হেফাজতের ১৩ দফার শানে নজুল

চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার ‘হেফাজতে ইসলাম’ জন্মগতভাবে একটি দু’নম্বরি সংগঠন। হাটহাজারীর দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম-এর মহাপরিচালক আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী সাহেব এবং তার সহযোগীরা ২০১০-এর ১৯ মার্চ ‘হেফাজতে ইসলাম’ গঠন করেছেন। এর প্রায় ৬০ বছর আগে সিলেটের মৌলভীবাজারের বরুণার পীর শেখ লুৎফর রহমান সাহেব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আদি ও আসল ‘হেফাজতে ইসলাম’, যার শাখা পাকিস্তানেও আছে। বর্তমানে মূল ‘হেফাজতে ইসলাম’-এর প্রধান হচ্ছেন বরুণার গদ্দিনশিন পীর খলিলুর রহমান সাহেব, যাদের সঙ্গে হাটহাজারী, জামায়াত বা জঙ্গীবাদের কোনও সম্পর্ক নেই।

একজনের গড়া একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও সাফল্য কেউ যদি আত্মসাৎ করতে চায় ইসলামী বিধান অনুযায়ী তার শাস্তি কী হবে আল্লামা শফী ও তার সহযোগীরা ভাল বলতে পারবেন, তবে আদি হেফাজতে ইসলাম’-এর খলিলুর রহমান সাহেব ইচ্ছে করলে জালিয়াতির অভিযোগে হাটহাজারীওয়ালাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি দুই ধরনের মামলাই করতে পারেন।

হাটহাজারীর হেফাজতীদের কাণ্ডকারখানা দেখে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কয়েকজন স্বনামধন্য আলেম বলেছেন ‘হেফাজতে ইসলাম’ নামে কোনও সংগঠন প্রতিষ্ঠা খোদার উপর খোদকারির শামিল, কারণ কোরাণ ও ইসলামের প্রকৃত হেফাজতকারী হচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্। পবিত্র কোরাণে আল্লাহ্ বলেছেন, ‘আমিই কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি এবং অবশ্য আমিই উহার সংরক্ষক।’ (সুরাঃ- হিজর, আয়াতঃ- ৯) বান্দা চাইলে ‘হেফাজতে ঈমান’ বা ‘হেফাজতে মুসলিম’ নামে সংগঠন করতে পারে, ‘হেফাজতে ইসলাম’ কদাচ নয়।

‘হেফাজতে ইসলাম’ নামটি ইসলামসম্মত কী না এ নিয়ে আলেমরা বাহাস করুন, আমি আমার সামান্য ইসলামী এলেম নিয়ে এ বিতর্কে জড়াতে চাই না। আমি বলতে চাই হাটহাজারীর হেফাজতওয়ালারা যে ১৩ দফা দাবীকে কেন্দ্র করে সরকার পতনের ডাক দিয়েছেন সেগুলোও দু’নম্বরি।

হাটহাজারীর হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমদ শফী একজন জামায়াতবিরোধী আলেম হিসেবে পরিচিত। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মওলানা আবুল আলা মওদুদীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি ‘ইজহারে হাকীকত বা বাস্তব দৃষ্টিতে মওদুদী মতবাদ’ নামে একটি পুস্তিকাও লিখেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও চরম শাস্তিপ্রদান এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবিতে ঢাকার শাহবাগ চত্বরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গণজাগরণ মঞ্চের নেতাদের নাস্তিক মুরতাদ কাফের বলে হত্যা আরম্ভ করেছে জামায়াত। এই মঞ্চের নেতারা বহুবার বলেছেন তাদের আন্দোলন ইসলাম বা কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। মঞ্চের মুখপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার এ কথাও বলেছেন যে, তিনি একজন ধর্মানুরাগী মুসলমান, নামাজ-রোজা সবই করেন। এত সব বলেও জামায়াতকে নিরস্ত করা যায়নি, কারণ নাৎসীপ্রেমী ও হিটলার-অনুরাগী জামায়াত বিশ্বাস করে গোয়েবল্সীয় তত্ত্বে কোনও মিথ্যা শতবার বললে মানুষ তা সত্য বলে মেনে নেয়। জামায়াতের গুরু মওদুদীও বলেছেন, ‘সময় সময় মিথ্যা বলা শুধু জায়েজই নয় বরং অবশ্য কর্তব্য’। (তরজুমানুল কোরাণ, মে ১৯৫৮) অথচ হাদিসে আছে ইসলাম ধর্মে সবচেয়ে নিকৃষ্ট তিনটি গুনাহর অন্যতম হচ্ছে ‘মিথ্যা কথা বলা’। (সহীহ মুসলিম শরীফ দ্রষ্টব্য)

