মহাদেব এবং মোহাম্মদ॥ পর্ব-২ বিবিনামা

সতর্কীকরন: ইহা একটি কাল্পনিক কথোপকথন।
স্থান: সাত আসমানের উপরে হেরা পাহাড়ের পাদদেশ সংলগ্ন ঘ্যাচাংফু হ্রদের কিনার।
কাল: ২০১৬ এ. ই. এম. (আফটার ঈমাম মাহদী)
পাত্র: মহাদেব এবং মোহাম্মদ।

পর্ব-২ বিবিনামা॥

মহাদেব: দিবি টান?
মোহাম্মদ: আমি নেশা করি না|
মহাদেব: সে কিরে? তুই নেশা করিস না? পুরা দুনিয়াটাই তো একটা নেশার ঘোর|হে হে হে হে!
মোহাম্মদ: আমার একটা নেশা আছে | যদি অভয় দেন তো কইতে পারি |
মহাদেব: অভয় কি রে, বলে ফ্যাল|
মোহাম্মদ: আমার না ইয়ের নেশা আছে|
মহাদেব: ইয়ের তা কি?
মোহাম্মদ: ইয়ের! ( চোখ বাঁকা করে)
মহাদেব: আরে বাবা বলবি তো|
মোহাম্মদ: আল্লাহ হলে ঠিকই বুঝতো| উনি সবজান্তা- উনারে সব কিছু না কইলেও বুঝতে পারে |
মহাদেব: ও আইচ্চা| আমারে খুলে না কইলে তো বুঝতে পারুম না|
মোহাম্মদ: না কইতেছিলাম কি বেহেস্তেতে আইলাম মাগার হুর দেখতাছি না| ক্যামনে কি?
মহাদেব: ও তাইলে এইটা সেই নেশা|
মোহাম্মদ: হ |
মহাদেব: ধন অথবা ধোনের নেশা না থাকলে কি আর মানুষ হয় রে?
মোহাম্মদ: হ আওরাত আর কুদরাত-এই দুইটার সৈন্দর্যের শেষ নাই ক্যা| এই দুইটার ককটেল বানাইয়েই তো কেল্লা ফতে করছি |
মহাদেব: কাজটা ভালো করো নাই মিয়া|
মোহাম্মদ: আরে সেটা না করলে ফলোয়ার পাইতাম না তো| তেরো বছরে সত্তর জন মিলছে কোনো রকমে | ককটেলের কেরামতিতেই তো আপনার থিকা বেশি ফলোয়ার জোটাইছি| হি হি হি হি!!
মহাদেব: কপাল মিয়া তোমার | আমার নিজের পোলাপানরাই কথা শোনে না, ফলোয়াররা তো আমার ছিলিমের কথা তুইলাই আমার কাপড় চোপড় খুইলা ফেলায়|
মোহাম্মদ: আপনার ফলোয়াররা তো ত্যাঁদড় আছে!
মহাদেব: খালি ত্যাঁদড়? একেকটা হারে বজ্জাত|
মোহাম্মদ: আমার ফলোয়ার গরে এমন টাইট দিয়া রাখছি যে কেউ একটু টু ফ্যা করলেই খেল খতম|
মহাদেব: কউ কি মিয়া?
মোহাম্মদ: আবার জিগায়! হি হি হি হি|| আওরাত গুলারে তো বাক্সবন্দি কইরা রাখছি|
মহাদেব: বাক্সবন্দি?
মোহাম্মদ: হ এই জেনানাগুলা হইতেছে একেকটা আস্ত শয়তান |
মহাদেব: হ ঠিক কইছস| আমার নিজের বেগম টা আমার কথাতো শোনেই না, পাত্তাও দেয় না|
মোহাম্মদ: আরে কন কি?
মহাদেব: সাধে কি আর এই ছিলিম ধরছি রে? লেকিন আগের বৌখান ভালা আছিলো| যা কইতাম শুনতো| এক ভুল বোঝাবুঝিতে সতী ওর বাপের উপর গোস্বা কইরা আগুনে ঝাপাইয়া পড়লো| শুনছি এহনো কিছু আবাল মহিলারা হেরে ফলো করে| দেখছিস কান্ড ?
মোহাম্মদ: আমার ঠিক উল্টা| প্রথম বিবিটারে তো রীতিমতো ডরাইতাম, পরের গুলারে তো আচ্চা মতন পিটাইতাম | আমার নাম বলতে তো পাগল আছিলো সবগুলা|
