মেহমুদ দ্য কনকুরর এন্ড সালাদিন

যুগে যুগে অনেক মুসলিম বীর আসলেও ওয়েস্টার্নরা খুব কম সংখ্যক মুসলিম বীরকেই যথাযথ সম্মান দিয়েছে ।
দুইজন মুসলিম বীর রয়েছে যাদের উপর ইউরোপিয়ানরাও অভিভূত হয়েছে ।

একজন হচ্ছেন মুহাম্মদ আল ফাতিহ । যাকে পাশ্চাত্যে ”মেহমুদ দ্য কনকু্রর , Mehmed the Conqueror ” বলা হয় ।

পবিত্র হাদিসে বলা আছে , নবীর নামের একজন বীর আসবেন , যিনি কন্সটান্তটিনেপল জয় করবেন ।

কেও একজনতো আসবেন যিনি মুসলিমদের ঝাণ্ডা দুই মহাদেশের সংযোগস্থলে উড়াবেন ।

মুহাম্মদ আল ফাতিহ হচ্ছেন সেই বীর যিনি কিনা কন্সটান্তটিনেপল জয় করে নাম রাখেন ইসলাম বুল যার অর্থ নতুন ইসলাম । কন্সটান্তটিনেপল জয় করার সাথে সাথে তার হাতে রোমান সাম্রাজ্যের চিরদিনের জন্য পতন ঘটে । ইস্টার্ন রোমান এম্পায়ার এর রাজধানী কন্সটান্তটিনেপল জয় করে ইউরোপ এর কাছে উনি হয়ে যান রোমান কাইজার । যে সাম্রাজ্য সর্বপ্রথম খ্রিস্টধর্মকে রাষ্ট্রধর্মের স্বীকৃতি দিয়েছিল সেই সাম্রাজ্যকে উনি চুরমার করে দেন ।

১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল জয় করে , এই শহরকে নিজের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেন ।
ক্যাথলিকদের অত্যাচারে কনস্টান্টিনোপল এর অর্থোডক্স খ্রিষ্টানরা যখন বারবার জখম হয়েছে , তখন আল ফাতিহ অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের নিজের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেন । এমনকি তাদের জন্য ধর্মীয় গুরু রাখারও সুযোগ করে দেন ।

উনি পর্যায়ক্রমে মুসলিমদের শাসনকে রোমের দোরগোড়ায় নিয়ে যান । গোটা ইউরোপ উনার ভয়ে কাঁপত ।

তিনি উসমানী সামাজ্কে ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া এই তিন মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত করেন । সমগ্র আরব জাহান আর মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া মাইনর, পারস্য থেকে মরক্কো ছিল তাদের অধিকারে। অন্যদিকে ইউরোপে তাদের বিজয় অভিযান ভিয়েনার প্রাচীরে আঘাত হানছিল।

সেই সময়কার ইউরোপের শ্রেষ্ঠ নৌ শক্তি ছিল ভেনিস । ১৪৭৯ তুর্কি মুসলিম নৌ বাহিনীর হামলায় নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে ভেনিস বাধ্য হয়ে নিজের জন্য এক অপমানজনক চুক্তিতে সই করে । ফাতিহকে ভেনিস সুলতান এবং রোমান কাইজার হিসেবে মেনে নেয় ।

মুহাম্মদ আল ফাতিহ নিজের রাজত্বকে,বসনিয়া,আনাতোলিয়া,মোরিয়া,মেসিডোনিয়া,বুলগেরিয়া,সার্বিয়া,ওয়ালাসিয়া,মলদোভা , আলবেনিয়া এমনকি জর্জিয়া,ইউক্রেন পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন ।

উনি মারা যাবার পর সেই সময়ের সেরা নৌ শক্তি ভেনিস , যাকেও মুহাম্মদ আল ফাতিহ বশ মানাতে পেরেছিলেন পোপের কাছে দূত পাঠায় , চিঠিতে লেখা ছিল La Grande Aquilla Lé Morta অর্থাৎ The Great Eagle is Dead ।

দ্বিতীয় জন সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুব । যাকে পাশ্চাত্যের মানুষেরা ডাকে সালাদিন নামে ।
উনার এতোই প্রভাব ছোটবেলা গেম খেলার সময়ও সালাদিন বাহিনীকে দেখেছি , কিন্তু তখন জানতাম না , উনি আসলে কে ।
উনি ছিলেন সর্বশেষ মুসলিম বীর যিনি জেরুজালেম দখল করেন । ১১৮৭ সালের ২ অক্টোবর শুক্রবার তার সেনাবাহিনী অবরোধের পর জেরুজালেম জয় করে।

উনার সময় থেকে উসমানীয় খিলাফাত এর পতন পর্যন্ত জেরুজালেম মুসলিমদের দখলেই ছিল । জেরুজালেম দখল করতে উনি যে মুন্সিয়ানা এবং সেখানে অবস্থানরত সকল বিধর্মীদের উপর উনি যে মহত্তের উদাহরণ সৃষ্টি করেন , তার জন্য উনি গোটা ইউরোপ এ বিখ্যাত হয়ে আছেন । ১০৯৯ সালে জেরুজালেম দখলের পর ক্রুসেডারদের গণহত্যার পরও সালাহউদ্দিন সব সাধারণ খ্রিষ্টান ও এমনকি খ্রিষ্টান সেনাদেরও ক্ষমা করেন ও নিরাপদে যেতে দেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ব্রিটিশ জেনারেল এডমন্ড এলেনবি তুর্কিদের কাছ থেকে দামেস্ক দখল করতে সফল হন। কিছু সুত্র মতে শহরে তার প্রবেশের পর তিনি সালাহউদ্দিনের বিখ্যাত ভাস্করযের সামনে তার তলোয়ার উচিয়ে স্যালুট জানান এবং ঘোষণা করেন, “আজ ক্রুসেডের যুদ্ধ সম্পূর্ণ হল”। অনেকের মতে এডমন্ড এলেনবি প্রায় হাজার বছরের প্রতিশোধ নিতে সুলতান এর কবরে লাথিও মেরেছিলেন ।

সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুব এর জেরুজালেম জয় নিয়ে হলিউড এ পর্যন্ত মুভি বানানো হয়েছে । জনপ্রিয় এই সিনেমার নাম Kingdom of Heaven । আমার অত্যন্ত পছন্দের মুভি । বিখ্যাত নির্মাতা Ridley Scott এই মুভিটির নির্মাতা । ঐ সময়কার সঠিক রাজনৈতিক ইতিহাস পাওয়া যায় ।

শিয়া ফাতেমি খিলাফাতকে উৎখাত করে উনে সুন্নি সালতানাত সৃষ্টি করেন এবং বাগদাদের আব্বাসীয় খিলাফতের আনুগত্য ঘোষণা করেন । সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুব ছিলেন মিশর ও সিরিয়ার প্রথম সুলাতান । তার অধিকাংশ সম্পদ তিনি তার প্রজাদের দান করে যান। একজন সুন্নি কুর্দি কৃতদাস হয়ে তিনি শিয়া ফাতেমী খিলাফাত এর উজির এর পদ পান । ফাতেমী বিরাগভাজন হয়ে তিনি নিজের সালতানাত সৃষ্টি করেন । কিন্তু উনি সবচেয়ে বিখ্যাত হয়ে আছেন জেরুজালেম জয়ের জন্য ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 6