উপমহাদেশের বহু খ্যাতিমান আলেম, ওলামা, পীর, মাশায়েখ মওদুদীর মতবাদের কঠিন সমালোচনা করেছেন। অতীতে হেফাজতে ইসলামের আল্লামা শফীও করেছেন। শাহবাগের মহাজাগরণে ভীত হয়ে জামায়াত উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় জামায়াতবিরোধী যত আলেম ওলামা আছেন তাদের যেভাবেই হোক পক্ষে আনতে হবে। হেফাজতের লং মার্চের সময় যদিও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিপুল অঙ্কের অর্থপ্রদানের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু আল্লামা শফীর মতো একজন বুজুর্গ ব্যক্তি মওদুদীবাদীদের আর্থিক প্রলোভনের সামনে আত্মসমর্পণ করবেন এটা বিশ্বাস করা কঠিন বটে, তবে কোন মন্ত্রে তিনি এবং তার সংগঠন ১৮০ ডিগ্রি মোচড় খেলেন এর শানে নজুল একমাত্র অন্তর্যামীই জানেন। জামায়াতপ্রেমে গদগদ হয়ে হাটহাজারীর হেফাজতিরা জামায়াতের মুখপত্র ‘দৈনিক সংগ্রাম’-এ আল্লামা শফীর নামে বিশাল চিঠি ছেপেছেন। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে জামায়াতের পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় এ চিঠি ছাপা হয়েছে। সাংবাদিকতার রীতির পরিপন্থী হলেও বিষয়বস্তুর সঙ্গে দলের আদর্শের মিল থাকার কারণেই এককালের জামায়াতবিরোধীদের এই চিঠি ‘সংগ্রাম’ কর্তৃপক্ষ লুফে নিয়েছে। চিঠির শিরোনাম হচ্ছে ‘ইসলাম বিদ্বেষের প্রতিবাদে গর্জে উঠুন।’ এতে গণজাগরণ মঞ্চের তরুণ নেতাদের সঙ্গে আমাকে ও অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনকে ‘নাস্তিক’, ‘মুরতাদ’, ‘মুশরিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে আমাদের হত্যার জন্য দলের জঙ্গীদের প্ররোচিত করা হয়েছে, যার প্রাথমিক মহড়া আমরা দেখেছি ৬ এপ্রিল মহাখালীতে হেফাজতের মিছিল থেকে আমাদের সমাবেশে কাপুরুষোচিত হামলায়। এতকাল জামায়াত আমাদের ‘নাস্তিক’, ‘মুরতাদ’ বলেছে। এখন জামায়াতের সঙ্গে গো ধরে হেফাজতও জামায়াতি জবানে আমাদের প্রতি বিষোদ্গার করছে।

হেফাজত দাবি করে তারা কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়, তাদের সংগঠনের কোনও রাজনৈতিক অভিলাষ নেই। ভাল কথা, মৌলভীবাজারের আদি হেফাজতের নেতারা শুরু থেকেই নিজেদের রাজনীতি থেকে বহু দূরে রেখে ইসলামের প্রচার প্রসারে নিয়োজিত রয়েছেন। রাজনৈতিক দল না হলেও হাটহাজারীর নেতারা যে ভাষায় কথা বলেন, যে ভাষায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হুমকি দেন তার সঙ্গে জামায়াতিদের এতটুকু অমিল নেই। ৬ এপ্রিলের লংমার্চে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক সমর্থনকে তারা মোবারকবাদ জানিয়েছেন। ৬ এপ্রিলের মহাসমাবেশ থেকে হেফাজতের নেতারা যে ১৩ দফা দাবি ঘোষণা করেছেন তার অধিকাংশ জামায়াতের একান্ত নিজস্ব দাবি, জামায়াতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র বিএনপিও যার সঙ্গে একমত নয়। হাটহাজারীর হেফাজতের ১৩ দফা দাবিতে বলা হয়েছেঃ-

১. সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করতে হবে।
২. আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করতে হবে।
৩. শাহবাগ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাস্তিক-মুরতাদ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর শানে কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধ করে তাদের গ্রেফতারপূর্বক কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. রাসুলপ্রেমিক প্রতিবাদী আলেম-ওলামা, মাদরাসার ছাত্র এবং তৌহিদি জনতার ওপর হামলা, দমন-পীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।
৫. অবিলম্বে গ্রেফতার করা সব আলেম-ওলামা, মাদরাসা ছাত্র ও তৌহিদী জনতাকে মুক্তিদান, দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দুষ্কৃতিকারীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
৬. জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধাবিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধাদান বন্ধ করতে হবে।
৭. কাদিয়ানিদের সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
৮. ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
৯. মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তির নগরীতে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে।
১০. ইসলামবিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলামি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
১১. সারাদেশের কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ এবং মসজিদের ইমাম-খতিবকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দানসহ তাদের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।
১২. রেডিও-টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় দাড়ি, টুপি ও ইসলামি কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসি-ঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় খল ও নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করতে হবে।
১৩. পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে এনজিও, কাদিয়ানিদের অপতৎপরতা এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের ধর্মান্তরকরণসহ সব অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিভিন্ন ওয়াজ শোনার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তাদের এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, উপরোক্ত ১৩ দফার মূল দাবিগুলো জামায়াতের দলীয় দাবি, যা বিশেষ মতলবে বিশেষ সময়ে থলের ভেতর থেকে বের করা হয়, অন্য সময়ে থলের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়। এখন হেফাজত বলছে ১৩ দফা দাবি না মানা হলে তারা সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন করবে। বিএনপি জামায়াতও এই এক দফার কথা বলছে।

১৩ দফার প্রধান দাবি হচ্ছে আল্লাহ, রাসুল (সাঃ) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননার জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন অর্থাৎ ‘ব্লাশফেমি আইন’ পাশ করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমীর মতিউর রহমান নিজামী ১৯৯৩ সালে জাতীয় সংসদে এই একই দাবি জানিয়ে একটি বিল জমা দিয়েছিলেন, যা তৎকালীন বিএনপি সরকার গ্রহণ করেনি। এর কয়েক মাস আগে ১৯৯২-এর নভেম্বরে জামায়াতে ইসলামী কাদিয়ানিদের কাফের ঘোষণার দাবি জানিয়ে, বিভিন্ন স্থানে নিরীহ আহমদীয়া সম্প্রদায়ের মসজিদ, পাঠাগার, দফতর ধ্বংস করেছিল।
জামায়াত যখন কোণঠাসা হয় তখনই তারা ‘কাদিয়ানিদের কাফের ঘোষণা’ কিংবা ‘ব্লাশফেমি আইন পাশ’ করার জন্য হইচই করে। কিন্তু এই জামায়াত যখন ক্ষমতায় থাকে তখন এসব বিষয়ে টু শব্দটিও করে না। যে নিজামী ১৯৯৩ সালে জাতীয় সংসদে ‘ব্লাশফেমি আইন’ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছিলেন ২০০১-এর পর খালেদা জিয়ার কৃপায় মন্ত্রী হয়ে এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসেছিলেন। একইভাবে জামায়াত আহমদীয়াদের উপর হামলা, হত্যা, নির্যাতন অব্যাহত রাখলেও ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের কাফের ঘোষণার উদ্যোগ নেয়নি। কারণ জামায়াত জানে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে বা বিদেশে এসব দাবি কাউকে গেলানো যাবে না; বাড়াবাড়ি করলে আম ও ছালা দুই-ই যাবে।

