“বাগদাদ জ্বলছে” – নামহীন নারীর ব্লগ থেকে ! – কিস্তি ৮

আগের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুণ

 

ইরাকঃ পৌরানিক কাহিনী বনাম বাস্তবতা !

আমেরিকান রা ইরাক দখল করে নেবার আগ পর্যন্ত লোকে জানতো ইরাকীরা হচ্ছে একটা হতদরিদ্র জাতি। এরা সবাই বাগদাদে রাস্তার পাশে তাবু গেঁড়ে তার মধ্যে বসবাস করে। পুরুশেরা তাদের উট আর গাধার পিঠে চড়ে কর্মস্থলে যায় আর ছেলেরা একই ভাবে স্কুলে যায় পড়তে। স্কুল গুলো হচ্ছে একেক্টা বাড়ীর এক রকমের বড় সংস্করণ, প্রায় ১০০ জন ছেলেকে একজন পাগড়ী ওয়ালা শিক্ষক হয়তো পড়তে শেখাচ্ছেন কিম্বা শেখাচ্ছে কিভাবে যোগ বিয়োগ করতে হয়। মেয়েরা সারাবছর ঘরে বসে থাকে, বাড়ীর কাজ করে, দশ – বারোটা বাচ্চা সামলায় আর বাড়ীর বাহির হতে হলে কালো বুরকায় নিজেদের ঢেকে বের হয়।

কিন্তু একই সময়ের বাস্তবতা হচ্ছে – ইরাকীরা যে সকল বাড়ীতে থাকে, তার বেশীরভাগই আধুনিক বাড়ী যেখানে দিন-রাত চব্বিশঘন্টাই বিদ্যুৎ ও পানির নিসচয়তা ছিলো। দখল হয়ে যাবার সময়, হাজার হাজার ইরাকী পরিবারে নিজেদের কম্পিউটার ছিলো। লক্ষ লক্ষ মানুষের বাড়ীতে টেলিভিশন এবং নিজস্ব ভিসিআর প্লেয়ার ছিলো যেখানে ভিসিডি থেকে ফিল্ম এবং নানান ধরনের অনুষ্ঠান দেখতো তারা। ইরাকে অত্যাধুনিক বিনোদন কেন্দ্র ছিলো, পানশালা ছিলো, নানান রকমের ক্লাব ছিলো। আধুনিক স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো ইরাকী ঐতিহ্য। ইরাকীরা দ্রুতগামী গাড়ী ভালোবাসে, তাই জার্মান গাড়ী ছিলো ইরাকীদের পছন্দ। প্রায় সকল ব্র্যান্ডের জার্মান কার ছিলো ইরাকী শহরগুলোতে। টাইগ্রিস নদীতে ছিলো অসংখ্য মোটর বোট যেগুলো মাছ ধরার কাজ থেকে শুরু করে, ওয়াটার স্কি করার কাজেও ব্যবহার হতো।

আমি বলার চেষ্টা করছি যে যখন লোকে ইরাক কে “রি-বিল্ডিং” বা পুনর্গঠনের কথা বলছেন, তখন প্রায়ই তারা ভুলে যান ইংরাজি শব্দ “Re-build” বা ”re-construct” শব্দ দুটিতে “re” প্রিফিক্স টা দিয়ে কি বোঝানো হয়। পুনরগঠন শব্দটি দিয়ে বোঝানো হয় পূর্বে বা আগে এখানে কিছু একটা ছিলো যা আবার নতুন করে গড়তে হচ্ছে।

