৌকিক মজেজা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে নয়। তিনি ইসলাম ধর্মের অপকীর্তি ওহাবীদের ঘাড়ে চাপিয়ে কোরান হাদিসের সন্ত্রাসী ও সাম্রাজ্যবাদী দর্শনকে গৌরবান্বিত করার অপচেষ্টা করেছেন। দেউলিয়া বামপন্থী ও ইস্লামামিক বুদ্ধিজীবীদের মত তিনিও বলতে চাচ্ছেন, ইসলামের সাথে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নাই, সব ওয়াহীদের অপব্যাখ্যা আর পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্র! ইসলামকে জানতে হলে কোন মাজহাবের মধ্যে যাওয়ার দরকার নেই। কোরান-হাদিস-সুন্না অর্থসহ পড়েন ও বোঝেন, সব ফকফকা বুঝতে পারবেন। এবার আসুন দেখি ওহাবী, আল-কায়েদা, আইএসআইএস, জেএমবি ইত্যাদি ইসলামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যা করছে যা কোরান হাদিস ও সুন্নার পরিপন্থী নয়। গাফ্ফার চৌধুরী সাহেবরা আসলে উদোর পিন্ডী বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে ইসলাম ও তাদের নবীকে রক্ষা করতে চান!

কোরানে জিহাদকে মুসলমানদের উপর ফরজ করা হয়েছে। জিহাদ হলো যুদ্ধের মাধ্যমে অইসলামী রাষ্ট্র দখল করে ইসলামী রাষ্ট্র বা দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা। মুহাম্মাদ তাঁর জীবদ্দশায় আরবের অনেক কাবিল/গোষ্ঠীর উপর আক্রমণ করে তাদেরকে ইসলাম কবুল করতে বাধ্য করেছিল। প্রাপ্ত বয়স্ক যেসব পুরুষ যুদ্ধ করত কিন্তু পরাজিত হওয়ার পর ইসলাম কবুল করত না তাদের হত্যা করা হত। আর তাদের নারী ও শিশুদের গনিমতের মাল হিসেবে নেয়া হত। তাদের দাস বানিয়ে ধর্ষণ করার বিধান কোরানেই আছে। আর যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করত না তাদেরকে জিজিয়া করের মাধ্যমে ইসলামিক রাষ্ট্রে বাস করতে হত। অধিকাংশই জিজিয়া না দিতে পেরে শেষে ইসলামই গ্রহণ করতে বাধ্য হত! কোরানের আয়াত দেখে নিনঃ
“আর (যুদ্ধের মাধ্যমে) তোমাদের অধিকারভুক্ত হয়েছে এমন সব মেয়ে ছাড়া বাকি সমস্ত সধবাই তোমাদের জন্য হারাম ৷ এ হচ্ছে আল্লাহর আইন৷ এ আইন মেনে চলা তোমাদের জন্য অপরিহার্য গণ্য করা হয়েছে ৷” (কোরান ৪/২৪)
মানে সোজা যুদ্ধের মাধ্যমে অধিকারভুক্তরা হালাল। অথচ গাফফার চৌধুরী বলেছেন, পবিত্র ইসলাম ধর্মে যেসব কথা ও কাজ বর্জনীয়, জামায়াতে ইসলামী ও তথাকথিত জিহাদিস্টদের কাছে তা গ্রহণীয়। যেমন অকারণে হত্যা, নারী ধর্ষণ, শিশু-নারী হত্যা, অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোক হত্যা, তাদের মন্দির ও গির্জায় হামলা চালানো। এইসব কাজ তো করার জন্য মানে ফরজ জিহাদের জন্য করতে কোরানেই অনুমতি দেয়া হয়েছে। আমি এখন নিশ্চিত গাফফার সাহেব কোরান হাদিস পড়েননি, এনারা হুইন্যা মুসলমান কিনা!

এবার চলুন দেখি হত্যা ও জবরদস্তিকে কিভাবে ইসলামে জায়েজ করা হয়েছেঃ
সুরা তাওবা -৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তাওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই বলে গেছেন কিভাবে উক্ত বিধান কার্যকর করতে হবে —
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

এখন দেখুন, পৃথিবীতে ১০০০ এর উপর ধর্মমত প্রচলিত আছে, সবাই যদি তাদের উপাস্যকে একমাত্র ইলাহ না মানার কারণে যদি অপর ধর্মের লোকদেরকে হত্যা করা শুরু করে তাহলে কি অবস্থা দাঁড়াবে!