হেফাজতের ১৩ দফার প্রথম দাবি হচ্ছে জিয়াউর রহমান ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস…’-এর যে কথা সংযোজন করেছিলেন, যা উচ্চতর আদালত অবৈধ ঘোষণ করে বাতিল করে দিয়েছে সেগুলো আবার সংযোজন করতে হবে।

বাংলাদেশ অথবা পৃথিবীর অন্য সব দেশের সোয়া’শ কোটি মুসলমান সব সময় মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন। তাদের নতুন করে এই বিশ্বাস স্থাপনের জন্য জবরদস্তি করা ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি ছাড়া আর কিছু নয়; যে বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে কোরাণ, হাদিস এবং মহানবীর (সাঃ) বিদায় হজ্বের ভাষণে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। জামায়াত ও জিয়াপ্রেমে দিওয়ানা হাটহাজারীর হুজুরদের কাছে কোরাণ, হাদিস এবং আল্লাহ্ ও রাসুলের (সাঃ) সতর্কবাণীর কি কোনই মূল্য নেই?

যে কোনও সভ্য দেশের সংবিধানে ধর্ম-ভাষা-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকে। বাংলাদেশে এখনও প্রায় দুই কোটি হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, আদিবাসী ও নৃগোষ্ঠী রয়েছে। জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, এমন কি ইসলাম ধর্ম অনুযায়ীও অন্য ধর্মের মানুষকে ইসলামে বিশ্বাস স্থাপনে কেউ জবরদস্তি করতে পারে না। হাটহাজারীর হেফাজতকারীরা কি ভুলে গেছেন পবিত্র কোরাণে আল্লাহ্ তাঁর রাসুল (সাঃ)-কে বলেছেন, ‘তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করিলে পৃথিবীতে যাহারা আছে তাহারা সকলেই অবশ্যই ঈমান আনিত। তবে কি তুমি মুমিন হইবার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করিবে?’ (সুরাঃ- ইউনুস, আয়াতঃ- ৯৯)

পবিত্র কোরাণে আল্লাহ্ আরও বলেছেন, ‘যাহারা দীন (ইসলাম) সম্পর্কে নানা মতের সৃষ্টি করিয়াছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হইয়াছে তাহাদের কোন দায়িত্ব তোমার নয়; তাহাদের বিষয় আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত।’ (সুরাঃ- আন’আম, আয়াতঃ- ১৫৯)

আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ- ইহুদীরা একাত্তর অথবা বাহাত্তর ফেরকায় (দলে) বিভক্ত হয়েছিল এবং খৃস্টানরাও অনুরূপ সংখ্যক ফেরকায় বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উম্মাত বিভক্ত হবে তিয়াত্তর ফেরকায়’ (জামে আত-তিরমিযী, চতুর্থ খণ্ড, পৃঃ ৩৯৪)।

কে মুসলমান আর কে মুসলমান নয় এ নিয়ে ফতোয়া দেয়ার অধিকার আল্লাহ কোনও সরকার বা মাদ্রাসাকে দেননি। ১৯৫৩ সালে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদী ‘কাদিয়ানি সমস্যা’ নামে একটা বই লিখে পাকিস্তানের লাহোরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়েছিলেন। মওদুদীই প্রথম দাবি করেছিলেন আহমদীয়াদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। এই দাঙ্গায় আহমদীয়া মুসলিম জামাতের কয়েকশ মানুষকে হত্যা করা হয়। সামরিক আদালতে বিচারে মওদুদীকে তখন এর জন্য মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। দাঙ্গার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিচারপতি মুনীরের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছিল, যা মুনীর কমিশন নামে খ্যাত। এই কমিশন মন্তব্য করেছে কে মুসলমান আর কে মুসলমান নয় এটা নির্ধারণের দায়িত্ব সরকার বা কোন সংগঠন যদি নেয় তাহলে সমাজে সমূহ বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।

পবিত্র কোরাণে আল্লাহ্ রাসুলের (সাঃ) সমালোচনা বা ব্লাশফেমির জন্য জাগতিক শাস্তির বিধান নেই, আছে আল্লাহপ্রদত্ত কঠিন শাস্তি, যা কেয়ামতের পর ভোগ করতে হবে। ব্লাশফেমির জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান এসেছে ইহুদি ও খৃষ্টান ধর্ম থেকে, যার প্রয়োগ এখন পশ্চিমের কোথাও নেই। পাকিস্তানে ব্লাশফেমি আইনের বিরুদ্ধে শুধু নাগরিক সমাজ নয়, সেখানকার রাজনৈতিক নেতা এমনকি মন্ত্রীরাও সোচ্চার। পাকিস্তানে ব্লাশফেমি আইনের প্রতিবাদ করার জন্য মৌলবাদীরা ২০১১ সালে পাঞ্জাবের গভর্ণর সালমান তাসির ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টিকে হত্যা করেছে।

নারীনীতির বিরুদ্ধে জামায়াত ও সহযোগী মৌলবাদীদের জেহাদ নতুন কোন বিষয় নয়। ইসলামের দোহাই দিয়ে নারীকে তারা পুরুষের অধীন এবং পর্দার অন্তরালে আটকে রাখতে চায়। একই সঙ্গে বঞ্চিত করতে চায় পৈত্রিক সম্পত্তির সমান অধিকার থেকে। হেফাজতের মৌলবাদীরা এবার নারীনীতি বাতিলের পাশাপাশি ‘প্রকাশ্যে নারীপুরুষের অবাধ বিচরণ’ নিষিদ্ধকরণের দাবি জানিয়েছে, যা বাস্তবায়ন করতে হলে গার্মেন্টস সহ দেশের অধিকাংশ শিল্প কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এমন কি জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ করে দিতে হবে। কোন বিচরণ অবাধ, কোনটি অবাধ নয় এ ফতোয়া কে দেবে? নারীদের প্রতি হেফাজতিদের বর্বরোচিত আচরণ মূর্ত হয়েছে তাদের ৬ এপ্রিলের মহাসমাবেশে কর্তব্যরত নারী সাংবাদিকের উপর কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনায়। নারীদের প্রতি শত শত অসভ্য মন্তব্য পাওয়া যাবে হেফাজতিদের আদর্শ নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর, বিভিন্ন ওয়াজের ক্যাসেটে। জামায়াত ও হেফাজতের দাবি মানতে হলে বাংলাদেশকে জাহেলিয়াতের যুগে ফিরে যেতে হবে।

