রাজাকার জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতাপদক বাতিল করেছে কে?

রাজাকার জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতাপদক বাতিল করেছে কে?
সাইয়িদ রফিকুল হক

অতিসম্প্রতি দেশের আলোচিত একটি বিষয় হলো বাংলাদেশের স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি ও স্বঘোষিত সামরিকজান্তা জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতাপদক বাতিল-প্রসঙ্গ। এই নিয়ে দেশের পাকিস্তানপন্থী একটি গোষ্ঠী যারপরনাই মিথ্যাচার করে চলেছে। এদের রাজনীতির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কলাকৌশল এখনও সেই পাকিস্তানের শয়তানতন্ত্রের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আর এই রাজনৈতিক দলগুলোও বাংলাদেশে স্বঘোষিত। এই দেশে এদের আইনানুগ বা নিয়মানুগ বা নিয়মতান্ত্রিক কোনো ভিত্তি নাই। এগুলো জিয়াউর রহমানের সৃষ্ট আগাছা মাত্র। আর জিয়াউর রহমান নিজেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আগাছা। আর এই আগাছা কালক্রমে আজ বাংলাদেশের জন্য একটা বিষবৃক্ষস্বরূপ।

একজন জিয়াউর রহমান দায়ঠেকে বাংলার মুক্তিযোদ্ধাদের চাপে পড়ে ১৯৭১ সালে নামকাওয়াস্তে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিলো। ব্যস, এই পর্যন্ত। ইতিহাস সাক্ষ্য দিবে: তার হাতে একজন পাকিস্তানী কিংবা রাজাকারও নিহত হয়নি। জিয়া এমনই একজন মুক্তিযোদ্ধা! পরবর্তীকালে এই জিয়াউর রহমানের হাতেই বাংলাদেশের হাজার-হাজার মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছে। আর হাজার-হাজার রাজাকার লালিতপালিত হয়েছে। আর বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক অপরাজনৈতিক দলের জন্মও হয়েছে।

বর্তমানে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতাপদক কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দায়িত্বহীন মহাসচিব থেকে শুরু করে একাধিক সিনিয়র-গাধা যথারীতি গাধামার্কা বক্তব্য দিয়ে দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করে নিজেরাই ঘোলাটে হয়ে গিয়েছে। এইসব মূর্খ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সামনে দিনরাত বলছে: বর্তমান সরকার জিয়ার পদক কেড়ে নিয়েছে! আসলে কি তাই? আসলে, এটি ডাহা-মিথ্যা। এর মধ্যে সততার লেশমাত্র নাই। আসল সত্য হলো: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশেই জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতাপদক বাতিল করা হয়েছে। মনে রাখবেন: মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে এটি করা হয়েছে। আর এটি কোনো সরকারি-সিদ্ধান্তে হয়নি। কিন্তু একশ্রেণীর মূর্খ কোনোকিছু না বুঝে ফেসবুকে, ব্লগে, পেপারে নিয়মিত লিখে চলেছে: সরকার জিয়ার স্বাধীনতাপদক কেড়ে নিয়েছে। এগুলো জাতির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার। এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা যেতে পারে।

মাসখানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের কথিত-মাজার বা কবরকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। আর এটিও কোনো সরকারি-সিদ্ধান্ত নয়। এখানে কাজ করেছে, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ। এবং নির্দেশ মানতে বাধ্য দেশের নির্বাচিত সরকার।
কথা ভেবেচিন্তে বলা ভালো। মূর্খের মতো কিংবা গাধার ন্যায় জোরে চিৎকার করলেই রাজা হওয়া যায় না। এই দেশে অনেক মূর্খই আক্রোশবশতঃ, জিদের কারণে ও ব্যক্তিগত রেষারেষির কারণেও জিয়ার দলে নামলিখিয়ে একেকজন ইতিহাসবিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছে। তন্মধ্যে কয়েকজন জাতীয় দালালও রয়েছে। এদের মুখে লাগামটানার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এই মূর্খগুলো এখনও বোঝে না যে, কোনটি সরকারি-সিদ্ধান্ত আর কোনটি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত। আগে এগুলো ভালোভাবে বুঝতে হবে—তারপর রাজনীতির খাতায় নাম-লেখাতে হবে।

সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত হলো: একজন রাজাকারপৃষ্ঠপোষক জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতাপদক ছিনিয়ে নেওয়া। এটি সবসময়ের জন্য একটি মহৎপ্রচেষ্টা আর রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর ও সাহসী পদক্ষেপ।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২২/০৯/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2