এ এক নির্মম উৎসব!!

এই ধারনাটা আদিম কাল থেকেই চলে আসছে যে দেবতা বা সৃষ্টি কর্তার উদ্দেশ্যে কিছু উৎসর্গ করা হলে তিনি খুশি হন, অন্যথা তিনি মানুষের উপর ক্রুদ্ধ হন। আর তিনি ক্ষিপ্ত হলে নেমে আসে বন্যা, খরা, ঝড় ঝঞ্ঝা, ফসলহানি প্রাণহানির মত নানা রকম দূর্যোগ।

আদিম প্রযুক্তিহীন, জ্ঞান বিজ্ঞানে অনগ্রসর মানুষের পক্ষে প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করার উপাই ছিলনা, যে কারনে মানুষ ভয়ে, ভ্রান্তিতে নানা রকম উপাসনা, পূজা অর্চনা করে প্রকৃতির বিরাট শক্তিকে তুষ্ট করার চেষ্টা করতেন। বলিদান প্রথাটাও তেমনি আদিম মানুষের একটা ভ্রান্ত অপবিশ্বাস মাত্র। স্রষ্টা, দেবতা কখনো বা অপদেবতা, জাদুশক্তি এমন অজস্র অলৌকিক স্বত্বাকে খুশি করতেই হাজার রকম উপায়ের মধ্যে এই বলিদানও একটি। পৃথিবীময় এক সময় এই প্রথা চালু ছিল। শুধু এই টুকু বললে হয়তো কম বলা হবে, সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হল প্রায় পৃথবীময় নানান ধর্মে এমনকি মানুষ বলি দানের প্রথাও চালু ছিল।

মানুষের জ্ঞানে বিজ্ঞানে অগ্রসর, এবং বিবেক বিবেচনায় অধিকতর অগ্রসর হওয়ায় এই বর্বর প্রথা গুলি সংকুচিত হয়ে এসেছে। অন্যান্য বড় ধর্ম গুলোতে বইয়ে থাকলেও বাস্তবে একেবারে নেই। আজকাল হিন্দুদেরও খুব একটা আগ্রহ সহকারে বলি দিতে দেখা যায়না।

যদিও মুসলমান ধর্ম একটু ভিন্ন আঙ্গিকে এই বলিদান ব্যাখ্যা করে তবুও মুল উদ্দেশ্য একই, ঐ নিরাকার আল্লা নামক স্বত্বাকে খুশি করা। এই গল্পের যে পটভূমি তা খুবই বর্বর! আপন বাবা স্বপ্ন দৃষ্ট কোন এক অলৌকিক স্রষ্টাকে খুশি করতে নিজের সন্তানকে বলিদানের উদ্দেশ্যে সংকল্প বদ্ধ হন, আর নিজের মা গোসল করে সেজে গুজে দেন সন্তানকে বলি দেওয়ার জন্য। এমন আজগুবি, ভয়ংকর ব্যাপার কল্পনা করা যায় না! এই গল্পের সত্য মিথ্যা কতটুকু জানিনা, ঐতিহাসিক সত্যতা যাচায় করার ও কোন উপাই নেই। কোন নির্মম স্রষ্টা আমাদের অনন্তকাল আগুনে পুড়িয়ে মারলেও আমরা কোন ভাবেই নিজ সন্তানকে ছুরির তলায় বলি দিতে রাজি হব না। একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বর্বর মানুষটিও মনেহয় এতোটা বর্বর নয়।

আজকের দিনের মুসলমানের অবশ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, স্রষ্টাকে খুশি করার যত না উদ্দেশ্য তার চেয়ে বেশি সামাজিক ভড়ং। এখন যে যত বড়, বেশি দামি গরু কুরবানি দিতে পারে সে তত বড় সম্ভ্রান্ত, কুলীন। সমাজে তার তত বেশি নাম দাম।

