জঙ্গিবাদঃ প্রেক্ষাপট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

ছোট তথ্যঃ সরকার ঘোষিত দশ দিনের বেশি ক্লাসে অনুপুস্থিত থাকলে যে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে ৫৭ স্টুডেন্টস অনুপুস্থিত।

অনুপুস্থিতির অনেক কারন থাকতে পারে। আমি বলছি না সবাই সিরিয়ায় ট্রেনিং নিচ্ছে। কিন্তু!?!?!?!?!

ট্রেজিডি আর শোলাকিয়ার ঘটনায় আতঙ্কিত বাঙ্গালী বলছি।
মিনি-পাকিস্থান(ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া) থেকে বলছি।

প্রথমে নিজের ঘটনা বলি তাহলে আপনি অনুমান করতে পারবেন অবস্থা।

২০১২ -২০১৩ সেসনে ভর্তি হই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এস এস সি তে গ্রামের স্কুলে আর ইন্টারমিডিয়েট ক্যান্ট কলেজ হওয়ায় ছাত্র রাজনীতি কি জানতাম না। ছাত্রলীগ ও চিনতাম না, শিবির , ছাত্র দল, ছাত্রইউনিয়ন,ছাত্রমৈত্রি,ছাত্রফ্রন্টও বুঝতাম না।

ইতিহাসের জ্ঞান ছিল সামাজিক বিজ্ঞান বই পর্যন্ত, আপনার ধারনা থাকবে হয়তো ঐসময় ইতিহাস বই কেমন ছিল। ঐ সময়ে পাঠ্যবইয়ের ইতিহাস রচিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ কে পাশ কাটিয়ে।
শান্তি সংঘ, রাজাকার, আলবদর, আল-শামস, ছাত্র সংঘের ভয়ংকর রুপের কথা না শুনিয়ে।

এমন একজন ছাত্র(ছাত্রাক) যে বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডিতে প্রবেশ করলো।
কিন্তু,
যে নিজের অস্তিত্ব জানে না।
নিজের ইতিহাস জানে না।
যে মুক্তিযুদ্ধ জানে না
৫২ জানে না
৬৬ জানে না
৬৯ জানে না
৭১ জানে না
জানে নিজের পূর্বপুরুষদের মহান কৃতি আর অপুরুষদের অকৃত্তি, তাকে কি সহজেই নষ্টের দলে ভেড়ানো যায় না?

হা! সহজেই ভেড়ানো যায়।
আমিও ভিড়েছিলাম।

ভর্তি পরিক্ষা দিতে গিয়ে তাদের (শিবিরদের) জৌলুশ, হলে সিটের নেশা(ক্যাম্পাসের সবগুলো হল তাদের দখলে) আর উপরের ভালমানুষিতে আক্রান্ত হয়ে
নিজের অজান্তেই ঢুকে গিয়েছিলাম নষ্টদের আসরে।
ছাত্রশিবিরে!!!!!

কিন্তু আমার কপাল ভাল তাই আমার পরিচয় হয়েছিল কিছু বড় ভাইয়ের সাথে ব্রেনওয়াশ হওয়ার পূর্বেই যাদের কাছ থেকে জেনেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ছাত্রসংঘের ইতিহাস।
বের হয়ে এসেছিলাম অনেক কষ্টে। যদিও চরম থ্রেট খাইতে হইছে।

বলে রাখি আমার সাথে ঢুকেছিল এমন অনেকে এখন ঐ মতাদর্শের বর্তমান ধারক বাহক।

শিবিরদের রিক্রুট কার্যক্রমঃ

ভর্তিযুদ্ধকালীন সময় তারা ব্যাপক কাজ করে।
১/ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ ছাত্রর থাকার ব্যাবস্থা করা,হলে সিট বরাদ্দ করা। ( যদিও কাজটি ছিল হল কতৃপক্ষের)

২/নামাজের দাওয়াত দেয়া। সাথে করে নিয়ে নামাজ পড়ানো।(হিন্দু এপ্লিকেন্টকে ও নামাজ পড়ানোর ইতিহাস আছে)

৩/সাকসেস ( শিবিরদের কোচিং সেন্টার) এর পক্ষ থেকে হলের মসজিদে মডেলটেষ্টের ব্যবস্থা করা।

৪/এপ্লিকেন্টদের অনলাইন সমস্ত কাজ করে দেয়া।

৫/ক্ষেত্রবিশেষে নাস্তার ব্যবস্থা করা সাথে ইসলামীক আলোচনা করা ( কোন ধরনের ইসলামিক আলোচনা তা বোধহয় আপনাকে বলতে হবে না)