দ্বিতীয়তঃ
সব চেয়ে গর্হিত যে কাজটি গাফফার চৌধুরী সাহেব করেছেন তা হলো অত্যাচারী, কপট, ভন্ড মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে মহান হিসেবে প্রতিষ্ঠা। এই আওরঙ্গজেব শুধু তার বড় ভাই সিংহাসনের দাবিদার দারাসিকোকে হত্যাই করেননি, শরিয়ত প্রতিষ্ঠার নামে শত শত মন্দির ভাংগা, জিজিয়া কর চালু করা, জোর করে ধর্মান্তর ইত্যাদি করেছেন অবলীলায়! গাফফার সাহেব বলেছেন, “মধ্যযুগেও দিলি্লর গোঁড়া মুসলিম (মোগল) সম্রাট আওরঙ্গজেব দিলি্লর অদূরে মসজিদ নির্মাণ করতে গিয়ে যখন জানলেন, এটি শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান এবং তা একটি মন্দির হয়েছে; সেখানে পূজা-অর্চনা হয়, তিনি তখনই মন্দিরের অংশ বাদ দিয়ে মসজিদ নির্মাণের আদেশ দেন। এখন শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থানে পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান এক অভূতপূর্ব ব্যাপার।” কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো আওরঙ্গজেব ঐ মন্দির ভাঙ্গার আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সুবিশাল ও শক্ত পাথরে তৈরি ঐ মন্দির ভাংতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যর্থ হওয়ার পর তার পাশেই একটি মসজিদ তৈরি করেন আওরঙ্গজেব। কিন্তু গাফফার সাহেব এমনভাবে বললেন যেন ঐ বিখ্যাত মন্দিরের কথা আওরঙ্গজেব জানতেনই না, মসজিদ তৈরি করতে গিয়ে জেনেছেন! আর মন্দির ও মসজিদ পাশাপাশি লাগোয়া করার তো দরকার ছিল না, আরও তো কিছুটা দূরে জায়গা ছিল, তাহলে কেন মন্দিরের লাগোয়া মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল? গাফফার সাহেব দয়া করে ইতিহাস বিকৃত করবেন না। আওরঙ্গজেব এর কিছু অপকীর্তি এখন নিচে বর্ননা করবোঃ

“গুজরাটের সুবাদার থাকার সময় ১৬৪৪ সালে আহমেদাবাদের একটি মন্দিরে গরু জবাই করে সেটাকে অপবিত্র করেন। তারপর সেটাকে রূপান্তরিত করেন একটা মসজিদে। সেই সময় আরও অনেক মন্দির তিনি ধ্বংস করেন! তার জারী করা এক আদেশে উড়িষ্যা থেকে কটক পর্যন্ত শহর আর গ্রামের অসংখ্য মন্দির তার অফিসারেরা ভাংচুর করেছেন, কিন্তু কোন নতুন মন্দির তৈরির অনুমতি দেয়নি।

সম্রাট হওয়ার পর ১৬৬৯ সালে হিন্দুদের বিদ্যালয় আর মন্দির ধ্বংসের জন্য একটা সাধারণ আদেশ জারী করলেন আওরঙ্গজেব। তারপর তার বিধ্বংসী হাত অগ্রসর হলো বিখ্যাত তীর্থগুলোর দিকে যা ভারতের সমস্ত হিন্দু শ্রদ্ধার চোখে দেখে। যেমন- সোমনাথ মন্দির, বেনারসের বিশ্বনাথ মন্দির, আর মধুরার কেশব রাই মন্দির। আওরঙ্গজেব আব্দুন নবী নামে এক উগ্র মুসলিমকে মথুরার ফৌজদার করে আদেশ দিলেন হিন্দুদের দমন করতে।

শেষমেশ ১৬৭০ সালে মধুরার কেশব রাই মন্দির ধ্বংস করার জন্য আদেশ দিলেন আওরঙ্গজেব, আর শহরটার নাম পরিবর্তন করে রাখলেন ইসলামাবাদ। তার নিযুক্ত মুহতাসিবদের কাজ ছিল হিন্দুদের উপাসনালয়গুলো ধ্বংস করা। ১৬৮০ সালে জয়পুরের রাজধানী অম্বরের মন্দিরগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়। ১৬৭৪ সালে গুজরাটের হিন্দুদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করলেন ধর্মীয় ওয়াজিফা হিসেবে!

কিন্তু গাফফার সাহেব এই অত্যাচারী আওরঙ্গজেবকে ইসলামের ভাল কাজের মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। মূলত, সুলতান সালাউদ্দিনের যে উদাহরণের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন তা তার ব্যক্তিগত বদান্যতা। সুলতান সালাউদ্দিন নিজেই চিকিৎসকের বেশে গেছেন, এগুলো মিথ কথা ছাড়া আর কিছুই নয়!