জামায়াতের সহযোগী মৌলবাদীরা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একবার ঢাকার ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিল। ২০০৮-এর অক্টোবরের বিমানবন্দরের সামনে স্থাপিত লালন ভাস্কর্য ভাঙা সম্পর্কে ‘আমিনীদের জেহাদী আস্ফালনঃ নিরব প্রশাসন’ শিরোনামে জনকণ্ঠে আমি লিখেছিলাম ‘

মৌলবাদীদের হুমকির কারণে সরকার জিয়া বিমানবন্দরের সামনে নির্মীয়মান বাঙালির লোক সংস্কৃতির প্রতীক ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলেছে। সেই সময় আমি দেশের বাইরে ছিলাম। যেদিন এই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার খবর পত্রিকায় ছাপা হয়

(১৬ অক্টোবর ’০৮) সেদিন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রামাণ্যচিত্র ‘ওয়ার ক্রাইমস সেভেন্টি ওয়ান’ দেখতে এসে আলোচনা সভায় সৌদি আরবের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইসলামিক প্লুরালিজম-এর পরিচালক ডঃ ইরফান আল আলাভী বলেছিলেন কীভাবে সৌদি রাজতন্ত্রের মদদে ওহাবি মতবাদের অনুসারী জঙ্গী মৌলবাদীরা বিশ্বব্যাপী ইসলামের উদারনৈতিক অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি ধ্বংস করছে। বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক মানবতার প্রতীক বাউলদের ভাস্কর্য স্থাপনকে যারা মূর্তিপূজার সঙ্গে তুলনা করছে তারা বিলক্ষণ জানে বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করেছেন লালনের মতো সুফী সাধকরা, মওদুদী, গোলাম আযম বা আমিনীদের মতো জঙ্গী ওহাবিরা নয়।

‘বাংলাদেশের চেয়ে সংখ্যানুপাতে অধিক মুসলিম অধ্যুষিত এক ডজনেরও বেশি দেশে ভাস্কর্য রয়েছে। ইরাকের রাজধানীকে বহু ধর্মপ্রাণ মুসলমান শ্রদ্ধাভরে ‘বাগদাদ শরিফ’ বলেন, সুফিসাধক হযরত আবদুল কাদের জিলানীর মাজার থাকার কারণে। মক্কা ও মদিনার পর সুন্নী মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র শহর বাগদাদ। এই শহরের কেন্দ্রে রয়েছে আরব্য উপন্যাসের নায়ক বাদশাহ শাহরিয়ারের গল্পবলিয়ে লাস্যময়ী বেগম শাহেরযাদের ভাস্কর্য, যার স্রষ্টা প্রখ্যাত আরব ভাস্কর মোহাম্মদ গণি হিকমত। বাগদাদের কাহরামানা স্কয়ারে রয়েছে আলীবাবা চল্লিশ চোরের সুন্দরী মর্জিনার ভাস্কর্য। ইরাকে সাদ্দাম হোসেনকে আমেরিকানরা যখন প্রহসনের বিচার করে হত্যা করেছিল তখন অনেকের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বাংলাদেশের মৌলবাদীরাও মাতম করেছিল। এই মোল্লারা জানে না সাদ্দাম ইরাকের জন্য ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন। সাদ্দামকে হত্যার পর আমেরিকার পুতুল সরকার ক্ষমতায় এসে ইরাকের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে এর মুসলমানি করেছে। সাদ্দামের জমানায় বাগদাদের বিভিন্ন সড়ক দ্বীপে অনেক ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছে। শহরের কেন্দ্রে আল ফেরদৌস স্কয়ারে সাদ্দাম স্থাপন করেছিলেন নিজের বিশাল ভাস্কর্য। সাদ্দামকে গ্রেফতারের পর এই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হলেও একই জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে তরুণ ইরাকী ভাস্কর হাশিম হামাদের ২৩ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট এক অনুপম ভাস্কর্য, যেখানে রয়েছে পিতা, মাতা ও সন্তান যাদের হাতে বাঁকা চাঁদ, পাশে সূর্য। বাঁকা চাঁদ ইসলামের প্রতীক, সূর্য সুমেরিয় সভ্যতার প্রতীক। ধর্মীয় বিশ্বাসে মুসলিম হলেও ইরাকীদের অহঙ্কার প্রাচীন সুমেরিয় সভ্যতার উত্তরাধিকারী তারা।

মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি ভাস্কর্য নির্মাণের সমালোচনা করেছেন, কিন্তু রাজধানী কায়রোর কোন ভাস্কর্য ভাঙার জন্য কখনও ফতোয়া দেননি। কায়রোর রাজপথে বহু ভাস্কর্য রয়েছে। কায়রোর অদূরে ফেরাউনদের আমলের নৃসিংহ মূর্তি (স্ফিংস) ভাঙার কথাও সেখানকার মুফতি বা আলেমরা কখনও বলেননি। মুসলমানদের পবিত্র শহর জেরুযালেমেও বহু ভাস্কর্য রয়েছে। ভাস্কর্য রয়েছে মুসলমানদের তীর্থস্থান সৌদি আরবের জেদ্দা, রিয়াদ এবং মধ্য এশিয়ার পবিত্র শহর সমরখন্দ ও বোখারায়। সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কে জাতীয় জাদুঘরের পাশে রয়েছে বিশাল ভাস্কর্য উদ্যান। ভাস্কর্য আছে তুরস্ক, ইরান, জর্দান ও ইন্দোনেশিয়া সহ অনেক দেশে। সৌদি আরব, মিশর, সিরিয়া বা ইরাকের গ্র্যান্ড মুফতিরা কি আমিনী, সাঈদী ও নূরানীদের চেয়ে কম মুসলমান? আফগানিস্তানে মোল্লা উমর আর ওসামা বিন লাদেনের অনুসারী তালেবানরা প্রায় দু হাজার বছরের পুরনো বৌদ্ধমূর্তি কামানের গোলা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে, যা শুধু বৌদ্ধধর্ম নয়, মানবসভ্যতার মহান অর্জনের উপর নৃশংস হামলার নামান্তর। তারপরও গজনীতে আবু মুসলিম খোরাসানির ভাস্কর্যের গায়ে তারা হাত দেয়নি।

