স্মৃতির পাতায় “Rajshahi University Higher Study Club”

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে ইচ্ছা ছিল এই ক্যাম্পাস জীবনে অনেক কিছুই করবো । সামাজিক, রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী নানা সংগঠনের সাথে যুক্ত হবো । তো যা ভাবা তাই কাজ । বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে ফেসবুক জগতে একটু বেশীই আকৃষ্ট হয়ে পড়ি । সেই সুবাধে সর্বপ্রথম যে মানুষটিকে নক করি তিনি সকলের অনেক পরিচিত “রোকন ভাই” । মনে আছে তখন তাঁর ফেসবুক আইডির নাম ছিল ‘অন্যরকম রোকন’ । ভাইয়ের সাথে তখন টুকটাক ভার্চুয়াল আলাপ শুরু । রোকন ভাইকে প্রথম দেখেছিলাম, RUCC এর প্রগ্রামে । কালো ড্রেসে সবকিছু তদারকি করছিলেন । দূর থেকেই সেদিন দেখা হয়েছিল । কিছুদিন পর ভাইয়ের ফোন নাম্বারে ফোন দিয়ে টুকিটাকি চত্ত্বরের “মনির ভাই” এর দোকানে চা খেতে খেতে নানা আড্ডা দেই । সেই শুরু……।।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরেই ক্যাফেটেরিয়াতে ছোট্ট পরিসরে খুব সম্ভবত “স্টাডি ইন জাপান” নিয়ে সেমিনার করা হয়েছিল । আমি তখন ছিলাম নবগঠিত ক্লাবের মেম্বার । পরিচয় হয়েছিল কিছু তরুণ উদ্যমী মানুষের সাথে । কিছুদিন ক্লাবে যাওয়ার পর আমি নিজে আশা হারিয়ে ফেলি । কী হবে, এসব করে ? তবে এখন এর কারণ হিসেবে মনে হয় যেটা, নতুন ক্যাম্পাস । যা দেখছি সবই ভাল্লাগছে । ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময় কই । ক্যাম্পাসে প্রথমে এসে অতি উৎসাহী হয়ে যাওয়ায় আমাদের “কাল” হয়ে দাঁড়ায় । আস্তে আস্তে ২০১৫ সাল চলে এলো । প্রথম বর্ষ পরীক্ষাও শেষ করলাম । যদিও এর মাঝে ক্লাবে আসা যাওয়া হয়েছে । পরীক্ষার পর নতুন স্পৃহা পেলাম । কেন তা জানিনা । আর বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলাম আমার জীবনে পাওয়া কিছু লাইফ চেঞ্জিং মানুষদের সাথে । আমি দেখেছি ক্লাবের শুরুতে “হাবিব ভাই” এর একা একা সবকিছু সামলানো, “আবিদা আপু”র কর্মদক্ষতা এবং বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলাম “ব্যাক”, “এমু”-দের মতো কিছু জিগার কা দোস্ত । উনাদের কাছ থেকে অল্পস্বল্প শিখেছি সবসময় । এরপর ক্লাবে পুরোদমে যাওয়া আসা, ইভেন্ট আয়োজন, ক্লাস প্রমোশন করাসহ অনেক কিছুই হয়েছে । আরো আস্তে আস্তে আমার যোগাযোগের মাত্রা বেড়ে গেল । দেখা পেলাম “নাসির ভাই”, “নাহিদ ভাই”, “সাজ্জাদ ভাই”, “হাসিব ভাই”দের মতো আসাধারণ মানুষদের । তখন আমরা একসাথে “Startup RU”, “RUHSC” দুটো ক্লাবেই কাজ করতাম । কিন্তু আস্তে আস্তে ক্লাবে সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকলো । তখন দুটি ক্লাব আলাদা করে দেওয়া হলো । কিন্তু একই আত্মা কি কখনো আলাদা করা যায় ? এখনো দুটি ক্লাব নামেই আলাদা, আমরা কিন্তু একই আছি ।

এরপরের ইতিহাস অনেকেরই জানা । ক্লাব তো মোটামুটি দাঁড়িয়ে গেল । নতুন সদস্য এলো । আমার নতুন ভাই/আপু/বন্ধু’র সংখ্যাও বেড়ে গেল । ২০১৬ সালের ৩রা জানুয়ারি RUHSC এর নতুন কমিটি ঘোষনা করা হলো । নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার নাম এলো । খুশিই লেগেছিল সেদিন বলবো । অনেকের কাছ থেকে শুভেচ্ছাও পেয়েছিলাম । আমার শিক্ষকেরাও শুভেচ্ছা জানিয়েছিল সেদিন, যেটা আজও আমার সাফল্যে তারা করে থাকে । এজন্য শিক্ষকদের কাছেও কৃতজ্ঞ । যাহোক, আজ ক্লাবের ২য় বর্ষপূর্তি । ক্লাব এখন নতুনদের আগমনে গমগম করে । ক্লাবের ২য় বর্ষপূর্তিতে ক্লাবের সকল শুভানুধ্যায়ী, সদস্য, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং আমার জীবন ব্যস্তময় করে তোলা কিছু প্রিয়মুখগুলোকে শুভেচ্ছা ও ভালবাসা । কে একজন বলেছিল, গতিই জীবন –স্থিতে মৃত্যু । লেখা বড় হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকের নাম এখানে লেখা হয়নি । তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী । তবে আপনারা বা তোমরা বা তোরাও আজ আমার হৃদস্পদন । একটা কচি কুমড়োর ঢগা কখনো একা সোজা চলতে পারেনা । তাঁর দরকার হয় শক্ত সোজা দন্ডের । এই RUHSC হচ্ছে আমার সেই সোজা দন্ড ।

এককথায় বলি এই ক্লাব আমাকে কি দিয়েছি ! ক্যাম্পাসে প্রথমে আমার রুম থেকে বিভাগে যেতে সময় লাগতো ১৫ মিনিট । আর এখন লাগে প্রায় ১ ঘন্টারও বেশি । না রুম পরিবর্তন হয়নি, বরং বেড়েছে আমার ভাই/আপু/বন্ধু/দোস্ত বা রাজনীতি । যাদের সাথে চলার পথে দেখা, কথা দুটোই হয় । সময়তো লাগবেই ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1