পিতৃদেবের মর্যাদা

নতুন মডেলের বাইকের আবদার না মেটানোয় বাবাকে আগুন দিয়ে হত্যা করলো সন্তান।
বাঙালি জাতি নিউজটাকে দারুণ হাইলাইটস করে ছেড়েছে।
‘ইয়া আল্লাহ, ক্যামনে পারলো এইটা?”

আসলে এটা কোন রামায়ণের আদিকান্ডের ঘটনা নয়,হাইলাইটস করার কি আছে।
আমাদের সমাজে বাবারা এভাবে মরার আগে হাজার হাজার বার মরে সন্তানের হাতে।
বাবারা শুধু শ্বাস নিয়েই পৃথিবীতে বেঁচে থাকে,
কিন্তু বারবার মরে সন্তানের হাতে।
বাবার জয়ধ্বনি তুলে আজ কাপুরুষ ও বীরপুরুষ হিসেবে ভার্চুয়াল মাঠে স্ট্রাইকার হয়ে ডজনখানেক গোল করছে।
একটা নিউজ দেখে ‘গাছের ডালে কাক,সালা আমিতো অবাক’ হওয়ার কোন কারণ নেই।
ডানে বাঁয়ে সামনে পিছনে চোখ ঘুরান,
দেখবেন হাজার হাজার বাবারা মরছে তাদের পোষ্যদের হাতে।
হাতে মরছে,ভাতে মরছে,শীতে মরছে,ভীতিতে মরছে।
তবে শ্বাস ত্যাগ করে মরাটা আদৌ মৃত্যু নয়, বরং মুক্তি।
বাবারা মরে,
যখন বিশাল দালানের মাঝে সিড়ির তলার মত পায়রার খোপে ঠাঁই মেলে,
নতুবা তা ছেড়ে দিয়ে নির্জন কোন কুঁড়েঘরে ঠাঁই পেলে,
কিংবা সব ছেড়ে দিয়ে বৃদ্ধাশ্রমে এলে।
বাবারা মরে তখন যখন ছেলে সন্তানের সব আবদারের মুখে মাত্র দু চারটে আবদার পূরণ করে,
রিক্ত হাত দিয়ে মরা গাছের পাতায় হাত বোলায়,
কিংবা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ভাবে ঈদের চাঁদের মত ছেলে কিংবা মেয়েটি যদি একবার দেখা দিতো।
বাবারা মরে তখন যখন মেয়েকে পরের হাতে নিজের অস্তিত্বসহ সব তুলে দিয়ে,
বাড়ি এসে ভাবে কচুর শাক সিদ্ধ করে লবণ সমেত একটু ভর্তা কিভাবে বানানো যায়, পেট তো মানছে না।
বাবারা মরে তখন যখন মদের নেশায় কিংবা দুনিয়াবি কিছু পাওয়ার আশায় ছেলে মেয়েরা বাড়ি এসে বলে,
কি করেছো আমাদের জন্য সারাজীবন,
বিষ খাওয়ার পয়সাটুকুও তো রাখো নাই,
যে বিষ কিনে তোমাকে সাথে নিয়ে খাবো।
বাবারা মরে তখন যখন একটা ইনসুলিন না কিনে,
টাকাটা ছেলের জন্য পাঠায়,
আর ছেলে সেই টাকায় সিগারেটের ধোঁয়া আকাশে ছেড়ে বলে, ‘গেল কতদূর? ‘
বাবারা যেদিন বাবা হয়, সেদিন থেকেই তারা মরতে শুরু করে।
তবে এ মরাতে দেহ পঁচে নোংরা জল বের হয়না,
মন ফেটে নোনা জল চিবুক বেয়ে পড়ে।
বাবা তোমায় ভালবাসি, বলা সহজ,
কিন্তু কার্যকর করা ৯৯ ভাগ কঠিন এ যুগে।
কেউ একজনের বাবা মরেছে তা নিয়ে উচ্ছ্বসিত বাণী প্রসব করে বায়েজিদ বোস্তামী হওয়ার প্রয়োজন নাই।
নিজের বাবা যদি বেঁচে থাকে,
তার বুকে মাথা রেখে, তার চরণে হাত রেখে ভালোবাসা আদায় করাটা একান্ত প্রয়োজন।
আর যদি প্রয়াত হয় তবে হাত তুলে প্রার্থনা করাটা, কিংবা হাজারো অসহায় বাবার পাশে বটগাছের ছায়ার মত প্রশান্তিদায়ক হওয়াটা প্রয়োজন।
বাবা আর ভালোবাসা দুটোকে মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ করাটাই আজকে প্রয়োজন।
আপনি আপনার বাবার পাশে দাঁড়ান,
একে একে আপনাকে অনুসরণ করবে গোটা পৃথিবী।
তবে আর পত্রিকা খুলে পড়তে হবে না,
ছেলের হাতে বাবা নিপীড়িত কিংবা খুন।
বলতে হবে না, ‘আল্লাহ এটা কি সন্তান নাকি শূয়র?
বাবা বেঁচে থাকো আমার চুলের সংখ্যার মত হাজার বছর,
বিশুদ্ধ ভালোবাসা দাও ছড়ায়ে আমায়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + = 12