মহীনের ঘোড়াগুলির “পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে” গান নিয়ে বিস্তারিত ।

মহীনের ঘোড়াগুলি,যে ঘোড়াগুলির স্বপ্ন বেচার কোনো চোরা কারবার ছিলো না। সেই ঘোড়াদের সামনের সারির ঘোড়া গৌতম চট্টোপাধ্যায় এই গানটা সেই সময়ে লিখেছিলেন যখন সবাই বলাবলি করছিলো- মহীনের ঘোড়ারা, তোমাদের সামুদ্রিক জলকেলি আর কদ্দিন? যন্ত্রনাময় পৃথিবীর সমস্যাসংকুলতা থেকে নিরাপর দুরুত্বে আর কতদিন থাকবে তোমরা?তোমরা ফিরে এসো।

হ্যাঁ, গজিয়ে উঠা ভক্তকুলের ডাকে সাড়া দিয়ে তারা ফিরে এসেছিলো ১৯৯৫ সালে তাদের সম্পাদিত এলবাম ‘আবার বছর কুঁড়ি পরে’ নিয়ে। এর আগে মহীনের ঘোড়াগুলি ১৯৭৭,৭৮,৭৯ সালে তিনটা এলবাম করেছিলো যদিও সেখানে মোট ৮ টা গান ছিলো। কিন্তু এবার তারা প্রত্যাবর্তন করলেন একটু ভিন্ন রুপে। আর একা নয়, তাদের সম্পাদিত এ্যালবামে তারা আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন একঝাঁক তরুনদের। তাদের মধ্যে krosswindz নামের নতুন এক ব্যান্ডকে দিয়ে গাওয়ানো হলো গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পৃথিবীটা নাকি’ নামের কালজয়ী গানটা। এটা মহীনের সবচেয়ে বেশী কভার হওয়া গান এবং বলা চলে সবচেয়ে জনপ্রিয় গানও বটে। বলিউডের সংগীত পরিচালক প্রীতম এই গানের সুর ব্যবহার করে আমাদের নগরবাউল জেমসকে দিয়ে হিন্দি ছবি Gangster এ গায়িয়েছিলেন ‘ভিগি ভিগি’ গানটা, এটাও পুরো সাবকন্টিনেন্টের লোকেরা চেটেপুটে খেয়েছিলো।

গানটার প্রথম শ্রোতা সেই নাগরিক চারণ অরুনেন্দু দাস,তাকে নিয়ে অন্য দিন লিখবো।
অরুণেন্দু দাস এই গান প্রথম শোনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন এভাবে: “তখন ইয়াং জেনারেশন কিছু কিচু শুনেছে গৌতমের গান। সেদিনই গৌতম বলল ‘একটা নতুন গান শোনাচ্ছি। গিটারটা তো বাজানো হয় না আর, তবুও চেষ্টা করছি।’ গানটা আমায় নাড়িয়ে দিল। আরেকবার যখন শুনতে চাইলাম, ও বলল ‘তাহলে তোমরাও আমার সঙ্গে যোগ দাও।’

তাদের নৈতিক সংগীতদর্শনের আরেকটা জলন্ত উদাহরণ এই গানটা। এখানে টেলিভিশন কিভাবে শহুরে উন্মত্ততা সৃষ্টি করেছে সেটার প্রতিফলন এই গানে এসছে। মুক্তির স্বাদ পেতে এই বোকাবাক্সের যুগেও সময় পেলে খোলা জানালায় বসে থাকতে বলেছেন উপযুক্ত সঙ্গীর অপেক্ষায় যারাও এই বোকাবাক্সের ছোটো জগত থেকে মুক্তি চায় ।

গানটা নিয়ে তাদের এ্যালবামের সাথে প্রকাশিত বুকলেটে গৌতম লিখেছিলো

” এই আকাশ ফোড়া টিভি এন্টেনা, এই স্যাটালাইট, এই কেবল, এই বোকাবাক্সে বন্দী ছোটো পৃথিবীতে কী গাবো আমি? কি শোনাবো?
তোমার আমার ফারাকের এই নয়াফন্দিতে শোনাবো কোন গান? আ হা হা হা”

কথা-

পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে
স্যাটেলাইট আর কেব্‌লের হাতে
ড্রয়িংরুমে রাখা বোকা বাক্সতে বন্দী
আ হা হা হা আ হা

ঘরে বসে সারা দুনিয়ার সাথে
যোগাযোগ আজ হাতের মুঠোতে
ঘুচে গেছে দেশ কাল সীমানার গণ্ডি
আ হা হা হা আ হা

ভেবে দেখেছো কি,
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে।

সারি সারি মুখ আসে আর যায়
নেশাতুর চোখ টিভি পর্দায়
পোকামাকড়ের আগুনের সাথে সন্ধি
আ হা হা হা আ হা

পাশাপাশি বসে একসাথে দেখা
একসাথে নয় আসলেতে একা
তোমার আমার ফারাকের নয়া ফন্দি
আ হা হা হা আ হা

ভেবে দেখেছ কি…

স্বপ্ন বেচার চোরা কারবার
জায়গা তো নেই তোমার আমার
চোখ ধাঁধানোর এই খেলা শুধু ভঙ্গি
আ হা হা হা আ হা

তার চেয়ে এসো খোলা জানালায়
পথ ভুল করে কোনও রাস্তায়
হয়ত পেলেও পেতে পারি আরো সঙ্গী
আ হা হা হা আ হা

ভেবে দেখেছ কি…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “মহীনের ঘোড়াগুলির “পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে” গান নিয়ে বিস্তারিত ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 1 =