মানবতা কি? ইহা কোথায় পাওয়া যায়………………………

মানবতা কি? মানবতা কার জন্য? এগুলা কোটি টাকার প্রশ্ন।

যদিও মানবতা কথাটার অনেক গভীর তাৎপর্য আছে, তবুও সাধারন দৃষ্টিতে মানবতা হলো মানুষের ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য যার দ্বারা একজন মানুষ পুর্নাঙ্গ মানুষে পরিনত হতে পারে। এক কথায় মানবতা হলো- মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা,স্নেহ, মায়া, মমতা। সেটা হোক পাশের বাড়ীর কিংবা হাজার মাইল দুরের অপরিচিত কোন মানুষ।

মানবতা কি আপেক্ষিক? আসলে এটা আপক্ষিক না হলেও আমরা এটাকে আপেক্ষিক বানিয়ে ফেলেছি। স্থান, কাল, ধর্ম ইত্যাদির উপড় নির্ভর করে মানবতার রুপ ভিন্ন হতে পারে। একারনেই, আমরা রাস্তার পাশের ছেলেটি যখন ডাস্টবিনে খাবার খোঁজে, কিংবা দুই বছরের বাচ্চা যখন ক্ষুধার জালায় ভিক্ষার জন্য হাত পাতে, তখন মানবতার অবক্ষয় খুজে পাই না। কিন্তু হাজার মাইল দুরের শিশুর জন্য মানবতা উথলে পড়ে। পাশের বাসার অন্য ধর্মালম্বীদের জন্য মানবতা না থাকলেও শত মাইল দুরের নিজ ধর্মালম্বীর জন্য কষ্টে বুক ফেটে যায়।

আজকে যারা সিরিয়ান মুসলিম কিংবা মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য কেঁদে চোখের আর নাকের পানি এক করতেছে, এই মানুষগুলোই চুপ করে মজা দেখে যখন হিন্দু ,বৌদ্ধদের বাড়ীঘর কিংবা মন্দির ভাঙ্গা হয়। ধর্ম এমনেই এক অদ্ভুদ জিনিস, যে হাজার মাইল দুরের ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতির মানুষ একীভূত করলেও পাশের বাসার একই ভাষাভাষি, সংস্কৃতির মানুষকে এক করতে পারে না। সেই ধর্মই যখন মানবতার বানী শোনায়, তখন অবাকই হতে হয়।

এখন আসি ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্ব প্রসঙ্গে। সবাই সিরীয়ার এই অবস্থার জন্য পশ্চিমা বিশ্বকেই দায়ী করতেছে। এই কথা শুনে একটা কাহিনী মনে পড়ছে- রাতের বেলায় স্বামী স্ত্রী ঝগড়া করার পরে, স্বামী রাগ করে বাড়ী থেকে বের হয়ে পাশের বাসায় ঘুমাতে গেলো। কিন্তু সেই বাসার গৃহস্বামী অসুবিধার জন্য সেই ব্যক্তিকে রাত যাপন করতে না দেওয়ায় পরবর্তীতে সেই ব্যক্তিই হয়ে গেলো খারাপ। তাদের স্বামী স্ত্রী সুখে বসবাস করলেও সেই ব্যক্তির সাথে তাদের শত্রুতার সৃস্টি হল।
একটা কথা সবসময় সবার মুখে শোনা যায়- মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই। অথচ মুসলিমরা মুসলিমের হাত থেকে বাচার জন্য বিধর্মী কাফের দেশে যেতে চায়। অথচ তাদের তারা মন থেকেই ঘৃনা করে। তারপরেও তারা যেতে চায় কিন্তু কেন? কারন সেদেশে জীবনের নিরাপত্তা আছে।

আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সিরীয়া থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছে। তারা তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করতেছে শরনার্থীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য। যদিও তারা এটাও জানে, এদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হওয়ার যথেষ্ট সম্ভবনা আছে। ভবিষ্যতে এদের মধ্যেই কেউ কেউ আই .এস কিংবা অন্য কোন জঙ্গী গোষ্ঠিতে যোগ দেবে। হয়তোবা কেউ বোমা হামলা করবে ঔ দেশেরই বুকে।

তবুও ওদের মানবতা নাই কিন্তু সৌদি আরব কাতারের মতো দেশে অভিবাসীদের ব্যাপারে নিশ্চুপ থেকেও সেখানে মানবতা থই থই করছে। তারাই যে মুসলিমদের বুকের ভাই। কেন? তারা কি এই দুর্দশাগ্রস্থ সর্বহারা মানুষদের আশ্রয় দিতে পারত না? অবশ্যই পারত, তাদের সেই ক্ষমতা আছে, কিন্তু করে নি? এইখানে মানবতাবাদী মুসলিমরা নীরব কেনো? তারা কি জাত ভাই বলে?

মুসলিমরা কখনো অন্য দেশের সংস্কৃতিকে মেনে নিতে পারে না। তারা সবসময় আরবের সংস্কৃতিই ধারন করতে চায়। সে যে দেশেরই বাসিন্দা হোক, মনে প্রানে সে একজন আরবীয় হতে চায়। আমাদের এদেশেই হাজার বছরের শিকড় থাকা সত্ত্বেও অনেকে এদেশের সংস্কৃতিকে আপন ভাবতে পারে না।

কোন জাতি ধর্ম বিশেষে নয়, সব মানুষকে ভালোবাসি। মানবতার বুলি না আওড়িয়ে মানুষ হই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

54 − 53 =