এখন মানুষ এটা আর মনে করার চেষ্টা করছেনা যে আগে এখানে কি ছিলো। ইরাকে শত শত আধুনিক ব্রিজ ছিলো। এ অঞ্চলের মাঝে ইরাকের ছিলো অত্যন্ত আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। কেন্দ্রের সাথে দূরবর্তী এলাকাগুলোর যোগাযোগ ছিলো আধুনিক ভাবে গড়ে তোলা হাইওয়ের মাধ্যমে। এখনকার আমেরিকান টিভি “ফক্স চ্যানেলে” যে সকল ধুলা উড়ানো রাস্তা দেখানো হয় ইরাকের রাস্তা হিসাবে, সাবেক ইরাকে – দক্ষিনের শহর বসরা থেকে একদম উত্তরের শহর মসুল পর্যন্ত চলেগেলেও কেউ এই রকমের ধুলা-বালি দেখতে পেতোনা। বাগদাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা এতোটাই ভালো ছিলো যে তা ধ্বংস করার জন্যে আমেরিকা ও তার মিত্র বাহিনিকে তিন রাত ধরে অবিরাম বোম্বিং করতে হয়েছে। বাগদাদের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এতোটাই ভালো ছিলো যে, আমাদের টেলিফোনগুলোকে নীরব – নিথর করে দেবার জন্যেও কয়েকদিন ধরে বোমা বর্ষণ করতে হয়েছে আমেরিকা ও তার মিত্রদের।

গতকাল আমি পড়লাম – ইরাক কে পুনর্গঠন করবার জন্যে নাকি আমেরিকার ৯০ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। বুশ প্রতিনিধি ব্রেইমার বলছেন – এই ধ্বংস প্রাপ্ত ইরাককে পুনর্গঠন করতে কি বিপুল পরিমান খরচ হবে আমেরিকার। ধ্বংস হওয়া ব্রিজ গুলো আবার বানাতে হবে, ইলেক্ট্রিসিটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

(বিধ্বস্ত ইরাকের একটি ছোট্ট অংশ)

এই ছোট্ট ঘটনাটি শুনে দেখুন । আমার একজন কাজিন ইরাকের একটি বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীতে কাজ করে। ধরুন কোম্পানীটির নাম “কিউ”। এদের প্রধান সুনাম হচ্ছে ইরাকের বেশীর ভাগ বড় বড় বিল্ডিং এবং ব্রিজ বানিয়েছে এরা। আমার কাজিন নিজেও একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার, ব্রিজ বানানোটা হচ্ছে ওর সারাদিনের সারা বছরের ধ্যান জ্ঞান। উপযুক্ত শ্রোতা পেলে, ও হয়ত ঘন্টার পর ঘন্টা ব্রিজ বানানোর গল্প করতে পারে। এমনই নেশাচ্ছন্ন ব্রিজ স্পেসিয়ালিস্ট ইঞ্জিনিয়ার সে।

মে মাসের শেষের দিকে, আমার কাজিনের বস তাকে একটা স্পেশাল এসাইনমেন্ট দিলো। ইরাকের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের কোম্পানীকে একটা হিসাব নিকাশ করার কাজ দিয়েছেন। সরকার তাদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন, বাগদাদের দিয়ালা ব্রিজ যেটি আমেরিকান আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলো, তা পুনর্গঠনের খরচ জানতে চেয়েছেন। আমার কাজিন তার টিম নিয়ে সেই ব্রিজের ক্ষয় ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করলো, ব্রিজটি মারাত্মক ভাবে খতিগ্রস্থ হয়েছে এবং এর মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজটি খুব বিরাট প্রজেক্ট না হলেও, মোতামুটি ভালোই খরচ হবে। তারা ব্রিজটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করলো, মাটির পরীক্ষা, পানির গভিরতা, ব্রিজের বিভিন্ন অংশের উপরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এরা একটি বাজেট পেশ করলো। বলাই বাহুল্য, ইরাকের যুদ্ধের বাজারে সস্তা শ্রমিকের মুজুরি সহ এরা খরচ হিসাব করলো তিন লক্ষ মার্কিন ডলার এর মতো।

আমার কাজিন প্রায় সতেরো বছর ধরে ব্রিজ কন্সট্রাকশনে কাজ করে। এর আগে গালফ ওয়ার বা কুয়েতের সাথে যুদ্ধে আমেরিকান বাহিনীর হাতে যে ১৩৩ টি ব্রিজ ধ্বংস হয়েছিলো তার ২০ টি ব্রিজ পুনর্গঠনের কাজের ইঞ্জিনিয়ার ছিলো সে। ধরা যাক এই সব অভিজ্ঞতা মিথ্যা। ধরা যাক, এরা কেবল কাজটি পাওয়ার জন্যেই একটা সস্তা হিসাব দিয়েছিলো। অথবা ধরা যাক এদের হিসাবটা পুরোটাই ভুল। একবার ভাবুন তো তাহলে, এই ব্রিজটি পুনর্গঠনের খরচ কত হতে পারে? এদের দেয়া বাজেটের চারগুন? দশ গুন? একশো গুন?