মডারেট মুসলমানরা প্রায়ই একটা আয়াতের কথা বলেন, “এ কারণেই বনী ইসরাঈলের জন্য আমি এ ফরমান লিখে দিয়েছিলাম, নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা ছাড়া অন্য কোন কারণে যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করলো সে যেন দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে হত্যা করলো৷ আর যে ব্যক্তি কারো জীবন রক্ষা করলো সে যেন দুনিয়ার সমস্ত মানুষের জীবন রক্ষা করলো ৷ কিন্তু তাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, রসূলগণ একের পর এক সুস্পষ্ট হেদায়াত নিয়ে তাদের কাছে এলো, তারপরও তাদের বিপুল সংখ্যক লোক পৃথিবীতে সীমালংঘনকারীই থেকে গেলো৷ (কোরান ৫/৩২)

কিন্তু এর ঠিক পরের আয়াতে কি বলা হয়েছে তা কিন্তু এই মডারেট ভাইরা আর উল্লেখ করে নাঃ
“যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে লড়াই করে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্য প্রচেষ্টা চালায়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলিবিদ্ধ করা হবে বা তাদের হাত পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে৷ অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে৷ দুনিয়ায় তাদের জন্য এ অপমান ও লাঞ্ছনা নির্ধারিত রয়েছে আর আখেরাতের রয়েছে তাদের জন্য এর চাইতেও বড় শাস্তি ৷ (কোরান ৫/৩৩)।

তাছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে কেন তারা বন্ধুপূর্ণভাবে চলবে, যখন কোরানে বলা হয়েছেঃ “হে ঈমানদারগণ ! ইহুদী ও খৃস্টানদেরকে নিজেদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না৷ তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু ৷ আর যদি তোমাদের মধ্য থেকে কেউ তাদেরকে বন্ধু হিসেবে পরিগণিত করে তাহলে সেও তাদের মধ্যেই গণ্য হবে৷ অব্যশ্যি আল্লাহ জালেমদেরকে নিজের পথনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত রাখেন৷” (কোরান ৫/৫১)

পরিশেষে, বলব গাফফার সাহেবরা উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে এই আসুরিক ইসলামকে গৌরবান্বিত করে রক্ষা করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। ইসলামী সন্ত্রাসীরা কোরান-হাদিস-সুন্না সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে সেভাবে কাজ করছে, আর গাফফার সাহেবরা কোরান-হাদিস-সুন্না না পড়ে বা সুকৌশলে এড়িয়ে ইসলামকে টিকিয়ে রাখতে চাইছে! ধিক….

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “জনাব আলহাজ আবদুল গাফফার চৌধুরী, প্লীজ ইসলামের অপকীর্তি ঢাকার অপচেষ্টা করবেন না!

  1. মডারেট ধার্মিকরা ইসলামের কলংক
    মডারেট ধার্মিকরা ইসলামের কলংক ঢাকতে এখন মরিয়া হয়ে উঠছে। হজ্ব নিয়ে সমালোচনাকারীরাও এখন আলেম হয়ে উঠছে। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা এসব। লাভ হবেনা। কোন শেষ পর্যন্ত সংস্কারের পথে না গিয়ে থাকতে পারে নাই।

    1. ভাই, ঠিক বলেছেন। আর গাফফার
      ভাই, ঠিক বলেছেন। আর গাফফার চৌধুরী সাহেব কিন্তু নিজেও হজ্জ করেছেন!!! এনাদের যেমন সেকুউলার ভাবেন এনারা কিন্তু তেমন না! বরং এনারা ইসলামকে মডারেট করে আরও কাস্টমাইজ করতে চায়! এরা ব্যাক স্টাবার! এরা লাদেন, বাংলা ভাইদের চেয়ে বেশি বিপদজনক! বিকজ দে আর ডিসগাইজড!!!

  2. আসলে কে কাকে টেররিস্ট ভাবছে
    আসলে কে কাকে টেররিস্ট ভাবছে সেটাই দেখার বিষয়। যদি আমরা ধরে নেই মুহাম্মদ আল্লাহর নবী , তবে তার সব কাজই সঠিক। কারন আল্লাহর পাঠান দূতকে অস্মীকার করা, আল্লাহর ঘরে মূর্তি পূজা করা, প্রফেটকে তার জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত করা কিন্তু মারাত্নক ধরনের টেররিসম বা সন্ত্রাসবাদ। আর মুহাম্মদকে অবশ্যই এইসব টেররিস্টদের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছিল। আর পৃথিবীর তাবদ মুসলমান যেহেতু মুহাম্মদকে আল্লার নবী হিসেবে বিশ্বাস করে, তাই তার সব কাজই ১০০% সঠিক। আব্দুল গাফফার সাহেবও মুসলমানদের দলে। তাই আপনি যতই চিতকার চ্যাচামেচী করেন, খুব বেশী লাভ হবে না।