’ (জনকণ্ঠ, ২৫ নবেম্বর ২০০৮)
পুরনো বাংলা প্রবাদ আছে বিশেষ ধরনের লোক ধর্মের কথা শুনতে চায় না। হাটহাজারীর জঙ্গী হেফাজতওয়ালাদের কোরাণ হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে লাভ নেই, তারা তা শুনবেন না। যারা এখনও তাদের ইসলামের হেফাজতকারী মনে করেন তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আল্লাহ্ সব মানুষকে জ্ঞান বুদ্ধি দিয়েছেন। কোরাণ হাদিসের বহু বাংলা তরজমা ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র থেকে তফসির সহ প্রকাশিত হয়েছে। আপনারা কোরাণ হাদিস পড়ে জানুন ইসলাম কী বলে। ইসলাম যে শান্তির ধর্ম, জ্ঞান অন্বেষণে ধর্ম, ভিন্ন ধর্মের সঙ্গে সহ অবস্থানের ধর্ম এসব কথা জামায়াতি ও হাটহাজারীর হেফাজতিদের কোনও লেখায় পাবেন না। জেহাদের নামে প্রতিপক্ষকে কতল ও সন্ত্রাস ছাড়া অন্য কোন ইসলাম তাদের মগজে নেই। ইসলামের আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য অনুভব করতে হলে সুফী সাধকদের রচনা পড়ুন এবং প্রার্থনা করুন, আল্লাহ্ যেন মওদুদীবাদী জামায়াত এবং তাদের নিত্যনতুন সহযোগীদের কবল থেকে ইসলাম ধর্ম এবং বনি আদমদের হেফাজত করেন।

সরকারকে আমরা বলতে চাই হাটহাজারী নয়, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হেফাজত করা আপনাদের দায়িত্ব। হাটহাজারীর হেফাজতিদের মুক্তিযুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তীকালে জামায়াত জঙ্গী সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তদন্তের জন্য পাকিস্তানের মুনীর কমিশনের মতো উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করুন। যে সব আলেম ওলামা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা ’৭২-এর সংবিধানে আস্থা রাখেন তাদের সংগঠিত ও সহযোগিতা করুন। কারণ এই আলেমরা বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনও ইসলামের প্রতিপক্ষ নয়, বরং ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের চেতনা ইসলামের সমার্থক। মওদুদীবাদী জামায়াতিরা এবং হালে তাদের মুখপাত্র ‘হেফাজতে ইসলাম’ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর ’৭২-এর সংবিধানকে ইসলামের প্রতিপক্ষ বানিয়েছে।

২৫ এপ্রিল ২০১৩
ঢাকা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৬ thoughts on “হেফাজতের ১৩ দফার শানে নজুল

  1. শাহরিয়ার কবিরের এই ধরনের
    শাহরিয়ার কবিরের এই ধরনের লেখাগুলো এক কথায় অসাধারন এবং গবেষনামূলক। এই লেখাগুলোর মর্মার্থ সাধারন মানুষের জানার কথা নয়। এগুলোকে তাঁদের কাছে পৌছে দিতে পারলে সমূহ অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারত। কিন্তু সরকার তো সন্ধিতে ব্যস্ত। এলেখাগুলো আধারেই থেকে যায় সেজন্য।

    সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, শাহরিয়ার ধর্মান্ধ ও ধর্মব্যবসায়ীকে মোকাবেলা করার জন্য এত বেশী ধর্মীয় পড়াশুনা এবং গবেষনা করেছে যে, একজন খোদ ধার্মিকও এতোটা করেছে কি না সন্দেহ আছে। এঅভ্যাসটা সবারই চর্চা করা উচিত। মোল্লারা জানেনা বলেই হেফাজতী আর খেলাফতি হয়। তাঁরা যদি জানতো, তাহলে তাঁরা অন্তত মানুষ হতো।

  2. হেফাজতের নেতারা যে কি পরিমান
    হেফাজতের নেতারা যে কি পরিমান ভণ্ড সেটা আরও স্পষ্ট হয়েছে সাভারের ঘটনায় তাদের বক্তব্যে। সারা দেশের মানুষ যখন এতজন নিরীহ শ্রমিকের এইরকম নৃশংস মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল, তখন নরপশুর দল বলে এটা নাকি আল্লাহর গজব। কতোটা নীচ হতে পারে মানুষ!!!