এক সপ্তাহ পরে, একটা আমেরিকান কোম্পানী কে কাজটি দেয়া হয়। সেই কোম্পানীটির বাজেট ছিলো প্রায় পাঁচকোটি মার্কিন ডলার। ইরাকী মুদ্রায় নয়, মার্কিন ডলারে পাঁচ কোটি ডলার, প্রায় ১৬৭ গুন বেশী বাজেটে এই ব্রিজটির পুনর্গঠনের কাজ দেয়া হলো একটি আমেরিকান কোম্পানিকে। বলুন তো আমেরিকার দেয়া টাকা গুলো কোথায় ফিরে গেলো?

এ প্রসঙ্গে কিছু আগ্রহউদ্দিপক তথ্য দেয়া যেতে পারে। ইরাকে প্রায় এক লক্ষ তিরিশ হাজার ইঞ্জিনিয়ার আছেন। এদের অর্ধেকেরও বেশী হচ্ছেন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং আর্কিটেক্ট। এদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ইরাকের বাইরে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত। জার্মানি, জাপান, আমেরিকা, ব্রিটেইন সহ অন্যান্য দেশে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত এই সকল প্রোকৌশলীরা। এদের মধ্যে হাজার হাজার প্রোকৌশলী আছেন যারা ইরাকেই নানান ধরনের বিদেশী নির্মাণ সংস্থায় কাজ করেছেন। এদের বেশীর ভাগই খুবই অভিজ্ঞ এবং কর্মঠ প্রোখৌশলী এবং এদের একটা অংশ সন্দেহাতীত ভাবে ব্রিলিয়ান্ট, আন্তর্জাতিক মেধাবীদের সাথে প্রতিযোগিতা করার মতো।

গেলোবার ১৯৯১ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে, যখন প্রায় ৩০টি দেশ মিলে একযোগে ইরাকের উপরে বোমা বর্ষণ করেছে, সেই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে ইরাক একাই উঠে দাড়িয়েছিলো। ইরাকের এই ইঞ্জিনিয়ারদেরকেই ইরাক পুনর্গঠনের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিলো। সেই সময় ইরাকী ইঞ্জিনিয়াররা যে সকল ব্রিজ, কাল্ভারট, উচ্চ ভবন পুনরগঠন করেছিলেন, তার বেশীরভাগ স্থাপনাই ছিলো বিদেশী কোম্পানীর হাতে বানানো। সেই সময়, ইরাকী ইঞ্জিনিয়ারদেরকে নানান সীমাবদ্ধতার মধ্যে দিয়ে কাজ করতে দিয়েছে। সারা বিশ্বব্যাপী অবরোধের কারণে যে সমস্ত কাঁচামাল আমরা আমদানী করতাম তার তীব্র সংকট ছিলো। বিদেশীদের বানানো স্থাপনাগুলোর ডিজাইন অনুযায়ী কাজ করাও একটা সমস্যা ছিলো। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো, যখন এই সকল স্থাপনা গুলো আবার মেরামত বা নতুন করে বানানো হচ্ছিলো, সেগুলোকে বানানো হচ্ছিলো আরো বেশী শক্ত করে কেননা ইরাকীরা জানে, যুদ্ধ তাদের কে বারবার দেখতে হবে। এত সব সমস্যা নিয়ে কাজ করার নামই হচ্ছে পুনর্গঠন।

