বর্তমান টিভি-নাটকগুলোর জন্ম কি পতিতালয়ে?

বাংলা-চলচ্চিত্রের রাজপুত্র জহির রায়হানের অন্তর্ধানের পর থেকে বাংলা সিনেমা ও নাটকের ক্ষেত্রে একটা চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এখন যে যেমন পারছে সে তেমনভাবে নিজের ধান্দামতো টিভি-নাটক তৈরি করছে। দেশে এখন এক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা নাই। এখন হাটে, মাঠে, ঘাটে, কারওয়ান-বাজারের আড়তে আর ফুটপাতে সিনেমা-নাটকের পরিচালক পাওয়া যায়। এগুলোর না আছে কোনো জাত আর না আছে কোনো চরিত্র। এদের হাবভাব দেখে মনে হয়: এরা কোনো পতিতার দালাল। আর এরা হয়তো কোনো পতিতালয় থেকেই সরাসরি লোকালয়ে এসে এখন লাভের আশায় নাটক-সিনেমার ব্যবসা করছে।

দেশ স্বাধীনের পর আজ পর্যন্ত সফল কয়টি টিভি-নাটক রচিত হয়েছে? আর কারাই বা এসব রচনা করেছেন? হাতে গুনে দুই-একটির নাম হয়তো কেউ বলতে পারবে। কিন্তু তারপর? আর কারও মুখে কোনো জবাব নাই।
চারদশকের বেশি সময় হলো বাংলাদেশ স্বাধীনতালাভ করেছে। কিন্তু এখানে, আজও মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের আদর্শ ও চেতনার বড়ই অভাব। জাতির চেতনা আজ বলতে গেলে বিলুপ্তপ্রায়। জাতি আজ অচেতন। এখনও একটি গোষ্ঠী পাকিস্তানীদের চেতনানাশক-দ্রব্যের স্বাদগ্রহণ করে অজ্ঞান হয়ে আছে। এদের ভালো হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নাই। বাকী যে-সব দরদী দেশের পক্ষে কথা বলে—তারা আসলে কারা? এরা আসলে, দেশের কথা বলে দেশের মানুষের বাকী চেতনাটুকু কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।


ফালতু একটি নাটকের দৃশ্য: এখন এগুলোই একশ্রেণীর সস্তা-দর্শকের খাবার!

একটি শ্রেণী এখন শিল্প-সংস্কৃতির নামে বাংলা-নাটকের রমরমা ব্যবসা করছে। এদের কারও মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা নাই। এরা দেহব্যবসায়ীদের মতো শুধু টাকা চেনে। তাই, এদের সমস্ত নাটকে শুধু সস্তা প্রেম আর প্রেম। এদের নাটকের সংলাপ শুনলে আর দৃশ্যগুলো দেখলে মনে হয়: এ যেন পতিতাপল্লীর খদ্দের আর পতিতার বিশেষ-মুহূর্তের আগে সংঘটিত সস্তা রোম্যান্টিক-দৃশ্য! এদের সংলাপে, চিন্তাভাবনায়, লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে শুধু সস্তা প্রেমের ছড়াছড়ি, কাড়াকাড়ি আর যৌনতা। এগুলো দেখলে আমাদের এখন পতিতাপল্লীর কথাই মনে হয়। এরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনা কোথাও খুঁজে পায় না। তাই, জঘন্য-সস্তা প্রেমে ডুবে আছে।


ফালতু একটি নাটক: তারও আবার ৭৮৭ পর্ব!

বর্তমান টিভি-নাটকগুলোর কোথাও মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুঁজেও মুক্তিযুদ্ধের সামান্য একটা দৃশ্যও পাওয়া যাবে না। এরা যেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা চিরতরে ভুলেই গেছে! তাই, এদের নাটকে যৌনতানির্ভর সস্তা প্রেমের আধিক্য, রোম্যান্টিক দৃশ্যের নামে সরাসরি দেহপ্রদর্শনী! আর সবখানে কেবল লাম্পট্যের হাসিমাখা ভালবাসা-বালবাসা! এখানে, দেশপ্রেম নাই! আর এখানে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নাই।
২০১০ সাল থেকে স্বাধীনতার প্রায় ৪০বছর পরে সমস্ত ষড়যন্ত্র ও শয়তানী মোকাবেলা করে আবার দেশে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি নাটকেও এর সপক্ষে কোনো বক্তব্য নাই। আশ্চর্য দেশ আমাদের! জাতির সামনে এতোবড় ঘটনা ঘটছে তবুও কারও মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া নাই। যৌনলোভী-সস্তা-লম্পটগুলো নাটক-রচনার নামে যুবতীনারীদের দেহসম্ভোগের জোগাড় করতে ব্যস্ত। এরা কীসের নাটক লিখবে? কে নাটক লিখবে? নাটক লেখার যোগ্যতা লাগে। নাটক লিখতে গেলে দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হয়। আরে, নাটক লিখতেন, অভিনয় করতেন, নাট্যকার আব্দুল্লাহ আল মামুন। আর অভিনয় করতেন শ্রদ্ধেয় অভিনেতা গোলাম মোস্তফা। আর এখন একশ্রেণীর ভুঁইফোঁড়, অর্বাচীন, গোবৎস, নালায়েক, আনপাড়াহ, আধখেঁচড়া আর সর্বাত্মক ভণ্ড নাটকের নামে চারিদিকে ছুঁড়ে দিচ্ছে চকচকে দেহসর্বস্ব ভিডিও! আরে, এখানে মুক্তিযুদ্ধ কোথায়? দেশ কোথায়? আর মানুষ কোথায়? এখানে, শুধু বারবিলাসিতা! আর এরই নাম বুঝি নাটক?

বর্তমানের নাটকগুলো একেবারে খাপছাড়া, উদ্ভট, আবোলতাবোল, আজেবাজে, আলতুফালতু, অশোভন আর সর্বোপরি ইয়ারকি-ফাজলামি-পাগলামিতে পরিপূর্ণ। এ যেন পাগলের মেলা! আর পাগল-ছাগল মিলেমিশে একাকার হয়ে আজ তারা আমাদের নাটক ধ্বংসের কাজে ব্যস্ত। এদের ছাগলামির শেষ কোথায়?

এইসব নাটকের অভিনয় দেখে আজকাল মনে হয়: এগুলো রচনা করছে পতিতালয়ের দালাল কিংবা খদ্দের। আর এগুলো শুট্যিংয়ের কাজে ব্যস্ত নিষিদ্ধপল্লীর সর্দার! আর এইসব নাটক আজ জন্ম নিচ্ছে দেশবিরোধী নিষিদ্ধপল্লীতে!

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২২/০৯/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

63 + = 66