    শাহরিয়ার কবির স্যারকে ধন্যবাদ এরকম বিশ্লেষণ মূলক লেখার জন্য।

  3. শাহরিয়ার কবির এর এই লেখাটি
    শাহরিয়ার কবির এর এই লেখাটি পড়ার পর হেফাজতিদের সম্পর্কে আর কোন কনফিউশন কারো থাকবেনা। লেখককে স্যালুট এই ধরনের একটি মুল্যবান লেখা আমাদের পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। ধন্যবাদ ইস্টিশন কর্তৃপক্ষকেও শাহরিয়ার কবিরের মত লেখক, গবেষক ও যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে আন্দোলন নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্বের লেখা অনলাইনে পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

    এই লেখাটি পড়ার পর একজন শাহরিয়ার কবিরের উপর আমার শ্রদ্ধাবোধ আরো বেড়ে গেল। এই ধরনের লেখা লিখতে জনাব কবিরকে কি পরিমান পড়াশোনা করতে হয়েছে সেটাই ভাবছি।

  4. চমৎকার লিখেছেন স্যার,
    চমৎকার লিখেছেন স্যার, হেফাজতের ভন্ডামী দিনদিন যেভাবে উন্মোচিত হচ্ছে তাতে দেখবেন সামনে কোন একসময় হেফাজতিরা নিজেদের হেফাজত করার আর রাস্তা খুঁজে পাবেনা

  5. সবচেয়ে দর্শনীয় ভাস্কর্য্য
    সবচেয়ে দর্শনীয় ভাস্কর্য্য তো কাবা শরিফ, সারাবিশ্বের মুসলমান রা তো একযোগে ঐ পাথরের দালান কে সিজদা করে, সেই হিসাবে মুসলমানরা সবচেয়ে বড় পাথর পুজারী।

  6. শাহরিয়ার কবির স্যারের সকল
    শাহরিয়ার কবির স্যারের সকল পোস্টই গবেষণাধর্মী। আরও একটি গবেষণা ধর্মী পোস্টের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই এবং এরুপ গবেষণাধর্মী আরও পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম…

  7. জনাব শাহরিয়ার কবির কতটুকু
    জনাব শাহরিয়ার কবির কতটুকু পড়াশোনা করে একটি লেখা লেখেন, সেটা তার কাছাকাছি না গেলে বলা মুস্কিল। আমি উনার ব্যক্তিগত লাইব্রেরীতে পৃথিবীর প্রায়ই সকল ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থের উপর বিশাল সংগ্রহ দেখেছি। এই লেখাটি পড়ার পর সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের হেফাজত সম্পর্কে আশাকরি অনেক কিছুই পরিস্কার হয়ে যাবে। বিজ্ঞ এই প্রবীণ যোদ্ধার সব লেখাই আমি মনযোগ নিয়েই পড়ি। যত পড়ি, জ্ঞানের জায়গাটা ততই সমৃদ্ধ হয়। পরবর্তী লেখার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকলাম।