মোট ধ্বংসপ্রাপ্ত ১৩৩ টা ব্রিজের প্রায় ১০০ টার উপরে ব্রিজ মেরামত অথবা নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিলো। শতাধিক বহুতল ভবন, কারখানা এবং টিভি বেতার ও টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিলো সেই সময়ে। বেশ কিছু নতুন ভবন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। খুব নিখুত হয়তো হয়নি সেসব স্থাপনা, কিন্তু তা দিয়ে আমাদের কাজ চলে যাচ্ছিলো।

একথা সত্য যে, ইরাকীদেরকে সন্তুষ্ট করা খুব সহজ নয়। সুতরাং এই সকল মেরমত করা বা নতুন নির্মিত স্থাপনাগুলো শুধু কাজ চালানোর মতো হলেই যে হয়ে গেছে, তা নয়। সুতরাং বিভিন্ন স্থাপনার পুনর্নির্মাণের সময় তার পুরনো ডিজাইনকেও ফিরিয়ে আনতে হয়েছে আর নতুন স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রেও ইরাকের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন ডিজাইন নিখুত ভাবে ব্যবহার করতে হয়েছে। যুদ্ধপূর্ব বাগদাদে যারা এসেছেন তারা জানেন – বাগদাদের বিভিন্ন স্থাপনার ডিজাইন গুলো হয়তো খুব ক্ল্যাসিক্যাল নয় কিন্তু ভীষন রকমের আলাদা। সারা বাগদাদ শহর জুড়ে ছিলো আবাসিক বাড়ীগুলোর জানালায় নানান ধরনের স্থানীয় ডিজাইন, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, মসজিদ ইত্যাদি, সব ধরনের ভবনের জন্যে আলাদা রকমের ডিজাইন। আবাসিক বাসার জন্যে এক রকমের ডিজাইন তো মসজিদের মিনারে আরেক ধরনের ডিজাইন। সবগুলো ডিজাইনই স্বতন্ত্র বাগদাদী ডিজাইন। মসজিদের মিনার গুলো এতো অপূর্ব রঙের সমাহার দিয়ে ডিজাইন করা যে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন কি অপূর্ব সেই সকল ডিজাইন। এই সবই ইরাকীদের নিজেদের হাতে বানানো।

আমার প্রিয় পুনর্নির্মাণ প্রকল্প ছিলো টাইগ্রিস নদীর উপরে মুয়ালাক ব্রিজ এর পুনর্নির্মাণ প্রকল্প। এটা টাইগ্রিস নদীর উপরে একটি ঝুলন্ত ব্রিজ এবং এই ব্রিজটি নির্মাণ করেছিলো একটি ব্রিটিশ কোম্পানী। ব্রিজটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয় ১৯৯১ সালের লাগাতার বোমা হামলায় এবং প্রায় সকল ইরাকী সম্পূর্ণ আশা ছেড়ে দেয় এই ব্রিজ দিয়ে আবার কোনও একদিন হাটার, নদী পার হবার। কিন্তু মাত্র তিন বছরের মাথায় ১৯৯৪ সালে এই ব্রিজটি আবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। না এবার কোনও ব্রিটিশ বা আমেরিকান কোম্পানী দিয়ে নয়, সম্পূর্ণ দেশী জনবলে ইরাকী উদ্যোগে মাথা তুলে দাঁড়ায় ব্রিজটি। একদম আগের মতোই অবয়ব নিয়ে। বাগদাদের একটি আর্ট স্কুল ঘোষণা দেয়, এই ব্রিজটি হয়তো পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর বা গ্ল্যামারাস ব্রিজ নয় কিন্তু তারা এই ব্রিজটিকে সাজিয়ে তুলবে মনের মাধুরী মিশিয়ে। ব্রিজের সকল পিলার, প্রাচীর জুড়ে আঁকা হলো ফুলেল ডিজাইন, নানান রকমের উজ্জ্বল রঙে সাজানো হলো ব্রিজটিকে। সারা ইরাক থেকে মানুষজন এলো শুধুমাত্র একবার ব্রিজটির উপরে দাঁড়িয়ে নীচের টাইগ্রিস নদিকে একঝলক দেখার জন্যে।

তাই এটা একটা বিরাট প্রশ্ন, আমেরিকা থেকে বিলিয়ন ডলারের কোম্পানীগুলোকে ধরে আনার বদলে, ইরাকের নিজের যে হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ার বেকার বসে আছে, তাদের কে কাজ দিলে কি ক্ষতি হয়? বরং অনেক কম পয়সায়, ইরাক পুনর্গঠনের কাজ হতে পারে, খোদ ইরাকী মানুষের হাতে। কিন্তু সেকথা কে শুনবে বলুন?

