পৃথিবীর ভয়ঙ্কর কয়েকটি জাতি

আজকের মানব সভ্যতা যে ভীতের উপর দাঁড়িয়ে আছে তার পেছনে অনেক কালো ইতিহাস আছে। পৃথিবীর ইতিহাসে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়ঙ্কর কিছু জাতি সত্ত্বার অস্তিত্ব ছিল। মানব ইতিহাসে যাদের নৃসংশতার গল্প শুনলে গায়ের লোম এখনো দাঁড়িয়ে যায়। তেমন কয়েকটি ভয়ঙ্কর জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নীচে উপস্থাপন করা হল।

স্পার্টান্স:
গ্রিক সময়কার জাতি এই স্পার্টান্স (The Spartans)। যদিও গ্রিক সময়কার এই জাতি কিন্তু এরা ছিল গ্রিক প্রভাব থেকে ছিল সম্পূর্ণ মুক্ত এবং ভিন্ন। এই জাতির প্রতিটি পুরুষ ছিল একজন যোদ্ধা। বাদবাকি কাজ করানো হতো দাষদের দিয়ে। ছোটবেলা থেকেই ছেলে বাচ্চাদের যোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। আর প্রশিক্ষক হিসেবে মূল ভূমিকা পালন করত তার জন্মদাতা পিতা। এই জাতিতে একজন পুরুষ একজন মাত্র নারী গ্রহণ করতে পারত স্ত্রী হিসেবে, তবে যুদ্ধে অর্জিত নারীদের ভোগ করার এবং তাদের দাসী হিসেবে রাখার পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করত। এই প্রজাতির মানুষদের বলা হতো ‘স্পার্টান’ (Spartan)। এই স্পার্টান মানে হচ্ছে আত্মবিসর্জন এবং সোজা জীবনযাপন। এরা আসলেই সোজা জীবনযাপন করত কেননা এরা যুদ্ধ বাদে আর কিছুই বুঝত না আর যুদ্ধে আত্মবিসর্জন ছিল এদের জন্য খুবই গর্বের বিষয়। যদি যুদ্ধে এরা বেঁচে যেত তাহলে যত না সন্মান পেত নিজেদের মধ্যে তার থেকে বেশি সম্মান পেত যুদ্ধে মারা গেলে। যুদ্ধে মারা গেলে এদের কবর দেয়া হতো আর কবরে পাথর বসিয়ে দেয়া হতো তার বীরত্বের কথা স্মরণ করে। এই জাতির পুরুষেরা কৈশোর থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত সদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকত। সাধারণত ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এরা যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করত।

ধারনা করা হয়, ইসলামের নবী মুহাম্মদ মক্কায় ১৩ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে ব্যর্থ হওয়ার পর মদিনায় গিয়ে স্পার্টান্স জাতির যুদ্ধবাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিল সফলভাবে। ইসলামের যুদ্ধবাজ নীতির সাথে স্পার্টান্স জাতির নীতির অনেক সাদৃশ্য আমরা দেখতে পাই।

এ্যাপাচি উপজাতি:
এ্যাপাচি উপজাতি (Apache Tribes) উপজাতির লোকেরা ভয়ঙ্কর যোদ্ধা। এদের বলা হয় আমেরিকার নিনজা (Ninjas Of America)। রেড ইন্ডিয়ানদের মতো এরাও আমেরিকার আদিবাসী। কিন্তু এরা অন্য আমেরিকার আদিবাসীদের মতো এত সহজে নিজেদের ভূমি বা দলের মেয়েদের অন্যদের হাতে তুলে দিত না। এরা মূলত অস্ত্র বানাত প্রাণীদের হাড় দিয়ে। যোদ্ধা হিসেবে এরা ছিল অনেক ধূর্ত এবং চালাক। প্রতিপক্ষকে এরা কখনই সামনা সামনি হামলা করত না। লুকিয়ে হঠাৎ করে প্রতিপক্ষের পেছনে গিয়ে এরা এক টানে ছুরি দিয়ে গলা কেটে ফেলত, প্রতিপক্ষ ব্যক্তি কিছু টের পাওয়ার আগে। এরা যদিও ছুরি চালনায় সব থেকে বেশি পারদর্শী তার পরেও সামনা সামনি যুদ্ধে এদের প্রিয় অস্ত্র ছিল যুদ্ধকুঠার (Tomahawk) এবং কুড়াল। এদের আদিবাসস্থান ছিল আমেরিকার উত্তর-দক্ষিণ অঞ্চলগুলোতে।