  8. ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির
    ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তার অজ্ঞতা,অপব্যাখ্যা সম্পর্কে ইতিপূর্বে অনেক তথ্য শুনেছি। বিশ্বাসযোগ্য তেমন কিছু পাইনি। মূলত খুঁজে দেখিনি। প্রথমবারের মতো, খুঁজতে গিয়ে দেখি, এ তো মূর্খ কৃষককে ভার্সিটির শিক্ষক বানানোর মতো ঘটনা!
    জনাব শাহরিয়ার কবির সাহেব, আজকাল মানুষ আর নাম খায় না। সবাই প্রমাণ চায়। প্রমাণ দিতে পারলে আপনি সত্যবাদী, নইলে …………।
    আমার ভাবতে লজ্জা লাগছে যে, আপনার মতো একজন মিথ্যুক আজ ঘাদানিকের সভাপতি। যে পদে একসময় ছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। ছিঃ জনাব শাহরিয়ার ছিঃ!
    হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে শাহরিয়ার কবির নিজের বিকৃত চেহারাকে আবারও উন্মোচিত করলেন। তিনি ইস্টিশন ব্লগে লিখেছেন “হেফাজতে ইসলাম জন্মগত-ভাবে একটি দু’নম্বরি সংগঠন। হাটহাজারীর দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম-এর মহাপরিচালক আল্লামা শাহ্‌ আহমদ শফী সাহেব এবং তার সহযোগীরা ২০১০-এর ১৯ মার্চ ‘হেফাজতে ইসলাম’ গঠন করেছেন। এর প্রায় ৬০ বছর আগে সিলেটের মৌলভিবাজারের বরুণার পীর শেখ লুৎফুর রহমান সাহেব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আদি ও আসল ‘হেফাজতে ইসলাম’, যার শাখা পাকিস্তানেও আছে। বর্তমানে মূল ‘হেফাজতে ইসলাম’-এর প্রধান হচ্ছেন বরুণার গদ্দিনশিন পীর খলিলুর রহমান সাহেব, যাদের সঙ্গে হাটহাজারী, জামায়াত বা জঙ্গিবাদের কোনও সম্পর্ক নেই।”
    শাহরিয়ার কবিরের হাস্যকর ইতিহাস বর্ণনার বিশ্লেষণ দেখে নেই >
    ১) ৬০ বছর পূর্বে সিলেটের মৌলভিবাজারের বরুণার পীর শেখ লুৎফুর রহমান সাহেব যে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার নাম “হেফাজতে ইসলাম” নয় “আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম”। দেখুন > http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/02/15/187994#.UXwqPKK8FWB
    ২) “হেফাজতে ইসলাম” আর আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। “আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম” একটি সামাজিক সংগঠন। দেখুন > http://www.bdtoday.net/newsdetail/detail/31/18753
    এছাড়া আঞ্জুমান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখতে পারেন “শায়খ লুৎফুর রহমান (রহঃ)” এর জীবনী-গ্রন্থ দিলরোবা রহমান হামিদী’র রচিত “হায়াতে বর্ণভী (রহঃ)”।
    ৩) শায়খ লুৎফুর রহমান বর্ণভী (রহঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের শাখা পাকিস্তানে নেই। মূলত আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম সিলেট কেন্দ্রিক একটি সামাজিক সংগঠন। ব্রিটেনে “আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম ইউকে” নামে একটি শাখা ছাড়া হেফাজতের অন্য কোনো শাখা নেই।
    দেখুন > http://www.jurinews.com.bd/?p=5819
    ৪) “হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাথে বরুনার পীর মাওলানা খলিলুর রহমানের কোনো সম্পর্ক নেই” এটি একটি জঘন্যতম মিথ্যাচার।
    সিলেটে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে বরুনার পীর মাওলানা খলিলুর রহমান ন্সাহেব এবং তাঁর ছোটভাই মাওলানা রশিদুর রহমান সাহেবের উপস্থিতির কথা দেশের সবগুলো দৈনিকে এসেছে। > দেখুন http://www.suchinta24.com/%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F%
    http://www.amardeshonline.com/pages/printnews/2013/04/14/196396
    আসুন মিথ্যুকদের মুখে থুথু দিয়ে সঠিক ইতিহাস জেনে নেই।
    “হজরত বর্ণভীর রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে বরুণা মাদরাসা ও আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম। ১৯৫১ সালে বরুণা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং জনসাধারণের মাঝে দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা বিস্তারের জন্য আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ১৯৪৪ সালে ১৩৪৯ বাংলায় প্রতিষ্ঠা করেন।” <এই লেখাটি শায়খ বর্ণভী’র জীবনী থেকে কোট করেছি। ভালোভাবে দেখুন, “আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম” মুসলিম জনসাধারণের মাঝে দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা বিস্তারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত আঞ্জুমান স্বীয় উদ্দেশ্য সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এবং করে চলছে। “আঞ্জুমান” এবং “হেফাজতে ইসলামের” লক্ষ্য উদ্দেশ্য’র ভিন্নতা সুস্পষ্ট। আল্লামা আহমদ শফী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে এখানে ভিজিট করুন। > http://www.istishon.com/node/1237
    আল্লামা লুৎফুর রহমান (রহঃ) সিলেট মৌলভীবাজারের বরুনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩৬ সালে ১৩৪১ বাংলায় পৃথিবী বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ গমন করেন। সেখানে ৬ বছর লেখাপড়া করেন। সে সময়ে দারুল উলুম দেওবন্দের শায়খুল হাদিস ছিলেন হজরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)।১৯৪১ সালে ১৩৪৬ বাংলার মাঘ মাসের ১০ তারিখে স্বীয় শায়খ মাদানী থেকে বাইয়াতের ইজাযতপ্রাপ্ত হন তিনি। > http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/02/15/187994#.UXwqPKK8FWB
    এখানে দেখুন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সংক্ষিপ্ত জীবনী। > http://www.dainikjalalabad.com/2013/04/06/%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E
    আল্লামা আহমদ শফী এবং আল্লামা লুৎফুর রহমান (রহঃ) একই শিক্ষকের ছাত্র এবং ইজাযতপ্রাপ্ত খলীফা। এরপর একমাত্র নির্বোধ ব্যক্তিই বলতে পারবে, “হেফাজতে ইসলাম” এবং “আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের” মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।
    আল্লামা আহমদ শফীর আহবানে বিগত ২২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের মসজিদসমুহ থেকে সাধারণ মুসল্লিদের মিছিল বের হয়েছিলো। সেদিন ঢাকার কাঁটাবন মসজিদ থেকে পুলিশ লন্ডন প্রবাসী মাওলানা নুরে আলম হামিদীকে গ্রেফতার করে। > http://www.sylhetreport.com/?p=12032
    মাওলানা নুরে আলম হামিদী হচ্ছেন বরুনার বর্তমান পীর খলিলুর রহমান সাহেবের সন্তান। মাওলানা নুরে আলম হামিদী “আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম ইউকে”র সভাপতিও। > http://www.kazirbazar.com/firstpage/11994-2013-03-15-18-29-18
    দেখুন তো ০৬ এপ্রিলের কর্মসূচি সম্পর্কে নুরে আলম হামিদী কি বলছেন। > ৬ এপ্রিল লংমার্চে নাস্তিকদের দাঁতভাঙা জবাব দিন : শেখ নূরে আলম হামিদী
    http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/03/29/194143#.UXvGcqK8FWA
    এরপরও কি বলবেন “হেফাজতে ইসলাম জন্মগত-ভাবে একটি দু’নম্বরি সংগঠন!”
    “আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের” সুনাম ও সাফল্য “হেফাজতে ইসলাম” আত্মসাৎ করছে বলে
    শাহরিয়ার কবির যে অভিযোগ করেছেন, সেটা দেখে বলতে ইচ্ছে করছে, “মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি” কেন আমরা জানি।
    শাহরিয়ার কবির হাটহাজারীওয়ালাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি দুই ধরনের মামলা’র প্ররোচনা দিলেন। এখন যদি “আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম” তার বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে মামলা করে, তবে অবাক হবো না। মিথ্যুকরা পদে পদে অপদস্থ হবে এটা তো অতি স্বাভাবিক বিষয়।
    দেশপ্রেম থেকেই যুদ্ধাপরাধের বিচার আমি আপনি সবাই চাই। এই দেশপ্রেমীদের তালিকায় যদি শাহরিয়ার কবিরের মতো অজ্ঞ ব্যক্তি কনট্রাক্টরের ভুমিকায় থাকেন, তবে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে, “কবে আমরা মানুষ হবো”!

    পুরো লেখাটার বিশ্লেষণ ধীরে ধীরে আসবে ইনশাল্লাহ।

    1. আপনি যে কতটা যুদ্ধাপরাধীর
      আপনি যে কতটা যুদ্ধাপরাধীর বিচার চান তা আগে খেকেই জানি। পড়েন আমার দেশ পত্রিকা। অধিকাংশ রেফারেন্সও দিলেন ঐ পত্রিকার। যে পত্রিকা কাবা শরীফকে নিয়ে মিথ্যাচার করতেও ছাড়ে না। যার সম্পাথক একটা দলের সমর্থক এবং তাদের প্রোপাগান্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত। যিনি বিএনপির সময় আমলাদের নিয়ে গোপন বৈঠকে বসেছিলেন। সাংবাদিকরা টের পেয়ে গেলে সবাই মুখ ঢেকে পলায়ন করে। সেই উনি আবার ইসলামের রক্ষক, বীর! আপনি আবার সেই পত্রিকার রেফারেন্স টানেন।

    2. অশ্লীল ভাষায় যদি বলি তাহলে
      অশ্লীল ভাষায় যদি বলি তাহলে বলব “তুম হার যুক্তি তুম হারা পিছোয়াড়া ম্যায় হান্দাউ”