ইরাক পুনর্গঠনের এই গল্প ইরাকীদের জন্যে একদিকে যেমন একটি প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে এটা এক ধরনের হুমকি স্বরূপ। কেননা, সবাই জানে, এই বিরাট ঋণের বোঝা ইরাকীদের কে চিরজীবনের জন্যে দাস বানিয়ে রাখবেন। এই পুনর্গঠন ইরাকীদের মাথার উপরে যে পরিমান ঋণ চাপিয়ে দেবে তা কেবল আমেরিকার সাথেই তুলনা করার মতো। কিছু ধনী কনট্রাক্টর ইতিমধ্যেই আরো বেশী ধনী হয়ে উঠেছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা অনেকটা সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে দেখছেন, বিদেশী কোম্পানীগুলো তাদের চোখের সামনে দিয়ে বড় বড় কাজের অর্ডার পাচ্ছে।

(প্রকাশ্য অভিযোগ আছে এই মর্মে যে, ইরাক যুদ্ধের মূল হোতা, বুশ প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ডিক চেনীর কোম্পানি হেলিবারটন ইরাক পুনর্গঠনের নামে একটি বিরাট অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এজন্যেই অনেক ভাষ্যকার বলে থাকেন, ইরাক যুদ্ধ হচ্ছে, আমেরিকার কর্পোরেশন গুলোর ব্যবসা বানিজ্যের সুযোগ ছাড়া আর কিছুই নয়।)

আমি সবসময় বলি, এই যুদ্ধটা আসলে “তেল” এর যুদ্ধ। এটা অবশ্যই প্রধানত “তেল” এর যুদ্ধ। কিন্তু এই যুদ্ধটা আরেক দিক থেকে আমেরিকার বড় বড় কন্সট্রাকশন কোম্পানীগুলোর জন্যে একটা বিরাট বানিজ্য সুযোগ। হেলিবারটন বলে কোনও কোম্পানীর নাম জানেন? এরাই যুদ্ধের একদন শুরুতেই ইরাকের তেলখেত্র গুলো মেরামতের কাজ পায় এবং তেলের খনিগুলোর আগুন নেভানোর কাজ পায়। (পাঠকের জন্যে নোটঃ হেলি বারটন হচ্ছে ইরাক যুদ্ধের সময় মার্কিন প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক-চেনির সাবেক কোম্পানি, ডি-চেনি এই কোম্পানীর চেয়ারম্যান ও সিই ও হিসাবে কাজ করেন ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত, জর্জ ডাব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্ট হবার সময় পর্যন্ত।)।

জনাব ব্রেইমার, এটা প্রায় নিশ্চিত যে ইরাক পুনর্গঠনের কাজে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লাগবে যদি এই প্রকল্প গুলোর সবগুলোই দিয়ে দেয়া হয় বিদেশী কোম্পানিগুলোকে। অথবা এই খরচের হিসাবটা এই রকমের ভয়াবহ হবে যদি এই সব প্রকল্পের হিসাব রক্ষকের দায়িত্বটা থাকে আহমেদ আল সালাবির মতো ডাকাতের হাতে।

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on ““বাগদাদ জ্বলছে” – নামহীন নারীর ব্লগ থেকে ! – কিস্তি ৮

  1. মার্কিনীরা তাদের ববসায়িক
    মার্কিনীরা তাদের ববসায়িক স্বার্থে একটা সুশৃঙ্খল জনপদকে যুদ্ধের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছে। কারণ ছাড়া এই যুদ্ধে প্রাপ্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা ছাড়া অন্য কিছু নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 4 =