মাওরিস উপজাতি:
মাওরিস (The Maoris) নিউজিল্যান্ডের পলিনেশিয়ান আদিবাসী। নিউজিল্যান্ডের প্রথম আদিবাসী বা বাসিন্দা হিসেবে এরা বেশ আক্রমণাত্মক ছিল। অনুপ্রবেশকারীদের এরা হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করত না, এই হত্যাযজ্ঞ তারা চালু রেখেছিল ১৮শ’ শতক পর্যন্ত। এই হত্যা কিন্তু শুধু হত্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এরা অনুপ্রবেশকারীদের হত্যা করে তাদের মাংস দিয়ে বলতে পারেন উৎসবে মেতে উঠত। তাদের বিশ্বাস ছিল শত্রুদের মাংস খেলে তারা আরো বেশি শক্তিশালী আর যুদ্ধের কৌশল বৃদ্ধি পাবে। ১৮০৯ সালে আসা প্রথম ইউরোপের জাহাজে মাওরিসরা আক্রমণ করে বসে। কারণ ছিল সাদা চামড়ার ইউরোপিয়ানরা মাওরিস জাতির প্রধানের বড় ছেলেকে অপমান করে বসে। আর এই অপমানের বদলা নিতে মাওরিস জাতির যোদ্ধারা জাহাজের প্রায় ৬৬ জন নাবিকের ওপর হামলা করে। হামলা করে তারা মৃত এবং অর্ধমৃত নাবিকদের ধরে নিয়ে যায়। এ সময় বেঁচে যাওয়া কয়েক নাবিক যারা জাহাজের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে ছিল তারা দেখতে পায় যে তাদের সঙ্গীদের সমুদ্র পাড়ে পুরিয়ে তাদের মাংস দিয়ে উৎসব করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তারা কোনো এক উপায়ে নিজ দেশে ফিরে এই কথা জানান।

বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় এগারো শতাংশ বসবাস করে ওকল্যান্ড শহরে। এই শহরে প্রায় ১,৬১০০০ মাওরিশ আদিবাসী জনগনের বসবাস। এবং শহরে তারাই সব চেয়ে বেশী।

ভাইকিংস:
ভাইকিংস হচ্ছে একটি মারাত্বক ভয়ঙ্কর যুদ্ধবাজ জাতির নাম, শাব্দিক অর্থে ভাইকিং হচ্ছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার সমুদ্রচারী ব্যবসায়ী, যোদ্ধা ও জনদস্যুদের ভয়ঙ্কর একটি দলকে বোঝায়, এই দলটি মূলত অষ্টম শতক থেকে ১১০০ শতক পর্যন্ত বংশ পরম্পরায় ইউরোপের বিরাট এলাকা জুড়ে লুটতরাজ, ডাকাতি, খুন হত্যা, সম্পদের জবর দখল, বিভিন্ন এলাকা নিজ আয়ত্বে নিয়ে সারাক্ষণ অন্যায় ভাবে যুদ্ধ আর মারা মারিতে লিপ্ত থাকতো, ইউরোপের বিভিন্ন এলাকা জবর দখল নিয়ে নিজেরা বসতি স্থাপন করতো, এদের নর্থম্যান বা নর্সম্যানও বলা হয়, ভাইকিংরা পূর্বদিকে রাশিয়া ও কনষ্ট্যন্টিনোপল পর্যন্ত পৌছে গিয়েছিল, অন্যদিকে পশ্চিমে গ্রীনল্যান্ডে ভাইকিংরা ৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম ইউরোপীয় অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে, আর এতেই সম্ভবত প্রথম ইউরোপীয় জাতি হিসেবে ১০০০ খিষ্টাব্দে আমেরিকা মহাদেশ আবিষ্কার করে, আইসল্যান্ড ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার সাহিত্যে ভাইকিংদের শৌর্য-বীর্যের কথা বলা হয়েছে, স্কান্ডিনেভিয়ার মানুষরা খ্রিষ্টর্ধমে র্ধমান্তরিত হতে শুরু কললে ভাইকিংদের অভিয়ান ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়ে শেষ হয়ে য়ায়, ভাইকিংদের ভাবা হতো ইউরোপীয় অঞ্চলের ত্রাস, দস্যুতার জন্য বিখ্যাত এই জাতিটি যুদ্ধবাজ মনোবৃত্তির জন্যও ইতিহাস বড় একটি স্থান দখল করে ্আছে, অন্যান্য যোদ্ধা জাতির তুলনায় ভাইকিংদের খানিকটা পার্থক্য ছিল, আর সেই পার্থক্যটি হলো শরীরিক গড়নের ভাইকিং যোদ্ধাদের প্রায় সবাই অনেক লম্বা এবং চওড়া ছিল, তাদের প্রধান অস্ত্র ছিল কুড়াল, যুদ্ধংদেহী ভাইকিংদের র্ধমও আবর্তিত হয় যুদ্ধকে ঘিরে।
?itok=uEDmArB5″ width=”500″ />

তথ্যসুত্র: অনলাইন

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “পৃথিবীর ভয়ঙ্কর কয়েকটি জাতি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

33 − = 30