মহাদেব: পরের গুলা ? কয়টা মিয়া?
মোহাম্মদ: তেরোখান তো হইবোই কমছে কম |
মহাদেব: তে-রো-ও-ও—–ও খা-এ-এ—-ন??(কাশতে কাশতে নিঃশ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম )
মোহাম্মদ: দাসী, গনিমতের মাল, রজনী অন্তে খালাস ভালোবাসার কথা তো ধরিই নাই| হি হি হি||
মহাদেব: দাসীও? গনিমতের মাল আবার কিডা ?
মোহাম্মদ: আফনাগো মতো কাফিরগোর বিবি মাইয়া, শত্রুগো বিবি মাইয়ারা|
মহাদেব: হেইডা কি কউ মোহাম্মদ? ক্যামনে কি?
মোহাম্মদ: আরে তা না হইলে তো ফলোয়ার বাড়তেছিলো না| সৎ ভাবে তো তেরো বছর চেষ্টা কইরা মক্কার লোকের পেদানি ছাড়া তো আর কিছুই জোটে নি |
মহাদেব: তা না হয় বুঝলাম| এই ‘রজনী অন্তে খালাস ভালোবাসা’ জিনিসটা আবার কি? খায় না মাথায় দেয় ?
মোহাম্মদ: আরে বাব্বা, এইটা বুঝেন না?
মহাদেব: না|
মোহাম্মদ: এইটা হইতাছে গা এক রাত্রির ভালোবাসা | আজকালের পোলাপানরা ক্লাব্বিংএ গিয়া করে না? আমিতো সেই হিজরী সালের প্রথম দিকে(প্রায় দুই হাজার বছর আগে) ট্রেন্ড চালু কইরা গেছিলাম|
মহাদেব: হুম বুঝলাম|
মোহাম্মদ: এর একটা পোশাকি নাম ও আছে – ” মুতাহ”| আপনাগো মহাভারত- রামায়ন এ তো ভুরি ভুরি কাহানি আছে| পড়েন নাই ক্যা?
মহাদেব: আমি তো লিখতে পড়তে পারি নারে!
মোহাম্মদ: আরে কন কি? এইডা কিছু হইলো ? আমি তো লিখতে পড়তে পারার পর ও না পারার ভ্যান করি, আর সেইটা কোটি কোটি ছাগল বিশ্বাস ও করে! হি হি হি হি!
মহাদেব: এখনতো আমার নিজেরেই ছাগল মনে হইতেছেরে |
মোহাম্মদ: ছাগলগুলা ভাবেও না একবার – পড়া লিখা না জানলে কোরান টা লিখলাম ক্যামনে! হি হি হি হি!
মহাদেব: যাক বাবা এতো যাইনা আর কাজ নাই|
মোহাম্মদ: হ ঠিকই কইছেন| যত জানবেন ততই বিপদ, ততই ভুল বেশি হয়, ততই প্রশ্ন বেশি আসে| উত্তর দিতে দিতে, গোজামিল দিতে দিতে জানটা ঝালাপালা হয়ে যায়|
মহাদেব: হ ঠিক কইছিস| কিন্তু তুই যেমনে এত্তগুলো মাইয়ারে সামলাস আমি যেইখানে একটারেই সামলাতে হিমশিম খাইরে|
মোহাম্মদ: টেকনিক আছে| শিখায়ে দিমু নি একদিন |

( দুজনেই আকাশের পানে চায় একসাথে | গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি নামার উপক্রম হয়|)
(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “মহাদেব এবং মোহাম্মদ॥ পর্ব-২ বিবিনামা

  1. এক কাজ করুন সিনেমা বানান।
    এক কাজ করুন সিনেমা বানান। স্ক্রিপ্ট তো রেডি। এরকম মহাদেব-মুহাম্মদ মার্কা সিনেমা বানাতে পারলে নিশ্চিত অস্কার পাওয়া যাবে। দাদাবাবুরাও খুশী হবে। ইউরোপে চাকরী বাড়ি-গাড়ি মিলবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

88 − 81 =