আধুনিক মানুষ এখন আর কেউই সহি ভাবে অক্ষরে অক্ষরে ধর্ম পালন করেনা। জিহাদি টাইপের দুই চারজন ছাড়া অধিকাংশ যা পালন করে তা আদিম ধর্মের সাথে আধুনিক মাল মসলা মেশানো এক নতুন রূপ। এর চেয়েও কড়া কড়া আদেশ নিষেধ গুলোও আমরা অনায়াসেই পাশ কাটিয়ে যাই, ধর্মের এই বর্বর প্রথাটা মানুষ এমন সহি ভাবে পালন না করলেও একেবারে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত না।

জগতে যা কিছু দৃষ্টিকটু, অসুন্দর, অথবা বীভৎস অথচ আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য, প্রয়োজনে আমাদের করতে হলেও আমরা তা করি লোকচক্ষুর আড়ালে। কোরবানির মত একটি ধর্মীয় আচার যা রীতিমত লোমহর্ষকর ব্যাপার, তা এতোদিন বাতিল হওয়াই উচিৎ ছিল অথচ আমরা তা করি উৎসব হিসেবে! নিরানন্দময় মুসলিম সমাজে একদিনে লক্ষ লক্ষ প্রাণীকে নির্দয় ভাবে হত্যা করাও একটা উৎসব!!

প্রাণী জগতে আমাদের খাদ্য খাদক সম্পর্ক, অন্য উপাই নেই, প্রয়োজনের তাগিদেই জীব অন্য জীবকে হত্যা করে খায়, নির্জীব বা অজৈব বস্তু আমাদের খাদ্য নয়।
তাইবলে একদিনে লক্ষ লক্ষ প্রাণী হত্যার মহোৎসব করা কোন ভাবেই সমর্থন যোগ্য হতে পারেনা, তা ছাড়া এর বিরাট একটা অংশ অপচয়ও বটে। প্রকাশ্য জনস্মুখে একটা অবোধ প্রাণীকে এমন নির্মম ভাবে হত্যা করা খুবই মর্মান্তিক দৃশ্য, যা মানুষের মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। মুসলিম সমাজের শিশুরা নির্মমতা শিক্ষার প্রথম ছবকটা হয়তো এখান থেকেই পেয়ে থাকে।

যতদিন এই অকারণ হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না হবে ততদিন আমার কাছে কোরবানি ঈদ কোন উৎসব নয়, এ এক পাষণ্ড চর্চার ক্ষেত্র মাত্র। এই বর্বর উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে কুণ্ঠিত, লজ্জিত, আমি বিব্রত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “এ এক নির্মম উৎসব!!

  1. যতদিন এই অকারণ হত্যাযজ্ঞ বন্ধ

    যতদিন এই অকারণ হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না হবে ততদিন আমার কাছে কোরবানি ঈদ কোন উৎসব নয়, এ এক পাষণ্ড চর্চার ক্ষেত্র মাত্র। এই বর্বর উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে কুণ্ঠিত, লজ্জিত, আমি বিব্রত।

    ন্যাকামী আর কি! আমরা কিন্তু কুণ্ঠিত, লজ্জিত বা বিব্রত নই। বরং আমরা কোরবাণী দিতে পারে আনন্দিত আর গর্বিত। আল্লাহর আদেশ মানার মধ্যে যে আনন্দ আর পরিতৃপ্তি আছে সেটা আপনাদের মত আবদ্ধ চিন্তা-ভাবনার মানুষদের পক্ষে কোন কালেই বোধহয় অনুধাবন করা সম্ভব নয়। তাছাড়া আপনার ধর্ম নিয়েও কিন্তু নানান সমালোচনা করা যায়।

    যাকগে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। খুশীর এই দিনে নাস্তিকরা বিব্রত হোক আর লজ্জা নিয়ে ঘরে লুকিয়ে থাকুক। আর আমরা আমদের শিশু আর পরিবার নিয়ে মহা আনন্দের ঈদ উদজাপন করতে থাকি।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

52 − = 47