      এবার আসি সুশীল ভাষায়, আমার দেশ আর বিডিটুডে ব্লগ এই সমস্ত মিডিয়াগুলো এক কথায় সোনাব্লগের মত এবং শতভাগ হালাল(!) মিথ্যাচার পারদর্শী। এইসমস্ত মিডিয়ার উদাহারন দিয়ে শাহরিয়ার কবীর কেন যে কাউকে মুহুর্তেই মিথ্যাবাদী বানানো খুব একটা বিশাল ব্যাপার না।

      প্রচলিত ভাষায় বলতে গেলে বলব যেখানে হামার তলদেশ ইমরান এইচ সরকারকে রাজাকারের নাতি বানায়া ছাইড়া দেয়, শাহবাগকে মদ,জুয়ার আসর বানায়, নিজেরাই নাস্তিক্যবাদ প্রচার করে সেখানে এদের তথ্য আর রসময়গুপ্তের চটি দুটোই সমান জিনিস, তফাতটা হলো দুইটাতে দুইরকম ভাবে মজা নিতে হয়।
      তোমার মত লাখো ব্যক্তি যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায় তবে… তারা ছাগু।

    3. লেখাটার পুরো বিশ্লেষণ আনতে
      লেখাটার পুরো বিশ্লেষণ আনতে গিয়ে জনাব যুক্তিবাদী আবাল শেষ পর্যন্ত খোঁয়াড়ের লেদানির মাঝে হারিয়ে গেলেন। :ভাবতেছি: তারজন্য একতাল পুরীষের সমবেদনা… :ক্ষেপছি: 😀

    4. যুক্তিবাদী ভাই!
      আপনাকে অসংখ্য

      যুক্তিবাদী ভাই!
      আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ৷
      এরকম যৌক্তিক ও রেফারেন্স সহ কমেন্ট করে,
      আমাদের কে জানানোর জন্য ৷

  9. কবির স্যার কে ধন্যবাদ।
    কবির স্যার কে ধন্যবাদ। আমাদেরকে এই রকম একটি লেখা উপহার দেওয়ার জন্য।
    আর এদ্মিনের কাছে অনুরোধ ইস্টিশনে ময়লা আবর্জনা ছড়ানোর দায়ে ‘ আমি যুক্তিবাদি’ ছাগল থেকে যেন কিক মেরে বের করে দেওয়া হয়।

  10. শুরুতেই ক্ষমা চাইছি অনেক
    শুরুতেই ক্ষমা চাইছি অনেক বেশীই দেরী করে পোস্টে মন্তব্য করবার জন্য (যদিও আমার করা না করায় কিছু যায় আসে না কারোই :মাথাঠুকি: )

    স্যার আপনার পোস্টগুলো এতো বেশী তথ্যবহুল হয় যে এসব পড়ে জামায়াত-শিবির জাতীয় দলগুলোর পক্ষে গিয়ে কেউ কিছু বলবে সেরকম কিছু খুঁজে পায় না, ফলে তারা তখন উল্টাপাল্টা মনগড়া বক্তিমা দেয়া শুরু করে।

    পোস্টের প্রথম ভাগে যেভাবে হেফাজতকে দুই দুইটি মামলায় সহজে ফেলে কুপোকাত করার কথাগুলো লিখলেন তা পড়েই সত্যিই হেফাজত এবং আল্লামা শফী সাহেবের জন্য বড়ই চিন্তা হচ্ছে।

    জামায়াতের গুরু মওদুদীও বলেছেন, ‘সময় সময় মিথ্যা বলা শুধু জায়েজই নয় বরং অবশ্য কর্তব্য’। (তরজুমানুল কোরাণ, মে ১৯৫৮) অথচ হাদিসে আছে ইসলাম ধর্মে সবচেয়ে নিকৃষ্ট তিনটি গুনাহর অন্যতম হচ্ছে ‘মিথ্যা কথা বলা’। (সহীহ মুসলিম শরীফ দ্রষ্টব্য)

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    মারছে

    জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিভিন্ন ওয়াজ শোনার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তাদের এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, উপরোক্ত ১৩ দফার মূল দাবিগুলো জামায়াতের দলীয় দাবি, যা বিশেষ মতলবে বিশেষ সময়ে থলের ভেতর থেকে বের করা হয়, অন্য সময়ে থলের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়। এখন হেফাজত বলছে ১৩ দফা দাবি না মানা হলে তারা সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন করবে। বিএনপি জামায়াতও এই এক দফার কথা বলছে।

    পুরা ১৩ দফার সারমর্ম।

    পুরো পোস্ট পড়ে কিছুই বলার নেই, শুধু… :bow: :bow: :bow:

  11. চমৎকার, মননশীল, গুরুত্বপূর্ণ
    চমৎকার, মননশীল, গুরুত্বপূর্ণ লেখা। শাহরিয়ার কবীরের জন্য হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে ভালবাসা! ভাল থাকুন লিডার, হ্যাটস অফ ফর ইউ!!

  12. অনেক দিন পর্যন্ত শ্রদ্ধেয়
    অনেক দিন পর্যন্ত শ্রদ্ধেয় শাহরিয়ার কবির সাহেবের কোন লেখা আমরা ইস্টিশনে পাইনা। আশাকরি ইস্টিশন’র মডারেশন প্যানেল বিষয়টা একটু ভেবে দেখবেন। আমরা অনলাইনে শাহরিয়ার কবিরের লেখা দেখতে চাই।

  13. ধন্যবাদ তথ্যমূলক পোষ্টের
    ধন্যবাদ তথ্যমূলক পোষ্টের জন্যে।।।

    তবে জামায়াত যে ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে না এটা মানতে পারি না,,, আমি বহু জামায়াতের নেতাকে দেখেছি হিন্দুর সাথে এক প্লেটে খেতে।

    এতদিন জানতাম আপনি নাস্তিক এই পোষ্টে আপনি কেন আল্লাহকে বিশ্বাস করেছেন????

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

71 − 62 =