    অন্যদিকে আপনার দৃষ্টিতে মুহাম্মদ একজন মারাত্নক টেররিস্ট। কারন আপনি মুহাম্মদকে প্রফেট হিসেবে বিশ্বাস করেন না এবং ততকালিন মুশরিক আর প্যাগানদের প্রতি আপনি একাত্ন আর সহমর্মি। তাই মুহাম্মদের সব কাজই আপনার কাছে দোষের। আসলে বিশ্বাস আর দৃষ্টিভংগীর পার্থক্যটাই মূল।

      1. ঐ যে বললাম আপনি আল্লাহ,
        ঐ যে বললাম আপনি আল্লাহ, মুহাম্মদ, ইব্রাহীম , প্রফেট ইত্যাদি বিষয়গুলোকে মোটেই বিশ্বাস করেন না। তাই এ সব কিছুই আপনার কাছে গাজাখুড়ী। মিথ্যা গাল-গল্প। অযৌক্তিক।
        অন্যদিকে পৃথিবীর বিপুল পরিমান মানুষ আল্লাহ, মুহাম্মদ, ইব্রাহীম , প্রফেট
        ইত্যাদি বিষয়গুলোকে সঠিক হিসাবে মানে। কিন্তু বিবর্তনবাদ,নাস্তিকতা, ম্যাটেরিয়ালিসমকে মিথ্যা গাজাখুড়ী মনে করে। তাদের কাছে আপনার সব বক্তব্যই কিন্তু অসার।

        এখন কে যে সঠিক তার নিশ্চয়তা কে দেবে?

        1. ভাই, জ্ঞানী মানুষরা নিশ্চিত
          ভাই, জ্ঞানী মানুষরা নিশ্চিত কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক। ধর্মেরও বিজ্ঞানভিত্তিক স্টাডি আছে, সেটা বলে দিচ্ছে কি ঠিক আর কি ঠিক না। আমার লেখায় আমি দেখাতে চেয়েছি যে সর্বশক্তিমান স্রষ্টা মানুষকে কেন তাদের চ্যালেঞ্জের পর কোন মজেজা দেখাতে পারে না! বিশ্বাস তো সবাই করতে চায়, কিন্তু নিদর্শন কই? ধন্যবাদ……..

          1. আমার লেখায় আমি দেখাতে চেয়েছি

            আমার লেখায় আমি দেখাতে চেয়েছি যে সর্বশক্তিমান স্রষ্টা মানুষকে কেন তাদের চ্যালেঞ্জের পর কোন মজেজা দেখাতে পারে না! বিশ্বাস তো সবাই করতে চায়, কিন্তু নিদর্শন কই? ধন্যবাদ

            ঈশ্বর তো আপনার পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট নন যে, আপনার ফরমায়েশ পুরন করার জন্য তিনি বসে আছেন। মহাবিশ্ব পরিচালনার মত বড় কাজ তাকে করতে হয়। তাছাড়া আপনাকে মোজেজা দেখিয়ে, নিদর্শন দেখিয়ে তারপর স্বর্গের আনন্দ ফুর্তির লাইসেন্স দেবার কোন প্রয়োজনীয়তা ঈশ্বর বোধ করেন কিনা সেটাও তো দেখতে হবে। আপনার অস্তিত্ব, মহাবিশ্বের অস্তিত্বই তো ঈশ্বরের নিদর্শন। এরপরও আরো কিছুর আশা করাটা আসলে আসলে উজবুকি।

          2. ভাই, এভাবে তো যে কেউ নিজেকে
            ভাই, এভাবে তো যে কেউ নিজেকে স্রষ্টা হিসেবে দাবী করতে পারে খুব সহজেই!!! কিন্তু কেউ তার ক্ষমতা দেখাতে বললে সে বলবে, সে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিচালনায় ব্যস্ত, তার এসব মজেজা দেখানোর সময় নেই! মনে করুন, আপনি দাবী করলেন যে আপনি একজন নামকরা ব্লগার, কিন্তু কেউ আপনার লেখা ব্লগ দেখতে চাইলে আপনি তা দেখাতে পারলেন না আর বললেন যে আপনি দেখাতে বাধ্য নন! এতে কি প্রমাণিত হয়? আপনার দাবীর স্বপক্ষে আপনাকে অবশ্যই নিদর্শন দেখাতে হবে। কোরানে আল্লাহ বলছে যে উনি নাকি আয়াত পাঠাচ্ছে জীব্রাইলের মাধ্যমে, অথচ মজেজা দেখতে চাইলে দেখাতে পারছে না। অসহায় বোধ করছে। আর পরকালের ভয় দেখাচ্ছে! এভাবে তো যদু মধু কদুও নিজেকে স্রষ্টা হিসেবে দাঁড় করাতে পারবে!!!!!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

81 − 79 =