৬/ ফলাফল হলের সামনে ছেপে দেয়া।যদিও কাজটা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের করার কথা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের অনেক আগেই তাদের নিজেদের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা। (ওয়েবসাইটের প্রচারও কিন্তু জেনে কোন এক ছত্রাক)

৭/ চান্স পাওয়া মেধাবী ছাত্র দের তালিকা তৈরি করা সংবরধনা দেয়া আর টার্গেট করা।

ভর্তি পরবর্তী কার্যক্রমঃ
১/বিনা নটিশে হলের সিটের ব্যাবস্থা।(যদিও লিগাল কোন ছাত্র সিট বরাদ্দ হতে ৪ বছর লেগে যায়)
২/ নামাজের দাওয়াত দেয়া।
৩/ইসলামিক আলোচনা ( প্রথম পর্বের)
৪/ছোট ছোট কাজ করানো।( এই যেমন ঐ ভাই কে কোরান শরিফ টা দিয়ে আসো, তহিফুল কোরান বা হাদিসের বই ঐ ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়ে আসো।

শিবিরের চার টি স্তর।
সমার্থক, কর্মী, সাথি সদস্য।
হলে ঊঠতে চাইলে প্রথমে একজন ছাত্রকে তাদের সমার্থকের ফ্রর্ম পুরুন করতে হয়।
তখন তাকে ধরিয়ে দেয়া হয় রিপোর্ট বই।

হলে থাকাটা দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইলে সাথি হতে হবেই।আর এজন্য তাদের রেফারেন্সকৃত বই ২৫ থেকে ৩০টা বই ( মৌওদুদী বা সমগৌত্রীয় লেখকের) পড়তে হবে।

পরিক্ষা দিতে হবে তাদের রেফারেন্সকৃত সিলেক্টেড কিছু কোরান হাদিসের আয়াতের এবং বইগুলোর উপরে।
লিখিত এবং মৌখিক।
পাশ করলে সাথি।
বলে রাখি এই সময় কিন্তু ওন্য কোন বই পড়তে দেয়া হয় না।
আর সদস্য হতে গেলে তাদের চরম যে বইগুলো আছে তা পড়তে হয় আর জাতীয় ভাবে তাদের সদস্যপার্থীর পরিক্ষা হয়।

শিবিরদের অনেকগুলো শাখা আছে।
শিক্ষা শাখায় মেধাবী ছাত্রদের রিক্রট করে।
দাওয়াতি কার্যক্রমের জন্য কাজ করে নুরানী চেহারার দাড়িওয়ালা টুপিওয়ালারা। আবার অস্ত্রধারী ক্যাডার শ্রেণি বর্তমান।

আমি ভেতর থেকে দেখেছি তো তাই বলছি…….
শিবির জংগি তৈরির প্রথম কারখানা।
শিবির জংগি তৈরির প্রথম কারখানা
শিবির জংগি মনোভাবাপন্ন।
শিবির= জংগি।

যারা বাংলাদেশটাকেই স্বিকার করে না।

মহান মুক্তিযুদ্ধকে যারা ভারতের(হিন্দুদের) ষড়যন্ত্র বলে প্রচার করে।

যারা বিশ্বাস করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে ৩ লক্ষ অন্যদিকে ৭৪ দূর্ভিক্ষে মারা যায় তিন কোটি।

যারা মনে করে শান্তি কমেটি হয়ে ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য।

যারা বিশ্বাস করে ফ্রেব্রয়ারী ঠিক না। একাত্তুর ঠিক না।

যারা বাংলাদেশ পাকিস্থান খেলা হলে পাকিস্থান সাপোর্ট করে। ভারত পাকিস্থান ম্যাচে পাকি বিজয়ে মিছিল করে।

এখন বলি গভিরের কথা,
আমার দেখা বেশ কয়েকজন কর্মীর কম্পিউটার ল্যাপটপ থেকে দেখেছি তাদের মস্তিস্ক কোন দিকে ধাবমান। কি আশা করে।
আমি দেখছি এক পর্বে কেমন করে একজন ছাত্র প্রস্তুতি গ্রহন করে গুলশান ট্রেজেডি, প্রেট্রল বোমা আর শোলাকিয়া ঘটনা সৃষ্টিতে।

আমার সবাচেয়ে বেশি যে বিষয় ভাবতে খারাপ লাগে তা হল
সবার এক কান বন্ধ করে দেয়া।
তারা এক মুখী কথা ছাড়া আর কিছুই শুনতে পায় না। সে যত ভাল কথাই বলি না কেন। উত্তর একটাই, নামাজ পরিস ব্যাটা?!
ওয়াস করা মস্তিস্কে আর সে বানী পৌছানো যায় না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “জঙ্গিবাদঃ প্রেক্ষাপট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 5 =